মাহেশে কে গিয়েছিল?
উত্তর: রাধারাণী নামের এক বালিকা মাহেশে রথ দেখতে গিয়েছিল।
কাদের ‘বড়োমানুষের মেয়ে' বলা হয়েছে?
উত্তর: জ্ঞাতির কাছে মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার আগে রাধারাণী ও তার মায়ের অবস্থা খুব ভালো ছিল। তাই তাদের ‘বড়োমানুষের মেয়ে’ বলা হয়েছে।
‘সর্বস্ব লইয়া মোকদ্দমা'—কার সঙ্গে কার মোকদ্দমা চলেছিল লেখো।
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্রের 'রাধারাণী' উপন্যাসাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাধারাণীর মায়ের সঙ্গে তাদেরই এক জ্ঞাতির বাড়ি-ঘর, বিষয়-সম্পত্তি সবকিছু নিয়েই মোকদ্দমা চলেছিল।
‘মোকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল' এর ফল কী হয়েছিল?
উত্তর: মোকদ্দমাটি হাইকোর্টে হারার পর ডিক্রিদার ডিক্রি জারি করে রাধারাণী ও তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি সব নিয়ে গিয়েছিল।
ডিক্রিদার সব নেবার পর রাধারাণীরা কী করল?
উত্তর: ডিক্রিদার তাদের সব সম্পত্তি নেবার পর রাধারাণীদের নগদ যা ছিল তা খরচ ও ওয়াশিলাত দিতে শেষ হয়। শেষে গহনাদি বিক্রি করে তা মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করেন।
রাধারাণীর মায়ের নগদ টাকা কীভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: মামলার খরচ এবং ওয়াশিলাত বা ক্ষতিপূরণ দিতেই রাধারাণীর মায়ের নগদ টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল।
'রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না' - কেন?
উত্তর: ভিটেমাটি চ্যুত হয়ে রাধারাণীর মা কুঁড়েঘরে থেকে অনাহারে-অর্ধাহারে দৈহিক পরিশ্রম করে কোনোক্রমে দিন কাটাত। তাই আর মেয়ের বিয়ে দিতে পারেনি।
রাধারাণীর মা কখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: অনাহারে-অর্ধাহারে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে রাধারাণীর মা রথের ঠিক আগেই অসুস্থ হয়েছিল, তবে রথের দিন তার অবস্থা খুব গুরুতর হয়ে পড়েছিল।
রাধারাণী মায়ের পথ্যের জন্য কী করেছিল?
উত্তর: অসহায় রাধারাণী অভুক্ত অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বনফুল সংগ্রহ করে, মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করে মায়ের পথ্য জোগাড় করতে চেয়েছিল।
‘মালা কেহ কিনিল না বলার কারণ কী?
উত্তর: রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় রাধারাণীর মালা আর কেউ কিনল না।
রাধারাণীর ‘চক্ষু বারিবর্ষণ করিতেছিল' কেন?
উত্তর: মায়ের অসুস্থতা-অনাহার-অন্নাভাবের কথা ভেবে রাধারাণী কাঁদছিল। এখানে লেখক রথের মেলার শ্রাবণধারার সঙ্গে নিরুপায় রাধারাণীর অসহায় কান্নাকে একাকার করে দেখিয়েছেন।
‘ফেলে নাই’—কী?
উত্তর: রাধারাণী নিজের হাতে তৈরি বনফুলের মালাটিকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বুকে আঁকড়ে রেখেছিল, ফেলে দেয়নি।
রাধারাণীর উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠার কারণ কী ছিল?
উত্তর: বর্ষণমুখর রথের দিনে অন্ধকার রাস্তায়, সহসা রাধারাণীর ঘাড়ের উপর একজন এসে পড়ায় সে উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে উঠেছিল।
‘রোদন বন্ধ হইল' কেন?
উত্তর: রাধারাণী অপরিচিত ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বরে দয়ার স্পর্শ পেয়ে কান্না বন্ধ করেছিল।
'কেবল মা আছে'—বক্তা কে?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গদ্যাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা রাধারাণী।
অপরিচিত ব্যক্তি রাধারাণীকে হাত ধরতে বলেছিল কেন?
উত্তর: পিছল রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকায় অপরিচিত ব্যক্তিটি রাধারাণীকে হাত ধরতে বলেছিল।
'রাধারাণীর বয়স অনুমান করিতে পারে নাই'—কেন?
