‘রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে রাধারাণীদের ভয়াবহ দারিদ্র্যের স্বরূপটিই ফুটে উঠেছে। জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমায় রাধারাণীর বিধবা মায়ের প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়। মামলার খরচ এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণ মেটাতে তার সঞ্জিত সমস্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। এ ছাড়া গয়না-অলংকার প্রভৃতি বিক্রি করে সে প্রিভি কাউন্সিলে আবেদন করায় সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য হয়ে পড়ে। তখন অনাহারে-অধহারে কোনোক্রমে দৈহিক পরিশ্রম করে দিন কাটাতে বাধ্য হয়ে রাধারাণীর মা আর তার বিয়ে দিতে পারেনি।
‘অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল'—এমন মন্তব্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
অথবা,
‘মালা কেহ কিনিল না'—কোন্ মালা? তা না কেনার কারণ কী ছিল?
উত্তর: রথের দিন সর্বস্বহারা রাধারাণীর মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে পথ্যের প্রয়োজন হয়। পথ্যের জন্য অর্থের প্রয়োজনে রাধারাণী বুনো ফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় বেচতে যায়। এক্ষেত্রে সেই মালার কথা বলা হয়েছে।
→ রথের দিন কিছুটা রথ টানার পরই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় এবং মেলা ভেঙে যায়। ফলে লোকজন ঘরমুখী হয় তবুও রাধারাণীর মনে ক্ষীণ আশা ছিল বৃষ্টি থামলে বুঝি বা মেলা জমবে। কিন্তু রাত বাড়তে থাকে, বৃষ্টিও থামে না। তাই তার মালা বিক্রি না হওয়ায় আশাহত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে বাড়ি ফিরে আসে।
‘তথাপি রাধারাণী সেই এক পয়সার বনফুলের মালা বুকে করিয়া রাখিয়াছিল—'এক পয়সার বনফুলের মালাটি কী? এখানে ‘তথাপি' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে কেন?
উত্তর: গুরুতর অসুস্থ মায়ের পথ্য জোগাড়ের উদ্দেশ্যে বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় তা বিক্রি করতে গিয়েছিল। এক পয়সার মালা বলতে সে মালার কথা বলা হয়েছে।
→ প্রবল বৃষ্টিতে মেলা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় রাধারাণী তার বুনোফুলের মালটি বিক্রি করতে না পারলেও ভেবেছিল বৃষ্টি থামলে মেলা জমবে এবং মালাটি বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু বৃষ্টি আরও বাড়তে থাকে এবং অন্ধকার পথে যেতে যেতে সে আছাড় খায় কিন্তু মায়ের অন্নাভাবের কথা মনে করে সে সেই | মালাটি তবুও বুকে যত্নের সঙ্গে আঁকড়ে থাকে। রাধারাণীর এই মনোভাবটি ব্যক্ত করতেই ‘তথাপি’ শব্দটির ব্যবহৃত হয়েছে।
‘কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রোদন বন্ধ হইল'—প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। রাধারাণীর রোদন বন্ধ হয়েছিল কেন?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশে প্রবল বৃষ্টিতে পণ্ড রথের মেলার ভিড়ে-কাদায় বিপর্যস্ত রাধারাণীর অসহায় অবস্থার ছবি ফুটে উঠেছে। অন্ধকার পথে বিভ্রান্ত ও রোরুদ্যমান বালিকাটির প্রায় ঘাড়ের ওপর এক ব্যক্তি এসে পড়ে। কিন্তু সেই ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের আন্তরিকতায় রাধারাণীর কান্না থেমে যায়।
→ উপরোক্ত ঘটনার ফলে প্রথমে রাধারাণী প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাওয়ায়, তার কান্নার বেগ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনে রাধারাণী ক্ষুদ্র বুদ্ধিতেও বুঝেছিল লোকটি বড়ো দয়ালু। তাই পরে তার কান্না বন্ধ হয়েছিল। প্রশ্ন
‘রাধারাণীর ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকুতে ইহা বুঝিতে পারিল'—কী বুঝতে পারল? ‘ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকু' বলার কারণ কী?
