‘তাহারই দিকে আমাকে আকর্ষণ করিতেছে।'— কে, কাকে আকর্ষণ করছিল? এরপর কী ঘটেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ রচনায় নরেশ তার ঘরে একাকী বসেছিল। টেবিল ল্যাম্পের অকম্পিত আলোয় আলোকিত ঘরে বসে সে তার সহপাঠী হীরু ও চন্দ্রনাথের কথা ভাবছিল। সামনের দেয়ালের বড়ো আয়নাটির মধ্যে তারই প্রতিবিম্ব চিন্তাকুল নেত্রে তার দিকে চেয়েছিল। এই অলীক কায়াই তাকে স্মৃতিচারণায় বাধা দিয়ে যেন তার দিকেই আকর্ষণ করেছিল।
● এরপর নরেশ টেবিল ল্যাম্পটা নিভিয়ে দেওয়ায় ঘরটা অন্ধকারে ভরে উঠেছিল। নরেশের কথায় অতীতের রূপ এই অন্ধকার। তাই সেই আঁধার পেরিয়ে তাঁর স্মৃতির সেই সহপাঠী চন্দ্রনাথ স্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে তার সামনে উপস্থিত হয়েছিল।
‘অসাধারণ তাহার মুখাকৃতি।'—কার মুখের কথা বলা হয়েছে? তার মুখশ্রীটি কেমন?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিতে পাঠ্য রচনাংশের মুখ্য চরিত্র চন্দ্রনাথের ‘মুখাকৃতি’-র অসাধারণত্বের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
● চন্দ্রনাথের দেহ সবল ও সুস্থ। তার দীর্ঘাকৃতি শরীর এবং চোখের দৃষ্টি নির্ভীক। মুখের মধ্যে প্রথমেই চোখে পড়ে তার অদ্ভুত মোটা নাক। খুব সামান্য উত্তেজনাতেই তা স্ফীত হয়ে ওঠে। বড়ো বড়ো চোখ, চওড়া কপাল আর সেই কপালের ঠিক মাঝখানে শিরায় রচিত ত্রিশূল চিহ্ন। কিশোর বয়সেই কপালের মাঝের এই ত্রিশূল চিহ্ন সামান্য উত্তেজনাতেই প্রকট হয়ে ফুটে ওঠে। প্রশ্ন
‘হেডমাস্টারমহাশয়কে মনে পড়িতেছে'। হেডমাস্টারমহাশয়ের বিবরণ দাও? এক্ষেত্রে তাঁকে মনে পড়ার কারণ কী?
উত্তর: শীর্ণ দীর্ঘকায় শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন কথক নরেশের স্কুলের হেডমাস্টারমশাই। তিনি বোর্ডিং-এর ফটকের সামনে চেয়ার-বেঙের আসন পেতে বসেছিলেন। তাঁর হাতে ছিল হুঁকা এবং চিন্তাকুল চোখের দৃষ্টি ছিল বিমর্ষ।
→ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথমবারের জন্য দ্বিতীয় হয়ে চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে হেডমাস্টারমশাইকে চিঠি লেখে। বিদ্রোহী চন্দ্রনাথের এই চিঠিতে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। সেই পরিস্থিতির আলোচনাকালেই কথক হেডমাস্টারমশাইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে।
'সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিয়াছে।'— উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি তারাশঙ্করের ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশ থেকে গৃহীত। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। স্কুলের পরীক্ষায় প্রথমবার দ্বিতীয় হয়ে চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে একটি চিঠি লিখেছিল। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সে যেমন নিঃসংশয় ছিল ঠিক একইভাবে হীরু যে তার সাহায্যেই প্রথম হয়েছে এ কথা জানাতে দ্বিধান্বিত ছিল না সে। তা ছাড়া স্কুলের শিক্ষকদের একাংশ যে হীরুকে প্রথম হতে সাহায্য করেছে এ কথাও সে হেডমাস্টারমশাইকে জানিয়ে প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলে আলোড়ন পড়ে যায়।
