Class 9 Bengali Chapter 5 (নব নব সৃষ্টি) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

‘প্রাচীন যুগের সব ভাষাই তাই।'—এক্ষেত্রে লেখক ‘তাই’ শব্দটি ব্যবহারের সাহায্যে কী বোঝাতে চেয়েছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি’ রচনাংশের অংশবিশেষ। একটি ভাষাকে আমরা তখনই উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করি যখন দেখি তার শব্দভাণ্ডার উন্নত। এই উন্নতির যাত্রা যদি হয় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রাচীন শব্দ ও নতুন শব্দ সৃষ্টির অসামান্য ক্ষমতাবলে, তাহলে তো কথাই নেই। সংস্কৃত ভাষা এরূপ একটি সমৃদ্ধ প্রাচীন ভাষা। প্রাচীন হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা, আরবিও সংস্কৃতের অনুরূপ সমৃদ্ধ বোঝাতে লেখক ‘তাই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 



‘পৃথিবীতে কোনো জিনিসই সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়।'—বক্তা কোন্ প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করেছেন? 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি' নামক রচনাংশ থেকে গৃহীত। যে-কোনো ভাষার শব্দভাণ্ডার অন্য ভাষা থেকে গ্রহণ করা আগন্তুক বা কৃত ঋণ শব্দ দ্বারা সমৃদ্ধ হয়। হিন্দি সাহিত্য এই তকমাটি ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। তাই তারা হিন্দি থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দকে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টাটা শুরু করেছে লেখক হিন্দি সাহিত্যিকদের এই প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের প্রতি অনুপ্রেরণাসূচক এই উক্তিটি করেছেন। 



'আমার তরুণ পাঠকেরা নিশ্চয়ই দেখে যাবেন'।—বক্তা কোন প্রসঙ্গে কী দেখে যাবার কথা বলেছেন? 

উত্তর: ভাষাকে কোনোদিন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখা যায় না। তবে হিন্দি সাহিত্যিকরা একটা চেষ্টা শুরু করেছেন। হিন্দিকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজির প্রভাব মুক্ত করার। সেই প্রচেষ্টা সম্ভব কিনা সে বিতর্কে না গিয়ে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন পৃথিবীতে কোনো জিনিস অসম্ভব নয় অন্তত চেষ্টাটা তো নয়ই। হিন্দির এই সাফল্য দেখে যাবার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য। 



‘বলা বাহুল্য,’— কী বলা বাহুল্য? 

উত্তর: হিন্দি সাহিত্যিকদের অন্য ভাষার প্রভাব মুক্ত করার প্রসঙ্গে লেখকের এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য। লেখক এও বলেছেন তিনি এই চেষ্টার ফল দেখতে না পেলেও তাঁর তরুণ পাঠকরা তা দেখবেন ও ফল ভালো হলে তারা তা ত্বরান্বিত করবেন। এরই পাশাপাশি তার মন্তব্য রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর স্বচ্ছন্দেই | বাংলায় অন্য ভাষার ব্যবহার করেছেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তো আরবি-ফারসির বিরুদ্ধাচারীদের ‘আহাম্মুখ’ মনে করতেন। আর হিন্দির বঙ্কিম প্রেমচন্দ্র তো অনায়াসে হিন্দিতে আরবি-ফারসির ব্যবহার করতেন। 



‘এস্থলে আর একটি কথা বলে রাখা ভালো'।—বক্তা কোন্ স্থলে কী কথা বলে রাখা ভালো বলেছেন? 

উত্তর: বক্তা মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধাংশে হিন্দি ভাষার অন্য ভাষাকে বর্জনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এমনকি হিন্দি সাহিত্যের প্রেমচন্দ্র যেভাবে নিজ নিজ সাহিত্যে অন্য ভাষার ব্যবহার করেছেন, সে প্রসঙ্গের রেশ টেনেছেন। তাঁর মতে, রচনার ভাষা সর্বদা বিষয়বস্তুর উপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, শংকর দর্শন, মোগলাই রেস্তোরাঁ, বসুমতীর সম্পাদকীয় ও বাঁকা চোখের ভাষা কখনোই একরকম হবে না। 



স্কুল থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে না দেবার কারণ প্রসঙ্গে বক্তা কী বলেছেন? 

উত্তর: সংস্কৃত ভাষা অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধশালী। নতুন শব্দ তৈরির ব্যাপারে অসামান্য দক্ষতা আছে এই ভাষার। প্রাচীনকাল থেকে এদেশে সংস্কৃত চর্চা ছিল বলে বহু সংস্কৃত শব্দ বাংলায় ঢুকেছে, ঢুকছে এবং আগামীতে যতদিন এ ভাষা থাকবে ততদিন ঢুকবে। স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে না দেবার কারণ বাংলায় এখনও আমাদের প্রচুর সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন। সংস্কৃত চর্চা উঠে যাওয়ার অর্থ বাংলা তার প্রধান খাদ্য থেকে বঞ্চিত হবে।  



ইংরেজির বেলাতেও তাই’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? 

উত্তর: লেখক মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ বাংলায় এখনও সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন আছে। এই অনুষঙ্গ ধরে বলতে চেয়েছেন যে দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা ইত্যাদি সম্বন্ধে সম্যক ধারণার ক্ষেত্রে, রেলইঞ্জিন চালনা এবং নানান টেকনিক্যাল ক্ষেত্রে কত যে শব্দের প্রয়োজন তা ধারণাতীত। এইসব শব্দের সেই অর্থে এখন বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া কঠিন, তাই ইংরেজি চর্চা বন্ধের সময় আসেনি।