স্কুলে কে বিভীষিকা ছিলেন?
উত্তর: গল্পের কথক সুকুমারের স্কুলে বিভীষিকা ছিলেন তার অঙ্কের মাস্টারমশাই।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কী নিয়ে পণ্ডশ্রম করত ছেলেরা?
উত্তর: ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কুলের ছেলেরা জটিল অঙ্ক নিয়ে পণ্ডশ্রম করত।
‘ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলতো খড়ি।' —কখন এমন ঘটত?
উত্তর: ছেলেরা জটিল অঙ্ক নিয়ে নাজেহাল হলে মাস্টারমশাই ব্ল্যাকবোর্ডে খড়ি দিয়ে ঝড়ের গতিতে তা কষে দিতেন।
খড়ি ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই কী করতেন?
উত্তর: হঠাৎ খড়ি ভেঙে গেলে অঙ্কের মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে তা ছাত্রদের দিকে ছুঁড়ে দিতেন।
'আমরা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতুম'—কী দেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যে-কোনো জটিল অঙ্ক অনায়াসে মাস্টারমশাই ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন, তা ছাত্ররা রোমাঙ্কিত হয়ে দেখত।
পৃথিবীর সব অঙ্ক কার মুখস্থ ছিল?
উত্তর: পৃথিবীর সব অঙ্ক গল্পের কথক সুকুমারের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের যেন মুখস্থ ছিল।
অঙ্ক মাস্টারমশাইয়ের পারদর্শিতা দেখে ছাত্রদের কী মনে হত?
উত্তর: ছাত্রদের মনে হত ব্ল্যাকবোর্ডে অদৃশ্য অক্ষরে কষা অঙ্কগুলোর উপর মাস্টারমশাই খড়ি বুলিয়ে চলেছেন।
'ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত।'— এখানে ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘তারা’ বলতে কথকের স্কুলের সেইসব ছাত্রদের কথা বলা হয়েছে, যারা অঙ্কে একশোয় একশো পায়।
গল্পকথক নিজেকে ‘অঙ্ক-বিশারদ বলেছেন কেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার অঙ্কে মোটেও পারদর্শী ছিলেন না বলে নিজেকে ব্যঙ্গ করে ‘অঙ্ক-বিশারদ' বলেছেন।
মাস্টারমশাইয়ের ক্লাসে অঙ্কে কাঁচাদের কী পরিণতি হত?
উত্তর: অঙ্কে কাঁচা ছাত্রদের মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেয়ে মাথা ঘুরে গেলেও কাঁদার উপায় ছিল না। কেননা তাহলে তিনি আরও খেপে যেতেন।
‘তা উনি পারতেন।'–‘উনি’ কী পারতেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই অঙ্ক না পারা ছাত্রদের কাঁদতে দেখলে পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারবেন।
মাস্টারমশাই কী কল্পনা করতে পারতেন না?
উত্তর: পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক পারে না, মন অঘটন মাস্টারমশাই কল্পনা করতে পারতেন না।
প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল?
উত্তর: প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা ছিল ‘যে অঙ্ক জানে না—এখানে তার প্রবেশ নিষেধ।
কোন্ স্বর্গের থেকে লক্ষ যোজন নিরাপদ দূরত্বে থাকা ছাত্রদের কাছে গ্রহণীয় ছিল?
উত্তর: ছাত্রদের মতে, যে স্বর্গে অঙ্ক কষতে হয়, সেই স্বর্গ থেকে দূরে থাকাই ভালো।
মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে গল্পকথক কীভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন?
উত্তর: ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে অঙ্ক এবং অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে গল্পকথক রক্ষা পেয়েছিলেন।
‘অঙ্কের সেই বিভীষিকা মন থেকে গেল না।' - এর কারণ কী?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের শাসন-গর্জন-শাস্তি গল্পকথকের অন্তর্মনে গভীরভাবে চেপে বসায়, তা মন থেকে কখনোই পুরোপুরি মুছে যায়নি।
‘এম. এ পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি, —কে, কী স্বপ্ন দেখেছেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার স্বপ্ন দেখতেন পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা আসন্ন, তবু অঙ্ক মিলছে না আর মাস্টারমশাই আগুন ঝরা চোখে তাকিয়ে আছেন।
স্বপ্নভঙ্গের পর গল্পকথক কী ভেবে আশ্বস্ত হতেন?
উত্তর: স্বপ্নভঙ্গের পর গল্পকথক এখন আর তাঁকে স্কুলে অঙ্ক কষতে হয় না ভেবে আশ্বস্ত হতেন।
পত্রিকার পক্ষ থেকে কী ফরমাশ এসেছিল?
