‘আমরা’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: ‘আমরা’ কবিতাটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা।
বাঙালি কোথায় বাস করে?
উত্তর: মুক্তধারার গঙ্গা যেখানে মুক্তি বিতরণ করে, সেই পুণ্য বরদাত্রী তীর্থভূমি বাংলায় বাঙালি বাস করে।
বঙ্গভূমির বাম ও ডান হাতে এবং শিয়রে কী কী শোভা পাচ্ছ?
উত্তর: বঙ্গভূমির বামহাতে কমলার ফুল; ডানহাতে মধুক-মালা আর শিয়রে কাঞ্চন-শৃঙ্গ-মুকুট শোভা পাচ্ছে।
‘কাঞ্চন-শৃঙ্গ-মুকুট’ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: বাংলার উত্তরে তুষার আবৃত হিমালয়ের ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে সোনার রং ধারণ করে। কবি একেই বাংলা মায়ের কপালে কাঞ্চন-শৃঙ্গ-মুকুট বলে বর্ণনা করেছেন।
‘কিরণে ভুবন আলা’—কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বাংলা মায়ের কপালের কাঞ্চন-শৃঙ্গ-মুকুট থেকে সোনার মতো দীপ্তিমান প্রভায় আলোকে আলোকিত জগৎকে। বোঝানো হয়েছে।
বঙ্গদেশের কোলে ও বুকে কী কী আছে?
উত্তর: বঙ্গদেশের কোলে কনক ধান্য এবং বুকে সন্তানের জন্য বর্ষিত অপার স্নেহ-সুধা আছে বলে কবি মনে করেছেন।
অতসী-অপরাজিতায় কার দেহ ভূষিত?
উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতায় বঙ্গভূমির দেহ অতসী-অপরাজিতায় ভূষিত।
কে বঙ্গভূমির বন্দনা গান করে?
উত্তর: বঙ্গদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর যেন প্রতিনিয়ত শত তরঙ্গ ভঙ্গে বঙ্গমাতার বন্দনা গান গেয়ে চলে।
আমরা কার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি?
উত্তর: আমরা বাঙালিরা সুন্দরবনের গভীরে হিংস্র বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছি।
নাগের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: ‘আমরা’ কবিতায় নাগের সঙ্গে মানুষের যে সহজ সম্পর্কের কথা কবি বলেছেন তা থেকে আমরা বাঙালিরা যে-কোনো প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারি সেকথাই কবি বুঝিয়েছেন।
আমাদের সেনা কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল?
উত্তর: ‘আমরা’ কবিতা অনুসারে বাঙালি-সেনা চতুরঙ্গে সজ্জিত হয়ে দশাননজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহ রঘুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল।
‘চতুরঙ্গ’ কী?
উত্তর: হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক—এই চার প্রকার বাহিনী সমন্বিত রণবহরকে চতুরঙ্গ বলে।
'নিজ শৌর্যের পরিচয়'— কে, কীভাবে শৌর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন?
উত্তর: বাংলার ছেলে বিজয়সিংহ লঙ্কাদ্বীপ জয় করে, তার নামের সঙ্গে নিজের নাম যোগ করে ‘সিংহল' নাম রেখে শৌর্যের পরিচয় দিয়েছেন।
‘একহাতে মোরা মগেরে রুখেছি'- বলার কারণ কী?
উত্তর: সেকালে আরাকানের অধিবাসী মগদস্যুরা সুন্দরবন, নোয়াখালি, খুলনা, চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নির্মম অত্যাচার ও বর্বরতা চালাত। বাঙালিরা তাদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল।
দিল্লিনাথকে কে প্রতিহত করেছিলেন?
উত্তর: দিল্লিনাথ আকবর ও জাহাঙ্গিরকে যুদ্ধে প্রতিহত করেছিলেন বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম অসমসাহসী প্রতাপাদিত্য রায় ও চাঁদ রায়।
কপিলমুনি কে ছিলেন?
উত্তর: পুরাণ মতে, কর্দম প্রজাপতি ও দেবাহুতির সন্তান ঋষি কপিল হলেন সাংখ্যদর্শন প্রণেতা। কবি তাঁকে আদিবিদ্বান ও পরম জ্ঞানী বলে অভিহিত করেছেন।
'বাঙালি অতীশ লঙ্ঘিল গিরি তুষারে ভয়ংকর',—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বাংলার বিক্রমশীলা মহাবিহার থেকে তুষারাবৃত তিব্বতে গিয়ে অতীশ দীপঙ্কর জ্ঞানপ্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন। তিব্বতিদের কাছে তিনি বুদ্ধের অবতাররূপেই পূজিত হন।
পক্ষধর কে ছিলেন?
