Class 9 Bengali Chapter 11 (চিঠি) Short Questions এক কথায় উত্তর দাও

'সর্বোপরি তোমার ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের জন্য'—স্বামী বিবেকানন্দের এরূপ বলার কারণ কী?

উত্তর: মিস নোব্‌ল ভারতের যে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে চেয়েছিলেন তার জন্য দরকার অনমনীয় দৃঢ়তা, ধৈর্য ও সাহস। স্বামীজির কথায় ইউরোপের সমৃদ্ধ ও প্রাচীন সভ্যতার অধিবাসী কেল্টিকদের পক্ষেই তা সম্ভব, তাই কেল্টিক বংশীয় নিবেদিতাই এর যোগ্য। 



‘তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন'—কাকে উদ্দেশ্য করে স্বামী বিবেকানন্দ একথা বলেছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোব্‌ল তথা নিবেদিতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।



‘তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন'—সেইরূপ বলতে কোনরূপ বোঝানো হয়েছে? 

উত্তর: কুসংস্কার ও অজ্ঞানতায় ভরা ভারতীয় সামাজিক ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে যে ঐকান্তিকতা, শিক্ষা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসার ও চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রয়োজন কেল্টিক রক্তের অধিকারিণী নিবেদিতার তা ছিল। 



'যাকে আজ প্রয়োজন'—কাকে প্রয়োজন বলে মনে করেছেন বক্তা? 

উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের নারীসমাজের দুর্গতি মোচনের জন্য মিস নোবল বা ভগিনী নিবেদিতাকে প্রয়োজন বলে মনে করেছেন। 



'কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু’—কোন্ বিঘ্নের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: নিবেদিতার ভারতে এসে সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় কুসংস্কার, জাতিভেদ এবং অস্পৃশ্যতার মতো উৎকট ধারণাগুলি, যেগুলিকে স্বামীজি বাধা-বিঘ্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন। 



‘তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে'—এখানে ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? কেন তারা এড়িয়ে চলে? 

উত্তর: তারা বলতে নিরক্ষর, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয়দের কথা বলা হয়েছে। তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে অত্যাচারী ও স্নেচ্ছতার দোহাই দিয়ে অর্থাৎ ভয় ও ঘৃণাবোধ থেকে।



'প্রত্যেকটি গতিবিধি সন্দেহের চক্ষে দেখবে'।—কার গতিবিধির কথা বলা হয়েছে? কারা তা সন্দেহের চক্ষে  দেখবে?

উত্তর: এক্ষেত্রে স্বামীজির প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতার গতিবিধির কথা বলা হয়েছে। ভারতে এসে একজন শ্বেতাঙ্গ হয়ে ভারতীয়দের সামাজিক দিক দিয়ে উন্নত করার প্রচেষ্টাকে এদেশের শ্বেতাঙ্গরা সন্দেহের চোখে দেখত। 



‘তাছাড়া, জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান'। কোথাকার জলবায়ুর কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: ভারতে এসে নিবেদিতার কাজ করার পথে অন্যতম অন্তরায় এদেশের গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ু। ইউরোপ, আমেরিকার আবহাওয়ার সঙ্গে ভারতের আবহাওয়া তুলনা প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে। 



'দক্ষিণাঞ্চলে তো সর্বদাই আগুনের হলকা চলছে'—দক্ষিণাঞ্চল বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? 

উত্তর: দক্ষিণাঞ্চল বলতে স্বামীজি ভারতবর্ষের দক্ষিণের রাজ্যগুলির কথা বুঝিয়েছেন। 



‘সেটুকু দিয়ে আমি অবশ্যই তোমায় সাহায্য প্রশ্ন করব।'— কে, কাকে কীভাবে সাহায্য করার কথা বলেছেন? 

উত্তর: স্বামীজি প্রিয় শিষ্য নিবেদিতাকে এদেশে এসে এদেশের মানুষদের জন্য কাজ করার সময় যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে তা থেকে উত্তরণের জন্য সর্বতোভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। 



‘আমাকে আমরণ তোমার পাশেই পাবে' – কে, কাকে আমরণ পাশে পাবে? 

উত্তর: স্বামীজি আশ্বস্ততার সুরে ভারতে আগত নিবেদিতাকে একথা বলেছেন, নোব্‌ল যদি এদেশে কাজ করতে গিয়ে বিফল হন কিংবা তার বিরক্তি আসে তবে শেষ পর্যন্ত স্বামীজি তার পাশে থাকবেন। 



‘মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত'—কথাটির অর্থ কী? 

উত্তর: উদ্ধৃত প্রচলিত হিন্দি প্রবাদটির সাহায্যে স্বামীজি মানুষের কথায় গভীরতা ও নিশ্চয়তা বোঝাতে চেয়েছেন। প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতার উদ্দেশ্যে তিনি কথা বলেছেন। 



'এই আমার প্রতিজ্ঞা'—এখানে কোন্ প্রতিজ্ঞার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: স্বামীজির প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতা ভারতে এসে এখানকার সমাজের উন্নতিসাধনে ব্রতী হয়েছেন। তাঁর সে কাজে ব্যর্থতা এলেও স্বামীজি আমরণ তাঁর পাশে থাকায় প্রতিজ্ঞা করেছেন। 



‘তোমাকে একটু সাবধান করা দরকার’ –কে কাকে কোন প্রসঙ্গে সাবধান করার কথা বলেছেন? 

