Class 9 Bengali Chapter 4 (দাম) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

‘স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলোক।’ –‘ভদ্রলোকটি কে? তাঁকে বিভীষিকা বলা হয়েছে কেন? 

উত্তর:  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে ‘ভদ্রলোকটি হলেন কথক সুকুমারের অঙ্কের মাস্টারমশাই। 

→ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের বিশ্বাস পুরুষমাত্রেই অঙ্কে পারদর্শী হবে। সেজন্যই তিনি ছাত্রদের অত্যন্ত যত্ন সহকারে অঙ্ক শেখাতেন। মুহূর্তের মধ্যেই জটিল অঙ্কের সমাধান করে। দিতেন তিনি। তবে অঙ্ক না পারলে ছাত্রদের বরাদ্দ ছিল তার প্রশস্ত হাতের চড় ও সেই সঙ্গে হুংকার। তাঁর হাতে মার খেয়েও ছাত্রদের কাঁদবার উপায় ছিল না। এভাবেই মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছে বিভীষিকা হয়ে উঠেছিলেন। 



‘ছবির মতো অঙ্কটা সাজিয়ে দিয়েছেন।' —কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কীভাবে অঙ্ক করাতেন?  

উত্তর: উক্তিটিতে সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। 

→ অঙ্কে পরিষ্কার মাথা ছিল মাস্টারমশাইয়ের। যে-কোনো ধরনের জটিল অঙ্ক একবার মাত্র তাকিয়ে দেখে নিতেন তিনি। তারপরই ব্ল্যাকবোর্ডে খসখস শব্দে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যেত তাঁর খড়ি। খড়ি ভেঙে গেলে টুকরো দুটো ছুঁড়ে দিয়ে আর-একটা নতুন খড়ি হাতে তুলে নিতেন। ছেলেরা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখত ছবির মতো অঙ্কটা কষে ব্ল্যাকবোর্ডে সাজিয়ে দিয়েছেন মাস্টারমশাই। 



‘মুখস্থ বললেও ঠিক হয় না,'—উক্তিটি কার? তার এমন মন্তব্যের কারণ কী? 

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্প থেকে গৃহীত। উক্তিটির বক্তা গল্পকথক সুকুমার। 

→ পৃথিবীতে এমন কোনো জটিল অঙ্ক ছিল না যার সমাধান সুকুমারদের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই জানতেন না। ছেলেদের মনে হত, পৃথিবীর সব অঙ্কই তাঁর মুখস্থ। অথবা ঠিক মুখস্থ নয়। যেন আগে থেকেই অদৃশ্য অক্ষরে ব্ল্যাকবোর্ডে সেগুলি লেখা রয়েছে। মাস্টারমশাই শুধু তার উপর খড়ি বুলিয়ে চলেছেন। জটিল অঙ্কে মাস্টারমশাইয়ের অনায়াস দক্ষতা বোঝাতেই সুকুমার এমন মন্তব্য করেছেন।



'ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত' —এখানে ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের ‘তটস্থ' থাকার কারণ কী? 

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথকের স্কুলে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে একশোয় একশো পাওয়া ভালো ছাত্ররাও তটস্থ হয়ে থাকত। এখানে 'তারা' বলতে এইসব ভালো ছাত্রদের কথা বলা হয়েছে। 

→ অঙ্কে মাস্টারমশাইয়ের প্রশ্নাতীত পারদর্শিতা ছিল। তিনি যে-কোনো জটিল অঙ্কের অনায়াসে সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু অঙ্ক না পারলে তিনি কাউকেই রেয়াত করতেন না। ফলত মাস্টারমশাইয়ের ক্লাসে ভালো ছাত্ররাও ‘তটস্থ' হয়ে থাকত। 



‘তাদের অবস্থা সহজেই কল্পনা করা যেতে পারে।'—কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের অবস্থা কেমন হত?  

