Class 9 Geography Chapter 1 (গ্রহরূপে পৃথিবী) Topic 2 (পৃথিবীর আকৃতি) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 3 Questions And Answers

“চাঁদকে আমরা অনেক বড়ো দেখি।”—কারণ ব্যাখ্যা করো।

চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবীর তুলনায় চাঁদ অনেক ছোটো—প্রায় পঞ্চাশ ভাগের একভাগ মাত্র। কিন্তু চাঁদের থেকে পৃথিবীর দূরত্ব মাত্র 3 লক্ষ84 হাজার 400 কিলোমিটার। সেইজন্য চাঁদ আকারে ছোটো হলেও স্বল্প দূরত্বে অবস্থান করায় চাঁদকে পৃথিবী থেকে বড়ো দেখায়। অন্যদিকে অন্য গ্রহ বা উপগ্রহগুলি চাঁদ থেকে আকারে বড়ো হলেও বেশি দূরত্বের কারণে তাদের ছোটো দেখায়।



বামন গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

সাদৃশ্য

আয়তন: বামন গ্রহ ও উপগ্রহ উভয়ই আয়তনে ছোটো হয় 

আলো ও তাপ: উভয়েরই নিজস্ব আলো ও তাপ নেই।

বৈসাদৃশ্য

প্রদক্ষিণ: বামন গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে কিন্তু উপগ্রহ উৎস গ্রহকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে।

সংখ্যা: সৌরজগতে বামন গ্রহের সংখ্যা অপেক্ষা উপগ্রহের সংখ্যা বেশি।



সৌরজগতে পৃথিবীর স্বকীয় অবস্থান বলতে কী বোঝ? 

সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলির মধ্যে পৃথিবীর অবস্থান স্বকীয়। কারণ—

1) সৌরজগতের অন্তঃস্থ গ্রহগুলির মধ্যে পৃথিবীর আয়তন সর্বাধিক।

2) সূর্য থেকে পৃথিবী এমন দূরত্বে অবস্থিত যে এখানকার জলবায়ু প্রাণ সৃষ্টি এবং জীবনধারণের জন্য অনুকূল। পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা 15 “সেলসিয়াস। 

3) একমাত্র পৃথিবীতেই জলের অস্তিত্ব রয়েছে এবং এজন্য পৃথিবীকে 'নীলগ্রহ' বলে। 

4) পৃথিবীর মেরুরেখা তার কক্ষতলের সাথে 66½° কোশে হেলে অবস্থান করে। এর ফলে পৃথিবীতে মোটামুটিভাবে তাপমাত্রার সমতা বজায় থাকে। 

5) পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি রয়েছে। 

6) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এখানে প্রাণের বিকাশে সাহায্য করেছে।



মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায় ব্যাখ্যা করো।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে একটি উজ্জ্বল গোলকের মতো দেখার। পৃথিবীপৃষ্ঠে পাহাড়-পর্বত, সমভূমি, মালভূমি ইত্যাদি এবড়ো-খেবড়ো ভূমিরূপ থাকে। কিন্তু পৃথিবীর বিশাল আকৃতির জন্য মহাকাশ থেকে এসব কিছুই বোঝা যায় না এবং একে একটি পূর্ণ গোলক বলেই মনে হয়। তবে পৃথিবীতে জলভাগের আধিক্য (71%)-র কারণে একে নীলবর্ণের দেখায়। পৃথিবীর দুই মেরুপ্রদেশে বরফ জমে থাকায় নীলবর্ণের মধ্যে সাদা ছোপ দেখা যায় | আবার বনভূমির জন্য সবুজ ছোপ, মরুভূমি, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদির জন্য ধূসর বর্ণের ছোপ এতে লক্ষ করা যায় |



সৌরজগতের একটি গ্রহ হিসেবে পৃথিবীকে বিবেচনা করা হয় কেন?

সৌরজগতের একটি গ্রহ হিসেবে পৃথিবীকে বিবেচনা করার কারণগুরি হলো -

1. উৎপত্তি: সৌরজগতের নক্ষত্র সূর্য থেকেই পৃথিবীর উৎপত্তি ঘটেছে। 

2. পরিক্রমণ: সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের (যেমন—বুধ, শনি প্রভৃতি) মতো পৃথিবীও নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে।

3. আলো ও উত্তাপ : অন্যান্য গ্রহগুলির মতো পৃথিবীরও নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই।

4. অভিকর্ষজ বল: অন্যান্য গ্রহের মতো পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল রয়েছে।



সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব সারা বছর এক থাকে না কেন?

পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার। সূর্য এই উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটি নাভিতে অবস্থান করে। ফলে পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিপ করার সময় কখনও সূর্যের কাছে আসে, আবার কখনও দূরে সরে যায়। পরিক্রমণকালে 4 জুলাই পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যের দূরত্ব সর্বাধিক হয় (প্রায় 15 কোটি 20 লক্ষ কিমি) এবং 3 জানুয়ারি পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (প্রায় 14 কোটি 70 লক্ষ কিমি) | পৃথিবীর কক্ষপথটি । যদি গোলাকার হত এবং কেন্দ্রে সূর্য অবস্থান করত তাহলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সারাবছর একই থাকত।



পৃথিবীতেই কেন একমাত্র প্রাণের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়? অথবা, পৃথিবী মানুষের বসবাসযোগ্য হয়ে উঠেছে কেন?

বিভিন্ন অনুকূল কারণে সৌরজগতের গ্রহগুলির মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতে মানবজাতির অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় | যেমন—

1) সূর্যালোক ও উন্নতা: পৃথিবীতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও পরিমিত উন্নতা থাকায় তা মানুষের জীবনধারণের পক্ষে উপযুক্ত।

2) জ্বলের প্রাচুর্যতা: জল ছাড়া জীবনধারণ অসম্ভব। পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় 71% জলভাগ হওয়ায় প্রাণের বিকাশে তা সহায়ক হয়েছে। 

3) অক্সিজেন : পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে 20.94% (প্রায়) অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে, যা মানুষের শ্বসনক্রিয়ার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।



জীবমণ্ডলের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

পৃথিবীর শিলামণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও বারিমণ্ডলের যে অংশ জীবের জন্ম, বৃদ্ধি এবং বসবাসের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাকেই জীবমণ্ডল বলে | জল, সূর্যালোক, তাপমাত্রার সুষম বণ্টনের জন্য এখানে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে এবং বংশবৃদ্ধি ঘটেছে | সমুদ্রের তলদেশের 9 কিমি গভীরতা থেকে ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুমণ্ডলের 15 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত জীবমণ্ডলের অবস্থান দেখা যায় | জীবের সৃষ্টি থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত বহু বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে জীবমণ্ডলের বিকাশ ঘটে চলেছে। সৌর পরিবারের মধ্যে একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই এখনও পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।