‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশটি কোন্ মূল উপন্যাস থেকে নেওয়া?
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আগুন’ উপন্যাসের প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া।
'চন্দ্রনাথ’ রচনাংশের কথকের নাম কী?
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশের কথকের নাম নরেশ, সংক্ষেপে নরু।
কথকের কোথায় চন্দ্রনাথের কথা মনে হয়েছিল?
উত্তর: সারকুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বের হয়ে কথক নরেশ সহপাঠী চন্দ্রনাথের কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরেছিল।
কথকের স্মৃতিপটে চন্দ্রনাথের অবস্থান কেমন ছিল?
উত্তর: রচনাংশের কথক নরেশের স্মৃতিপটে চন্দ্রনাথ গভীর রাতে মধ্য আকাশে বিচরণকারী কালপুরুষের মতো ঔজ্জ্বল্যের পরিধিতে ভাস্বর ও প্রদীপ্ত হয়ে ছিল।
কালপুরুষের সঙ্গে চন্দ্রনাথের তুলনা করে কথকের আনন্দ পাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: কালপুরুষ নক্ষত্রের খড়্গধারী ভীমকায় আকৃতির সঙ্গে চন্দ্রনাথের আপসহীন সত্তার সাদৃশ্য অনুভব করে কথক আনন্দ পান।
হীরু কে ছিল?
উত্তর: হীরু ছিল কথক নরেশ ও চন্দ্রনাথের সহপাঠী এবং স্কুলের প্রভাবশালী সেক্রেটারির ভাইপো।
‘আরও একজনকে মনে পড়িতেছে' – তিনি কে?
উত্তর: এখানে রচনাংশে কথক নরেশ আরও একজন বলতে চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথের কথা বলেছে।
‘কেমন করিয়া যে এই তিনজন একই সময়ে ক্ষুদ্র একটি গ্রামের মধ্যে আসিয়া পড়িয়াছিলাম'—–কোন্ তিনজনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে তিন সহপাঠী চন্দ্রনাথ, হীরু এবং রচনাংশের কথক নরেশের কথা বলা হয়েছে।
‘এও হয়তো সেই বিচিত্র সমাবেশ। বিচিত্র সমাবেশটি কী লেখো।
উত্তর: একই গ্রামে চন্দ্রনাথ, হীরু ও নরেশ এই তিন বন্ধুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আশ্চর্য সমাবেশকে আগ্নেয়গিরির গর্ভের মধ্যে কল্পনাতীত বিচিত্র সমাবেশের সাথে কথক তুলনা করেছেন।
“চিন্তাকুল নেত্রে চাহিয়া বসিয়া আছে। প্রশ্ন কে বসে আছে?
উত্তর: টেবিল ল্যাম্পের আলোয় আলোকিত ঘরের সামনের দেয়ালে টাঙানো আয়নায় কথক নরেশের নিজেরই প্রতিবিম্বের দিকে চিন্তাকুল নেত্রে তাকিয়ে বসেছিল।
রচনাংশের কথকের অতীত সম্পর্কে অনুভূতি কী ছিল?
উত্তর: রচনাংশের কথক নরেশের মতে, অতীতের অন্ধকার। কেননা তা আর কখনোই ‘আলোকিত প্রত্যক্ষের মধ্যে অর্থাৎ বর্তমান জীবনে ফিরে আসে না।
‘অন্ধকারের মধ্যে তাহাকে খুঁজিতেছি'। কে, কাকে খুঁজছে?
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ রচনাংশে কথক নরেশ তার সহপাঠী চন্দ্ৰনাথকে খুঁজছে।
চন্দ্রনাথ কখন কথকের সামনে এসে দাঁড়াল?
উত্তর: ঘরের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মধ্যে সুস্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে চন্দ্রনাথ কথকের সামনে এসে দাঁড়াল।
কিশোর চন্দ্রনাথের চেহারার পরিচয় দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথ দীর্ঘাকৃতি, সবল ও সুস্থ শরীরের অধিকারী। আকর্ষণীয় মুখাকৃতিতে বড়ো বড়ো চোখের নির্ভীক দৃষ্টি। মোটা নাক সামান্য চঞ্চলতায় ফুলে ওঠে আর কপালের মাঝখানে শিরায় তৈরি ত্রিশূল যা সামান্য উত্তেজনাতেই প্রকট হয়ে ওঠে।
চন্দ্রনাথের ললাটের ত্রিশূল-চিহ্ন কখন দেখা যায়?
উত্তর: সামান্য উত্তেজনায় চন্দ্রনাথের রক্তের চাপ একটু প্রবল হলেই তার কপালের মধ্যস্থ ত্রিশূল-চিহ্ন মোটা হয়ে ফুলে ওঠে।
পুরাণ মতে ‘চন্দ্রনাথ' কার নাম?
উত্তর: পুরাণ মতে শিবের আর-এক নাম ‘চন্দ্রনাথ’। কেননা চাঁদ তাঁর মাথায় শোভা পায়।
হেডমাস্টারমশাই কীভাবে বসে থাকতেন?