'দিস ইজ ম্যাথম্যাটিক্স।'—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনায় কথক নরেশ হেডমাস্টারের কথায় বিক্ষুব্ধ চন্দ্রনাথের কাছে পৌঁছায়। সে সেখানে গিয়ে দেখে দারিদ্র্য জীর্ণ স্বল্পালোকিত ঘরে চন্দ্রনাথ আপন মনে কী যেন লিখছে। কথকের প্রশ্নের উত্তরে সে জানায় যে ইউনিভার্সিটি এগজামিনের রেজাল্ট তৈরি করছে। তার মতে সে সাড়ে-পাঁচশো বা তার বেশি পেলে অমিয় এবং শ্যামা ছাড়া সবাই পাস করবে। আর সে যদি পাঁচশো পঁচিশের নীচে পায় তবে দশজন ফেল করবে আর কথক থার্ড ডিভিশনে পাস করবে। চন্দ্রনাথের একথায় নরেশের রাগ হয় এবং তা বুঝেই চন্দ্রনাথ হেসে বলে, “অনুপাতের আঙ্কিক নিয়মে যার মূল্য যতবার কষে দেখবে, একই হবে। একের মূল্য কমে সকলের কমবে। দিস ইজ ম্যাথম্যাটিক্স।”
‘কিন্তু সে হইল না।'—এখানে কী না হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নরেশ হেডমাস্টারের নির্দেশে সহপাঠী চন্দ্রনাথের পুরস্কার প্রত্যাখ্যানে মতামত জানতে গিয়ে দেখে সে ইউনিভার্সিটি এগ্জামিনের’ ফলাফল তৈরি করেছে। তার ফলাফল ও দাম্ভিকতা দেখে নরেশের চন্দ্রনাথের উপর রাগ হয়। এ কথা চন্দ্ৰনাথ আঁচ করতে পেরে নরেশকে অনুপাতের আঙ্কিক নিয়মের প্রসঙ্গটি বোঝায়। রাগান্বিত নরেশ নিজের মনের কথাটা তখন পাড়বে ভাবছিল। ঠিক সে সময় চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু একটা চিঠি হাতে সেখানে এলে, নরেশের মনের কথা মনেই রয়ে যায় তা আর বলার সুযোগই হয় না।
‘ভদ্রলোক আত্মসংবরণের জন্য বিপুল প্রয়াস করিতেছেন।'—কার কথা বলা হয়েছে? তাঁর এমন আচরণের কারণ কী?
উত্তর: তারাশঙ্করের চন্দ্রনাথ’ রচনাংশে উদ্ধৃতাংশে চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবুর কথা বলা হয়েছে। সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করে চন্দ্রনাথ যে চিঠি প্রধান শিক্ষককে দিয়েছিল, দাদা নিশানাথ সেটা তাকে প্রত্যাখ্যান করে নিতে বলেন। নানান যুক্তির অবতারণা করে চন্দ্রনাথ তা অস্বীকার করায় নিশানাথ প্রচণ্ড রাগে, অভিমানে ও উত্তেজনায় ভাইকে পৃথক করে দেবার কথাও বলেন। তাতেও চন্দ্রনাথ নির্বিকার থাকায় নির্বিরোধী ও শান্ত প্রকৃতির নিশানাথবাবুর এহেন প্রতিক্রিয়া।
'চিন্দ্রনাথের দাদা ক্ষোভে যেন কাঁপিতেছিলেন।'— চন্দ্ৰনাথের দাদার নাম কী? তিনি ক্ষোভে কাঁপছিলেন কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদার নাম ছিল নিশানাথ।
→ সেকেন্ড প্রাইড রিফিউজ করে চন্দ্রনাথ যে পত্র লিখেছিল হেডমাস্টারমশাইকে, সেই পত্র প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেছিলেন নিশানাথবাবু। কিন্তু চন্দ্রনাথ তাতে রাজি হয়নি। সে সেকেন্ড প্রাইজ গ্রহণ করাকে নিজের আত্মমর্যাদার পক্ষে হানিকর বলে মনে করেছিল। এই কারণেই নিশানাথবাবু ক্ষোভ-দুঃখ-অভিমান ও যন্ত্রণায় কাঁপছিলেন।
‘এমন বুকে দাগ কাটা দৃষ্টি আমার জীবনে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।'— কার দৃষ্টি? এমন কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: তারাশঙ্করের চন্দ্রনাথ’ রচনাংশে চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথের ক্ষুব্ধ, বেদনাহত ও হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