উত্তর: পক্ষধর মিশ্র ছিলেন মিথিলার অধিবাসী কবি ও নব্য ন্যায়শাস্ত্রে অসামান্য ব্যুৎপত্তির অধিকারী পণ্ডিত ব্যক্তি।
‘পক্ষশাতন' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘পক্ষশাতন’ শব্দটির অর্থ ডানা ছেঁটে ফেলা। এক্ষেত্রে বাঙালি কিশোর রঘুনাথের কাছে যুক্তি জালে স্বনামধন্য তার্কিক পক্ষধর মিশ্রের পর্যুদস্ত হওয়াকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
জয়দেব কে ছিলেন?
উত্তর: জয়দেব হলেন লক্ষণ সেনের সভাকবি। তিনি সংস্কৃত ভাষায় ‘গীতগোবিন্দ' রচনা করেন।
‘বরভূধরের ভিত্তি'—বলার কারণ কী?
উত্তর: ‘বরভূধর’ বা ‘বরোবুদুর' দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার খ্রিস্টীয় অষ্টম-নবম খ্রিস্টাব্দে শৈলেন্দ্র রাজবংশের আমলে বৌদ্ধ স্তূপটি নির্মিত হয়।
কম্বোজ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: বর্তমান কাম্বোডিয়ার প্রাচীন নাম কম্বোজ। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ইন্দোচিনে এই দেশটি অবস্থিত।
‘ওষ্কারধাম' কী?
উত্তর: এটি একটি বিঘ্ন মন্দির। এটি দ্বাদশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় সূর্যবর্মনের রাজত্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোজ বা কম্বোডিয়ার নির্মিত হয়।
‘বিটপাল’ ও ‘ধীমান' কারা?
উত্তর: বরেন্দ্রভূমির বাসিন্দা বিখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী বিট্পাল। ধীমান এর পিতা বলে কথিত।
বাংলার পটশিল্প কোথায় অক্ষয় হয়ে আছে?
উত্তর: অজন্তার গুহাগাত্রে কোনো সুপটু পটুয়ার হাতের লীলায়িত তুলিকায় আঁকা ছবি বাংলার পটশিল্পকেই অক্ষয় রূপ দিয়েছে বলে কবির বিশ্বাস।
অজন্তায় কার ছবি আঁকা আছে?
উত্তর: অজন্তায় বুদ্ধদেবের জীবন ও বৌদ্ধ জাতকের ছবি আঁকা আছে।
‘কীর্তন' কী?
উত্তর: রাধা-কৃষ্ণের লীলাবিষয়ক গান ‘কীর্তন’ নামে পরিচিত। এই কীর্তন হল দু-প্রকারের — লীলাকীর্তন ও নামকীর্তন।
মন্বন্তরে কারা মরেনি?
উত্তর: বঙ্গদেশের বাঙালিরা মন্বন্তরেও মরেনি। কবি এখানে ঐতিহাসিক ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কথাই বলেছেন।
'মারী নিয়ে ঘর করি'—বলার কারণ কী?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে কবি মড়ক, মহামারি, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি ভয়াবহ দুর্বিপাক অতিক্রম করে অমিত প্রাণশক্তির দৃষ্টান্তকে তুলে ধরতেই–এরূপ মন্তব্য করেছেন।
‘দেবতারে মোরা আত্মীয় জানি,'—কবি এমন কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত বক্তব্যটিতে বাঙালি সাধক-সাধিকাদের দেবতাকে পিতা-মাতা-কন্যা-দয়িতা রূপে তাঁদের ঘরের লোক হিসেবে কল্পনা করার কথা বলা হয়েছে।
‘আকাশে প্রদীপ জ্বালি'—বলার তাৎপর্য কী?
উত্তর: মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে কার্তিক মাসের সন্ধ্যায় বাঁশের আগায় প্রদীপ জ্বেলে শ্রদ্ধা জানানোর হিন্দু রীতিকে নির্দেশ করে কবি আকাশ প্রদীপ জ্বালার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।
‘মানুষের ঠাকুরালি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মানবীয় চরিত্রের মহত্তম গুণগুলির প্রকাশ তাঁকে দেবত্বে উন্নীত করে; একেই কবি “মানুষের ঠাকুরালি' বলে অভিহিত করেছেন।
‘অমিয় মথিয়া' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: পুরাণে বর্ণিত দেবাসুরের সমুদ্রমন্থনের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে কবি ‘অমিয় মথিয়া' শব্দবন্ধের মাধ্যমে অমৃত মন্থনের কথাই বলেছেন।
নিমাই কার নাম?
উত্তর: নবদ্বীপের জগন্নাথ মিশ্র ও শচীদেবীর কনিষ্ঠ সন্তানের নাম ছিল নিমাই। তিনি পরবর্তীকালে সন্ন্যাস গ্রহণ করে চৈতন্যদের হয়েছিলেন।
'নিমাই ধরেছে কায়া'- কীসের কায়া ধরেছেন?