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে কথকের স্কুলে যেসব ছাত্র কোনোরকমে কুড়ি বা তার কম পেত, তাদের কথা বলা হয়েছে। 

→ অঙ্কে দুর্বল ছেলেদের মাস্টারমশাইয়ের হাতের প্রচণ্ড চড় খেয়েও কাঁদবার উপায় ছিল না। চোখে জল দেখলেই তিনি খেপে গিয়ে পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবার ভয় দেখাতেন। কড়া মেজাজের মাস্টারমশাইয়ের পক্ষে কাজটি যে অসম্ভব নয় তা বুঝেই ছেলেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকত। 



‘পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক পারিসনে - তার উপরে কাঁদতে লজ্জা করে না? –উদ্ধৃতাংশটিতে বক্তার কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দাম' গল্পের অন্যতম চরিত্র অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের। অঙ্কের প্রতি ছিল তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা। তিনি ছাত্রদের মধ্যে অঙ্কের প্রতি এরকমই ভালোবাসা ও দক্ষতা প্রত্যাশা করতেন। তাঁর মতে, পৌরুষের প্রতীক হল অঙ্কের উপর অনায়াস দখল। তাই অঙ্ক না পারা ছাত্রদের মাস্টারমশাইয়ের হাতে মার খেয়েও কাঁদার উপায় ছিল না। তাঁর মতে সেটা নাকি পৌরুষের প্রতি অবমাননা। 



‘তা উনি পারতেন।' —কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: গল্পকথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের অঙ্কের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও দক্ষতা ছিল। তিনি অনায়াসে বোর্ডে জটিল অঙ্কের সমাধান করতেন। ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তাদের পিঠে পড়ত প্রশস্ত হাতের প্রচণ্ড চড়। কিন্তু তাতে কাদবার উপায় ছিল না। কাঁদলে তিনি তাদের স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার ভয় দেখাতেন। মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খাওয়া ছেলেরা কড়া মেজাজের মাস্টারমশাইয়ের পক্ষে ব্যাপারটা আদৌ অসম্ভব নয় বলেই মনে করত। 



‘এমন অঘটন কল্পনাও করতে পারতেন না মাস্টারমশাই।'— বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? 

অথবা, 

‘যে অঙ্ক জানে না এখানে তার প্রবেশ নিষেধ'  এমন কথা বলার তাৎপর্য কী?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের অঙ্কের প্রতি ছিল প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও জ্ঞান। তাঁর বিশ্বাস ছিল অঙ্কের প্রতি এই ভালোবাসা ও পারদর্শিতা প্রতিটি ছাত্রের থাকা উচিত। ছাত্রদের কাছে তিনি গল্প করেছিলেন, গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর নাকি দোরগোড়ায় লেখা থাকত অঙ্ক না-জানাদের প্রবেশ নিষেধ। মাস্টারমশাইয়ের মতে, স্বর্গের দরজায়ও নাকি এমনই লেখা থাকে। আসলে অঙ্কের মাহাত্ম্য ছাত্রদের উপলব্ধি করাতে বক্তার এমন উক্তি। 



‘লক্ষ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম।'—কাদের কথা বলা হয়েছে? কার কাছ থেকে তাঁরা দূরে থাকতেন? 

উত্তর: ‘দাম’ গল্পে সুকুমার এবং তাঁর বন্ধুরা যাঁরা অঙ্কে খুব দুর্বল ছিলেন এখানে তাঁদের কথা বলা হয়েছে। 

→ মাস্টারমশাই সুকুমারদের বলতেন, যারা অঙ্ক পারে না তাদের জন্য স্বর্গের দরজাও বন্ধ থাকে। সুকুমাররাও ভাবতেন যে স্বর্গে গেলে যদি জটিল জ্যামিতিক সমাধান বা স্কোয়ার মেজারের অঙ্ক কষতে হয়, তবে তেমন স্বর্গে যাওয়ার চেয়ে তার কাছ থেকে দূরে থাকাই তাদের পক্ষে মঙ্গলজনক। 


'এম-এ পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি, - বক্তা কোন্ স্বপ্নের কথা এখানে বলতে চেয়েছেন? 

অথবা, 

'সেই বিভীষিকা মন থেকে গেল না।' –বক্তা কোন্ বিভীষিকার কথা এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন? 

অথবা, 

‘অথচ একটা অঙ্কও আমার মিলছে না।'– অঙ্ক না মেলার কারণ কী? 