উত্তর: প্রিয় শিষ্যাকে ভারতে সামাজিক ক্ষেত্রের উন্নতি সাধনের কাজ করার সময় নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং অপরের আশ্রয়ের ওপর নির্ভর না করার বিষয়ে সাবধান করেছেন। 



'এই মনোভাব তাঁর অজ্ঞাতসারেই বারবার মাথা তুলছে'—কার কোন্ মনোভাবের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: এক্ষেত্রে জন্ম থেকেই নেত্রী সুলভ মানসিকতার অধিকারী মিস মুলারের টাকার দ্বারা দুনিয়ার সব কিছুকে ওলটপালট করে দেওয়া যায়— এই মানসিকতার কথা বলা হয়েছে। 



‘তাঁর সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব'—কার সঙ্গে কেন বনিয়ে চলা অসম্ভব? 

উত্তর: স্বামীজির মতে তাঁর প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতার পক্ষে মিস মুলারের আজন্ম নেত্রীসুলভ মানসিকতা এবং টাকার দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত কিছু ওলটপালট করে দেওয়া যায় এই অহং সর্বস্বতার সাথে বনিয়ে চলা অসম্ভব। 



‘তাঁর বর্তমান সংকল্প এই যে,’—কার কোন্ সংকল্পের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: মিস মুলার কলকাতায় নিবেদিতা ও তাঁর বেশ কয়েকজন ইউরোপ আমেরিকার বন্ধুর জন্য একটি বাড়ি ভাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক্ষেত্রে সেই সংকল্পের কথা বলেছেন। 



‘মঠাধ্যক্ষাসুলভ সংকল্পটি দুটি কারণে কখনও সফল হবে না’ – কারণ দুটি কী কী? এবং কার সংকল্প সফল হবে না? 

উত্তর: কারণ দুটি হল—মিস মুলারের রুক্ষ মেজাজ এবং অদ্ভুত অস্থিরচিত্ততা। মিস মুলারের সংকল্প সফল হবে না। 



‘যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়’— কী উদ্দেশ্যে স্বামী বিবেকানন্দ একথা বলেছেন? 

উত্তর: স্বামীজির ইচ্ছা নিবেদিতা ভারতীয় নারীজাতির সামগ্রিক উন্নতিসাধনে আত্মোৎসর্গ করুন। কিন্তু অন্য কারও পক্ষপুটে আশ্রয় নিয়ে এসব করা যায় না। এসবের জন্য নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয়।



মিসেস সেভিয়ারকে স্বামী বিবেকানন্দ কোন অভিধায় ভূষিত করেছেন? 

উত্তর: মিসেস সেভিয়ারকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ অভিধায় ভূষিত করেছেন স্বামী বিবেকানন্দ। 



মিসেস সেভিয়ার বহু বছর কোথায় ছিলেন? 

উত্তর: মিসেস সেভিয়ার বহু বছর মায়াবতী এবং শ্যামলাতালে বাস করেছিলেন। 



কারা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না?  

উত্তর: সেভিয়ার দম্পতি এবং মি. স্টার্ডি এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না।  



‘আমাদের ওপর মুরুব্বিয়ানা করতে এদেশে আসেননি।'— কে, কাদের সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন? 

উত্তর: স্বামাজি নিবেদিতার উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে সেভিয়ার দম্পতি সম্পর্কে একথা বলেছেন। তাঁর মতে শ্বেতাঙ্গ হয়েও এই দম্পতি ভারতীয়দের ঘৃণা করেনি এবং মানুষের ওপর মুরুব্বিয়ানা করেনি। 



'তুমি এলে তোমার সহকর্মীরূপে তাঁদের পেতে পারো’—কে, কাদের সহকর্মীরূপে পেতে পারে। 

উত্তর: স্বামীজির মতে নিবেদিতা ভারতে এলে ক্যাপ্টেন জে এইচ. সেভিয়ার এবং তাঁর স্ত্রী মিসেস সেভিয়ারকে সহকর্মীরূপে পেতে পারেন। 



‘আমেরিকার সংবাদে জানলাম যে আমেরিকার সংবাদে স্বামী বিবেকানন্দ কী জানতে পেরেছেন? 

উত্তর: আমেরিকার সংবাদে স্বামী বিবেকানন্দ জানতে পেরেছেন যে, ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের শরৎকালেই তাঁর দুজন বন্ধু—মিস ম্যাকলাউড ও বোস্টনের মিসেস বুল ভারত পরিভ্রমণে আসছেন। 



মিস ম্যাকলাউডের সম্পূর্ণ নাম কী ছিল? 

উত্তর: মিস ম্যাকলাউডের সম্পূর্ণ নাম ছিল মিস জোসেফাইন ম্যাকলাউড। 


মিস ম্যাকলাউড করে মারা যান? 

