Class 9 Bengali Chapter 6 (হিমালয় দর্শন) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

‘পথের দুই ধারে মনোরম দৃশ্য'।—কোন্ পথের কথা বলা হয়েছে? মনোরম দৃশ্যের বর্ণনা দাও।

উত্তর: ‘হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া শিলিগুড়ি থেকে যে পথে কারসিয়ং যাচ্ছিলেন সেই পথের কথা বলা হয়েছে। 
→ লেখিকা যখন খেলনার মতো ছোট্ট ট্রেনে করে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে ধীরে ধীরে উঁচুতে উঠছিলেন তখন পথের দুধারে কোথাও অতি উচ্চ চূড়া, কোথাও নিবিড় অরণ্য দেখেছিলেন। উপর থেকে নীচের উপত্যকায় কুয়াশা দেখে নদী বলে মনে হচ্ছিল। সবুজ চা-বাগান আর ঝরনা পথের সৌন্দর্যকে আরও মনোরম করে তুলেছিল। 



হরিদ্বর্ণ চায়ের ক্ষেত্রগুলি কীভাবে প্রাকৃতিক শোভাকে আরও শতগুণ বৃদ্ধি করেছিল?

উত্তর: লেখিকা রোকেয়া শিলিগুড়ি থেকে ছোট্ট খেলনার মতো রেলগাড়িতে চেপে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে ধীরে ধীরে কারসিয়ং-এর দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি পথের দুধারে নানান মনোহর দৃশ্য দেখেছিলেন। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল সবুজ চায়ের বাগানগুলি। পাহাড়ের গায়ে বিস্তীর্ণ চা-বাগানের মাঝখান দিয়ে মানুষের চলার পথগুলি দেখে মনে হচ্ছিল নিবিড় শ্যামল বন যেন বসুমতীর কেশপাশ আর পথগুলি যেন আঁকাবাঁকা সিঁথি।

'যে কারণেই ট্রেন থামুক—আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল।' - ট্রেন থামার প্রকৃত কারণ কী ছিল? লেখিকাদের মনোরথ কীভাবে পূর্ণ হয়েছিল?

উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং যাত্রাকালে ছোট্ট খেলনার মতো রেলগাড়িটি জল পরিবর্তনের জন্য ঝরনার সামনে দাঁড়িয়েছিল। ● রেলপথে কারসিয়ং যাত্রাকালে অনেকগুলো জলপ্রপাত লেখিকার চোখে পড়েছিল, কিন্তু কাছ থেকে প্রাণ ভরে দেখতে না পাওয়ায় তাঁর ঝরনা দেখার সাধ আরও বেড়েই গিয়েছিল। একবার এক বড়ো ঝরনার কাছে জল নেওয়ার তাগিদে যখন ট্রেন থামল তখন লেখকের মনের অপূর্ণ সাধ পূর্ণ হয়েছিল।

‘সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।' — প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্ধৃত অংশটি বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন' নামক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। লেখিকারা হিমালয় দর্শনের উদ্দেশ্যে শিলিগুড়ি থেকে ছোট্ট ট্রেনে করে যখন সমুদ্র থেকে তিন হাজার ফুট উঁচু দিয়ে যাচ্ছিলেন তখনও তাদের শীত করছিল না। অবশেষে তারা যখন প্রায় চার হাজার ফুট উপরে উঠলেন তখন তাদের শীতটা অনুভূত না হলেও গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত করা যে জ্বালা তা ছিল না। এ কথা বোঝাতেই লেখিকা উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।


‘কেবল আশ্রয় পাইলে সুখে গৃহে থাকা হয় না, আবশ্যকীয় আসবাব সরঞ্জামও চাই।' - প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ নামক প্রবন্ধের অংশবিশেষ। হিমালয় দর্শনের উদ্দেশ্যে লেখিকারা যখন শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে, কারসিয়ং-এ পৌঁছালেন তখন তাঁরা বিধ্বস্ত ও ক্লান্ত। তাই বিশ্রামের জন্য তাঁরা কাছেই তাঁদের বাসাতে গিয়ে উঠলেন। কিন্তু তাঁদের জিনিসপত্র ভরা কয়েকটি ট্রাংক দার্জিলিং-এর ঠিকানায় বুক্‌ড করায় সেখানে চলে গিয়েছিল। তাই লেখিকা আশ্রয় পেয়েও আবশ্যকীয় সরঞ্জামের অভাবে ঘরের যে সুখ তা থেকে বঞ্চিত হলেন। সেকথা বোঝাতেই তিনি মন্তব্যটি করেছেন।


