Class 9 Geography Chapter 2 (পৃথিবী কী গোল ?) Topic 2 (পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি) অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 2 Questions And Answers

পৃথিবীর বার্ষিক গতি কী?

পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের ওপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে, নির্দিষ্ট সময়ে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে | পৃথিবীর এই গতিকেই বার্ষিক গতি বলে | সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড সময় লাগে |



পৃথিবীর কক্ষপথ কী?

মহাকাশের একটি কাল্পনিক পথ, যে পথ বরাবর পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সেই পথটিকে বলে পৃথিবীর কক্ষপথ | পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি উপবৃত্তাকার |



পৃথিবীর কক্ষতল কী?

পৃথিবীর কক্ষপথ বরাবর কল্পিত সমতলই হল পৃথিবীর কক্ষতল। উপবৃত্তাকার কক্ষপথের প্রতিটি বিন্দুকে ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুর সঙ্গে সোজাসুজি যোগ করলে পৃথিবীর এই কক্ষতল পাওয়া যায়।



পৃথিবীর কক্ষপথের কোথায় সূর্যের অবস্থান?

পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার| এই উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটি নাভিতে সূর্যের অবস্থান | সূর্য পৃথিবীর কক্ষপথের কেন্দ্রের পরিবর্তে নাভিতে অবস্থান করায় সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সমান থাকে না।



সৌরবছর কাকে বলে?

পৃথিবীর একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে, 365 দিন 5 ঘণ্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ড। একে সৌরবছর বলে |



অপসূর অবস্থান কী ?

যে অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়, সেই অবস্থানকে অপসূর অবস্থান বলে | 4 জুলাই এই অবস্থান ঘটে | এই সময়ে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব হয় 15 কোটি 20 লক্ষ কিমি।



অনুসূর অবস্থান কী ?

যে অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয়, সেই অবস্থানকে অনুসুর অবস্থান বলে। 3 জানুয়ারি এই অবস্থান ঘটে। এই সময়ে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব হয় 14 কোটি 70 লক্ষ কিমি |



রবিমার্গ কী?

'রবি' অর্থাৎ সূর্য এবং ‘মার্গ' অর্থাৎ পথ। বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য, পৃথিবীর 23½° উ: থেকে 23½° দ: অক্ষরেখার মধ্যে লম্বভাবে কিরণ দেয়| সূর্যের এই আপাত বার্ষিক গতিপথই ‘রবিমার্গ' নামে পরিচিত।



সূর্যের উত্তরায়ণ কী ?

22 ডিসেম্বর থেকে 21 জুন পর্যন্ত, মকরক্রান্তিরেখা (23½° দ:) থেকে কর্কটক্রান্তিরেখার (23½° উ:) দিকে সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতি লক্ষ করা যায় । এটিই হল সূর্যের উত্তরায়ণ।



সূর্যের দক্ষিণায়ন কী?

21 জুনের পর থেকে 22 ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্কটক্রান্তিরেখা (23° উ:) থেকে মকরক্রান্তিরেখার (23½° দ:) দিকে সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাত গতি লক্ষ করা যায় । এটিই সূর্যের দক্ষিলায়ন |



পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফলগুলি কী কী ?

পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফলগুলি হল—  1) দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাসবৃদ্ধি, 2) ঋতুপরিবর্তন।



জলবিষুব কী?

23 সেপ্টেম্বর পৃথিবী তার কক্ষপথে এমনভাবে অবস্থান করে যে, সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে পড়ে। ফলে উভয় গোলার্ধে দিনরাত্রি সমান হয় | এই দিনটিকে জলবিষুব বলে | উত্তর গোলার্ধে এই সময় শরৎকাল বিরাজ করে, তাই এই দিনটিকে শরৎবিষুব বলে।



মহাবিষুব কী?

21 মার্চ পৃথিবী তার কক্ষপথে এমনভাবে অবস্থান করে যে, সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে পড়ে। ফলে উভয় গোলার্ধে দিন ও রাত্রি সমান হয় | এই দিনটিকে মহাবিষুব বলে উত্তর গোলার্ধে এই সময় বসন্তকাল বিরাজ করে। তাই এই দিনটিকে বসন্তবিষুব বলে।



কর্কটসংক্রান্তি কী ?

21 জুন তারিখে সূর্য কর্কটক্রাপ্তিরেখার (23⅓° উ:) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দিনটিকে কর্কটসং ক্লাপ্তি বলে | এই দিনটি হল সূর্যের দক্ষিপায়নের শেষ সীমা। এই দিন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন ও সবচেয়ে ছোটো রাত্রি হয়।



মকরসংক্রান্তি কী ?

22 ডিসেম্বর তারিখে সূর্য মকরক্রান্তিরেখার (23⅓° দ:) ওপর লম্বভাবে কিরগ দেয়। এই দিনটিকে মকরসংক্রান্তি বলে। এই দিন দক্ষিণ গোলামে সবচেয়ে বড়ো দিন ও সবচেয়ে ছোটো রাত্রি হয়।



অয়নান্ত দিবস কী?

