Class 9 Bengali Chapter 14 (নিরুদ্দেশ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

 'একটা আশ্চর্য ব্যাপার দেখেছ'—বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি কে? আশ্চর্য ব্যাপারটি কী? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথক হলেন প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা। এখানে উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি হলেন কথকের বন্ধু সোমেশ। 

→ কথকের মতে আশ্চর্য ব্যাপারটি হল, খবরের কাগজে একইদিনে একসঙ্গে সাত-সাতটা নিরুদ্দেশ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। 



'নিরুদ্দেশ” গল্পের শুরুতেই যে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ গল্পকার দিয়েছেন, তার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। 

অথবা, 

'বাইরের অসাড়তা যেন আমাদের মনের ওপরও চাপিয়া ধরিয়াছে'—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে এক শীতের দিনের অস্বস্তিকর বাদলায়। বাইরে যদিও বৃষ্টি হচ্ছিল না, তবু কথকের বাইরের পৃথিবীকে নিষ্প্রাণ অস্বচ্ছ ও মলিন বলে মনে হচ্ছিল। দিনটি তাঁর অত্যন্ত বিশ্রী ও অস্বস্তিকর বলে বোধ হয়েছে। তাঁর বন্ধু সোমেশও ছিল নিরুত্তাপ। খবরের কাগজের সাত সাতটা নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন শুনেও সোমেশ ছিল নির্লিপ্ত। কথক ঘর ও বাইরের এই নির্লিপ্ততাকে বোঝাতেই উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 



'নিরুদ্দেশ-এর এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে কিন্তু আমার হাসি পায়' - কথকের এমন বলার কারণ কী? তাঁর এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে হাসি পায় কেন? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে এক শীতের দিনের অস্বস্তিকর বাদলায়। বাইরে যদিও বৃষ্টি হচ্ছে না, তবু কথকের বাইরের পৃথিবীকে নিষ্প্রাণ অস্বচ্ছ ও মলিন বলে মনে হয়। দিনটি তার অত্যন্ত বিশ্রী ও অস্বস্তিকর বলে বোধ হয়। বন্ধু সোমেশও ছিল নিরুত্তাপ। খবরের কাগজের সাত-সাতটা নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন শুনেও সোমেশ ছিল। নির্লিপ্ত। কথক ঘরও বাইরের এই নির্লিপ্ততা ভাঙার জন্য জোর করেই উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 

→ কথকের এই বিজ্ঞাপন দেখে হাসি পায় কারণ অধিকাংশ বাবা-মা যখন নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেন তখন তা প্রকাশিত হওয়ার আগে ছেলে ফিরে আসে তাই।



'তিনি জেনে শুনে মিথ্যে আর বলতে পারেন না'। – কার কথা বলা হয়েছে? তার এমন অবস্থা কেন হয়েছে।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথক বর্ণিত কাহিনির নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির মায়ের কথা বলা হয়েছে। 

→ মায়েরাই প্রধানত ছেলেদের শখ-আহ্লাদ মেটানোর জন্য লুকোনো পুঁজি থেকে টাকা বের করে দেন। এ গল্পেও এমন একটি ছেলেকে তার মা থিয়েটার দেখতে যাবার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু ছেলে দেরি করে ফেরায় বাবার প্রচণ্ড শাসনের মুখে মাকেও পড়তে হয়। তবুও মা চুপ থাকেন। কারণ তিনি সবই জানেন, তাঁর আর মিথ্যে কথা বলা হয়ে ওঠে না। 



'এই মৌখিক আস্ফালনেই হয়তো ব্যাপারটা শেষ হতে পারত’—কার ‘মৌখিক আস্ফালন'টি কী ছিল? এরপর কী ঘটেছিল? 

