‘খেয়া’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
রবীন্দ্রনাথের কোন্ কাব্যগ্রন্থে ‘খেয়া’ কবিতাটি সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের ‘চৈতালী' কাব্যগ্রন্থের ১৩ সংখ্যক কবিতা হল 'খেয়া'।
‘খেয়া’ কবিতাটিতে কয়টি গ্রামের কথা কবি বলেছেন?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতাটিতে দুটি গ্রামের কথা কবি বলেছেন।
খেয়া নৌকা কোথায় পারাপার করে?
উত্তর: খেয়া নৌকা নদীস্রোতে পারাপার করে।
খেয়া যাত্রীরা কোথায় পারাপার করে?
উত্তর: খেয়া নৌকার যাত্রীরা কেউ ঘর থেকে আসে, আবার কেউ ঘরে ফিরে যায়।
খেয়া নৌকার যাত্রীদের পারাপারের কারণ কী?
উত্তর: দুই গ্রামের মানুষদের মধ্যে জানাশোনা থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা খেয়া নৌকায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে আনাগোনা করে।
নদীর দুই তীরে কী আছে?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় নদীর দুই তীরে দুটি গ্রামের কথা বলা হয়েছে।
‘দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা' – এখানে ‘জানাশোনা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: দুই তীরস্থ দুটি গ্রামের মধ্যে গড়ে ওঠা স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলতে কবি ‘জানাশোনা’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন।
'সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা এই ‘আনাগোনা’ কী ফুটিয়ে তোলে?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় উল্লিখিত দুই গাঁয়ের মানুষের নানা প্রয়োজনে নিরন্তর আসা-যাওয়াকে বোঝাতে ‘আনাগোনা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
সকাল থেকে সন্ধে কারা আনাগোনা করে?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় দুটি গ্রামের গ্রামবাসীরা সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত আনাগোনা করে।
‘পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব, কত সর্বনাশ’—এই দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশের কারণ কী?
উত্তর: পৃথিবীর সমস্ত দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশের মূলে আছে ক্ষমতার লোভ ও স্বৈরাচারী বিকৃত মনোভাব।
কে ইতিহাস গড়ে?
উত্তর: পৃথিবীর নানা দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশ, রক্তপ্রবাহের ফেনিল স্রোতে নতুন নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়।
‘রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া ওঠে'— এখানে ‘ফেনাইয়া’ শব্দটি প্রয়োগের কারণ কী?
উত্তর: শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ের মধ্যে দিয়ে জন্ম নেয় নতুন শক্তি। কিন্তু তা বুদ্বুদের মতোই ক্ষণস্থায়ী। তাই কবি ‘ফেনাইয়া’ শব্দটির উল্লেখ করেছেন।
‘রক্তপ্রবাহের মাঝে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘রক্তপ্রবাহের মাঝে’ বলতে কবি হিংসা, বিদ্বেষ ও লোভের কারণে বিবদমান দুই সভ্যতার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে বুঝিয়েছেন।
‘সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে'! - এখানে ‘ফুটে আর টুটে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: রাষ্ট্রশক্তি বা রাজশক্তির জয়-পরাজয় কিংবা উত্থানপতনের ক্ষণস্থায়িত্বকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি ‘ফুটে আর টুটে’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন।
‘সোনার মুকুট’ কীসের প্রতীক বলে তুমি মনে করো?
উত্তর: ‘সোনার মুকুট’ রাজশক্তি বা রাষ্ট্রনায়কের শিরোস্ত্রাণ স্বরূপ ক্ষমতা, অহংকার ও পদমর্যাদার প্রতীক বলে আমাদের মনে হয়।
‘সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা'— বলার কারণ কী লেখো।
উত্তর: নব নব সভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশের ফলে নেওয়া নানান চাহিদা ও বাসনাকে প্রকাশ করতেই কবি এমন উপমার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।
'উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা' — এখানে কোন্ পৌরাণিক প্রসঙ্গের কথা উল্লিখিত হয়েছে?
উত্তর: পুরাণে বর্ণিত দেবাসুরের সমুদ্রমন্থনের ফলে প্রথমে বিষ এবং শেষে অমৃত ওঠার প্রসঙ্গটিই এখানে উল্লিখিত হয়েছে।
কোথা থেকে ‘হলাহল’ বা ‘সুধা'র জন্ম হয়?
উত্তর: সভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশের ফলে ‘হলাহল' বা ‘সুধা’র জন্ম হয়।
‘কেবা জানে নাম—কাদের নামের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় নদীর দুই তীরস্থ দুটি গ্রামের কথা এখানে বলা হয়েছে।
‘কেবা জানে নাম'—তাদের নাম অজানা থাকার অন্তর্নিহিত কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: বিশ্বব্যাপী সভ্যতার ধ্বংস ও সৃষ্টির মাঝে সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহের প্রতীক গ্রামদুটিকে নামে আবদ্ধ না করে। কবি গতিময় জীবনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
'দোঁহা-পানে চেয়ে আছে'—'দোহা' বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় ‘দোঁহা’ বলতে নদীর দু-পারের দুইখানি গ্রামের কথা বলা হয়েছে।
'দোঁহা-পানে চেয়ে'—বলার অর্থ কী?
উত্তর: বিশ্বব্যাপী নানা পরিবর্তনের মাঝেও আবহমানকাল থেকে নিবিড় মানসিকতার বন্ধনে আবদ্ধ এই দুই গ্রামের এই চেয়ে থাকা আসলে জীবন-মৃত্যু অতিক্রমকারী অন্তহীন জীবনদৃষ্টি।
'এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে' - এখানে ‘নদীস্রোত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: এখানে ‘নদীস্রোত’ বলতে কবি কালস্রোত বা সময়ের স্রোতকে বুঝিয়েছেন।
‘খেয়া চিরদিন চলে’ বলতে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘খেয়া চিরদিন চলে’ বলতে কবি রবীন্দ্রনাথ অনন্তকাল ধরে বয়ে চলা মানবজীবনপ্রবাহকে বুঝিয়েছেন।
ঘরে যাওয়া এবং আসার মধ্যে কবির কোন ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ঘরে যাওয়া-আসার মধ্যে দিয়ে কবি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের অনন্ত প্রবহমানতার কথা বুঝিয়েছেন।
'খেয়া' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ‘খেয়া’ বলতে জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী জীবনপ্রবাহকে বুঝিয়েছেন।
