‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে এবং কত খ্রিস্টাব্দে এটি প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধটির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে এটি বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়।
‘নব নব সৃষ্টি’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘নব নব সৃষ্টি’ বলতে লেখক নতুন নতুন নির্মাণ বা সৃজনের কথা বলেছেন।
লেখক সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন কেন?
উত্তর: নতুন বিষয় বোঝাতে নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ধার করার পরিবর্তে নিজ শব্দভাণ্ডারে তার খোঁজ করে।
সংস্কৃতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা বলতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয় কেন?
উত্তর: সংস্কৃত বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলেও নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিজস্ব শব্দভাণ্ডারের উপর বেশি নির্ভর করে।
প্রাচীন যুগের কয়েকটি আত্মনির্ভরশীল ভাষার নাম বলো।
উত্তর: প্রাচীন যুগের কয়েকটি আত্মনির্ভরশীল ভাষা হল হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা।
বর্তমান যুগের কোন্ ভাষা আত্মনির্ভরশীল নয় বলে লেখক মনে করেন?
উত্তর: বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলা ভাষাকে লেখক আত্মনির্ভরশীল নয় বলে মনে করেন।
আমরা কোন সময়ে আরবি-ফারসি থেকে প্রচুর শব্দ গ্রহণ করেছি?
উত্তর: আমরা পাঠান-মোগল যুগে আরবি-ফারসি থেকে প্রচুর শব্দ গ্রহণ করেছি।
কেন প্রচুর ইউরোপীয় শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে?
উত্তর: শিক্ষার মাধ্যমরূপে ইংরেজি ভাষার পরিবর্তে বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করায় প্রচুর ইউরোপীয় শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে।
‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে লেখক রান্নাঘর থেকে কী তাড়ানো মুশকিল বলে মনে করেছেন?
উত্তর: ‘নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রান্নাঘর থেকে আলু-কপি তাড়ানো মুশকিল বলে মনে করেছেন।
‘নূতন আমদানিও বন্ধ করা যাবে না।—কী আমদানি বন্ধ করা যাবে না?
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দ আমদানি বন্ধ করা যাবে না।
‘বহু সাহিত্যিক উঠে পড়ে লেগেছেন',—বহু সাহিত্যিক কেন উঠে পড়ে লেগেছেন?
উত্তর: বহু সাহিত্যিক হিন্দি থেকে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শব্দ তাড়াবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।
‘বলা বাহুল্য, রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে লিখেছেন'— রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে কী লিখেছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে লিখেছেন—“আব্রু দিয়ে, ইজ্জৎ দিয়ে, ইমান দিয়ে, বুকের রক্ত দিয়ে।”
‘বলা বাহুল্য, রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে লিখেছেন', রবীন্দ্রনাথ স্বচ্ছন্দে কী লিখেছেন?
উত্তর: ‘ইনকিলাব’ শব্দটি বাংলায় কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম ব্যবহার করেছেন।
‘শহিদ’ শব্দ বাংলায় কে ঢুকিয়েছেন?
উত্তর: ‘শহিদ’ শব্দ বাংলায় কাজী নজরুল ইসলাম ঢুকিয়েছেন।
বিদ্যাসাগর আরবি-ফারসি কোথায় ব্যবহার করতেন?
উত্তর: বিদ্যাসাগর বেনামিতে অসাধু রচনায় আরবি-ফারসি ব্যবহার করতেন।
আরবি-ফারসি শব্দের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করাকে কে ‘আহাম্মুখী’ বলে মনে করতেন?
উত্তর: পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আরবি-ফারসি শব্দের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণাকে ‘আহাম্মুখী’ মনে করতেন।
‘আলাল’ ও ‘হুতোম' কী?
উত্তর: ‘টেকচাঁদ’ ছদ্মনামে প্যারীচাঁদ মিত্রের গদ্যগ্রন্থ ‘আলালের ঘরের দুলাল', 'আলাল' নামে এবং ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' ‘হুতোম' নামে পরিচিত।
‘তার উল্লেখ এস্থলে নিষ্প্রয়োজন' - কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে ‘আলাল’ ও ‘হুতোম'-এর ভাষার উল্লেখ সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
হিন্দি সাহিত্যের বঙ্কিম কাকে বলা হয়?
