Class 9 Bengali Chapter 11 (চিঠি) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

‘স্টার্ডির একখানি চিঠি কাল পেয়েছি' স্টার্ডি কে? তাঁর চিঠি থেকে লেখক কী জানতে পেরেছিলেন? 

উত্তর: বিবেকানন্দ তাঁর চিঠিতে স্টার্ডির কথা বলেছেন। তাঁর পুরো নাম হল মি. ই. টি. স্টার্ডি। তিনি ছিলেন স্বামীজির ইংরেজ ভক্ত এবং তিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারে সাহায্য করেছিলেন। ভারতে থাকাকালীন তিনি আলমোড়ায় তপস্যাও করেছিলেন। 

→ স্টার্ডির চিঠি থেকে বিবেকানন্দ জেনেছিলেন তাঁর অন্যতম শিষ্যা মিস নোব্‌ল ভারতে এসে সবকিছু দেখার দৃঢ় সংকল্প করেছেন।



‘তাতে এ পত্রখানিতে আবশ্যক হয়ে পড়েছে'— কোন্ পত্রের কথা বলা হয়েছে? তার আবশ্যকতার কারণ কী?  

উত্তর: এক্ষেত্রে স্বামীজি ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই আলমোড়া থেকে কল্যাণীয়া মিস নোবল অর্থাৎ ভগিনী নিবেদিতাকে যে পত্র লিখেছিলেন তার কথা বলা হয়েছে। 

→ স্বামীজির অন্যতম প্রিয় শিষ্যা ছিলেন মিস নোব্‌ল। স্বামীজি তাঁর ইংরেজ ভক্তের কাছে নোবলের ভারতে আসার কথা শোনার পর যখন মিসমুলারের কাছে তার কর্মপ্রণালী সম্পর্কে শুনেছিলেন। তখনই তিনি এই চিঠি লেখার আবশ্যকতা বুঝেছিলেন। কারণটা ছিল মিসনোবেলকে ওইরকম একটা কাজের ভালো-মন্দ দিকটা সম্পর্কে জানানো। 



'তোমাকে খোলাখুলি বলছি', — বক্তা কাকে কী খোলাখুলি বলতে চেয়েছেন? 

উত্তর: এক্ষেত্রে বক্তা হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি তাঁর প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতার ভারতীয় নারীজাতির কল্যাণার্থে কাজ করার কথা শোনেন। আর সে প্রসঙ্গে স্বামীজি ভারতে তাঁর কাজের ভবিষ্যৎ, ভারতের নারীসমাজে তাঁর প্রয়োজনীয়তা, তাঁর শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা ও দৃঢ়তা এবং ধর্মনিতে কেল্টিক রক্ত প্রবাহিত হবার জন্য তাঁর উপযুক্ততা সর্বজনীন—একথা গুলিই বলতে চেয়েছেন। 



‘তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন'- কোন নারীর কথা বলা হয়েছে? তাঁকে আজ প্রয়োজন কেন?  

উত্তর: বিবেকানন্দের ‘চিঠি'র উদ্ধৃতাংশে যে নারীর কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন তাঁর অন্যতম শিষ্যা মিস নোব্‌ল।

→ স্বাধীনতার বহু পূর্বে স্বামীজি ভারতীয় নারীসমাজের দুর্দশ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় তারা ছিল অজ্ঞ, সংস্কারাচ্ছন্ন। ছিল না শিক্ষা, তাই স্বাধীন মতপ্রকাশ ছিল দূর অস্ত। তাই তাঁর জহুরির চোখ শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তা ও ধর্মনিতে কেল্টিক রক্ত প্রবাহিত মিস নোলকে চিনে নিতে ভুল করেননি, যে এই নারী জাতির উন্নতিসাধন করতে পারবেন। 



তুমি ঠিক সেইরূপ নারী.........' কার সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়েছে? কীরুপ নারী? 