উত্তর: ‘মৌখিক আস্ফালন' বলতে বোঝায় মুখে ঔদ্ধত্য প্রকাশ। এক্ষেত্রে কথকের বর্ণিত কাহিনিতে একজন বাবা অনেক রাত পর্যন্ত ছেলে বাড়ি না ফেরায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ছেলেকে শাসনের নামে এই আস্ফালন শুরু করেন। ফেল করা ছাত্রটির রাত করে বাড়ি ফেরা এবং ছেলের পড়াশোনার জন্য অকারণ অর্থ ব্যয়, বাড়ি থেকে বের করে দেবার কথা মৌখিক আস্ফালনে ছিলই। কিন্তু সেই সময় ছেলে বাড়িতে ফিরলে বাবা তাতে লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ছেলেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। অভিমানী’ ছেলেও তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। 



'কিন্তু ঠিক সেই সময়ে গুণধর পুত্রের প্রবেশ'—কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘নিরুদ্দেশ' গল্পে, কথক-বর্ণিত গল্পে জনৈক বাবা, অনেক রাত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ছেলে বাড়ি ফিরে না আসায় সবে যখন মৌখিক আস্ফালন সবে শুরু করেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ছেলে ঘরে প্রবেশ করে। প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশে এই সময়ের কথাই বলা হয়েছে। 



‘এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো'! উক্তিটি কার? কোন অশান্তির কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: নিরুদ্দেশ গল্পে উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন কথকের বর্ণিত কাহিনির অন্তর্গত নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার।

→ ছেলে নিরুদ্দেশ, ফলে মা শোকে মুহ্যমান হয়ে জল পর্যন্ত গ্রহণ করেননি। মায়ের অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে। বাবা নিজেকে মনে মনে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ঘুমোতে পর্যন্ত পারছেন না। মায়ের অবস্থা সবাই প্রত্যক্ষ করতে পারলেও কথার ভেতরের টানাপোড়েনটা অগোচরেই থেকে যায়। তাই তিনি নিজেই বলে ওঠেন, এই অশান্তির থেকে বনবাস ভালো।



‘খবরের কাগজের অফিসের ব্যাপারটা বড় জটিল'—ভাবনাটি কার? তার এমন ভাবনার কারণ কী? 

উত্তর: ভাবনাটি হল প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথক বর্ণিত কাহিনির নিরুদ্দিষ্ট পুত্রের পিতার খবরের কাগজে নিরুদ্দিষ্ট পুত্রের সন্ধানে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছিলেন কেননা তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। অনেক খোঁজ খবরের পর তিনি একটা কাগজের অফিস খুঁজে পেলেও সেখানকার কর্তব্য কী তা বুঝতে না পেরে এক ভদ্রলোককে বলে বসেন, আমি একটা খবর বের করতে চাই। ভদ্রলোক তার উত্তরে একটু ঠাট্টা করেন— এরকম নানান অভিজ্ঞতা অর্জনের পর কাজটি সম্পন্ন হয়। তাই তার এমন ভাবনা। 



‘আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি'। —উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবা সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে দেখেন স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর এবং ছেলেও ফেরেনি। তাই নিরুপায় বাবা বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে কাগজের অফিসে হাজির হন। সেখানে আপাতনিরীহ চেহারার মানুষকে জানান তিনি একটা খবর বের করতে চান, তা শুনে সেই আপাতনিরীহ মানুষটি তিতিবিরক্ত হয়ে বিদ্রুপের সুরে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন এবং বলেন তাদের প্রকাশিত খবরগুলি বুঝি ভদ্রলোকের পছন্দ হচ্ছে না। 



‘এবার মা-র ক্রুদ্ধস্বর শোনা যায়'—প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প থেকে গৃহীত। গল্পের কথক বর্ণিত কাহিনিতে নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটি তার সম্পর্কে বিজ্ঞাপন বেরোনোর আগেই ঘরে ফিরে আসে। তার এই ফিরে আসা ছিল পাকাপাকিভাবে চলে যাবার আগে গোটাকতক বইপত্র নিয়ে যাবার জন্য। মা তার এই কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে। ওঠেন এবং বলেন যে, সে বাড়ি ছেড়ে যাবার মতো লাঙ্গার হয়েছে বইকি বকুনি তো সব ছেলেই খায়। সে তো একেবারে পির নয়। ছেলের কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য বাবার চিন্তাগ্রস্ত চেহারাটা দেখার কথাও বলেন।