উত্তর: গল্পের কথক তথা বাংলার অধ্যাপক সুকুমারের কাছে পত্রিকার পক্ষ থেকে ফরমাশ এসেছিল, ছেলেবেলার গল্প লেখার।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ফরমাশে প্রাথমিকভাবে কথক রাজি হননি কেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমারের শৈশবে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই বলেই, তিনি কর্তৃপক্ষের ফরমাশে রাজি ছিলেন না।
কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে ছাড়ল না কেন?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা লেখকেরা কেউ পত্রিকায় লেখা দিতে রাজি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে ছাড়ল না।
‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণেরা' - বলতে এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলতে কথক সেই সময়কার বাংলা সাহিত্যের প্রতিষ্ঠিত এবং প্রথিতযশা লেখকদের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
'তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।' - কথকের এই নির্ভয়তার কারণ কী?
উত্তর: পত্রিকাটির পাঠকসংখ্যা সীমিত আত্মকথা অন্য কারো কাছে স্পর্ধার মনে হবে না, এই ভেবেই তিনি নির্ভয় হয়েছিলেন।
‘ওটা প্রীতির ব্যাপার।'—‘প্রীতির ব্যাপারটি কি?
উত্তর: গুটিকয় পাঠকের কাছে একটি পত্রিকায় নিজের শৈশবের কথা ঘরোয়া ঢঙে বলাকেই কথক ‘প্রীতির ব্যাপার’ বলে মনে করেছেন।
'লিখলুম তাঁকে নিয়েই।'—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্পটি লিখেছিলেন, এখানে তাঁর কথাই বলা হয়েছে।
গল্পে সুকুমারের লেখা সদুপদেশটি কী ছিল?
উত্তর: গল্পে সুকুমারের লেখা সদুপদেশটি ছিল, অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না।
‘তার প্রমাণ আমি নিজেই।'—তিনি কীসের প্রমাণ?
উত্তর: শাসন ও শাস্তির মাধ্যমে যে কাউকে কিছু শেখানো যায় না, গল্পকথক নিজেই এ ঘটনার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ।
পত্রিকা-কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল?
উত্তর: পত্রিকা-কর্তৃপক্ষ গল্পলেখক সুকুমারকে দশ টাকা সম্মান-দক্ষিণা দিয়েছিল।
'মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ।'— বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: গল্পকথক মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে দশ টাকা সাম্মানিক হিসাবে পেয়েছিলেন। একেই তিনি নগদ লাভ বলেছেন।
'ভুলে গেলুম মাস্টারমশাইকেও।'—ভুলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্পটি প্রকাশের অনেকদিন পর গল্পকথক স্বাভাবিক নিয়মেই আস্তে আস্তে পুরো বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন।
‘আতিথ্য নিয়ে যেতে হবে ওখানে।' কাকে, কোথায় যেতে হবে?
উত্তর: গল্পকথক তথা বাংলার অধ্যাপক সুকুমারকে বাংলাদেশের এক প্রান্তের একটি কলেজের বার্ষিক উৎসবে আতিথ্য নিয়ে যেতে হবে।
রাজোচিত সংবর্ধনা কোথায় মেলে?
উত্তর: কলকাতা থেকে বাইরে গ্রাম-মফস্সলের কোনো কলেজে আতিথ্যগ্রহণের ডাক এলে রাজোচিত সংবর্ধনা পাওয়া যায়।
‘আমাদের মতো নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ।'— নগণ্যদের পক্ষে কী সুখাবহ?
উত্তর: কলকাতা থেকে দুরে অতিথি হিসেবে যাওয়ার সম্মান-শ্রদ্ধা ও সংবর্ধনার বহর বেশি হওয়ায় নগণ্য অধ্যাপকদের কাছে তা অধিক সুখাবহ।
সভায় সুকুমার কেমন বক্তৃতা করেছিলেন?
উত্তর: সভায় গল্পকথক ও অধ্যাপক সুকুমার জাঁকিয়ে বক্তৃতা করেছিলেন।
গল্পকথকের বক্তৃতাটি কেমন ছিল?
উত্তর: গল্পকথক রবীন্দ্রনাথের বারোটি উদ্ধৃতি, বার্নার্ড শ'র নাম করে একটি ইংরেজি কোটেশন-সহ তরুণদের উদ্দেশ্যে এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন।
গল্পকথকের বক্তব্য শুনে কলেজের বৃদ্ধ প্রিন্সিপালের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: মুগ্ধ বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল বক্তব্য শুনে বলেছিলেন ভারী চমৎকার, সুমধুর এবং সারগর্ভ বক্তব্য রেখেছেন বক্তা সুকুমার।
'ছেলেরা বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলল। প্রশ্ন ছেলেদের বিস্ময়ের কারণ কী?