→ চন্দ্রনাথের প্রাইজ প্রত্যাখ্যান বিষয়ক চিঠিতে গোটা স্কুল যখন চঞ্চল ও বিক্ষুব্ধ তখন আপাত নিরীহ, শান্ত নিশানাথবাবু ভাইয়ের এই আচরণ মেনে নিতে পারেননি। তাই ভাইকে হেডমাস্টারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি প্রত্যাহারের কথা বলেন। চন্দ্রনাথ কিন্তু যুক্তির জাল বিস্তার করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এমনকি দাদার আলাদা হবার প্রস্তাবেও তার তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। ভাইয়ের এহেন আচরণে বাকরুদ্ধ নিশানাথের দৃষ্টিতে যে মর্মাহত ও ক্ষোভের প্রকাশ লক্ষ করা গিয়েছিল তারই কথা বলা হয়েছে।
'তাহাকে অকপটেই সমস্ত বলিলাম।'—কার কথা বলা হয়েছে? তাঁকে কী বলা হয়েছিল?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটিতে স্কুলের হেডমাস্টারমশায়ের কথা বলা হয়েছে।
→ রচনাংশের কথক চন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে ফিরে সেখানকার সমস্ত ঘটনা অকপটে মাস্টারমশাইকে জানিয়েছিল। মাস্টারমশাই জেনেছিলেন চন্দ্রনাথের আচরণে অর্থাৎ সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করে লেখা চিঠিটি প্রত্যাখানের দাদার দেওয়া প্রস্তাবে, একরোখা-স্বাধীনচেতা চন্দ্রনাথ রাজি হয়নি। ফলে ক্ষোভে-দুঃখে-অভিমানে বেদনাহত নিশানাথ তাকে পৃথক হওয়ার কথা বলেন। এইসব কথাই স্কুলের বাইরে অপেক্ষমান মাস্টারমশাইকে বলেছিল নরেশ।
‘আমারই অন্যায় হলো। -বক্তা কে? তাঁর এমন কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা কথকের স্কুলের হেডমাস্টারমশাই।
→ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় সেকেন্ড হওয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে লেখা চন্দ্রনাথের পত্র হেডমাস্টারমশাইকে বিচলিত করে। তিনি কথক নরেশকে তার বাড়িতে পাঠান। সে ওখানে গিয়ে দেখে, দাদা নিশানাথের ক্ষমাপ্রার্থনা করে চিঠি প্রত্যাহারের নির্দেশও চন্দ্রনাথ অমান্য করে। ফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে মতপার্থক্য চরমে ওঠে এবং উভয়ের সম্পর্কে ছেদ ঘটে। ফিরে এসে এই সমস্ত ঘটনা অকপটে মাস্টারমশাইকে জানালে, বৃদ্ধ মানুষটি ব্যথিত হৃদয়ে প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন।
‘হীরুই সেবার ফার্স্ট হইয়াছিল'—হীরু কে? সে কীভাবে ফার্স্ট হয়েছিল লেখো।
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশে নরেশ, চন্দ্রনাথ ও হীরু সহপাঠী ছিল। এই ‘হীরু’ ছিল প্রভাবশালী স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো।
– চন্দ্রনাথ বলেছিল, হীরু তার সাহায্যেই ফার্স্ট হয়েছে। ওর প্রাইভেট মাস্টার যে, সে স্কুলেরও অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার। কাজেই প্রশ্নপত্রটি হীরুর কাছে তিনি লুকিয়ে রাখেননি। এ ছাড়া খাতা দেখার সময় উত্তর বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতিত্ব করেছেন। অঙ্কের পরীক্ষার দিন সে চন্দ্রনাথের কাছে মিনতি করলে, তার খাতা থেকে তিনটে অঙ্ক টুকেছিল হীরু। মাস্টারমশাই আগে বলে দেওয়া সত্ত্বেও সেসময় হীরু অঙ্কগুলি করতে পারেনি। এইরকমভাবেই হীরু স্কুলের পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতার পরিবর্তে অন্যের সাহায্য ও পক্ষপাতিত্বেই প্রথম হয়েছিল।
‘এই প্রস্তাবই আমার পক্ষে অপমানজনক'। —কোন প্রস্তাব এবং কেন তা অপমানজনক লেখো ?
