‘হিমালয় দর্শন' কার লেখা?
উত্তর: ‘হিমালয় দর্শন’ বেগম রোকেয়ার লেখা।
হিমালয় রেল রোড কোথায় শুরু হয়েছে?
উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে হিমালয় রেল রোড শুরু হয়েছে।
বেগম রোকেয়া কোন্ কোন্ রেলগাড়ির কথা বলেছেন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া তিন রকম রেলগাড়ির কথা বলেছেন—ইস্ট ইন্ডিয়ান গাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি এবং হিমালয়ান রেলগাড়ি।
সবচেয়ে ছোটো রেলগাড়ির নাম কী?
উত্তর: সবচেয়ে ছোটো রেলগাড়ির নাম হিমালয়ান রেলগাড়ি।
সবচেয়ে বড়ো রেলগাড়ির নাম কী?
উত্তর: সবচেয়ে বড়ো রেলগাড়ির নাম ইস্ট ইন্ডিয়ান গাড়ি।
রেলগাড়িগুলি দেখতে কেমন?
উত্তর: ছোটো খেলনা গাড়ির মতো রেলগাড়িগুলি খুব নীচু। ইচ্ছা করলেই লোক চলন্ত গাড়িতেই ওঠানামা করতে পারে।
ট্রেনটি যখন ওপরে উঠছিল তখন পথের দুধারে দৃশ্য কেমন ছিল?
উত্তর: পথের দুধারে দৃশ্য অতি মনোরম ছিল, কোথাও অতি উচ্চ চূড়া, কোথাও আবার নিবিড় অরণ্য।
লেখিকারা সমুদ্র থেকে কত হাজার ফিট ওপরে উঠেছিলেন?
উত্তর: লেখিকারা সমুদ্র থেকে তিন হাজার ফিট ওপরে উঠেছিলেন।
‘সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে'।—কী দেখে নদী বলে ভ্রম জন্মেছিল?
উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং যাওয়ার পথে নীচের উপত্যকায় সাদা কুয়াশা দেখে লেখিকার নদী বলে ভ্রম হয়েছিল।
সবুজ রঙের চা-বাগানগুলির বিশেষত্ব কি ছিল?
উত্তর: সবুজ চা-বাগানগুলি পাহাড়ের প্রাকৃতিক শোভাকে আরও শতগুণ বৃদ্ধি করে তুলেছিল।
লেখিকা বেগম রোকেয়া ধরণির সীমস্ত বলে কাকে মনে করেছেন?
উত্তর: কারসিয়ং যাওয়ার পথের দুপাশে সবুজ চা-বাগানের মাঝখান দিয়ে পায়ে হাঁটা সরু পথকেই লেখিকা ধরণির সীমস্ত বলে মনে করেছেন।
'বসুমতীর ঘন কেশপাশ',—বসুমতী কে? কাকে ‘ঘন কেশপাশ" বলা হয়েছে?
উত্তর: বসুমতী হল পৃথিবী। নিবিড় শ্যামল বনকে তার 'ঘন কেশপাশ’ বলে লেখিকার মনে হয়েছে।
জলপ্রপাতগুলিকে দেখে লেখিকার কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: পাহাড়ি পথের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনাগুলি দেখে লেখিকার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল এমনই কোনো ঝরনা জাহ্নবীর উৎস।
‘আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল'—কোন্ মনোরথের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে কারসিয়ং যাওয়ার পথে জলপ্রপাতগুলি প্রাণ ভরে দেখার ইচ্ছা পূরণের কথাই বলা হয়েছে।
"সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম'!–কোন জুলুমের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কারসিয়ং যাবার পথে চার হাজার ফিট ওপরে গরমের জ্বালা ছিল না। এখানে গরমের সেই জুলুমের কথাই বলা হয়েছে।
কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা কত?
উত্তর: কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা ৪৮৬৪ ফিট।
‘গৃহসুখ অনুভব করিতে পারি নাই'! লেখিকা কেন গৃহসুখ অনুভব করতে পারেননি?
উত্তর: বেগম রোকেয়ার জিনিসপত্র ভুল করে দার্জিলিং-এর ঠিকানায় বুক করায়, তিনি বাসায় গিয়েও গৃহসুখ অনুভব করতে পারেননি।
পার্বত্য বসন্তকাল কাকে বলে?
উত্তর: বছরের যে সময়ে কারসিয়ং-এ শীতও বেশি থাকে না আবার গ্রীষ্মকালও হয় না, তাকে পার্বত্য বসন্তকাল বলে।
বেগম রোকেয়া জল কীভাবে ব্যবহার করতেন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া পানীয় জল ফিলটারে ছেঁকে ব্যবহার করতেন।
পার্বত্য অঞ্চলের জল দেখতে কেমন?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলের জল দেখতে খুব পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ।
জল কোথায় পাওয়া যেত?