উত্তর: শরীর ভালো না থাকা সত্ত্বেও গল্পকথক সুকুমার এত চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন জেনে ছেলেরা বিস্মিত হয়েছিল।
‘যদিও মনে মনে জানি।'—বক্তা মনে মনে কী জানতেন?
উত্তর: বক্তা সুকুমার জানতেন, রবীন্দ্র জন্মোৎসব থেকে বনমহোৎসব পর্যন্ত এই একটি সর্বার্থসাধক বক্তৃতাই তাঁর একমাত্র সম্বল।
সুকুমারের মাস্টারমশাই কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন?
উত্তর: সুকুমারের মাস্টারমশাই কলেজের বাইরে মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন।
'আচ্ছা চলো, আমি যাচ্ছি।' এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক বাইরে সুকুমারের সাক্ষাৎ-প্রত্যাশী শুনে, তিনি দাক্ষিণ্য-পুলকিত মনে এমন মন্তব্য করেছিলেন।
হলের বাইরে মাঠের অন্ধকার কেমন ছিল?
উত্তর: হলের বাইরে মাঠের অন্ধকার ছিল তরল।
'তারপর চোখে পড়ল মানুষটিকে।' মানুষটি দেখতে কেমন ছিলেন?
উত্তর: মানুষটির চেহারা ছিল কুঁজো ও লম্বা এবং মাঠের তরল অন্ধকারেও তাঁর সাদা চুলগুলি চিকমিক করছিল।
'আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল।'— মন দুলে উঠেছিল কেন?
উত্তর: এক অতিপরিচিত ও আশ্চর্য গলায় লেখকের নাম ধরে কেউ ডাকলে তাঁর মন দুলে উঠেছিল।
‘একটা ভয়ের মৃদু শিহরন আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল।'— এমন ঘটার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: সুকুমারের অন্তর্মনে মাস্টারমশাই সম্পর্কে আতঙ্ক প্রচ্ছন্ন থাকায় মাস্টারমশাইয়ের গলা শুনে শিহরন বয়ে যায় তাঁর শরীরে।
'লুকিয়ে ছিল মনের চোরাকুঠুরিতে।' - কী লুকিয়ে ছিল?
উত্তর: ছেলেবেলায় অঙ্ক না পারলেই মাস্টারমশাইয়ের কাছে শাস্তি পাওয়ার স্মৃতি লুকিয়ে ছিল গল্পকথক সুকুমারের মনের চোরাকুঠুরিতে।
মাস্টারমশাই কেন ছুটে এসেছেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই সাধারণত বাড়ি থেকে না বেরোলেও আজ তাঁর ছাত্র সুকুমারের বক্তৃতা শুনতে ছুটে এসেছিলেন।
মাস্টারমশাই নিজে কীসের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমারের অঙ্কের মাস্টারমশাই নিজে বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।
মাস্টারমশাইয়ের চোখের দীপ্তি কেমন ছিল?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের চোখ বুদ্ধির দীপ্তিতে ছুরির ফলার মতো ঝকঝক করত।
সুকুমার নিজের বক্তৃতাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার নিজের বক্তৃতাকে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা ফানুসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
‘পড়ে আনন্দে আমার চোখে জল এল।'-চোখে জল আসার কারণ কী?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের ছাত্র সুকুমার তাঁকে মনে রেখে গল্প লিখেছে—এই ভেবে আবেগে তাঁর চোখে জল এসেছিল।
সুকুমারের জিভ শুকিয়ে যাচ্ছিল কেন?
উত্তর: লজ্জায় ও আত্মগ্লানিতে সুকুমারের জিভ শুকিয়ে যাচ্ছিল।
কোন্ লেখাটা মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে সব সময় থাকে?
উত্তর: সুকুমার মাস্টারমশাইকে নিয়ে যে গল্পটি লিখেছিল, সেই গল্পটি মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে সব সময় থাকে।
মাস্টারমশাইকে দু-একজন কী বলেছিল?
উত্তর: দু-একজন মাস্টারমশাইকে বলেছিল, তিনি কর্মজীবনে ছাত্রদের মারতেন বলেই ছাত্রটিও সুযোগ পেয়ে তাঁকে দু-কথা শুনিয়ে দিয়েছে।
সুকুমার তাঁর মাস্টারমশাইয়ের কাছে কেমন ছিল?
উত্তর: সুকুমার তার মাস্টারমশাইয়ের কাছে সন্তানের মতো ছিল।
গল্পটি পড়ে মাস্টারমশাইয়ের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: সুকুমারের লেখা গল্পটি পড়ে মাস্টারমশাইয়ের মনে হয়েছিল সন্তানতুল্য ছাত্রদের মাস্টারমশাইয়ের দোষ-ত্রুটি-অন্যায় শুধরে দেওয়ার অধিকার আছে।