উত্তর: বৃষ্টি-বিঘ্নিত মেলা থেকে অন্ধকার পথে কাঁদতে কাঁদতে ফেরার সময় আশাহত বিধ্বস্ত রাধারাণীর ঘাড়ে এক ভদ্রলোক পিছলে পড়ে। এতে রাধারাণী ভয় পেয়ে আরও কেঁদে ওঠে। কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই সেই ভদ্রলোকের সাথে আলাপচারিতায় রাধারাণী তার ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে বুঝে নেয় স্নেহপূর্ণ কণ্ঠস্বরের অধিকারী মানুষটি অত্যন্ত দয়ালু।
→ রাধারাণী দশ এগারো বছর বয়সের এক নিতান্ত অপরিণত বালিকা। এই বয়সের বালিকার কাছে পরিণত বোধ আশা করা যায় না, তাই কথক তার বুদ্ধিকে ‘ক্ষুদ্র বুদ্ধি’ বলে অভিহিত করেছেন।
‘কিন্তু কথার স্বরে বুঝিয়াছিল'—কার কথা বলা হয়েছে? সে কী বুঝেছিল?
উত্তর: রথের মেলা থেকে ফেরার পথে অন্ধকারে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাধারাণীর সঙ্গে যে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির অকস্মাৎ পরিচয় হয়েছিল, এখানে তার কথাই বলা হয়েছে।
→ অজ্ঞাতপরিচয় মানুষটি রাধারাণীর কথার স্বরে বুঝেছিল, সে বালিকা। অন্ধকারের ফলে সে তার বয়স অনুমান করতে পারেনি। এখন গলার স্বর ও হাতের স্পর্শ পেয়ে সে বুঝতে পেরেছিল, রাধারাণী বড়ো বালিকা।
‘সেই এক পয়সার বনফুলের মালার সকল কথাই বাহির করিয়া লইল'—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে রথের মেলার সঙ্গে রাধারাণীর মনের আশাটিও বিনষ্ট হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সে কাঁদতে কাঁদতে কাদায়-অন্ধকারে বিভ্রান্তের মতো যখন পথে পথে ঘুরছিল, তখন ঘটনাচক্রে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে তার আলাপ হয়। পিছল পথে বালিকা রাধারাণীকে ব্যক্তিটি হাত ধরে নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে চলার সময় কৌশলে তার নাম-পরিচয়, একলা রথ দেখতে যাওয়ার কারণ প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে, ‘এক পয়সার বনফুলের মালার' সব কথাই জেনে নিয়েছিল।
‘রথ দেখিতে যায় নাই'—কে রথ দেখতে যায়নি? কেন সে রথ দেখতে যায়নি লেখো।
উত্তর: রাধারাণী রথ দেখতে যায়নি।
→ রথের অনেক আগে থেকেই রাধারাণীর মায়ের অসুস্থতা চরম আকার ধারণ করেছিল। রথের দিন তা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এদিকে ঘরে অসুস্থ মায়ের কোনো পথ্য ছিল না। কোনো উপায় না দেখে রাধারাণী বনফুলের একটি মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করবে বলে রওনা দেয়। তবে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। কারণ প্রবল বৃষ্টিতে রথের মেলা পণ্ড হয়ে যায়। ফলে রাধারাণীর মালাটিও বিক্রয় হয় না এবং সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রশ্ন
‘তুমি মালা বেচো তো আমি কিনি'। উদ্ধৃতাশংটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন রথের মেলায় রাধারাণীর সঙ্গে অন্ধকার পথে পরিচিত হওয়া ভদ্রলোক। পরবর্তীতে তার নাম রুক্মিনীকুমার রায় বলে আমরা জানতে পারি। প্রবল বৃষ্টিতে রথের মেলা যখন ছত্রভঙ্গ, বুনো ফুলের মালা বেচতে গিয়ে রাধারাণী যখন দিশেহারা তখন তার এক ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি অসহায় রাধারাণীকে বাড়ি পৌঁছে দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। বাড়ি পৌঁছে দেবার পথে ভদ্রলোক অত্যন্ত কৌশলে রাধারাণীর মেলায় আসা ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন। সব শুনে তিনি রাধারাণীর বুকে আঁকড়ে ধরে থাকা মালাটি কিনে নেবার প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন।
