Class 9 Bengali Chapter 9 (আকাশে সাতটি তারা ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

‘আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে’—কবির চোখে বাংলার সন্ধ্যার প্রকৃতিগত রূপটি কেমন? এই সৌন্দর্যকে কবি কার সঙ্গে তুলনা করেছেন লেখো। 

অথবা, 

বঙ্গ-প্রকৃতির বুকে ঘনায়মান সন্ধ্যার পটভূমি ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় গ্রাম বাংলার প্রকৃতির বুকে যে সন্ধ্যা নেমে এসেছিল কবির চোখে তা ছিল নীল, শান্ত ও অনুগত। 

→ অস্তগামী সূর্যের আভায় পশ্চিম আকাশের মেঘ লাল হয়ে উঠে সুদূর দিগন্তকে রাঙিয়ে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে যেন বিলীন হয়ে যায়। তারপর প্রকৃতির বুকে নেমে আসে শান্ত, নীল অনুগত সন্ধ্যা, যে সন্ধ্যা আচ্ছন্ন করে হিজল-কাঁঠাল-জাম সহ বাংলায় মাঠ-ঘাট-প্রান্তরকে। আর স্পর্শ করে যায় কবির চোখ-মুখকেও। 



‘আমি এই ঘাসে বসে থাকি' – আমি কে? তিনি এই ঘাসে বসে থাকেন কেন?  

উত্তর: এক্ষেত্রে ‘আমি’ বলতে ‘আকাশের সাতটি তারা’র লেখক জীবনানন্দ দাশকে বোঝানো হয়েছে।

→ পশ্চিম আকাশের অস্তগামী সূর্যের আভায় রঞ্জিত রাঙা মেঘ যখন অপূর্ব বর্ণচ্ছটায় দিগন্তকে রাঙিয়ে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে বিলীন হয়ে যায়, যখন প্রকৃতির বুকে কেশবতী কন্যার ঘন কালো চুলের মতো অন্ধকার নেমে আসে, হিজল-কাঁঠাল জাম সহ কবির মুখের পরে সে আঁধার এসে পড়ে, ঠিক তখনই আকাশে ফুটে ওঠে সাতটি তারা যা প্রত্যক্ষ করার জন্য কবি ঘাসের ওপর বসে থাকেন।



‘কামরাঙা লাল মেঘ’ বলবার কারণ কী? 

উত্তর: কবি সন্ধ্যার আকাশে অস্তগামী সূর্যের আলোয় রাঙা মেঘপুঞ্জকে পাকা কামরাঙার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কামরাঙা এক ধরনের পঞ্চশিরাযুক্ত ভাঙাচোরা গঠনের ফল। নানান আদলের মেঘ সূর্যের অস্তায়মান আলোয় হলদে বা লালচে পাকা কামরাঙার বর্ণ ধারণ করে যেন জ্বলে উঠে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের গাঢ় আঁধারে অদৃশ্য হয়ে যায়। দিনাস্তের এই গতিশীল দৃশ্যান্তরকে ফুটিয়ে তুলতে কবি এমন উপমা ব্যবহার করেছেন। 



‘আসিয়াছে শান্ত অনুগত'—কে এসেছে? তাকে ‘শান্ত অনুগত’ বলবার কারণ কী? 

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে কবি জীবনানন্দ দাশ বঙ্গ-প্রকৃতির বুকে ‘নীল সন্ধ্যা’ নেমে আসবার কথা বলেছেন।

→ রহস্যময় আবছায়ায় আচ্ছন্ন সন্ধ্যার মুহূর্তে কবির মনে হয়েছে সমস্ত বিশ্বপ্রকৃতি যেন এক আশ্চর্য নৈঃশব্দ্যে পূর্ণ। সমস্ত দিগন্তজুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতাকে সাক্ষী রেখে দৃশ্যপটের স্বয়ংক্রিয় বদল ঘটতে থাকে। এই সন্ধ্যা একান্তই বাধ্য, নিয়ন্ত্রক নির্দেশিত মুহূর্ত-পরম্পরা। তাই সন্ধ্যাকে কবি ‘শান্ত অনুগত’ বলে মনে করেছেন। 



'কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে' – “কেশবতী কন্যা’ বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন? তাকে ‘কেশবতী কন্যা’ বলার কারণ কী? 

উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘কেশবতী কন্যা' বলতে সন্ধ্যার ঘনায়মান অন্ধকারকে বুঝিয়েছেন। 

→ ‘কেশবতী কন্যা’ কথাটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে ওঠে আলুলায়িত কেশদামবিশিষ্ট এক রূপসী কিশোরীর ছবি। তার ঘন কালো চুলের আচ্ছন্নতা সমস্ত দৃশ্যপট আড়াল করে। সেই কিশোরীর গাঢ় কালো চুলের মতো লাবণ্যময় আঁধার বঙ্গ-প্রকৃতির সর্বত্র সঞ্চারমান। সান্ধ্য অন্ধকারের নরম সজীব পেলবতা একমাত্র চুলের সঙ্গে তুলনীয় বলেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন। 



‘আমার চোখের 'পরে আমার মুখের 'পরে চুল তার ভাসে'—কবি এখানে কার চুল ভাসার কথা বলেছেন? ‘আমার’ শব্দটি দু-বার ব্যবহার করবার কী কারণ থাকতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ এখানে কেশবতী কন্যার চুল বলতে গ্রাম-বাংলার লাবণ্যময় সন্ধ্যার তরল ভাসমান অন্ধকারকে প্রতীকায়িত করেছেন। 

→ পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা ঘনায়। এই সন্ধ্যার তরল অথচ সর্বগ্রাসী পদসঞ্জার অমোঘ ও সর্বত্রগামী। দিগন্তজুড়ে অন্ধকারের এই নেমে আসাকে বোঝাতেই কবি ‘আমার’ শব্দটি দু-বার ব্যবহার করেছেন। আমার চোখের 'পরে' বলেও, আবার তিনি বললেন ‘আমার মুখের 'পরে’ অর্থাৎ তাঁর সমস্ত শরীরে অন্ধকার নামছে। অন্ধকারের এই চরাচরজোড়া ব্যাপ্তি বোঝাতেই কবি শব্দটিকে দু-বার ব্যবহার করেছেন। 



‘পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো'—কাকে পৃথিবীর অন্য কোনো পথ দেখেনি? চুলের চুমা ও চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ কবি কোথায় কোথায় ঝরতে দেখেছেন? 

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বাংলার বুকে নেমে আসা প্রাণময় সন্ধ্যাকে রূপসীর নরম সজীব চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কবির মনে হয়, পৃথিবীর কোনো পথ লাবণ্যময় সান্ধ্য সৌন্দর্যরূপী কন্যাকে দেখেনি।

→ কবির মতে, সন্ধ্যার এই আঁধারময় স্পর্শ যেন এই চুলের স্নেহ-চুম্বন ও স্নিগ্ধ গন্ধরূপে কবির মুখের ওপরে, চোখের ওপরে এবং বঙ্গ-প্রকৃতির হিজল-কাঁঠাল জামের ওপরে অবিরত ঝরে পড়ে। 



‘জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে'—রূপসীর চুলের বিন্যাসে স্নিগ্ধ গন্ধ কীভাবে ঝরে যায় তা বুঝিয়ে বলো।

অথবা, 

‘আকাশে সাতটি তারা' কবিতায় সন্ধ্যার অনুষঙ্গে যে বিভিন্ন গন্ধের প্রসঙ্গ এসেছে তার পরিচয় দাও। 

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ ‘রূপসী’ বলতে গ্রাম-বাংলার বুকে নেমে আসা লাবণ্যময়ী সন্ধ্যাকে বুঝিয়েছেন। এই ঘন কালো অন্ধকারের অনির্বচনীয় গন্ধের কথা কবি বলেছেন। গন্ধ কোনো দৃশ্যগত ব্যাপার নয়। আমরা নানান ঘ্রাণ অনুভব করি। কবি সেই অনুভবের বিষয়টিকে দৃশ্যগত উপমার মাধ্যমে অনুভূতিগম্য করে তুলেছেন। আসলে অন্ধকার নামার পর নরম ধান, কলমি, হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জলে চাঁদা-সরপুঁটিদের শারীরিক অস্তিত্বের মৃদু আবেশ জড়ানো গন্ধ ভেসে আসে, যা সন্ধ্যার রহস্যময় আবছায়াকে মাধুর্যে স্নিগ্ধ করে তোলে। কবি সেই গন্ধ অনুভব করেছেন সন্ধ্যা নামক রুপসীর চুলের বিন্যাসে। 



'কিশোরের পায়ে-দলা মুথা ঘাস'— আলোচ্য পঙ্ক্তিটির মতো বহু অসাধারণ চিত্রকল্প ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় আছে। এই ধরনের কয়েকটি চিত্রকল্পের কথা লেখো। 

উত্তর: কবি জীবনানন্দের কবিতা চিত্ররূপময়। ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটিও এর ব্যতিক্রম নয়। অসামান্য কিছু চিত্রকল্প আমাদের এই পাঠ্য কবিতায় আছে। যেমন— 'কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো’, ‘কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে’, ‘আমার চোখের 'পরে আমার মুখের 'পরে চুল তার ভাসে’, ‘অজস্র চুলের চুমা হিজলে কাঁঠালে জামে', 'হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণ’, ‘কিশোরীর চালধোয়া ভিজে হাত—শীত হাতখান’ প্রভৃতি। এইসব চিত্রকল্পের সমন্বয়ে কবি রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শময় সান্ধ্য-নিসর্গের বিষণ্ণতায় ভরা স্মৃতিমেদুর ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।