অথবা, 

'দু-চোখ দিয়ে তাঁর আগুন ঝরছে।'—উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে লেখো। 

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন ছাত্রদের কাছে বিভীষিকা। অঙ্কে দুর্বল গল্পকথক সুকুমার ম্যাট্রিকুলেশনের পর অঙ্কের সংস্রব ত্যাগ করেছে। কিন্তু এখনও সে দুঃস্বপ্ন দেখে অঙ্ক পরীক্ষা চলছে। শেষ ঘণ্টা আসন্ন। অথচ তার একটি অঙ্কও মিলছেনা। গার্ড সেই অঙ্কের মাস্টারমশাই। কথকের ব্যর্থতা দেখে তাঁর চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। উদ্ধৃত অংশের মধ্য দিয়ে কথকের দুঃস্বপ্নের ছবি ফুটে উঠেছে। 



একদিন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে ফরমাশ এল।—কার কাছে ফরমাশ এসেছিল? কীভাবে তিনি সেই ফরমাশ মিটিয়েছিলেন? 

উত্তর: ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমারের কাছে এক পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁর ছেলেবেলা নিয়ে গল্প লেখার ফরমাশ এসেছিল। 

→ গল্পকথকের শৈশব নেহাতই সাদামাটা হওয়ায় তিনি প্রথমে তা লিখতে চাননি। তবে বিশিষ্টজনরা কেউ এই পত্রিকায় লিখছেন না এবং পত্রিকার পাঠকসংখ্যা সীমিত জেনে শেষ পর্যন্ত তিনি লিখতে রাজি হয়েছিলেন। তাই ছোটোবেলার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কাজকর্ম নিয়ে গল্প লিখে তাদের ফরমাশ মিটিয়েছিলেন। 



'ছবিটি যা ফুটল, তা খুব উজ্জ্বল নয়।'—কোন্ ছবির কথা বলা হয়েছে? তা উজ্জ্বল নয় কেন?  

উত্তর: ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্পে মাস্টারমশাইয়ের ছবির কথা বলা হয়েছে। 

→ কথকের মতে, মাস্টারমশাইয়ের যে ছবি তিনি এঁকেছেন তা খুব একটা উজ্জ্বল নয়। কারণ তিনি লেখার মধ্যে কল্পনার খাদ যেমন মিশিয়েছিলেন তেমনি করেছিলেন মাস্টারমশাইয়ের সমালোচনাও। কথকের কথায়, “অহেতুক তাড়না করে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না”। যেমন তাকে শত চেষ্টা করেও মাস্টারমশাই অঙ্ক শেখাতে পারেননি। আসলে কথকের লেখায় মাস্টারমশাইয়ের প্রশংসার চেয়ে সমালোচনা বেশি হওয়ায় ছবিটি অনুজ্জ্বল হয়ে গেছে। 



‘তার প্রমাণ আমি নিজেই।'—বক্তা নিজেকে কীসের প্রমাণ বলে মনে করেছেন? 

অথবা, 

‘গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।'—উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী বলে তোমার মনে হয়? 

অথবা, 

'বরং যা শিখেছিলুম তা-ও ভুলেছি।'—বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?  

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার পত্রিকা অফিসের ফরমাশ অনুযায়ী ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন। সেখানে স্কুলের অঙ্কের শিক্ষকমশাইয়ের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এই উক্তিটি করেছেন। তাঁর মতে, কাউকে অহেতুক ভয় দেখিয়ে শিক্ষা দেওয়া যায় না। তাঁর প্রমাণ হিসেবে বক্তা নিজের কথা তুলে ধরেছেন। কেননা মাস্টারমশাইয়ের শত প্রহার সত্ত্বেও তিনি অঙ্ক শেখেননি, বরং যেটুকু শিখেছিলেন সেটুকুও ভুলে গেছেন।



'এইটুকুই আমার নগদ লাভ।' - উদ্ধৃতাংশটির মর্মার্থ লেখো।  

উত্তর: একটি পত্রিকার দাবি মেনে ‘দাম’ ছোটোগল্পের কথক সুকুমার ছেলেবেলার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি গল্প লিখেছিলেন। অঙ্ক এবং অঙ্কের চেয়েও ভয়াবহ মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ছাত্রজীবনে শাসন-পীড়ন এবং প্রহার ছাড়া সুকুমার কিছুই পাননি। আজ তাঁকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তিনি সম্মান-দক্ষিণা হিসাবে দশ টাকা পান। এই সামান্য টাকাকেই রসিকতা করে সুকুমার, মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া সারাজীবনের একমাত্র নগদ লাভ বলে মনে করেছেন।  



‘স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর পর্যন্ত মেলে না।' কার কথা বলা হয়েছে? স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর তাঁর নেই কেন?  