উত্তর: পাঠ্য ‘চিঠি’ তে স্বামীজির অন্যতম শিষ্যা মিস নোবল তথা ভগিনী নিবেদিতা সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়েছে। 

→ স্বামীজি ভারতীয় নারীজাতির উন্নতির কথা ভাবতেন। তাই মিস নোবলের কর্ম পরিকল্পনা শুনে তিনি এদেশে তাঁর মতো নারীর প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি ছিলেন শিক্ষিতা, দৃঢ় মনের অধিকারিণী, সর্বোপরি পবিত্রতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় পূর্ণ। তাঁর ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্ত তাঁকে কর্মে অনুপ্রাণিত করত। স্বামীজির কথায় তিনি একজন প্রকৃত সিংহী, যাকে ভারতীয় নারী সমাজের উন্নতির জন্য একান্ত প্রয়োজন। 



‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু’— বক্তা কোন্ প্রসঙ্গে বলেছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি স্বামীজির ‘চিঠি’র অংশ বিশেষ। এক্ষেত্রে বক্তা হলেন স্বামীজি স্বয়ং। মিস মুলারের কাছে স্বামীজি যখন শোনেন মিস নোব্‌ল এদেশে এসে এদেশের নারীজাতির কল্যাণ করতে ইচ্ছুক তাতে তিনি আনন্দিতই হয়েছিলেন এবং একজন প্রকৃত মানুষের ন্যায় এদেশে তাঁর কাজ করতে গেলে কী কী বাধাকে অতিক্রম করতে হবে সে কথাও তাকে জানান। এক্ষেত্রে স্বামীজির সততা ও মহত্ততার পরিচয় পাওয়া যায়। 



‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু’— এদেশে নারী কল্যাণের জন্য কাজ করতে গিয়ে মিস নোলকে কী কী বিঘ্নের সম্মুখীন হতে হবে বলে স্বামীজির ধারণা? 

উত্তর: এদেশে নারীকল্যাণের জন্য নোব্‌লের মতো সিংহীর প্রয়োজন হলেও তার কাজের পথে কী কী বাধা আসতে পারে। তা স্বামী সরাসরি নোলকে জানিয়েছেন। প্রথমত, এদেশের দুঃখ, কুসংস্কার ও দাসসুলভ মনোভাব। দ্বিতীয়ত, জাতি সম্পর্কে বিকট ধারণা, ভয়ে বা ঘৃণায় শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলা। তৃতীয়ত, জলবায়ু, এদেশের শীত ওখানকার গ্রীষ্মের মতো। চতুর্থত, নাগরিক সুখস্বাচ্ছন্দ্য শহরের বাইরে অমিল।



‘কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষভাবে চিন্তা করো'— বক্তা কোন্ প্রসঙ্গে এবং কেন একথা বলেছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটির বক্তা চিঠির প্রেরক স্বামীজি। স্বামীজির অন্যতম শিষ্যা মিস নোল যখন এদেশের নারীজাতির কল্যাণার্থে কাজ করার জন্য মনস্থির করেন তখন স্বামীজি তাঁর প্রিয় শিষ্যার উদ্দেশ্যে কথাগুলি বলেছেন। 

→ তাঁর এমন কথা বলার কারণ প্রিয় শিষ্যার কাছে প্রকৃত বাস্তবটা তুলে ধরা। তিনি ভারতীয় সমাজকে ভালো করেই চিনতেন। একদিকে কুসংস্কার, দারিদ্র্য, জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার মতো সমস্যায় ভারতীয় সমাজ আচ্ছন্ন। তার ওপর প্রতিকূল জলবায়ু ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যর অভাব এসব এড়িয়ে নোব্‌ল কতটা কাজ করতে পারবে সেই প্রশ্নই স্বামীজি রেখেছেন। 



‘এই আমার প্রতিজ্ঞা — বক্তা কে? বক্তার প্রতিজ্ঞাটি কী? 

উত্তর: এক্ষেত্রে বক্তা হলেন আমাদের পাঠ্য ‘চিঠি’র প্রেরক স্বয়ং স্বামীজি।

→ স্বামীজি প্রিয় শিষ্যার ভারতীয় নারী সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করতে আসার আগে তিনি তাঁর কর্মের প্রশংসা করেন এবং সে পথের বিঘ্নের কথাও তুলে ধরেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি কর্মে প্রবৃত্ত হয় এবং পরে যদি বিরক্তি আসে ও সাফল্য না আসে তবুও তিনি শিষ্যাকে তাঁর সাধ্যমতো সাহায্য করবেন। কেননা তাঁর কথায় ‘মরদ্ কি বাত হাতি কা দাঁত’ একবার বেরোলে আর ভিতরে যায় না এবং কিছুটা কৌতুকের সুরে খাঁটি লোকের কথায় নড়চড় থাকে না বলে মত ব্যক্ত করেছেন।