উত্তর: শীর্ণ দীর্ঘকায় শান্ত প্রকৃতির হেডমাস্টারমশাই বোর্ডিং-এর ফটকের সামনে চেয়ার-বেঞ্চের আসন পেতে বসে থাকতেন। আর তাঁর হাতে হুঁকাটি সবসময় শোভা পেত।
‘চিন্তাকুল বিমর্ষ’ হেডমাস্টার মহাশয় কথককে কী বলেছিলেন?
উত্তর: চিন্তাকুল ও বিমর্ষ হেডমাস্টার মহাশয় কথক নরু বা নরেশকে চন্দ্রনাথের বক্তব্য জেনে আসতে বলেছিলেন।
দুর্দান্ত চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিয়াছে।'—আঘাতটি কী ছিল?
উত্তর: দুর্দান্ত আপসহীন চন্দ্রনাথের দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের পত্রে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।
‘তাহার কথা অবহেলা করিতে পারিলাম না।'—কার কোন্ কথা অবহেলা করা যায়নি?
উত্তর: চন্দ্রনাথ কথককে বলেছিল আজ পর্যন্ত সেকেন্ড না হওয়ার কারণেই সে সেকেন্ড প্রাইজ গ্রহণ করবে না। তার এ কথার সত্যতা অনুভব করে কথক অবহেলা করতে পারেনি।
‘সে তাহার স্বভাব নয়।'—কী তার স্বভাব নয়?
উত্তর: ঘরে কেউ উপস্থিত হলে তাকে অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানানো, চন্দ্রনাথের স্বভাব নয়।
‘তাহার কথা শুনিয়া আশ্চর্য হইয়া গেলাম।'—কোন্ কথা শুনে, কে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: দারিদ্র্যজীর্ণ স্বল্পালোকিত ঘরে বসে একমনে চন্দ্রনাথ যখন ইউনিভার্সিটি এগজামিনের’ রেজাল্ট তৈরি করছিল তখন তা দেখে কথক নরেশ অবাক হয়ে গিয়েছিল।
‘কাগজটায় চোখ বুলাইতেছিলাম।'—কোন্ কাগজে, কে চোখ বোলাচ্ছিল?
উত্তর: প্রদত্ত উদ্ধৃতাংশে চন্দ্রনাথের অনুমানে অনুপাতের আঙ্কিক নিয়মে তৈরি স্কুলের রেজাল্টের কাগজে নরেশের চোখ বুলানোর কথা বলা হয়েছে।
চন্দ্রনাথের তৈরি করা রেজাল্টে কী লেখা ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের তৈরি রেজাল্টে পূর্বাভাস ছিল সে সাড়ে পাঁচশোর বেশি পেলে স্কুলে ফেল হবে দুজন আর পাঁচশো পঁচিশের নীচে নাম্বার পেলে ফেল করবে দশজন।
'এই দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়'—উক্তিটি কার? কার সম্পর্কে বক্তার এমন উক্তি?
উত্তর: রেজাল্ট সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী চন্দ্রনাথের পূর্বাভাস প্রশ্ন শুনে নরেশ ব্যথিত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে এই উক্তি করেছে।
'ললাটে শিরায় রচিত ত্রিশূল-চিহ্ন ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করিতেছিল।'— কখন এমন ঘটেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের সামান্য উত্তেজনায় কপালের শিরায় রচিত ত্রিশূল চিহ্নটি মোটা হয়ে ফুলে ওঠে। দাদা নিশানাথ সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তার এই অবস্থা হয়েছিল।
‘এক মুহূর্ত স্তব্ধ থাকিয়া সে বলিল'—কে, কী বলেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ তার দাদা নিশানাথকে জানিয়েছিল, দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করাকে সে নিজের আত্মমর্যাদার পক্ষে হানিকর বলে মনে করে।
'কথাটা বলতে তোমার লজ্জায় বাধল না?'- কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি?
উত্তর: চন্দ্রনাথের সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করা প্রসঙ্গে তার দাদা নিশানাথবাবু এমন উক্তি করেছেন।
'তোমার অক্ষমতার অপরাধ!–কে, কেন বলেছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথ তার প্রথম হতে না পারা প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছিলেন।
‘তুমি জান না দাদা'।—দাদা কী জানতেন না?