উত্তর: চন্দ্রনাথ জীবনে প্রথমবার সেকেন্ড হওয়ার জন্য পাওয়া পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই সংবাদ পেয়ে সেই পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী হীরুর কাকা, হীরু মারফত তাঁকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে পাঠান। কিন্তু বিদ্রোহী চন্দ্রনাথ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের পুরস্কার গ্রহণের অক্ষমতার কথা বলে। আসলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব এবং হীরুর অযোগ্যতা সম্পর্কে নিঃসংশয় চন্দ্রনাথ, ‘স্পেশাল প্রাইজ’-এর আড়ালে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার এই হীন প্রচেষ্টাকে অপমানজনক বলেই মনে করেছিল। আর তা সহ্য করতে না পেরেই সে প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছিল।
‘সেই মুহূর্তে উঠিয়া আসিলাম।—বক্তার উঠে আসার কারণ কী?
অথবা,
‘গুরুদক্ষিণার যুগ আর নেই'।—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: হেডমাস্টার লেখা চিঠি নিয়ে চন্দ্রনাথের সাথে তার দাদার বিচ্ছেদ শুনে কথক নরেশ সেখানে হাজির হন। সেখানে কথক চন্দ্রনাথের মুখে দাদার সাথে সম্পত্তির ভাগ ও হীরুর কাকার দেওয়া পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কথা শোনে। এর পর সে আরও শোনায় যে হেডমাস্টারের চিঠির উত্তরে সে জানিয়েছে যে স্কুলের সাথে তার সব সম্পর্ক শেষ। সেজন্যই মাস্টারমশাইয়ের ডাকে সে সাড়া দেয়নি। দাম্ভিক একরোখা ও উদ্ধৃত চন্দ্রনাথের আচরণে ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত নরেশ সেই মুহূর্তে তার সঙ্গ ত্যাগ করে উঠে আসে।
‘চন্দ্রনাথের অনুমান অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়া গিয়াছে।'—অনুমানটি কী লেখো।
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশের কথক দারিদ্র্যজীর্ণ-স্বল্পালোকিত চন্দ্রনাথের ঘরে গিয়ে দেখেছিল, সে একমনে ইউনিভার্সিটি এগ্জামিনের রেজাল্ট তৈরি করছিল। পুরোটাই ছিল অনুপাতের আঙ্কিক নিয়মের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা একটি অনুমান। চন্দ্রনাথের সেই অনুমান অনুযায়ী সে নিজে যদি সাড়ে পাঁচশো কী তার বেশি পায়, তবে স্কুলের রেজাল্টে দুটো ফেল এবং বাকি সব পাস হবে। আর যদি তার নিজের নম্বর পাঁচশো পঁচিশের নীচে হয়, তবে দশটা ফেল হবে, আর কথক নরেশ থার্ড ডিভিশনে পাস করবে। ফলাফল বেরোনোর পর দেখা গিয়েছিল, একটি বাদে বাকি সবক্ষেত্রেই চন্দ্রনাথের অনুমান অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে।
'মনে মনে দুঃখিত না হইয়া পারিলাম না'।— বক্তার এমন অভিমতের কারণ কী লেখো।
উত্তর: কথক নরেশ মামার বাড়িতে থাকাকালীন হীরুর চিঠি পড়ে পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারে। সে আশ্চর্য হয়ে দেখে চন্দ্রনাথের অনুমান সম্পূর্ণ মিলে গেছে। চন্দ্রনাথের পূর্বাভাস মতো পরীক্ষায় দশ জন ফেল করেছে এবং সে তৃতীয় বিভাগেই পাস করেছে। এমনকি চন্দ্রনাথ নিজেও পাঁচশো পঁচিশের কমই পেয়েছে। কিন্তু চন্দ্রনাথের একটি অনুমান মেলেনি। হীরু চন্দ্রনাথকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবেই সে পেয়েছে স্কলারশিপ। এই সংবাদ নরেশকে মনে মনে দুঃখিত করে তুলেছিল। কেননা চন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাঁর মনে কোনো সংশয় ছিল না। যোগ্যতমের এই পরাজয়কে নরেশ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি বলেই সে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছিল।