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাম’ গল্প থেকে প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশে গল্পকথক সুকুমারের কথা বলা হয়েছে। 

→ যে সময়ের কথা উক্তিটিতে বলা হয়েছে তখন সুকুমারের বয়স অনেক বেড়েছে। প্রথম জীবনে স্কুলের মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্পের কথাও আর তাঁর মনে নেই। বর্তমান জীবনের দাবি ও অন্যান্য ব্যস্ততা এখন খুব জোরালো হয়ে গেছে সুকুমারের কাছে। তাই ছেলেবেলার বা প্রথম যৌবনের দিনগুলির দিকে তাকানোর অবসর সুকুমারের ছিল না। 



‘এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে রাজহংসের সম্মান পায়।'— বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?  

অথবা, 

‘আমাদের মতো নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ।' - ‘নগণ্যের পক্ষে সুখাবহ ঘটনাটি কী? 

উত্তর: 'দাম' গল্পের কথক সুকুমার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রাম্য কলেজের বার্ষিক উৎসবে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে উক্ত মন্তব্যটি করেছেন। কথকের মতে, তাদের মতো নগণ্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ শহর থেকে যত বেশি দূরে হবে ব্যাপারটা তত বেশি সুখাবহ হবে। কলকাতার স্বনামধন্য মানুষদের মাঝে কদর পাওয়ার চেয়ে গ্রামের মানুষদের কাছে পাণ্ডিত্য ও খ্যাতি জাহির করা যে স্বাভাবিক সেই ভাব ফুটিয়ে তুলতেই তাঁর এমন মন্তব্য। 



‘আমি সুযোগটা ছাড়তে পারলুম না।' —কোন সুযোগের কথা বলা হয়েছে? সুযোগটা তিনি ছাড়তে পারেননি কেন? 

উত্তর:  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমারের বাংলাদেশের প্রান্তীয় কলেজে অতিথি হয়ে যাবার সুযোগের কথা এখানে বলা হয়েছে। 

→ সুকুমারের কাছে যখন বাংলাদেশের প্রান্তীয় কলেজে অতিথি হয়ে যাবার নিমন্ত্রণ এল তখন সেই সুযোগ তিনি ছাড়তে পারেননি। কারণ এইসব জায়গায় যাওয়ার সুবাদেই মেলে সম্মান-শ্রদ্ধা এবং রাজোচিত সংবর্ধনা। আতিথেয়তার উচ্ছ্বাস ও নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করে বক্তৃতা দেবার লোভেই সুকুমার ওই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি।



‘সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।'—কে বক্তৃতা করেছিলেন? তাঁর বক্তৃতার বিষয় কী ছিল? 

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্প থেকে গৃহীত অংশে বাংলাদেশের প্রান্তীয় অঞ্চলের একটি কলেজের বার্ষিক উৎসবে গল্পকথক অধ্যাপক সুকুমার বক্তৃতা করেছিলেন। 

→ সুকুমারের বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ থেকে বারোটা উদ্ধৃতি এবং বার্নার্ড শ'র নামে চালিয়ে দেওয়া একটি ইংরেজি কোটেশন ছিল। এ ছাড়া জ্বালাময়ী বক্তৃতার শেষে ছিল দেশের তরুণ ছাত্রদের মানসিকভাবে জাগ্রত করবার আহ্বান। 



‘এটাকেই এদিক ওদিক করে চালিয়ে দিই—বক্তার এমন কথা বলার কারণ কী ছিল? 