'অয়ন' কথাটির অর্থ 'পথ’ বা ‘গতি’। ‘অয়নাস্ত' (অয়ন + অন্ত) দিবস বলতে বোঝায় পথ বা গতির শেষ দিন। 21 জুন তারিখে সূর্যের আপাত উত্তরমুখী গমন বা উত্তর আয়ন শেষ হয় বলে ওই তারিখটিকে ‘উত্তর অয়নান্ত দিবস’ বলে। একইভাবে 22 ডিসেম্বর তারিখে সূর্যের আপাত দক্ষিসমুখী গমন বা দক্ষিণায়ন শেষ হয় বলে ওই তারিখটিকে 'দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস' বলা হয়।



ঋতুচক্র কী?

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বছরব্যাপী বিভিন্ন ঋতুর পর্যায়ক্রমিক আগমনকে ঋতুচক্র বলে। গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—প্রধানত এই চারটি ঋতু পর্যায়ক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। এভাবে ঋতুচক্র সম্পন্ন হয়।



ঋতুপরিবর্তনের কারণগুলি কী কী?

1) পৃথিবীর গোলাকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য, 2) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, 3) পৃথিবীর মেরুরেখার কক্ষতলের সঙ্গে 66° কোণে হেলে থাকা অবস্থায় পরিক্রমণ করা ইত্যাদি কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে এবং তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এর ফলেই ঋতুপরিবর্তন হয়।



পৃথিবীর কোথায় ঋতুপরিবর্তন ঘটে না?

নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঋতুপরিবর্তন ঘটে না। কারণ নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে, ফলে সারাবছরই উয়তা বেশি থাকে। তাছাড়া, ছায়াবৃত্ত লম্বভাবে নিরক্ষরেখাকে ছেদ করায় সারাবছরই দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। দুই মেরুপ্রদেশেও শীতলতার কারণে একটি ঋতুই বিরাজ করে। 



পৃথিবীর কোথায় একটানা 6 মাস দিন ও 6 মাস রাত্রি বিরাজ করে?

21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর উত্তরমেরু অঞ্চলে একটানা 6 মাস দিন এবং দক্ষিণ মেরুতে 6 মাস রাত্রি বিরাজ করে | অনুরূপভাবে 23 সেপ্টেম্বর থেকে 21 মার্চ উভয়মেরুতে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায়।



মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি কী?  

মেরু অঞ্চলে (সুমেরু বা কুমেরুতে) যখন একটানা 6 মাস রাত্রি থাকে, তখন রাতের আকাশে মাঝে মাঝে রামধনুর মতো আলোর প্রভা বা ছটা দেখা যায় | একে মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি বলে।



মেরুপ্রভা কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

সুমেরু এবং কুমেরু অঞ্চলে একটানা 6 মাস রাত্রি চলাকালীন যে বর্ণময় আলোকপ্রভা সৃষ্টি হয় তাকেই মেরুপ্রভা বলে| বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে উপস্থিত গ্যাসের সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির সংঘর্ষের ফলে গ্যাসের অণুগুলি আয়নিত হয়। এর ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলোক বিচ্ছুরণ ঘটে| এভাবে মেরুপ্রভা সৃষ্টি হয়।



সুমেরুপ্রভা কী?

উত্তর গোলার্ধে সুমেরু অঞ্চলে যখন একটানা 6 মাস রাত্রি থাকে (23 সেপ্টেম্বর থেকে 21 মার্চ) তখন রাতের আকাশে মাঝে মাঝে রামধনুর মতো আলোকপ্রভা দেখা যায় | একেই সুমেরুপ্রভা বা অরোরা বোরিয়ালিস বলে | সাইবেরিয়া, গ্রিনল্যান্ড, নরওয়ে থেকে এটি দেখতে পাওয়া যায়|



কুমেরুপ্রভা কী?

দক্ষিণ গোলার্ধে কুমেরু অঞ্চলে যখন একটানা 6 মাস রাত্রি থাকে (21 মাৰ্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর) তখন রাতের আকাশে মাঝে মাঝে রামধনুর মতো আলোকপ্রভা দেখা যায়। একেই কুমেরুপ্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস বলে | অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ থেকে এটি দেখতে পাওয়া যায়।



নিশীথ সূর্য কী ? কোথায় দেখা যায় ?

‘নিশীথ' কথার অর্থ ‘মধ্যরাত্রি'। মধ্যরাত্রে আকাশে সূর্যকে দেখা গেলে তাকে নিশীথ সূর্য বলে | 21 মার্চ থেকে 23 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুমেরু ও তার সন্নিহিত অঞ্চলে একটানা 6 মাস দিন থাকে। এই সময় নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরে মধ্যরাতে সূর্য দেখা যায়।