সৌরজগৎ কী?
মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণুপুঞ্জ প্রভৃতি মহাজাগতিক বস্তু নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। সূর্য-সহ এইসব মহাজাগতিক বস্তুসমূহকে একসঙ্গে সৌরজগৎ বলা হয়।
নক্ষত্র কী?
মহাকাশে যেসব বৃহe জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে এবং যাদের কেন্দ্র করে গ্রহ ও উপগ্রহ-সহ মহাজাগতিক বস্তুসমূহ নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, তাদের নক্ষত্র বলে | যেমন—সূর্য।
গ্রহ কী ?
মহাকাশে ভাসমান যেসব জ্যোতিষ্ক কঠিন বা ঘনবস্তু দ্বারা গঠিত, যাদের নিজস্ব কোনো তাপ বা আলো নেই এবং যারা একটি নির্দিষ্ট নক্ষত্রের আকর্ষণে তার চারদিকে একটি কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে, সেগুলি গ্রহ নামে পরিচিত । এরা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়, পরিষ্কার রাতের আকাশে এদের স্থির উজ্জ্বল আলোকবিন্দু বলে মনে হয়। যেমন—পৃথিবী হল একটি গ্রহ |
সৌরজগতের গ্রহগুলির নাম লেখো।
সৌরজগতের গ্রহগুলি হল— বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
অন্তঃস্থ গ্রহ কোনগুলি?
বুধ, শুত্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল—এই চারটি গ্রহ সূর্যের নিকটবর্তী এবং আকার-আয়তনেও ছোটো, এজন্য এগুলিকে অন্তঃস্থ গ্রহ বলা হয়।
বহিস্থ গ্ৰছ কোনগুলি ?
বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন— সৌরজগতে এই চারটি গ্রহ অনেক দূরে বা বাইরের দিকে অবস্থান করায় এদের বহিস্থ গ্রহ বলা হয়। এই গ্রহগুলি আকারে বড়ো এবং এদের উপগ্রহের সংখ্যাও অনেক |
সৌরজগতের গ্রহগুলিকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়?
সৌরজগতের গ্রহগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা– গ্রহ ও বামন গ্রহ |
বামন গ্রহ কী ?
মহাকাশে এমন কিছু গ্রহ আছে, যারা নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্য বা কোনো নক্ষত্রের চারপাশে প্রদক্ষিপ করলেও তাদের কক্ষপথের সন্নিহিত অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকার মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দিতে পারে না। এরাই হল বামন গ্রহ যেমন—প্লুটো।
পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে কেন?
পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই সমুদ্রবেষ্টিত, তাই মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায়। সেইজন্য পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে।
উপগ্ৰহ কী ?
যেসব জ্যোতিষ্ক কঠিন বা ঘনবস্তু দ্বারা গঠিত, যাদের নিজস্ব কোনো তাপ বা আলো নেই ও যারা একটি গ্রহের আকর্ষণে তার চারদিকে প্রদক্ষিণ করে, সেগুলিকে উপগ্রহ বলে। এরা গ্রহ অপেক্ষা অনেক ছোটো হয় ও নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়। যেমন—চাদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ |
মঙ্গলের দুটি উপগ্রহের নাম লেখো।
মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ বৰ্তমান। যথা– ফোবোস ও ডাইমোস|
ছায়াপথ বা Galaxy কাকে বলে?
মহাকাশে লক্ষ লক্ষন, ধূলিকা, গ্যাসীয় মেঘপুঞ্জের সমাবেশে গঠিত উজ্জ্বল আলোক বলয়কে ছায়াপথ (Galaxy) বলা হয়। বেশিরভাগ ছায়াপথগুলিই দেখতে অনেকটা প্যাঁচানো প্রকৃতির। সূর্য, পৃথিবী এবং অন্যান্য সব গ্রহ এরূপ একটি ছায়াপথ 'আকাশগঙ্গা' (Milky way) র অন্তর্গত।
ক্যুইপার বেল্ট কোথায় দেখা যায়?
আমাদের সৌরজগতের একটি গ্রহ নেপচুনের কক্ষপথ থেকে প্রায় 300 কোটি কিলোমিটার ( 20 অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউপিট) দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে কুইপার বেল্ট বলে। এখানে অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু বিরাজমান থাকে এবং অনুমান করা হয় এই সকল বস্তু থেকেই সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। কুইপার বেল্টে জল, মিথেন, অ্যামোনিয়া পাওয়া যায়।
GPS কী ?
GPS হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মহাকাশে ঘৃপায়মান কৃত্রিম উপগ্রহ পরিচালিত পদ্ধতিতে পৃথিবীর কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়, নিখুঁত সময় নির্ণয় এবং উচ্চতার পরিমাপ করা হয়। GPS এর মাধ্যমে বর্তমানে জল, স্থল ও আকাশের নানা ধরনের তথ্য এবং কোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও সময় নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা হয়।
GPS-এর প্রধান অংশগুলি কী?
GPS-এর প্রধান অংশগুলি হল– 1) মহাকাশ অংশ বা কৃত্রিম উপগ্রহ, 2) ভূপৃষ্ঠীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, 3)গ্রাহকযন্ত্র বা তথ্যপ্রাপ্তির অংশ।
GPS রিসিভার থেকে কী কী তথ্য পাওয়া যায়?
GPS রিসিভার স্ক্রিনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা, উচ্চতা ও সময় সম্পর্কে জানা যায় | আগে 10 মিটার অন্তর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা নির্ণয় করা হত। বর্তমানে GPS রিসিভারে কয়েক মিলিমিটার ব্যবধানে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা নির্ণয় করা হয়।