উত্তর: মফস্সলের কলেজে গিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মধ্যমেধার সুকুমার রবীন্দ্রনাথ থেকে বারোটি এবং কার একটা ইংরেজি কোটেশন বার্নার্ড শ'র নামে চালিয়ে দিয়েও শেষে তরুণদের জাগ্রত হতে বলে সকলের মন জয় করে নেন। তা শুনে বৃদ্ধ প্রিন্সিপালও আবেগ-বিহ্বল হয়ে পড়েন। আসলে গল্পকথক রবীন্দ্র জন্মোৎসব থেকে বনমহোৎসব যে-কোনো উপলক্ষ্যে একটা বক্তৃতাই এদিক-ওদিক করে চালিয়ে দিতেন। এক্ষেত্রে কথকের স্বগতোক্তির মধ্যে আত্মসমালোচনার সুরটি স্পষ্ট। 



'বাইরে মাঠে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।' — কার কথা বলা হয়েছে? তিনি বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কেন?

উত্তর: এখানে সুকুমারের ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে।  

→ ছেলেবেলার সমগ্র স্কুলের বিভীষিকা অঙ্কের মাস্টারমশাই, বর্তমানে অবসর গ্রহণের পর বাংলাদেশের একটি প্রান্তীয় অঞ্চলে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। ঘটনাচক্রে সেখানকার একটি কলেজেই তাঁর ছাত্র, বর্তমানে বাংলার অধ্যাপক ও লেখক সুকুমার বক্তৃতা দেবার জন্য এসেছিলেন। তাই সুকুমারের বক্তৃতা শুনে মাস্টারমশাই তাঁর সাক্ষাতের প্রত্যাশায়, কলেজের বাইরের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 


‘একটা ভয়ের মৃদু শিহরন আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল। কার কথা বলা হয়েছে? তাঁর এমন অনুভবের কারণ কী?  

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাম’ গল্প থেকে উদ্ধৃত উক্তিটিতে গল্পকথক সুকুমারের কথা বলা হয়েছে।

→ ছেলেবেলার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই সম্পর্কে আতঙ্ক। গল্পকথক সুকুমারের মনের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে রয়ে গেছে। পরিণত বয়সে পৌঁছে কথক কলেজের অধ্যাপক হয়েছেন, তবুও অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সেই কণ্ঠস্বর ভুলে যাননি। তাই এতদিন পরে। মাস্টারমশাইয়ের গলায় নিজের নাম শুনে তার বুকের ভেতর। দিয়ে ভয়ের একটা মৃদু শিহরন বয়ে গেল।



‘ওই ডাক শুনে ছেলেবেলায় বহুদিন আমার গায়ের রক্ত হিম হয়ে এসেছে বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?  

অথবা, 

'সেই ভয়টার কঙ্কাল লুকিয়ে ছিল মনের চোরাকুঠুরিতে'—উদ্ধৃতাংশের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো। 

অথবা, 

‘ওই স্বর বিদ্যুতের আলোর মতো তাকে উদ্ভাসিত করে তুলেছে।' — এখানে বক্তার কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? 

উত্তর: 'দাম' গল্পের কথক সুকুমার ছাত্রজীবনে অঙ্কে দুর্বল ছিলেন। তাই অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের শাসন-পীড়নের বিভীষিকা তাঁর মনের গভীরে লুকিয়েছিল। কঠোর ধাতের অঙ্কে নিবেদিত প্রাণ মাস্টারমশাইয়ের প্রতিচ্ছবি এত বছরের সময়ের ঘাত-প্রতিঘাতেও মুছে যায়নি। তাই দীর্ঘদিন পর আচমকা মাস্টারমশাইয়ের গলার আওয়াজ যা শুনলে ছেলেবেলায় গায়ের রক্ত হিম হয়ে যেত, তা আবার মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভয়টাকে জাগিয়ে তুলেছিল। উদ্ধৃতাংশে বক্তার এই মনোভাবটিই প্রকাশিত হয়েছে। 



‘কিন্তু আমি খুশি হতে পারলুম না।' উক্তিটির বক্তা কে? তিনি কেন খুশি হতে পারেননি? 

উত্তর: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার। 

→ পত্রিকার ফরমাশ অনুযায়ী ছোটোবেলার মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখায় গল্পকথক সুকুমার তাঁর শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা। করেছিলেন। আজ বহুবছর পরে সেই মাস্টারমশাই যখন স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার গুণে তার সেই কাজকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাঁর অন্তঃসারশূন্য বক্তৃতার প্রশংসা করছেন, তখন প্রচণ্ড লজ্জা ও আত্মগ্লানিই নেমে এসেছিল সুকুমারের মনে। তাই তিনি খুশি হতে পারেননি।