উত্তর: বাঙালির হৃদয়-অমৃত মন্থন করে শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই মানবীয় মূর্তি ধারণ করেছেন।
‘ছুটেছে জগত্ময়'—বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের মানবসেবার আদর্শ সমস্ত বিশ্ববাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ কথা বোঝাতে গিয়েই কবি ‘বীর সন্ন্যাসী বিবেকের বাণী ছুটেছে জগৎময়’ পঙ্ক্তিটি লিখেছেন।
‘জড়ের সাড়া’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছিলেন যে গাছ উত্তেজনায় সাড়া দেয় এবং গাছেরও অনুভূতি আছে। এখানে কবি ‘জড়ের সাড়া’ বলতে একথাই বলতে চেয়েছেন।
‘আমাদের এই নবীন সাধনা শব-সাধনার বাড়া’—কোন্ সাধনাকে নবীন সাধনা বলা হয়েছে?
উত্তর: জগদীশচন্দ্র বসুর আশ্চর্য আবিষ্কার গাছের প্রাণ আছে এবং গাছ উত্তেজনায় সাড়া দেয় বিশ্ববাসীর কাছে এক নতুন দিগদর্শন। একেই কবি নবীন সাধনা বলেছেন।
'শব-সাধনা’ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: তন্ত্র-মতে সদ্য মৃত শবদেহ নিয়ে যে সাধনা তাকেই শবসাধনা বলা হয়ে থাকে।
'বিষম ধাতুর মিলন ঘটায়ে বাঙালি দিয়েছে বিয়া'— বলতে কী বোঝ?
উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ভিন্ন ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট ধাতুর রাসায়নিক মিলন ঘটিয়ে মারকিউরাস নাইট্রেট নামক যৌগ আবিষ্কার করেছিলেন, কবি এখানে সে-কথাই উল্লেখ করেছেন।
'মোদের নব্য রসায়ন'—কোন্ নব্য রসায়নবিদের কথা ‘আমরা’ কবিতায় আছে?
উত্তর: নব্য রসায়নবিদ হিসাবে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কাজের কথা 'আমরা' কবিতায় আছে।
'মহামিলনের গান'—কে গেয়েছেন?
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গানে-কবিতায় মহামিলনের গান গেয়েছেন।
বাঙালি জনম বিফল নয় কেন?
উত্তর: বাঙালির কবি সমগ্র জগৎবাসীকে মিলনের গান শুনিয়েছেন বলে কবি মনে করেছেন, বাঙালি জনম বিফল নয়।
‘ধাতার আশীর্বাদে'—কী ঘটবে বলে কবির বিশ্বাস?
উত্তর: ‘ধাতার আশীর্বাদে’ বিধাতার আরব্ধ কাজ বাঙালি সম্পন্ন করতে পারবে বলে কবির বিশ্বাস।
বেতাল কে?
উত্তর: বেতাল পঞ্চবিংশতির কেন্দ্রীয় চরিত্র বেতাল শব সাধনার মন্ত্র বলে ভূতে পরিণত হয়ে রাজা বিক্রমাদিত্যকে প্রত্যহ একটি করে গল্প শুনিয়ে তা থেকে একটি করে প্রশ্ন করতেন তাঁর বুদ্ধির পরীক্ষা নেবার জন্য।
কার মুখের প্রশ্ন বাঙালি কেড়ে নিয়েছে?
উত্তর: বেতালের মুখের প্রশ্ন বাঙালি কেড়ে নিয়েছে।
'সাধনা ফলেছে' বলে কবি মনে করেছেন কেন?
উত্তর: কবি বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে স্বীকৃত হতে দেখে, বাঙালির সাধনা ফলেছে বলে মনে করেছেন।
শ্মশানের বুকে কী রোপণ করার কথা কবি বলেছেন?
উত্তর: শ্মশানের বুকে অশ্বত্থ, অশোক, আমলকী, বট ও বেল—এই পঞ্চবটী রোপণ করার কথা ‘আমরা' কবিতায় কবি বলেছেন।
‘পঞ্চবটী’ কী?
উত্তর: অশ্বত্থ, অশোক, আমলকী, বট ও বেল—এই পঞ্চবৃক্ষের একত্র সমাহার ঘটলে তাকে পঞ্চবটী বলা হয়।
পঞ্চবটীর তলায় বসে কে সাধনা করেছিলেন?
উত্তর: পঞ্চবটীর তলায় বসে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সাধনা করেছিলেন।
'তাহারি ছায়ায় আমরা মিলাব'— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মুক্তবেণীর পুণ্যভূমিতে—পঞ্চবটীর ছায়ায় বাঙালির সাধনা ও তপস্যায় সমগ্র বিশ্ববাসীর মহামিলন সম্ভব হবে, প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে কবি আশা প্রকাশ করেছেন।