‘এই বিজ্ঞাপনের পিছনে অনেক সত্যকার ট্র্যাজিডি থাকে'—উক্তিটি কার? সত্যিকারের ট্র্যাজেডিটি কী? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটির বক্তা গল্প কথকের বন্ধু সোমেশ। 

→ নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন নিয়ে কথকের তির্যক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বন্ধু সোমেশ জানান অনেক ক্ষেত্রেই এমন বিজ্ঞাপনের পিছনে সত্যিকারের কিছু ট্র্যাজেডিও থাকে। তার পরিচিত শোভন নামে একটি ছেলের জীবনে এমনই এক ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি নেমে এসেছিল। দুবছর নিরুদ্দিষ্ট থাকার পর শোভন যখন বাড়ি ফিরে আসে এবং দেখে কেউ তাকে চিনতে পারছে না। অবশেষে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের কাছে সত্যিকারের ছেলে হয়ে টাকার বিনিময়ে তাকে অভিনয় করতে হয়েছিল। 



'শোনো বলছি।'—বক্তা কে? বক্তা কী বলতে চেয়েছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ' গল্প থেকে গৃহীত। এক্ষেত্রে বক্তা হলেন গল্প কথকের বন্ধু ‘সোমেশ। 

→ শীতের এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে যখন পৃথিবী বিবর্ণ মৃতদেহের মতো অসাড়। কথকের বন্ধু সোমেশ নির্লিপ্ত। ঘর ও বাইরে এই স্তব্ধতা ভাঙতে কথক যখন সেদিনকার সংবাদপত্রে সাত-সাতটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বন্ধু সোমেশের কাছে বলে অধিকাংশ নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের ইতিহাস একই রকম। সোমেশ তাতে একমত না হয়ে ফিরে আসার এক ভয়ানক ট্র্যাজেডির কথা শুরুর প্রসঙ্গে কথাটির অবতারণা করেছে। 



‘সে বিজ্ঞাপন নয় সম্পূর্ণ একটি ইতিহাস'—কোন্ প্রসঙ্গে কার এই উক্তি? তা শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন নয় কেন? 

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের এক ট্র্যাজিক ঘটনার বর্ণনাকারী কথকের বন্ধু সোমেশের। 

→ সোমেশের মনে পড়ে যায় খবরের কাগজে প্রকাশিত এক ধারাবাহিক বিজ্ঞাপনের কথা, যেখানে প্রথমে নিরুদ্দিষ্ট ছেলের প্রতি মায়ের ছিল কাতর আকুতি, অনুরোধ ও মিনতি; তারপর ব্যর্থতা ও হতাশার দীর্ঘশ্বাস। এগুলি পর প্রথমে বাবার গম্ভীর স্বর; পরে কম্পিত-বীর-শান্ত কণ্ঠস্বর, ক্রমে যা কাতরক্লান্ত ও দুর্বল আর্তনাদে পরিণত হয়। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারে বিপর্যয় যে কত করুণার ও দুঃখের হয় তার প্রমাণ এই বিজ্ঞাপনগুলি। সেজন্যই বক্তা বলেন এটি শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন নয়, এটি একটি পরিবারের বিপর্যয়ের ইতিহাসও বটে।



‘অস্পষ্ট আড়ষ্ট ভাষা, কিন্তু তার ভিতর দিয়ে কী ব্যাকুলতা যে প্রকাশ পেয়েছে'—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথকের বন্ধু সোমেশ পুরোনো খবরের কাগজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেন। বিজ্ঞাপনটি ছিল একটি নিরুদ্দিষ্ট ছেলের প্রতি বাবা ও মায়ের ব্যাকুল আহ্বান। বিজ্ঞাপনটিতে প্রথম দিকে মায়ের আর্তি, আকুতি ও মিনতি প্রকাশ পেত। তারপর এর সঙ্গে যুক্ত হয় মায়ের হতাশার দীর্ঘশ্বাস এবং হাহাকার। এগুলি মিলিয়ে যেতে না যেতেই বাবার গম্ভীর স্বর ক্রমে কম্পিত কণ্ঠস্বরে রূপান্তরিত হয়। শেষে তাও কাতর, ক্লান্ত ও দুর্বল আর্তনাদে পরিণত হয়। সোমেশের মতে, বিজ্ঞাপনের আড়ষ্ট ভাষায় মা-বাবার হৃদয়ের ব্যাকুলতা ও শূন্যতার যে বিপর্যস্ত আর্তনাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা না পড়লে বোঝা যায় না। প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশে এই সত্যই মূর্ত হয়ে উঠেছে। 



