‘আবহমান’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতাটির কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
'আবহমান' কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?
উত্তর: ‘আবহমান' কবিতাটি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারান্দা' নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
‘আবহমান’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘আবহমান’ শব্দটির অর্থ হল চিরকালীন।
'যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া' - কবি উঠানে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন কেন?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় কবি ফেলে আসা শৈশব-জীবনের কথা মনে করিয়ে দেবার জন্যই উঠোনে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।
কবি কোথায় দাঁড়াতে বলেছেন?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় কবি, উঠোনে লাউমাচাটির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।
'ছোট্ট একটা ফুল দুলছে’—কীসের ‘ফুল’ দুলছে?
উত্তর: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কবি বারে বারে ফিরে আসা শৈশবের স্মৃতিগুলিকেই ফুল দোলার সাথে তুলনা করেছেন।
কবি উঠোনের লাউমাচাটার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন কেন?
উত্তর: ‘আবহমান' কবিতায় কবি ফেলে আসা গ্রাম-জীবনে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্মৃতিবিজড়িত উঠোনের লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।
‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া’—এখানে ‘উঠান’ কীসের প্রতীক বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: ‘আবহমান' কবিতায় ‘উঠান’ হল জন্মস্থান বা মাতৃভূমিস্বরূপ স্বাধীন উন্মুক্ত পরিসরের প্রতীক।
‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া - ‘তোর’ বলতে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতার কবি এখানে ‘তোর’ বলতে স্বদেশহারা, গ্রামছাড়া ব্যক্তিমনকে সম্বোধন করেছেন।
'লাউমাচাটার পাশে'— কবি লাউমাচার অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন কেন?
উত্তর: ‘লাউমাচা' অনুষঙ্গ ব্যবহারের কারণ গ্রামবাংলায় চিরায়ত রূপটিকে ফুটিয়ে তোলা, যেখানে শৈশবকে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
সন্ধ্যার বাতাসে কী দুলছে?
উত্তর) 'আবহমান' কবিতায় ছোট্ট ফুলটি সন্ধ্যার বাতাসে দুলছে।
'কে এইখানে এসেছিল অনেক বছর আগে'— কোন্খানে আসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশে ‘এইখানে’ বলতে শৈশবের গ্রামের কথা বলা হয়েছে।
'কে এইখানে এসেছিল অনেক বছর আগে’—এখানে অনেক বছর আগে মানুষটি কী করেছিল?
উত্তর: অনেক বছর আগে মানুষটি এই গাঁয়ে নিবিড় অনুরাগে-ভালোবাসায় ঘর বেঁধেছিল।
'কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার প্রশ্ন ফিরে আসে।'— হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: পরিস্থিতির চাপে মানুষকে স্বদেশ বা জন্মস্থান ছেড়ে যেতে হয়, তাই সে তার স্বদেশ ও শৈশবকে হারিয়ে ফেলে।
‘কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে’—‘এইখানে আবার ফিরে আসার কারণ কী?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রামছাড়া মানুষ জন্মভূমির টানে, অর্থাৎ নিজের শিকড়ের টানে ‘আবার ফিরে আসে।
'কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে প্রশ্ন আসে,— এখানে ‘কে’ পদটি কী ধরনের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশে প্রদত্ত ‘কে’ হল প্রশ্নবাচক সর্বনামের দৃষ্টান্ত।
‘ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না'— কী ফুরায় না?
উত্তর: মানুষের মাতৃভূমির প্রতি আকর্ষণ, ভালোবাসা এবং টান কখনোই ফুরায় না।
‘নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে’—‘নটেগাছ বলতে কার বা কীসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে ‘নটেগাছ’ হল মানুষ ও তার মাতৃভূমির সম্পর্কের আবহমানতার প্রতীক।
‘বুড়িয়ে ওঠে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশে ‘বুড়িয়ে ওঠে’ বলতে মানুষের বয়স বেড়ে যাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
‘কিন্তু মুড়য় না’—‘মুড়য় না’ বলতে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: সময়ের সাথে সাথে মাতৃভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কে সময়ের ছাপ পড়লেও তা কখনও মুছে যায় না। কবি সে কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
যাওয়া-আসা না ফুরানোর কারণ কী?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় কবি মাতৃভূমিহারা মানুষটির স্মৃতিতাড়িত স্বভূমিতে যাওয়া-আসার অন্তহীন মানসযাত্রার কথা ব্যক্ত করেছেন।
‘ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা'। –‘দুরস্ত পিপাসা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘আবহমান' কবিতায় কবি, স্বদেশচ্যুত মানুষটির স্বভূমিতে ফিরে আসার দুর্নিবার ইচ্ছাকেই ‘দুরন্ত পিপাসা' বলেছেন।
‘ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা।'— ‘একগুঁয়ে' শব্দটি ব্যবহারের তাৎপর্য কী?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে মাতৃভূমিহারা মানুষটির নিজভূমে ফেরার একরোখা মানসিক জেদকে বোঝাতে এখানে ‘একগুঁয়ে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
‘সারাটা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে'—উদ্ধৃতিটির সরলার্থ কী?
উত্তর: জন্মভূমি থেকে দূরে থাকা মানুষ মনে মনে সবুজ ঘাসে ভরা জন্মভূমি স্নেহস্পর্শ শরীরে মেখে নেয়।
'সারাটা রাত তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে'—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি ফেলে আসা শৈশব ও স্বদেশের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার অপূর্ণ বাসনার ছবি সুদূরের হাতছানি দেওয়া তারায় তারায় এঁকে রাখে।
‘নেভে না তার যন্ত্রণা'—কীসের যন্ত্রণা?
উত্তর: ‘আবহমান' কবিতায় কবি মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনিঃশেষ মানসিক যন্ত্রণার কথা বলেছেন।
‘দুঃখ হয় না বাসি’,—দুঃখ বাসি হয় না কেন?
উত্তর: মানুষের শৈশব বা স্বদেশ হারানোর দুঃখ-যন্ত্রণা সর্বদা তার স্মৃতিতে সজীব থাকে। তাই কবি এমন উক্তি করেছেন।
কুন্দফুলের হাসি কখনো হারায় না বলার কারণ কী?
উত্তর: মানুষের শৈশব ও স্বদেশ হারানোর দুঃখ-যন্ত্রণা যেমন হারিয়ে যায় না, ঠিক একইভাবে বাগান থেকে কুন্দফুলের হাস্যময় ছবি হারিয়ে যায় না।