‘আমি কোনো কাজ করিতে পারি না।–লেখিকার এমন বক্তব্যের কারণ আলোচনা করো।

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন' নামক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। লেখিকা যখন কারসিয়ং-এ গিয়ে পৌঁছেছিলেন তখন পাহাড়ে বসন্তকাল। বাতাস পরিষ্কার ও হালকা। আকাশে বাতাস ও মেঘের লুকোচুরি। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্য যেন পাহাড়ের গায়ে তরল সোনা ঢেলে দিয়েছে। আর খণ্ড খণ্ড মেঘগুলি যেন তাদের সোনা রং মেখে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। দেখে আত্মহারা লেখিকা কোনো কাজ করতে পারছিলেন না।


‘মনে পড়ে একবার ‘মহিলায়’ ঢেঁকির শাকের কথা পাঠ করিয়াছি।'— 'মহিলা' কী? ঢেঁকির শাক সম্পর্কে যা জান লেখো।

উত্তর: ‘মহিলা’ একটি মাসিক পত্রিকা, যেটির সম্পাদক ছিলেন গিরিশচন্দ্র সেন ও ব্রজগোপাল নিয়োগী। উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের প্রথমদিকে এটি মহিলাদের সার্বিক উন্নতিবিধানের জন্য প্রকাশিত হত।
→ লেখিকার ধারণা ছিল ঢেঁকি শাক গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। তিনি ভূ-তত্ত্ব গ্রন্থে পাঠ করেছিলেন যে কারবনিফেরাস যুগে বড়ো বড়ো ঢেঁকি গাছ ছিল। কিন্তু এখন সেই গাছ স্বচক্ষে দেখে লেখিকার ভারী আনন্দ হল। এই গাছ আসলে ঘাস জাতীয় যার উচ্চতা হবে ২০-২৫ ফিট। 


কারসিয়ং-এর আবহাওয়া ও এখানকার জল কেমন ছিল?

উত্তর: লেখিকারা যখন কারসিয়ং-এ পৌঁছালেন তখন সেখানে শীত-গ্রীষ্ম উভয়েরই, প্রকোপ সময়টাকে পার্বত্য বসন্ত কাল বলা যেতে পারে। সূর্যকিরণের প্রখরতা বেশ অনুভূত হয়। এবং বাতাসও বেশ স্বাস্থ্যকর। তবে এখানকার জল খুব একটা ভালো নয়। জলের উৎস বলতে একমাত্র ঝরনার জল, যা লেখিকার ফিলটারে ছেঁকে ব্যবহার করতেন। এখানে ঝরনার জল দর্শনে চোখ জুড়িয়ে যায়, স্পর্শে জুড়ায় হাত।


‘এদেশের স্ত্রী লোকেরা জোঁক দেখিলে ভয় পায় না।'—এদেশের বলতে কোন দেশকে বোঝানো হয়েছে? সেখানকার মেয়েদের কী বলা হত? জোঁক সম্পর্কে তাদের কী মতামত।

উত্তর: এদেশ বলতে লেখিকা বেগম রোকেয়া বুঝিয়েছেন মূলত কারসিয়ং ও ভুটান সংলগ্ন এলাকাকে। → এখানকার মেয়েদের অর্থাৎ ভুটিয়ানিদের বলা হয় ‘পাহাড়নি'। অবশ্য এ পরিচয় তারা নিজেরাই দিত। → ভুটিয়ানিরা নানান প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠায় তাদের কাছে জোঁকের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীটি এতটুকু ভীতিপ্রদ ছিল না। তাই ভুটিয়া চাকরানি ভালুর সহজ স্বীকারোক্তি, “জোঁক কি ক্ষতি করে? রক্ত শোষণ শেষ হইলেই আপনিই চলিয়া যায়”।


ভুটিয়ানিদের বেশভূষা-স্বভাব কেমন ছিল?