‘তা নহিলে, আমার মা খেতে পাবে না। তা নিই!'—বক্তার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তার কোন্ মনোভাবের প্রতিফলন, ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হাতে পয়সা নেই, মা গুরুতর অসুস্থ এমন অবস্থায় মায়ের প্রয়োজন পথ্যের, তাই রাধারাণী বুনো ফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রির জন্য যায়। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেলা পন্ড হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা নেমে আসে তাই সে সেই মালা বুঝে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে। তখন জনৈক দয়ালু ভদ্রলোক এদিয়ে এসে তার সব কথা শুনে তাকে বাড়ি ছেড়ে আসা কথা বলেন। পথে সেই ব্যক্তি বুনোফুলের মালা কিনে নেবেন বলতেই রাধারাণীর মনে প্রশ্ন জাগে কীভাবে সে এই সাহায্যকারী ব্যক্তির কাছ থেকে পয়সা নেবে! আবার অন্যদিকে ভাবেন পয়সা না নিলে তার মায়ের পথ্যই বা কী হবে? এক্ষেত্রে বক্তার মনে একদিকে সৌজন্য, অপরদিকে কর্তব্যবোধ এই দোলাচলতা লক্ষ করা যায়।
‘আমার আর কাপড় নাই—' প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃতাংশটির বক্তা রাধারাণী। মায়ের পথ্যের জন্য রাধারাণী বুনো ফুলে মালা গেঁথে মেলায় বিক্রির জন্য যায়। প্রবল বৃষ্টিতে মেলা পণ্ড হয় ও সে পথ হারিয়ে ফেলে। পথে জনৈক দয়ালু ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই ব্যক্তি রাধারাণীর সব ঘটনা শুনে তার মালা কিনে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন এবং মালার মূল্যবাবদ একটি মুদ্রা দেন। ঘরে পৌঁছে বৃষ্টিস্নাত রাধারাণী আগে প্রদীপ জ্বেলে মুদ্রাটি যাচাই করে নিতে চায়। তখন উদ্দিষ্ট ব্যক্তি রাধারাণীকে আগে কাপড় ছেড়ে পরে প্রদীপ জ্বালাবার কথা বললে উত্তরে বক্তা একথা বলেন।
“যে টাকা দিয়াছে, সে নাই- চলিয়া গিয়াছে'— কে, কাকে টাকা দিয়েছিল? টাকা দেওয়ার কারণ কী ?
উত্তর: রুক্মিণীকুমার রায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হিসেবে রথের মেলা থেকে ফেরার পথে অসহায় রাধারাণীকে বনফুলের মালার দাম বাবদ টাকা দিয়েছিল।
● অন্ধকার পথে ফেরার সময় বালিকাটির সঙ্গে কথা বলে রুক্মিণীকুমার জানতে পেরেছিল, রাধারাণী নিছক রথের মেলা দেখতে যায়নি। বনফুলের একটি মালা বিক্রি করে, সেই পয়সায় মায়ের পথ্য কিনবে ভেবেছিল সে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় তার মালাটি বিক্রি হয়নি। তখন রুক্মিণীকুমার নিজের বাড়ির ঠাকুরের জন্য মালাটি কিনে নিয়ে বালিকা রাধারাণীকে টাকা দিয়েছিল।
‘আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।'—উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রাধারাণী রথের মেলায় দেখা হওয়া দয়ালু ও পরোপকারী ভদ্রলোকটিকে চার পয়সার বিনিময়ে বনফুলের মালাটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু উদ্দিষ্ট ব্যক্তি আসবার পথে রাধারাণীর কাছ থেকে কৌশলে সব জেনে নিয়ে, তাকে না জানিয়েই পয়সার বদলে টাকা দেয় এবং সুযোগ বুঝে স্থান ত্যাগ করে। রাধারাণীর মা তার মুখ থেকে সব শুনে দয়ালু মানুষটির সচেতন দানের কথা বুঝতে পারে আর নিজেদের আর্থিক দুর্দশায় সেই দানের টাকায় দিন কাটানোর কথা বলে। পরবর্তীতে রাধারাণী ওই টাকায় বাজার থেকে মায়ের পথ্য ও প্রদীপের তেল কিনে আনে।
‘পদ্মলোচন ইহাদের কাছে সুপরিচিত' - পদ্মলোচন কাদের কাছে কেন সুপরিচিত লেখো।
উত্তর: রাধারাণী ও তার মায়ের কাছে পদ্মলোচন দীর্ঘকাল ধরেই পরিচিত। রাধারাণীদের কুটির বাজার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তাদের কুটিরের কাছেই পদ্মলোচন সাহার দোকান। এ ছাড়া রাধারাণীর বাবার আমল থেকেই, অর্থাৎ তাদের যখন সুদিন ছিল তখন থেকেই শপথ করে কাপড় ব্যবসায়ী পদ্মলোচন চার টাকার কাপড়ে আট টাকা সাড়ে বারো আনা আর দুই আনা মুনাফা । নিত। রুক্মিণীকুমার রায়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