উত্তর: গাঢ় অন্ধকারের কারণে অপরিচিত পথিক রাধারাণীর বয়স অনুমান করতে পারেনি।
'রাধারাণী বড়ো বালিকা’—বক্তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: বক্তা রাধারাণীর কণ্ঠস্বরে তাকে নিতান্ত বালিকা বলে বোধ করেছিল, পরে অন্ধকারে হাঁটার সময় তার হাতের স্পর্শে। টের পায়, সে বড়ো বালিকা।
মেলার সেই অপরিচিত ব্যক্তি মালা কিনতে চেয়েছিল কেন?
উত্তর: মেলার সেই অপরিচিত ব্যক্তি বাড়ির গৃহদেবতার পুজোর প্রয়োজনে মালা কিনতে চেয়েছিল।
'আমি তাই মালা কিনিতে পারি নাই'। বলার কারণ কী?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে তাড়াতাড়ি মেলা ভেঙে যাওয়ায় উদ্দিষ্ট ব্যক্তি মালা কিনতে পারেনি বলে জানিয়েছিল।
'রাধারাণীর আনন্দ হইল'—রাধারাণীর আনন্দ হল কেন?
উত্তর: ঝড়-বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় রাধারাণীর মালা বিক্রিই হয়নি। অবশেষে জনৈক ব্যক্তি তা কিনতে চাইলে তার আনন্দ হয়।
'তুমি ভুলে টাকা দাও নাই তো?’–বক্তার এরুপ মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: রাধারাণী অপরিচিত ব্যক্তিটির কাছ থেকে মালার দাম হিসেবে পাওয়া পয়সার আকার ও উজ্জ্বল্য দেখে, প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছিল।
'তাই চকচক করছে'। এমন বলেছে কেন?
উত্তর: অপরিচিত ভদ্রলোক রাধারাণীকে বলেছিল, নতুন কলের নতুন পয়সা হওয়ায় তা এমন চকচক করছে।
'তারপর প্রদীপ জ্বালিয়ো'। প্রসঙ্গ উল্লেখ করো।
উত্তর: অপরিচিত লোকের কাছ থেকে প্রাপ্ত পয়সা সম্পর্কে সন্দেহ জাগায় রাধারাণী ফিরে আগে প্রদীপ জ্বলে তা দেখতে গেলে ভদ্রলোক তাকে আগে ভেজা কাপড় ছেড়ে পরে প্রদীপ জ্বালাবার পরামর্শ দেন।
‘আমার ব্যামো হয় না’—বলার কারণ কী?
উত্তর: রাধারাণীর দুটি মাত্র কাপড় সম্বল। তাই সে ভিজে কাপড়ে থাকতে অভ্যস্ত। এ সত্ত্বেও তার ব্যামো হয় না বলেই সে এমন মন্তব্য করেছে।
রাধারাণীর আলো জ্বালাতে বিলম্ব হয়েছিল কেন?
উত্তর: রাধারাণীদের ঘরে তেল না থাকায়, চাল থেকে খড় পেড়ে চকমকি ঠুকে তাকে আগুন জ্বালাতে বিলম্ব হয়েছিল।
'আলো জ্বালিয়া রাধারাণী দেখিল' - রাধারাণী কী দেখেছিল?
উত্তর: আলো জ্বেলে রাধারাণী দেখেছিল, বনফুলের মালার দাম হিসেবে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে পয়সা নয়, টাকা দিয়ে গিয়েছিল।
‘সে নাই—চলিয়া গিয়াছে। কে চলে গেছে?
উত্তর: আলো জ্বেলে রাধারাণী বাইরে এসে দেখেছিল, মেলার সেই অপরিচিত ভদ্রলোক যে বনফুলের মালার দাম বাবদ পয়সার বদলে টাকা দিয়েছে, সে চলে গেছে।
‘আমরাও ভিখারি হইয়াছি'— উক্তিটি কার? কেন তার এমন উক্তি?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি রাধারাণীর মায়ের। এক জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমায় রাধারাণীর মা সর্বস্ব হারিয়েছিল। তাই সে নিজেদের নিঃস্ব-সর্বস্বহারা ভিখারি বলে মনে করেছে।
'বড় শোরগোল উপস্থিত করিল'— কে কেন শোরগোল উপস্থিত করেছিল?
