'ভাঙার গান' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: ‘ভাঙার গান' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা।
কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি কবির ‘ভাঙার গান’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
‘কারার ওই লৌহ-কপাট' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ বলতে কবি পরাধীন ভারতে ইংরেজ শাসকের কারাগারের কথা বলেছেন।
কবি কী ভেঙে ফেলতে বলেছেন?
উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবি অত্যাচারী ইংরেজ শাসকের কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।
কবি কারার লৌহকপাটকে কেন ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বলেছেন?
উত্তর: কবি দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমোচনের জন্য কবিতায় বিপ্লবী সন্তানদের কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে বাইরে আনার কথা বলেছেন।
কারার লৌহকপাট ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য কবি কাদের কীভাবে এগিয়ে আসতে বলেছেন?
উত্তর: কারার লৌহকপাট ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য কবি শিবের প্রলয়ংকার রূপ ধরে দেশের তরুণ সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন।
'শিকল-পুজো' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘শিকল-পুজো’ বলতে শাসকের অত্যাচারে বিপ্লবীদের রক্তে রক্তাক্ত কারাগারকে বোঝানো হয়েছে, যা দেশমাতৃকার পূজার পাষাণ-বেদি।
‘পাষাণ-বেদী' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবি নজরুল ইসলাম ‘পাষাণ-বেদী’ বলতে বন্দিশালাকে বুঝিয়েছেন।
'ওরে ও তরুণ ঈশান'—‘তরুণ ঈশান’ কে? আর কোন্ অর্থে ‘ঈশান’ শব্দটির প্রয়োগ হয়?
উত্তর: ‘তরুণ ঈশান’ বলতে কবি শিবরূপী তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ বিপ্লবীদের বুঝিয়েছেন। 'ঈশান' শব্দটির অন্য এক অর্থ হল উত্তর-পূর্ব কোণ।
'বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ’—‘প্রলয়-বিষাণ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘বিষাণ’ শব্দের অর্থ শিঙা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এখানে কবি ধ্বংসের বার্তাবহ রণবাদ্যের নির্ঘোষ বোঝাতে প্রলয়-বিষাণ প্রয়োগ করেছেন।
'উড়ুক প্রাচী'র প্রাচীর ভেদি'—এখানে ব্যবহৃত ‘প্রাচী’ শব্দটির অর্থ লেখো।
উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ব্যবহৃত ‘প্রাচী’ শব্দটির অর্থ হল পূর্ব দিক বা পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল।
‘উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি' –বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: পুব আকাশের অন্তরাল বা আড়াল ভেদ করে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের নতুন সৃজনী নিশানা প্রতিষ্ঠা করবে, কবিমনের এই বাসনাই উদ্ধৃতাংশে ধ্বনিত হয়েছে।
কবি ‘প্রাচী’র প্রাচীর ভেদ করে কী ওড়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি ‘ভাঙার গান’ কবিতায় তরুণ সম্প্রদায়কে ‘প্রাচী’র প্রাচীর ভেদ করে ধ্বংস নিশান ওড়ানোর কথা বলেছেন।
'গাজনের বাজনা বাজা’ –‘গাজন' কী?
উত্তর: চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে শিব বা ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হয়, তা ‘গাজন' নামে পরিচিত।
'গাজনের বাজনা বাজা' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: চৈত্র সংক্রান্তিতে শিবের গাজন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তরা ঢাক, ঢোল ইত্যাদির সমন্বয়ে গগনভেদী বোল তোলে। কবি উপমাটি ব্যবহার করে শাসককে ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তোলার কথা বলেছেন।
‘কে মালিক? কে সে রাজা'? —বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ভাঙার গান' কবিতায় কবি সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসককুলকে মালিক ও রাজার প্রতিভূ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
কাকে সাজা দেওয়া যায় না?
উত্তর: কবি নজরুলের বিশ্বাস মুক্ত স্বাধীন সত্যকে সাজা দেওয়া যায় না।
কবির কেন হাসি পায়?