উত্তর: চন্দ্রনাথের মতে তার দাদা জানত না যে, প্রথম হওয়া হীরু তার খাতা দেখে তিনটি অঙ্ক টুকেছিল এবং সহকারী শিক্ষক প্রশ্ন বলে দিয়ে ও খাতা দেখার পক্ষপাতিত্ব করে তাকে সাহায্য করেছে।
‘চন্দ্রনাথের দাদার মুখ দিয়া কথা সরিতেছিল না।—চন্দ্রনাথের দাদা কে? কেন তার মুখ দিয়ে কথা সরছিল না?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সচেতন চন্দ্রনাথের স্পর্ধা, অহংবোধ ও সাহস লক্ষ করে ও তার নিজের অনড় অবস্থান দেখে নিশানাথের রাগে, দুঃখে কথা সরছিল না।
চন্দ্রনাথের দাদার স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথ ছিলেন নির্বিরোধী শান্ত প্রকৃতির মানুষ।
‘তোমার বউদি বলত,’—বউদি কী বলত?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বউদি তার দাদা নিশানাথবাবুকে বলতেন যে, চন্দ্রনাথ অত্যন্ত জেদি-উদ্ধত-দুর্বিনীত ও স্বাধীনচেতা হয়ে উঠেছে। এখানে সে কথাই বলা হয়েছে।
‘আজ থেকে আমরা পৃথক'—কে, কাকে, কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু চেয়েছিলেন সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখান করে হেডমাস্টারকে লেখা চিঠি চন্দ্রনাথ ফিরিয়ে নিক। কিন্তু ভাই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় দুঃখে ও বেদনায় তার এমন মন্তব্য।
'তিনি নিশ্চয়ই এ উত্তর প্রত্যাশা করেন নাই,'—কোন্ উত্তরের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নিশানাথবাবু যখন চন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন তখন চন্দ্রনাথের উত্তর ছিল, “বেশ”। নিশানাথ সম্ভবত এ উত্তরের প্রত্যাশী ছিলেন না।
‘এমন বুকে দাগ কাটা দৃষ্টি আমার জীবনে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।'—উক্তিটি কার? কোন্ দৃষ্টির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি এই গল্পের কথক ও চন্দ্রনাথের সহপাঠী নরেশের। চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবুর বেদনাহত দৃষ্টির কথাই এখানে বলা হয়েছে।
কথক মাস্টারমশাইকে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে নিষেধ করেছিল কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ হয়তো মাস্টারমশাইয়ের কথা শুনবে না, এই আশঙ্কা থেকেই কথক নরেশ বৃদ্ধ মানুষটিকে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে নিষেধ করেছিল।
‘আমারই অন্যায় হলো'। কেন এমন কথা বলা হয়েছে? –
উত্তর: বক্তা হেডমাস্টারমশাই আত্মসমালোচনার সুরে এ কথা বলেছেন। তিনি নরুর কাছে সব শুনে এটাই ভেবেছিলেন যে তিনি যদি নিশানাথ-কে সবটা না বলতেন তবে হয়তো দু-ভায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হত না।
‘চন্দ্রনাথের সহিত সংস্রব রাখিব না'। বক্তার কেন এমন মনে হয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদার সঙ্গে পৃথক হওয়ার সংবাদ শুনে রচনাংশের কথক নরেশের এমন কথা মনে হয়েছিল।
‘তোমাকে তিনি একটা স্পেশাল প্রাইজ দেবেন।'—কে, কাকে স্পেশাল প্রাইজ দেবেন?
উত্তর: স্কুলের সেক্রেটারি অর্থাৎ হীরুর কাকা চন্দ্রনাথকে একটা স্পেশাল প্রাইজ দেবেন বলে ভেবেছিলেন।
'এই প্রস্তাবই আমার পক্ষে অপমানজনক'। -কোন্ প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথের কাছে হীরুর কাকার স্পেশাল প্রাইজ গ্রহণের প্রস্তাবটিই অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে হয়েছিল।
‘তাঁকেও উত্তর দিয়ে দিলাম, গুরুদক্ষিণার যুগ আর নেই।'—উক্তিটি কার? কাকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি?
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা চন্দ্রনাথ। স্কুলের হেডমাস্টারমশাইকে উদ্দেশ্য করে চন্দ্রনাথ এই উক্তি করেছিল।
‘কিন্তু একটি শুধু মেলে নাই’— কী মেলেনি?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে চন্দ্রনাথের যাবতীয় অনুমান মিলে গেলেও, হীরু যে তাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে এই পূর্বাভাস না মেলার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
‘হীরুর বাড়িতে প্রীতিভোজনের নিমন্ত্রণ পাইলাম।—প্রীতিভোজের নিমন্ত্রণের উপলক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় হীরু স্কলারশিপ পেয়েছিল। সেই উপলক্ষ্যেই প্রীতিভোজের নিমন্ত্রণ ছিল নরেশের।
‘আমি কিন্তু প্রথমেই গেলাম চন্দ্রনাথের বাড়ি।'—বক্তা সেখানে গিয়ে কী দেখেছিল?
উত্তর: বক্তা নরেশ মামার বাড়ি থেকে প্রথমে চন্দ্রনাথের বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে দেখে নির্জন বাড়ি খাঁ খাঁ করছে। শোবার ঘরের বন্ধ দরজায় একটা সামান্য তালা ঝুলছে।
'তিনি নিজে সেদিন বাগানটাকে সাজিইয়াছিলেন।'— ‘তিনি’ কে?
উত্তর: এখানে ‘তিনি’ হলেন হীরুর কাকা। গোটা জেলায় শৌখিন ধনীসন্তান হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল।
আমবাগানটিকে কেমনভাবে সাজানো হয়েছিল?
উত্তর: চিনা লণ্ঠন এবং রঙিন কাগজের মালা দিয়ে হীরুর কাকা নিজে হাতে আমবাগানটিকে সাজিয়েছিলেন।