উত্তর: কারসিয়ং-এর পার্বত্য অঞ্চলে কোথাও কুয়ো, পুকুর বা নদী না থাকায় শুধুমাত্র ঝরনা থেকেই জল পাওয়া যেত।
কারসিয়ং-এর বায়ু কেমন?
উত্তর: কারসিয়ং-এর বায়ু পরিষ্কার ও হালকা।
লেখিকা বেগম রোকেয়া কখন ‘আত্মহারা’ হয়ে যেতেন?
উত্তর: কারসিয়ং-এ পাহাড়ের গায়ে সূর্যাস্তের রঙের সাথে মেঘ ও বাতাসের খেলা দেখে লেখিকা ‘আত্মহারা হয়ে যেতেন।
লেখিকা ঢেঁকিশাকের কথা কোথায় পাঠ করেছিলেন?
উত্তর: লেখিকা ঢেঁকিশাকের কথা ‘মহিলা’ পত্রিকায় পাঠ করেছিলেন।
ঢেঁকিশাক সম্পর্কে লেখিকার ধারণা কী ছিল?
উত্তর: লেখিকা ঢেঁকিশাককে ক্ষুদ্র গুল্ম বলেই জানতেন।
লেখিকা ঢেঁকিতরু সম্পর্কে ভূ-তত্ত্ব গ্রন্থে কী পাঠ করেছিলেন?
উত্তর: লেখিকা ভূ-তত্ত্ব গ্রন্থ পাঠ করে জেনেছিলেন কারবনিফেরাস যুগে বড়ো বড়ো ঢেঁকিতরু ছিল।
লেখিকা কোথায় ঢেঁকি গাছ দেখেছিলেন? তার উচ্চতা কত ছিল?
উত্তর: লেখিকা কারসিয়ং-এ ঢেঁকি গাছ দেখেছিলেন। সেগুলির উচ্চতা ছিল ২০-২৫ ফিট।
'নির্ভয়ে বেড়াইতে পারি',—নির্ভয়ে বেড়াতে পারার কারণ কী?
উত্তর: লেখিকা যে অরণ্যে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন, সেখানে বাঘ না থাকায় তিনি নির্ভয়ে বেড়াতে পেরেছিলেন।
লেখিকার ভুটিয়া চাকরানির নাম কী?
উত্তর: লেখিকার ভুটিয়া চাকরানির নাম ভালু।
স্ত্রীলোকেরা কীসে ভয় পায় না?
উত্তর: স্ত্রীলোকেরা জোঁক দেখলে ভয় পায় না।
ভুটিয়ানিরা কতটুকু কাপড় কীভাবে পরে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা ৭ গজ কাপড় ঘাঘরার মতো করে পরে।
ভূটিয়ানিরা গায়ে ও মাথায় কী পরে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা গায়ে জ্যাকেট পরে ও বিলিতি শাল দিয়ে মাথা ঢেকে রাখে।
'মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক রমণীদের ‘অবলা' বলেছেন কেন?
উত্তর: সেকালে মহিলাদের মতামত জানানোর স্বাধীনতা ছিল স্বল্প। তাই মহিলা পত্রিকার সম্পাদক রমণীদের ‘অবলা’ বলেছেন।
ভুটিয়ানিরা উদরান্নের জন্য কাদের ওপর নির্ভরশীল নয়?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা উদরান্নের জন্য পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ভুটিয়ানিরা কীভাবে পেটের ভাত জোগাড় করে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা পুরুষদের উপার্জনের প্রত্যাশা না করে পার্বত্য রাস্তায় পাথর বহন করে নিজেদের পেটের ভাত জোগাড় করে।
সবলেরা কী করে?
উত্তর: সবলেরা পথে পাথর বিছিয়ে রাস্তা প্রস্তুত করে।
‘পাহাড়নি' কারা?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা নিজেদের ‘পাহাড়নি’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।
সমতলের মানুষদের ভুটিয়ানিরা কী বলে?
উত্তর: সমতলের মানুষদের ভুটিয়ানিরা ‘নীচেকা আদমি' বলে।
ভুটিয়ানিরা কেমন হয়?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা স্বভাবত পরিশ্রমী, কর্মপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদী হয়।
‘ইহারা ক্রমশ সদগুণরাজি হারাইতেছে'। ‘ইহারা’ কেন সদ্গুণরাজি হারাচ্ছে?