উত্তর: কবি তরুণ বিপ্লবীদের মৃত্যুঞ্জয়ী শিবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাই এই জীবন্ত শিবরূপী বিপ্লবীদের ফাঁসি বা মৃত্যুর কথা শুনে কবির হাসি পায়।
‘ভগবান পরবে ফাঁসি?’—'ভগবান' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে ‘ভগবান’ বলতে কবি নজরুল ইসলাম স্বাধীনতাকামী আন্দোলনরত বন্দি তরুণদের কথা বলেছেন।
'শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?'— ‘হীন তথ্য বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘হীন তথ্য’ বলতে কবি সত্যের অপলাপ বা বানানো মিথ্যার বেসাতি করার কথা বলেছেন।
‘হীন তথ্য’-টি কী?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয়ী তরুণ বিপ্লবীদের ফাঁসি দেওয়া যায়, ইংরেজ শাসকের এই ভাবনাই হল 'ভাঙার গান' কবিতায় ‘হীন তথ্য।
'পাগলা ভোলা' কে? কবিতায় কাকে ‘পাগলা ভোলা’ বলা হয়েছে?
উত্তর: পৌরাণিক চরিত্র ‘মহাদেব’-কে পাগলা ভোলা বলা হয়। পাঠ্য কবিতায় কবি আত্মদানে তৎপর তরুণ সম্প্রদায়কে ‘পাগলা ভোলা’ বলে সম্বোধন করেছেন।
কবি কাকে প্রলয়-দোলা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর: কবি নবযৌবনের অগ্রদূত তরুণ সম্প্রদায় স্বরূপ পাগলা ভোলাকে প্রলয়-দোলা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
‘জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে' – কারা কোথায় হ্যাঁচকা টান দেবে?
উত্তর: কবি নজরুল পাগলা ভোলা-স্বরূপ তরুণ প্রজন্মকে বন্দিশালার গারদ ধরে হ্যাঁচকা টান দিতে বলেছেন।
‘মার হাঁক হৈদরী হাঁক,’–‘হৈদরী হাঁক’ কী?
উত্তর: ‘হৈদরী হাঁক’ বলতে হজরত মহম্মদের ভ্রাতৃস্থানীয় হজরত আলির যুদ্ধক্ষেত্রে তেজোদৃপ্ত হুংকারকে বলা হয়েছে, যে কণ্ঠস্বর কবি পরাধীন ভারতের তরুণ সম্প্রদায়ের কণ্ঠে শুনতে উদ্গ্রীব।
‘দুন্দুভি’ কী?
উত্তর: ‘দুন্দুভি’ হল প্রাচীন দামামা জাতীয় বৃহৎ ঢাক বিশেষ। ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘দুন্দুভি’ রণবাদ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
কাকে ‘জীবন-পানে’ ডাকার কথা কবি বলেছেন?
উত্তর: কবি নজরুল ‘ভাঙার গান' কবিতায় মৃত্যুকে জীবন-পানে ডাকার কথা বলেছেন।
কবি কাদের মৃত্যুকে কীভাবে জীবন-পানে ডেকে আনতে বলেছেন?
উত্তর: কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী তরুণ প্রজন্মকে দাসত্বের শৃঙ্খলমোচনের জন্য যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে যুদ্ধক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন।
'নাচে ওই কালবোশেখি” —বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ভাঙার গান' কবিতায় ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সমবেত ভারতবাসীর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সংগ্রামী অভ্যুত্থানকে কবি কালবৈশাখী ঝড়ের রুদ্র-রূপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
'নাচে ওই কালবোশেখি, | কাটাবি কাল বসে কি’—‘কালবোশেখি’ ও ‘কাল বসে কি কথা দুটির অর্থ লেখো।
উত্তর: ‘কালবোশেখি’ শব্দটির অর্থ হল বৈশাখী ঝড়, আর ‘কাল বসে কি’ শব্দবন্ধের অর্থ হল নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে বসে সময় অতিবাহিত করা।
'কাটাবি কাল বসে কি? —কীসের ইঙ্গিত?
উত্তর: দেশজুড়ে যখন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ঢেউ উঠেছিল তখন নিষ্ক্রিয়ভাবে ঘরে বসে সময় অতিবাহিত না করার বার্তা দিতে এই মন্তব্য।
'ভীম কারার ওই ভিত্তি নাড়ি'!—এ কথার অর্থ কী?
উত্তর: পরাধীন ভারতে অত্যাচারী ব্রিটিশদের বিশাল কারাগার বা জেলখানাকে ধ্বংস করে তাদের উৎখাত করার প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন।