‘আমি বলি তোমাদের কুটুম্ব'। – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তার মনোভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রথের মেলায় ঘটনাচক্রে রাধারাণীর সঙ্গে আলাপ হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দয়ালু ভদ্রলোক মালার দাম হিসেবে পয়সার বদলে যেমন টাকা দিয়েছিল, তেমনই রাধারাণীদের চরম আর্থিক দুর্দশার কথা শুনে পদ্মলোচনের দোকান থেকে নগদ-মূল্যে দুটি শান্তিপুরের কাপড় কিনেও দিয়ে গিয়েছিল। খুব স্বাভাবিকভাবেই, পদ্মলোচন তাকে রাধারাণীদের আত্মীয় বা কুটুম্ব বলে ভেবেছিল। কিন্তু রাধারাণীরা যখন পদ্মলোচনের কাছেই বাবুটির পরিচয় জানতে চায়, সে বিস্মিত হয়ে জানায় বাবুটিকে সে চেনে না। একমাত্র আত্মীয়-কুটুম্ব ছাড়া আর কে-ই বা পারে এমনভাবে কারও জন্য খরচ করতে। তাই পদ্মলোচন প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্য করেছিল।
‘হাঁ মা, এমন লোক কে মা!'—লোকটির পরিচয় কীভাবে জানা গিয়েছিল লেখো।
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে অন্ধকারে রথের মেলায় বিপর্যস্ত রাধারাণীর সঙ্গে ঘটনাচক্রে এক সহৃদয় ভদ্রলোকের পরিচয় হয়। সেই মানুষটি রাধারাণীকে নিরাপদে যেমন বাড়ি পৌঁছে দেয়, তেমনই তাদের দুরবস্থার কথা শুনে তাকে নানাভাবে সাহায্য করে। কিন্তু প্রচারবিমুখ মানুষটি নিজের পরিচয় না | জানিয়েই রাধারাণীদের বাড়ির বাইরে থেকে বিদায় নেয়। পরে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে একখানা কাগজের নোট কুড়িয়ে পায় রাধারাণী। মা-মেয়ের অক্ষরপরিচয় থাকায় তারা বুঝতে পারে নোটে ভদ্রলোকের নাম লেখা আছে রুক্মিণাকুমার রায়। এভাবেই অজ্ঞাতপরিচয় ভদ্রলোকের পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছিল।
‘এমত কোনো সন্ধান পাইল না' - কার সন্ধান পাওয়া গেল না?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে যাওয়া রথের মেলা থেকে ক্রন্দনরতা রাধারাণীকে এক দয়ালু ব্যক্তি বাড়ি পৌঁছে দেন। তিনি রাধারাণীর মেলায় আসার কারণ ইত্যাদি শুনে রাধারাণীদের নানানভাবে সাহায্য করলেও নিজেকে কিন্তু আড়ালেই রাখেন। পরে ঘর পরিষ্কার করার সময় রাধারাণী কুড়িয়ে পাওয়া নোট থেকে তাদের সাহায্যকারী লোকটির নাম রুক্মিণীকুমার রায় বলে জানতে পারে। রাধারাণীকে যখন ভদ্রলোক বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন, তখন তিনি শ্রীরামপুর যাবার কথা বলেছিলেন। তাই রাধারাণী ও তার মা শ্রীরামপুরের আশেপাশে হন্যে হয়ে খুঁজেও এ নামে কাউকে পায়নি বলেই এ মন্তব্য।
‘তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে'— কথকের এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাধারাণী’ নামক রচনাংশ থেকে গৃহীত। এক্ষেত্রে কথক রাধারাণীদের নির্লোভ চরিত্রকে তুলে ধরতেই এমন মন্তব্য করেছেন। ঝড়বৃষ্টির রাতে এক দয়ালু ভদ্রলোক রাধারাণীকে বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং রাধারাণীর মুখে তাদের পারিবারিক অবস্থা শুনে অতিরিক্ত দাম দিয়ে তার বুনোফুলের মালা কেনেন। রাধারাণী পরনের বস্ত্রাভাব দেখে কাপড় কিনে পাঠান। তা ছাড়া সাহায্যের জন্য তিনি রাধারাণীর বাড়িতে নিজের নাম লিখে নোট ফেলে যান, যাতে তাদের কেউ না চোর অপবাদ দেয়। মালা বিক্রির টাকা নিছক প্রয়োজনের তাগিদে খরচ করলেও নোটটি যেহেতু তাদের প্রয়োজনাতিরিক্ত তাই তারা তা খরচ না করে তুলে রাখে। তাদের এই মনোভাব দেখেই কথক এমন মন্তব্য করেছেন।