উত্তর: নীচেকা আদমি অর্থাৎ সমতলের মানুষদের সংস্পর্শে থেকে এরা ক্রমশই এদের সদ্গুণগুলি হারাচ্ছিল।
ভুটিয়ানিরা সমতলবাসীর সংস্পর্শে এসে কী কী দোষ শিখছে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা সমতলবাসীর সংস্পর্শে এসে বাজারের পয়সা অল্পস্বল্প চুরি করা, দুধে জল মেশানো ইত্যাদি শিখছে।
ভুটিয়ানিরা কীভাবে অন্যান্য জাতির সঙ্গে মিশছে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অন্যান্য জাতির সঙ্গে মিশছে।
‘বড়ো একটা ঝরনা বহিতেছে;'—ঝরনাটি কোথায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: লেখিকা বেগম রোকেয়ার কারসিয়ং-এর বাসা থেকে প্রায় মাইল খানেক দূরে এই বড়ো ঝরনাটি অবস্থিত ছিল।
‘ভক্তির উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ, ত্রিগুণ বেগে প্রবাহিত হয়।—এমন হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: কারসিয়ং-এর বাসার অদূরেই অবস্থিত ‘দুগ্ধফেননিভ' ঝরনার কলধ্বনি শুনে লেখিকার ঈশ্বরভক্তি এইভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
‘এখন সে সাধও পূর্ণ হইল।—কোন্ সাধের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: লেখিকার পাহাড় দেখবার সাধ ছিল। এখানে সেই সাধের কথা বলা হয়েছে।
‘না, সাধ তো মিটে নাই।—সাধ মেটে না কেন?
উত্তর: হিমালয়ের অনির্বচনীয় রূপ লেখিকার দর্শনপিপাসা ক্রমশই বাড়িয়ে দিতে থাকে। তাই স্বাদ যেন পূর্ণ হয় না।
পাহাড় দর্শনের পর লেখিকার কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: পাহাড় দর্শনের পর লেখিকার দর্শনপিপাসা আরও শতগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
‘ভাষায় ব্যক্ত করিবার ক্ষমতা নাই'।—এমন বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: তুষারশৃঙ্গ, জলপ্রপাত, সূর্য-মেঘের খেলার অনির্বচনীয় সৌন্দর্যকে ভাষায় লিখে প্রকাশ করা সহজসাধ্য নয়। বলেই লেখিকা প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।
‘চিত্র দেখিয়া চিত্রকরের নৈপুণ্য বোঝা যায়'।—‘চিত্র' এবং 'চিত্রকর’ কে?
উত্তর: লেখিকা এখানে ঈশ্বরসৃষ্ট প্রকৃতিকে ‘চিত্র’ এবং এই সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ঈশ্বরকে ‘চিত্রকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
‘বালুকাকণা বলিলেও বড়ো বলা হয়।'— কাকে কেন বালুকাকণার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: ঈশ্বরসৃষ্ট মহাবিশ্বের অকল্পনীয় ব্যাপ্তির প্রেক্ষিতে হিমালয় বালুকাকণার মতোই ক্ষুদ্র। তাই লেখিকার এমন মন্তব্য।
হিমালয়ের পাদদেশ সম্পর্কে লেখিকার ধারণা কী ছিল?
উত্তর: লেখিকার মতে হিমালয়ের পাদদেশ বৃহৎ, বিস্তৃত ও সুমহান।
প্রকৃত উপাসনার জন্য কীসের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: সত্যিকারের উপাসনার জন্য প্রয়োজন হয় প্রাণের আবেগ এবং অন্তরে নিষ্ঠা। এই দুয়ের মেলবন্ধনেই উপাসনা সফল হয়।
হিমালয় দর্শনে কোন্ কোন্ ইন্দ্ৰিয় তৃপ্ত হয়?
উত্তর: হিমালয় দর্শনের ফলে চোখ ও কানের পরিতৃপ্তির ফলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়।
লেখিকার কাছে হিমালয় দর্শনের প্রকৃত তাৎপর্য কী?
উত্তর: লেখিকার কাছে হিমালয় দর্শন নিছক ভ্রমণমাত্র নয়, তা আধ্যাত্মিক আনন্দের রসদ। অনেকাংশে ঈশ্বর উপাসনার শামিল।
‘তদ্রূপ উপাসনায় প্রাণের আবেগ থাকে কই?’—এখানে ‘তদ্রূপ উপাসনা' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: টিয়াপাখির মতো নিষ্প্রাণ শেখানো বুলি কপচানো যান্ত্রিক মন্ত্র উচ্চারণকে লেখিকা পরিহাসছলে ‘তদ্রূপ উপাসনা’ বলেছেন।