উত্তর: অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা দেওয়া টাকা নিয়ে যখন রাধারাণী ও তার মা কথাবার্তায় ব্যস্ত তখন কাপড় ব্যবসায়ী পদ্মলোচন একজোড়া শান্তিপুরী শাড়ি নিয়ে এলে শোরগোল পড়ে যায়।
‘মনে করিয়াছিল যে, সেই তিনিই বুঝি আবার ফিরিয়া আসিয়াছেন'—রাধারাণী কার কথা মনে করেছিল?
উত্তর: মেলায় রাধারাণীর সাহায্যকারী এবং বনফুলের মালার দাম হিসেবে পয়সার বদলে টাকা দিয়েছিল যে ভদ্রলোক, রাধারাণী ভেবেছিল সে-ই বুঝি ফিরে এসেছে।
পদ্মলোচনকে ‘পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিন্সে'— বলার কারণ কী?
উত্তর: রাধারাণীর বাবার আমল থেকেই পদ্মলোচনের চড়া দামে কাপড়ের কারবারের কথা জানায় তারা পদ্মলোচনকে এরূপ সম্বোধন করেছে।
'রাধারাণীর কথা শুনিয়া কিছু বিস্মিত হইল'—বিস্মিত হয়ে সে কী বলেছিল?
উত্তর: বিস্মিত পদ্মলোচন জানিয়েছিল, এক অপরিচিত ভদ্রলোক দুটি কাপড়ের নগদ দাম দিয়ে, তাকে ওই দুটি রাধারাণীকে দিয়ে আসতে বলেছিল।
পদ্মলোচন অপরিচিত ক্রেতাকে কী ভেবেছিল?
উত্তর: পদ্মলোচন অপরিচিত রুক্মিণীকুমারকে রাধারাণীদের আত্মীয়-কুটুম্ব বলে ভেবেছিল।
‘প্রসন্নমনে দোকানে ফিরিয়া গেলেন' - তার এমন প্রসন্নতার কারণ কী?
উত্তর: পদ্মলোচন চার টাকার কাপড় রুক্মিণীকুমারকে আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায় বিক্রি করে অত্যন্ত প্রসন্ন বা খুশি হয়েছিল।
রাধারাণী টাকা ভাঙিয়ে কী করেছিল?
উত্তর: রাধারাণী প্রাপ্ত টাকা ভাঙিয়ে বাজার করে এবং প্রদীপের জন্য প্রয়োজনীয় তেল নিয়ে ফিরেছিল।
রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে কী পেয়েছিল?
উত্তর: রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে একখানি কাগজ তথা নোট কুড়িয়ে পেয়েছিল।
রাধারাণীকে ‘বড়োঘরের মেয়ে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: রাধারাণীর অক্ষরপরিচয় ছিল বলে তাকে ‘বড়োঘরের মেয়ে' বলা হয়েছে।
রাধারাণীর কুড়িয়ে পাওয়া নোটে কী লেখা প্রশ্ন ছিল?
উত্তর: কুড়িয়ে পাওয়া নোটে রুক্মিণীকুমার রায় এবং রাধারাণীর নাম লেখা ছিল।
রুক্মিণীকুমার নোটে নিজের নাম লিখেছিলেন কেন?
উত্তর: পাছে নোটটিকে কেউ চোরা নোট বলে রাধারাণীদের যাতে তাপদস্থ করতে না পারে, সেজন্য রুক্মিণীকুমার তাতে নিজের নাম লিখে রেখেছিলেন।
‘এমত কোনো সন্ধান পাইল না'—কার সন্ধান পেল না?
উত্তর: রাধারাণী ও তার মা শ্রীরামপুর বা নিকটবর্তী অঞ্চলে রুক্মিণীকুমারের অনেক খোঁজখবর করেও কোনো সন্ধান পেল না।
নোটখানি তারা ভাঙায়নি কেন?
উত্তর: রাধারাণীদের কাছে এই নোটখানি ছিল প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আর তারা দরিদ্র হলেও লোভী ছিল না, তাই নোটখানি রাধারাণীরা ভাঙায়নি।
‘তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে'।— কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে রাধারাণী ও তার মায়ের কথা বলা হয়েছে। রুক্মিণীকুমার রায়ের রেখে যাওয়া নোট না ভাঙিয়ে রাখাই তাদের নির্লোভিতার প্রমাণ।