‘তারপর একেবারে গেল বদলে। ...সাধারণ একটি বিজ্ঞপ্তি মাত্র'। —উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো। 

অথবা, 

‘পুরস্কারের পরিমাণ ক্রমশই বাড়তে লাগল উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে নিরুদ্দিষ্ট শোভনকে নিয়ে কাগজে ধারাবাহিক বিজ্ঞাপন বেরোতে থাকে। প্রথমে ছেলের প্রতি মায়ের আর্তি, আকুতি ও অনুরোধ থাকত। তারপর বাবার কম্পিত কণ্ঠস্বর পরিণত হল কাতর আর্তনাদে। কিন্তু এইসব আবেদন যখন ব্যর্থ হয় তখন তা শুধুমাত্র বিজ্ঞপ্তিতে পরিণত হয়। তাতে থাকে ছেলেটির চেহারা, বয়স এবং বিশেষ চিহ্ন হিসেবে ঘাড়ের দিকে ডান কানের কাছে একটি বড়ো জড়ুলের কথা। এক বছর ধরে নিখোঁজ। জীবিত বা মৃত জানাতে পারলেই পুরস্কার। এভাবে দিন যায়, উপযুক্ত সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত পুরস্কারের পরিমাণ বাড়তেই থাকে।



‘শোভনকে আমি জানতাম'—উক্তিটি কার? শোভন কী ধরনের ছেলে ছিল? 

অথবা, 

‘তার ভেতরেই সে পেয়েছে মুক্তির স্বাদ’—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথকের বন্ধু ‘সোমেশের। 

→ পৃথিবী নামক সংসারে আশ্চর্য এক নিরাসক্ত মন নিয়ে শোভন এসেছিল। আর পাঁচটা ছেলের মতো কোনো অভিমানের বশবর্তী, সে বাড়ি ছাড়েনি। আসলে সে ছিল তৈলাক্ত হৃদয়ের। সে যে-কোনো ছুতোয় বাড়ি ছাড়তে পারত। তার হৃদয় এমন তৈলাক্ত অর্থাৎ পিচ্ছিল হওয়ায় বাবা-মার স্নেহও তাকে ধরে রাখতে পারেনি। খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনগুলো যে সে দেখেনি তা নয়। আসলে সেগুলো সে অনায়াসে ভুলে যায়। বাড়ির বাইরে সুখ-দুঃখের মধ্যেও সে খুঁজে পায় মুক্তির স্বাদ। 



‘সে কথাটা আগে বলিনি'—কোন্ কথাটা আগে বলেননি? তার বর্তমান অবস্থা কী হয়েছিল? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথকের বন্ধু সোমেশ তাঁর বর্ণিত কাহিনিতে নিরুদ্দিষ্ট শোভনের পারিবারিক অবস্থার কথা আগে বলেননি। শোভন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে ছিল না। তাদের অবস্থা পারিবারিকভাবে সম্পন্ন বা সচ্ছল বললেও পুরোটা বলা হয় না। শোভনদের প্রাচীন জমিদারি বহু দুর্দিনের ভেতর দিয়ে যাত্রা করেও তেমন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়নি। সুতরাং যথেষ্ট বিত্তশালী এক পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিল শোভন। 

→ বিগত দু-বছরের নিরুদ্দিষ্ট জীবনের দুঃখ-দুর্দশা গায়ে না মাখলেও, শোভনের ওপর তার ছাপ পড়েছিল। দুই বছরে সে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাড়ির কেউ চিনতে পারবে না, এমন দুর্ভাবনা তার ছিল না। 