‘উৎসবের বিপুল সমারোহ সেখানে'। উৎসবের সমারোহ কোথায়? কেন এই উৎসবের আয়োজন?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে কথকের সহপাঠী হীরুর স্কলারশিপ লাভ উপলক্ষ্যে তার বাড়িতে প্রীতিভোজনের যে উৎসব ও সমারোহ হয়েছিল, তার কথাই বলা হয়েছে।
→ চন্দ্রনাথের সহপাঠী হীরু ছিল স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো। পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর দেখা গিয়েছিল, চন্দ্রনাথের একটি অনুমান মেলেনি। অর্থাৎ চন্দ্রনাথের বদলে হীরুই প্রথম হয়ে স্কলারশিপ পেয়েছিল। এই উপলক্ষ্যেই হীরুদের বাড়ির নিকটস্থ আমবাগানে প্রীতিভোজনের আয়োজন হয়। হীরুর শৌখিন কাকা চিনা লন্ঠন ও রঙিন কাগজের মালার নিপুণ বিন্যাসে বাগানটিকে অতুলনীয় সাজে সাজিয়ে তুলেছিলেন।
‘ছাত্র তাঁহার অধিকারের গণ্ডি পার হইলেই সে আর ‘তুই’ নয়, তখন সে ‘তুমি’ হইয়া যায় তাঁহার কাছে'। —বলতে কথক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশে আমরা দেখি ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় স্কলারশিপ লাভ উপলক্ষ্যে হীরুর বাড়িতে প্রীতিভোজনের আয়োজন হয়। সেখানে স্কুলের হেডমাস্টারমশাই এবং নরেশেরও আমন্ত্রণ ছিল। উভয়ের দেখা হলে মাস্টারমশাই নরেশের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তাকে ‘তুই’-এর বদলে, ‘তুমি’ সম্বোধন করেন। কথক জানতেন, এই হল মাস্টারমশাইয়ের বিশেষত্ব। তাঁর বিশ্বাস ছিল স্কুলের গণ্ডি ডিঙোলেই ছাত্রের প্রতি অধিকারবোধ যেমন কমে আসে, তেমনই ক্রমশ বড়ো হতে থাকা ছাত্রকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকুও দিতে হয়। এইজন্যই মাস্টারমশাই বিদ্যালয় থেকে পাস করে যাওয়া নরেশের সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবধান রচনা করে, তাকে ‘তুমি’ বলে ডেকেছেন।
‘তবে ছেড়ো না, ও একটা বড়ো জিনিস'—বক্তা কে? এক্ষেত্রে তাঁর কোন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে?
অথবা,
‘জেনো, Shame in crowd but solitary pride হওয়াই উচিত ও বস্তু'—বক্তা কে? তিনি এমন কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন তারাশঙ্করের ‘চন্দ্রনাথ? রচনাংশের অন্তর্গত প্রধান শিক্ষক মহাশয়।
― হীরুর বাড়িতে নরেশের হেডমাস্টারের সাথে সাক্ষাৎ হয় তখন তিনি তাকে পড়ার সময় সাহিত্যচর্চা একটু কম করতে বললেও তা একেবারে ছাড়তে নিষেধ করেন। তার মতে ‘সাহিত্যচর্চা' বড়ো জিনিস। নিজের মনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা প্রকাশ কম কথা নয়। তিনি অলিভার গোল্ডস্মিথের ‘দ্য ডেসার্টেড ভিলেজ’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, লেখালেখি সকলের সামনে লজ্জা বা অস্বস্তির বিষয় হলেও নিভৃতে গর্বের বস্তু। এক্ষেত্রে হেডমাস্টারের ছাত্রদরদি ও সাহিত্য রসিক মনের পরিচয় মেলে।