উত্তর: ভুটিয়ানি মহিলারা ছিল অত্যন্ত সহনশীল ও কর্মঠ। তারা নিজেদের ‘পাহাড়নি' বলে পরিচয় দিত। তারা সাত গজ লম্বা কাপড়কে ঘাঘরার মতো করে পরত এবং কোমরে জড়াত এক খণ্ড কাপড়। গায়ে থাকত জ্যাকেট ও মাথা থাকত বিলাতি শাল দিয়ে ঢাকা। এরা স্বভাবত শ্রমশীল, কার্যপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদী। যদিও লেখিকার মতে এরা আমাদের অর্থাৎ ‘নীচেকা আদমি'-দের সংস্রবে এসে বাজারের পয়সা চুরি, দুধে জল মেশানোর মতো ছোটোখাটো অসদাচরণগুলো শিখছে।


‘যে পথ দেখিয়াই আমাদের সাহস ‘গায়েব হয়'—'গায়েব' শব্দটির অর্থ কী? লেখিকার সাহস গায়েব হয়ে যাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: উদ্ধৃত ‘গায়েব’ শব্দটির অর্থ যা অদৃশ্য বা লুপ্ত হয়েছে। → লেখিকা পার্বত্য মহিলাদের কর্মক্ষমতার সাথে নিজেদের কর্মক্ষমতার তুলনা প্রসঙ্গে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কারসিয়ং সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার মহিলাদের পাহাড়ের প্রস্তরসংকুল অসমতল পথ বেয়ে পিঠে দুই মণ বোঝা নিয়ে অবলীলাক্রমে উঠতে-নামতে দেখে লেখিকা অবাক হন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন যে পথে সাধারণভাবে চলতে সাহস কুলোয় না সেখানে এভাবে পিঠে বোঝা নিয়ে ওঠা সত্যিই আশ্চর্যের।


ভুটিয়ানিরা নিজেদের কী বলে পরিচয় দিতেন? সমতলের মানুষরাই বা তাদের কাছে কী নামে পরিচিত ছিল? তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: ভুটিয়ানিরা নিজেদের ‘পাহাড়নি' বলে পরিচয় দিতেন। → সমতলের মানুষদের এই ভুটিয়ানিরা অর্থাৎ ‘পাহাড়নি’রা ‘নীচেকা আদমি’ বলে ভাবেন। তাদের চোখে আমরা অসভ্য। → ভুটিয়ানি অর্থাৎ পাহাড়নিরা শ্রমশীল, কার্যপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদী। কিন্তু লেখিকার মতে এরা ‘নীচেকা আদমি'র সংস্পর্শে এসে তাদের সদ্‌গুণগুলি হারাচ্ছে।


'এখানে সবলেরা বালক বালিকার দলভুক্ত বলিয়া বোধ হয়।'—‘সবলেরা’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন? তাদের এমন বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্ধৃতিটি বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। এক্ষেত্রে লেখিকা ‘সবলেরা' বলতে পাহাড়ি পুরুষদের বুঝিয়েছেন। → ভুটিয়ানিরা পুরুষদের মুখাপেক্ষী বা প্রত্যাশী নয়। তারাও সমভাবে উপার্জন করে। পার্বত্য অসমতল পথে মেয়েরা যেভাবে কাজ করে তা অবিশ্বাস্য। রাস্তা তৈরির জন্য যে পাথর লাগে তার অধিকাংশটা এই ভুটিয়ানিরাই অর্থাৎ অবলারাই বহন করে। আর সেগুলোকে পথে বিছানোর কাজে বালক-বালিকাদের সাথে সমাজের তথাকথিত সবলরা অর্থাৎ পুরুষরা যোগ দেন। এই জন্যই লেখিকা ব্যঙ্গ করে পার্বত্য পুরুষদের প্রতি এমন উক্তি করেছেন।