‘নায়েবমশাই-এর গলার স্বর কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হলো'—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। 

অথবা, 

‘আসুন, বারবাড়িতে একটু বিশ্রাম করুন’–এরূপ মন্তব্যের কারণ কী? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ’ গল্পে নিরুদ্দিষ্ট শোভন দুবছর পরে বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন তাদের জমিদারির কর্মচারীরা তাকে চিনতে পারছে না। সে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে পুরোনো নায়েব তাকে বাধা দেন এবং বারবাড়িতে বিশ্রাম নিতে বলেন। সেখানে খাজাঞ্জি ও নায়েবের কথাবার্তা এবং ব্যবহার তার অস্বাভাবিক ঠেকে। আসলে সে টের পায়নি যে পুরস্কারের লোভে ইতিপূর্বে শোভন সেজে তার বাড়িতে দুজন এসেছিল এবং সাতদিন আগে গাড়ি চাপা পড়ে শোভনের মৃত্যুসংবাদ যে তাদের কাছে তাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তাই নায়েবের কণ্ঠস্বরে এমন অবিশ্বাস প্রাধান্য পেয়েছিল। 



'হঠাৎ শোভনের কাছে সমস্ত ব্যাপারটা ভয়ংকরভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠল'—কোন্ ব্যাপার শোভনের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অনুসারে, নিরুদ্দিষ্ট শোভন বাড়ি ফিরে আসার পরে তাদের জমিদারির কর্মচারীরা কেউ তাকে চিনতে পারেনি। প্রথমে শোভন সেটি বুঝতে পারেনি। পরে যখন শোভন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে বাড়ির ভিতরে যেতে চায়, তখনই নায়েবমশাই বাধা দিয়ে বলেন, মিছিমিছি চেষ্টা করে লাভ নেই। তাতে ফল হবে না। একথা শোনার পরই শোভনের কাছে হঠাৎ সমস্ত ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শোভন নিশ্চিত হয় বাড়ির কর্মচারীরা কেউই তাকে চিনতে পারেনি। 



‘আপনি একটু দাঁড়ান, আমি আসছি’—বক্তা কে? তাঁর এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ছিল? 

অথবা, 

‘দেখুন, কিছু মনে করবেন না'—বক্তা কে? তিনি এমন মন্তব্য করেছেন কেন? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ' গল্পে দুবছর পরে বাড়ি ফেরা নিরুদ্দিষ্ট শোভনকে উদ্দেশ্য করে নায়েবমশাই এমন উক্তি করেছিলেন। 

→ নিরুদ্দিষ্ট শোভন দীর্ঘ দুবছর পর বাড়ি ফিরলেও তার বাড়ির পূর্বপরিচিত কর্মচারীরা কেউই তাকে চিনতে পারেনি এমনকি নায়েমশাই খাজাঞিবাবু পর্যন্ত। তবে এর পিছনে সংগত কারণও ছিল। ইতিপূর্বে পুরস্কারের লোভে দুজন শোভন ঘুরে গেছে। তাই তারা একটু বেশি সতর্ক এবং ভেতরে যেতে দেয়নি। বাইরে অপেক্ষা করতে বলে তার একটা পুরোনো ফটো নিয়ে শোভনকে মিলিয়ে দেখে কিছু মিল পেলেও সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হতে পেরে তাকে চলে যাবার অনুরোধ জানায়। 



‘শোভন এই অবস্থাতে না হেসে পারলে না'–শোভনের এই হাসির কারণ কী? এই হাসি ও বিদ্রুপ উপেক্ষা করে নায়েমশাই কী বলেছিলেন? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে নিরুদ্দিষ্ট শোভন বাড়ি ফিরে নায়েমশাইয়ের মুখে নিজের মৃত্যুর খবর পায়। সশরীরে জীবিত অবস্থায় নিজের মৃত্যুসংবাদ শুনলে হাসি আসাই স্বাভাবিক। তাই এত বড়ো মিথ্যার সম্মুখীন হয়ে, তা সত্য করতে না পেরে শোভন অবজ্ঞা ও বিদ্রুপের হাসি হাসতে বাধ্য হয়েছিল। 