উত্তর: প্রেমচন্দ্রকে হিন্দি সাহিত্যের বঙ্কিমচন্দ্র বলা হয়।
হিন্দিতে আরবি-ফারসি কে বিস্তর ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: প্রেমচন্দ্র হিন্দিতে আরবি-ফারসি বিস্তর ব্যবহার করেছেন।
রচনার ভাষা কীসের উপর নির্ভর করে?
উত্তর: যে-কোনো রচনার ভাষা রচনার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।
শংকর দর্শনের ভাষা কেমন?
উত্তর: শংকর দর্শনের ভাষা সংস্কৃত শব্দবহুল।
‘বসুমতী’-র সম্পাদকীয় রচনার ভাষা কেমন ছিল?
উত্তর: ‘বসুমতী’-র সম্পাদকীয় রচনার ভাষা ছিল গাম্ভীর্যপূর্ণ।
বাংলায় যেসব বিদেশি শব্দ ঢুকেছে তার মধ্যে প্রধান কোনগুলি?
উত্তর: বাংলায় যেসব বিদেশি শব্দ ঢুকেছে তার মধ্যে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজিই প্রধান।
‘যতদিন থাকবে ততদিন আরও ঢুকবে বলে আশা করতে পারি।'—কোন্ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক এ কথা বলেছেন ?
উত্তর: স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত তুলে দেবার প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে।
স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃতচর্চা আমরা উঠিয়ে দিতে চাই না কেন?
উত্তর: এখনও বহু সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন থাকায় স্কুল-কলেজ থেকে আমরা সংস্কৃতচর্চা উঠিয়ে দিতে চাই না।
কোন্ বিশেষ বিশেষ বিদ্যাচর্চায় ইংরেজি আবশ্যক বলে মনে করেছেন সৈয়দ মুজতবা আলী?
উত্তর: দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, কারিগরিবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শব্দ জানতে হলে ইংরেজি আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে।
কোন্ দুই ভাষা থেকে বাংলায় আর নতুন কোনো শব্দ ঢুকবে না বলে লেখক মনে করেছেন?
উত্তর: আরবি ও ফারসি ভাষা থেকে নতুন কোনো শব্দ আর বাংলা ভাষায় ঢুকবে না বলে লেখক মনে করেছেন।
কোন দুই ভাষার উপর তরুণ সম্প্রদায়ের কৌতূহল অতিশয় ক্ষীণ?
উত্তর: আরবি ও ফারসি ভাষার উপর তরুণ সম্প্রদায়ের কৌতূহল অতিশয় ক্ষীণ।
অদূর ভবিষ্যতে কীসের চর্চা আরম্ভ হয়ে বাংলাকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেছেন লেখক?
উত্তর: লেখক অদূর ভবিষ্যতে আরব-ইরানে কোনো অভূতপূর্ব জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা আরম্ভ হয়ে বাংলাকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেছেন।
‘সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই'—কোন্ বিষয়ে লেখকের সন্দেহ নেই?
উত্তর: বাংলায় চালু হওয়া আরবি-ফারসি শব্দের অনেকগুলোই আরও বহুকাল চালু থাকবে—এ বিষয়ে লেখকের সন্দেহ নেই।
লেখকের মতে কোনো কোনো লেখক কী কাজে লাগাবার চেষ্টা করেছেন?
উত্তর: লেখকের মতে, কিছু লেখক পুরোনো বাংলার ‘চণ্ডী' থেকে ‘হুতোম’ পর্যন্ত, যে সমস্ত অচলিত আরবি-ফারসি শব্দ। পাওয়া যাচ্ছে তাদের কাজে লাগাবার চেষ্টা করেছেন।
‘চণ্ডী’ কী?
উত্তর: ‘চণ্ডী’ বলতে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য প্রচারক 'চণ্ডীমঙ্গল’-এর কথা বলা হয়েছে।
‘অচলিত অনেক আরবি-ফার্সি শব্দ নূতন মেয়াদ পাবে' - কেন?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রী পুরোনো বাংলা পড়তে গিয়ে বিভিন্ন আরবি-ফারসি শব্দ পায়, যেগুলি তারা সহজেই বুঝতে পারে। তাই অচলিত অনেক আরবি-ফারসি শব্দ নতুন মেয়াদ পাবে।
‘নূতন খতেন নিলে ভালো হয়।'—‘খতেন’ শব্দটি সম্পর্কে তোমার কী মনে হয় লেখো।
উত্তর: ‘খতিয়ান’ শব্দটির পরিবর্তিত রূপ হল ‘খতেন’। এখানে স্বরসংগতি এবং স্বরলোপের ফলে ‘খতিয়ান' হয়েছে ‘খতেন'।
ভারতীয় মক্তব-মাদ্রাসায় কোন্ ভাষা বেশি করে পড়ানো হয়েছিল?