উত্তর: ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার হলিউড শহরে ম্যাকলাউডের মৃত্যু হয়।



মিস ম্যাকলাউডকে স্বামীজি কী নামে ডাকতেন? 

উত্তর: মিস ম্যাকলাউডকে স্বামীজি ‘জো’ নামে ডাকতেন।  



মিস ম্যাকলাউডকে নিবেদিতা কোথায় দেখেছিলেন? 

উত্তর: বিবেকানন্দের চিঠি পড়ে জানা যায়, মিস ম্যাকলাউডকে নিবেদিতা লন্ডনে দেখেছিলেন। 



'সেই পারি-ফ্যাশনের পোশাক-পরিহিতা মহিলাটি'— মহিলাটি কে? 

উত্তর: আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটিতে পারি-ফ্যাশনের পোশাক পরিহিতা যে মহিলার কথা স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, তিনি হলেন স্বামীজির বন্ধু মিস ম্যাকলাউড। 



মিস ম্যাকলাউডের পরনের পোশাকটি কেমন ছিল?  

উত্তর: পত্রলেখক বিবেকানন্দের বিবরণ অনুযায়ী মিস ম্যাকলাউডের পরনে পারি-ফ্যাশনের পোশাক ছিল। 



মিসেস বুলের সম্পূর্ণ নাম কী ছিল? 

উত্তর: মিসেস বুলের সম্পূর্ণ নাম ছিল সারা বুল। 



মিসেস বুলের বয়স কত ছিল? 

উত্তর: বিবেকানন্দের চিঠি পড়ে জানা যায়, মিসেস সারা বুলের বয়স ছিল পঞ্চাশ। 



মিসেস বুলের কোথায় বাসস্থান ছিল?

উত্তর: মিসেস বুলের বাসস্থান ছিল নরওয়ে। তিনি নরওয়েবাসী বিখ্যাত বেহালাবাদক মি. ওলি বুলের স্ত্রী। 



মিসেস বুল স্বামীজিকে কীভাবে সাহায্য করেছিলেন? 

উত্তর: মিসেস বুল স্বামীজির শিষ্যা ছিলেন। তিনি বেলুড় মঠ স্থাপনের কাজে স্বামীজিকে অনেক অর্থসাহায্য করেছিলেন। এ ছাড়া অন্যান্যভাবেও তিনি এদেশে ও পাশ্চাত্যে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন। 



মিসেস বুলকে স্বামীজি কী নামে সম্বোধন করতেন? 

উত্তর: মিসেস বুলকে স্বামীজি ‘মা’ বা ‘ধীরামাতা’ বলে সম্বোধন করতেন। 



‘তোমার পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে'— কার এবং কীভাবে পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে? 

উত্তর: ভারতবর্ষে আসার সময় মিস নোব্‌লের পথের একঘেয়েমি দূর হতে পারে, যদি তিনি স্বামীজির দুজন বন্ধু–মিস ম্যাকলাউড ও বোস্টনের মিসেস বুলের সঙ্গে আসেন। তাঁকে বিবেকানন্দ এ পরামর্শ দিয়েছেন। 



'চিঠিটি বড়ো শুষ্ক এবং প্রাণহীন'—কোন্ চিঠির কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশে যে চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি হল বিবেকানন্দকে লেখা মি. স্টার্ডির চিঠি। যার বিষয়বস্তু ছিল লন্ডনের বেদান্ত প্রচারের কাজ পণ্ড হওয়া। 



মি. স্টার্ডি কেন হতাশ হয়েছিলেন? 

উত্তর: বিবেকানন্দের চিঠি পড়ে আমরা জানতে পারি, লন্ডনের কাজ পণ্ড হয়ে যাওয়ায় মি. স্টার্ডি হতাশ হয়েছিলেন।



নিবেদিতাকে লেখা বিবেকানন্দের চিঠিটির মূল প্রেক্ষাপটটি কী?

উত্তর: প্রিয় শিষ্যা নিবেদিতাকে লেখা স্বামীজির চিঠিটির প্রেক্ষাপট হল— নিবেদিতার ভারতে এসে এখানকার মানুষের সেবা করার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন সেকথা। 



মি. স্টার্ডি কীভাবে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন? 

উত্তর: পাঠ্য চিঠি পড়ে জানা যায়, মি. ই. টি. স্টার্ডি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারের কাজে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন। 



মিস মুলারের পুরো নামটি কী? 

উত্তর: মিস মুলারের পুরো নামটি হল মিস হেনরিয়েটা মুলার। 



মিস নোবল-এর লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম লেখো। 

উত্তর: মিস্ নোবল-এর লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল – The Master as I saw him', 'Web of Indian Life' প্রভৃতি। 



চিঠির শেষে বিবেকানন্দ কী কথা লিখেছিলেন? 

উত্তর: চিঠির একদম শেষে বিবেকানন্দ লিখেছিলেন—‘সদা ভগবৎ-পদাশ্রিত, বিবেকানন্দ'। 



মিস নোবল করে মারা যান? 

উত্তর: মিস নোব্‌ল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং-এ দেহত্যাগ করেন।