→ শোভনের মৃত্যু সম্পর্কে নিঃসন্দেহ নায়েবমশাই, শোভনের বিদ্রূপের হাসিকে উপেক্ষা করে বলেন, রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে অপঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও নাম-ধাম-পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে সব কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের ডাক্তারদের বিবরণের সঙ্গেও তাঁদের বর্ণনা মিলে গেছে। 



'মানুষের সঙ্গে ঝড়ে ভাঙা গাছের যে এতদূর সাদৃশ্য হতে পারে'- উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখা করো।

অথবা,

‘তার চলার গতিতে পর্যন্ত যেন ভয়ংকর দুর্ঘটনার পরিচয় আছে’—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে নিরুদ্দিষ্ট শোভন দুবছর পরে ফিরে এসে বুঝতে পারে বাড়ির সকলের কাছে সে আজ অচেনা। এমনকি সকলেই নিশ্চিত গাড়ি চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ঠিক সেই সময় শোভন মুমূর্ষু স্ত্রীর অসহনীয় দুর্দশা এবং নিরুদ্দিষ্ট ছেলের মৃত্যু মতো ভয়াবহ পারিবারিক বিপর্যয় একজন মানুষকে কতটা বিধ্বস্ত করে তা তার বাবাকে দেখে বুঝতে পারে। সে ঝড়ে ভাঙা গাছের সঙ্গে বাবার সাদৃশ্য খুঁজে পায়। সাহিত্যের উপমায় অনেক সময় যা বোঝা যায় না বিপর্যস্ত বাবাকে দেখে সে তা বুঝতে পারে। মানুষটির চলার গতিতেও যেন এক ভয়ানক দুর্ঘটনার পরিচয় মেলে। 



‘সকলে কিছু বুঝে ওঠবার আগেই শোভন দৌড়ে ঘর থেকে বার হয়ে গেল।'—শোভন দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল কেন? 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের নিরুদ্দেশ’ গল্প অনুসারে, বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে নিরুদ্দিষ্ট শোভন বাইরের ঘরে নায়েবমশাই ও অন্য কর্মচারীদের মাঝখানে বসেছিল। প্রত্যেকের চোখে-মুখে অবিশ্বাস দেখে সে বুঝেছিল, তাকে কেউ চিনতে পারছে না। এরপর নায়েবমশাই হতাশভাবে শোভনকে রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে তার মৃত্যুসংবাদের কথা জানিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই বাবাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখে শোভন। কোনো উপায় না দেখে বাবার কাছেই দৌড়ে পৌঁছাতে চায় সে। বাবার সঙ্গে দেখা করবার জন্যই অসহায় শোভন শেষ আশা বুকে নিয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। 



‘শোভনকে একটা কাজ করতে হবে'— শোভনকে কী কাজ করতে বলা হয়েছিল? 

অথবা, 

‘তার এতে কোনো ক্ষতি নেই'—উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো। 

অথবা, 

'কণ্ঠস্বরে তাঁর মিনতি'—'মিনতি'টি কী ছিল বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে শোভন যখন দুবছর পরে বাড়ি ফিরে আসে তখন কেউ তাকে চিনতেই পারে না। বিস্মিত ব্যাকুল শোভন যখন কী করবে ভেবে পাচ্ছে না তখন নায়েব তার কাছে কাতর কণ্ঠে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসেন। প্রস্তাবটি এই যে, তার বাবা অর্থাৎ জমিদার বাবুর কাতর অনুরোধ, শোভনকে মৃত্যুপথ যাত্রী মায়ের কাছে গিয়ে হারানো ছেলের অভিনয় করে তাকে শেষ সান্ত্বনাটুকু দিতে হবে। কারণ মুমূর্ষু মানুষকে তারা মৃত্যুসংবাদ শোনাতে চান না। তাই টাকার বিনিময়ে একটিবার অন্তত তাকে শোভন সাজতে হবে। তাতে তার লাভ বই ক্ষতি হবে না। এ কাজের কথাই শোভনকে বলা হয়েছিল।