উত্তর: ভারতীয় মক্তব-মাদ্রাসায় আরবি ভাষা বেশি করে পড়ানো হয়েছিল।
ভারতীয় আর্যরা কোন্ ভাষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিল?
উত্তর: ভারতীয় আর্যরা ইরানি-আর্য সাহিত্য অর্থাৎ ফারসি ভাষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিল।
উর্দুর সঙ্গে কোন্ ভাষার মূল সুর বাঁধা?
উত্তর: উর্দুর সঙ্গে ফারসির মূল সুর বাঁধা।
হিন্দির উপর বাইরের কোন ভাষার প্রভাব পড়েছে বেশি?
উত্তর: হিন্দির উপর ফারসির প্রভাব পড়েছে বেশি।
নবীন ফারসি ভাষার জন্ম হয়েছিল কীভাবে?
উত্তর: আর্য-ইরানি ভাষা ও সেমিতি-আরবি ভাষার সংঘর্ষে নবীন ফারসি ভাষার জন্ম হয়েছিল।
আর্য-ইরানি ভাষা ও সেমিতি-আরবি ভাষার সংঘর্ষে ভারতবর্ষে কোন্ সাহিত্যের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: আর্য-ইরানি ভাষা ও সেমিতি-আরবি ভাষার সংঘর্ষে ভারতবর্ষে সিন্ধি, উর্দু ও কাশ্মীরি সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।
ভারতবর্ষে কোন্ তিন ভাষা নতুন ঐশ্বর্যশালী সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারেনি?
উত্তর: সিন্ধি, উর্দু এবং কাশ্মীরি—এই তিন ভাষা ভারতবর্ষে নতুন ঐশ্বর্যশালী সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারেনি।
কে উর্দু ভাষাকে ফারসির অনুকরণ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন?
উত্তর: কবি ইকবাল উর্দু ভাষাকে ফারসির অনুকরণ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী কোন্ উর্দু কবির উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: ‘নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী প্রশ্ন উর্দু কবি ইকবালের কথা উল্লেখ করেছেন।
বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য সৃষ্টি কী?
উত্তর: বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য সৃষ্টি হল পদাবলি কীর্তন।
‘এ সাহিত্যের প্রাণ এবং দেহ উভয়ই খাঁটি বাঙালি।'—লেখক এখানে কোন্ সাহিত্যের কথা বলেছেন?
উত্তর: লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী এখানে পদাবলি কীর্তন অর্থাৎ বৈষুব সাহিত্যের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলায় খাঁটি কানুরূপ কে ধরেছিলেন?
উত্তর: মহাভারতের কৃষ্ণ বাংলায় খাঁটি কানুরূপ ধারণ করেছিলেন।
খাঁটি বাঙালি মেয়ে বলতে এখানে লেখক কাকে বুঝিয়েছেন?
উত্তর: খাঁটি বাঙালি মেয়ে বলতে এখানে লেখক শ্রীমতী রাধাকে বুঝিয়েছেন।
‘একই চরিত্র একই রূপে প্রকাশ পেয়েছেন'। —কীসে কীসে একই চরিত্র একই রূপে প্রকাশ পেয়েছেন?
উত্তর: ভাটিয়ালির নায়িকা, বাউলের ভক্ত, মুরশিদিয়ার আশিক ও পদাবলির শ্রীরাধা একই চরিত্র একই রূপে প্রকাশ পেয়েছেন।
কীর্তন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কীর্তন হল প্রশংসাসূচক গান। বাংলাদেশে শ্রীকৃষ্ণের মাহাত্ম্য বিষয়ক গানকেই কীর্তন বলা হয়ে থাকে।
ভাটিয়ালি কী?
উত্তর: নদীমাতৃক বাংলায় ভাটার স্রোতে নৌকা ছেড়ে দিয়ে মাঝি-মাল্লারা যে গান গায় তাই ভাটিয়ালি নামে পরিচিত।
মুরশিদিয়া কী?
উত্তর: সাধারণত ইসলাম ধর্মের আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কিত এক বিশেষ ধরনের সাধন গীতিকে মুরশিদি বা মুরশিদিয়া বলা হয়ে থাকে।
