কোন্ কোন্ গ্রহ ঘড়ির কাটার অভিমুখে আবর্তন করে?
শুরু এবং ইউরেনাস গ্রহ দুটি ঘড়ির কাটার অভিমুখে আবর্তন করে।
কোন্ গ্রহের আবর্তনকাল পরিক্রমণকাল অপেক্ষা বেশি?
শুক্র গ্রহের আবর্তনকাল 243 দিন কিন্তু পরিক্রমণকাল 225 দিন হওয়ায় এই গ্রহের আবর্তনকাল পরিক্রমণকাল অপেক্ষা বেশি।
পৃথিবীর আবর্তন গতি কী?
সূর্যকে সামনে রেখে পৃথিবী তার অক্ষের ওপর, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম ঘুরে চলেছে | পৃথিবীর এই গতিকে আবর্তন গতি বলে। পৃথিবীর একপাক পূর্ণ আবর্তনে 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড সময় লাগে।
সৌরদিন কী ?
কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় পরপর দুটি মধ্যাহ্নের (স্থানীয় সময় বেলা 12টা) সময়ের ব্যবধান হল সৌরদিন (solar day)। পৃথিবীর একটি সৌরদিনের সময়কাল 24 ঘণ্টা।
নাক্ষত্রদিন কী?
মহাকাশে সূর্য ছাড়া দূরের কোনো নক্ষত্রকে স্থির বিন্দু হিসেবে ধরে নিজ অক্ষে একপাক খেতে পৃথিবীর যে সময় লাগে, সেই সময়কে নাক্ষত্রদিন বলে | পৃথিবীর একটি নাক্ষত্রদিনের সময় 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড।
পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ কোথায় সবচেয়ে বেশি ও কোথায় সবচেয়ে কম?
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হয় (ঘণ্টায় প্রায় 1675 কিমি) | আবার দুই মেরুতে আবর্তনের গতিবেগ সবচেয়ে কম (0) হয়।
পৃথিবীর আবর্তন গতি না থাকলে কী হত?
পৃথিবীর আবর্তন গতি না থাকলে দিনরাত্রির সংঘটন হত না, সূর্যোদয় সূর্যাস্ত হত না। পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে থাকত, সেই অংশ সবসময় আলোকিত থাকত। ওই আলোকিত অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে সবকিছু পুড়ে যেত। অন্যদিকে সূর্যের বিপরীত দিকের অংশে আলোর অভাবে চিরস্থায়ী অল্পকার ও শীতলতা বিরাজ করত। তাপের অভাবে সেই স্থানে সর্বদা বরফ জমে থাকত। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে উত্তাপের এমন চরম অসামাঞ্জস্যতা থাকার ফলে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হত না।
পৃথিবী ঘুরছে কিন্তু আমরা ছিটকে পড়ি না কেন?
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রতিনিয়ত ঘুরছে। কিন্তু আমরা ও পৃথিবীর ওপর অবস্থিত অন্যান্য বস্তু বা প্রাণী পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়ি না। কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবী প্রতিটি বস্তুকেই তার নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলাফলগুলি উল্লেখ করো।
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে— 1) পর্যায়ক্রমে দিনরাত্রি হয়, 2) বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ ঘটে, 3) জোয়ারভাটার সৃষ্টি হয়, 4) পর্যায়ক্রমে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়. 5) পৃথিবীর অধিগত গোলাকার রূপ বজায় থাকে এবং 6) উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের অস্তিত্ব টিকে থাকে |
ছায়াবৃত্ত কী?
অভিগত গোলাকার পৃথিবীর যে অর্ধাংশ সূর্যের সামনে থাকে সেই অংশ আলোকিত হয় ও বিপরীত অর্ধাংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। এই আলোকিত অর্ধাংশ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্ধাংশ যে কাল্পনিক বৃত্তাকার সীমারেখায় মিলিত হয় তাকে ছায়াবৃত্ত বলে।
উষা কী?
সূর্যোদয়ের ঠিক আগে, পৃথিবীর অন্ধকার অংশ ছায়াবৃত্ত পেরিয়ে আলোকিত অংশে প্রবেশ করতে শুরু করে। এই সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে পূর্বদিকের আকাশে ক্ষীপ আলোর সৃষ্টি হয় | এই সময়টি হল ঊষা।
গোধূলি কী?
সূর্যাস্তের ঠিক পরে, পৃথিবীর আলোকিত অংশ ছায়াবৃত্ত পেরিয়ে অন্ধকার অংশে প্রবেশ করতে শুরু করে। এই সময় সূর্যের আলো ধূলিকণা দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে পশ্চিম আকাশে ক্ষীণ আলোর সৃষ্টি হয়। এই সময়টি হল গোধূলি।
প্রভাত ও সন্ধ্যা কখন হয়?
আবর্তনের সময় পৃথিবীর যেসব স্থান ছায়াবৃত্ত পেরিয়ে অন্ধকার থেকে আলোকিত অংশে আসে, সেখানে প্রভাত হয়। অন্যদিকে আলোকিত অর্ধাংশ যখন ছায়াবৃত্ত পেরিয়ে ঘন অন্ধকার অংশে আসে, তখন সেই সকল স্থানে সন্ধ্যা হয়।
ফেরেলের সূত্র কী?
মার্কিন আবহাওয়া বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেল 1856 সালে বলেন যে, পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য উৎপন্ন কেন্দ্রবহির্মুখী বলের কারণে সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহ্ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। দিকবিক্ষেপ-সংক্রান্ত এই সূত্রটি ‘ফেরেলের সূত্র’ নামে পরিচিত।
কোরিঙলিস বল কী?
1835 সালে ফরাসি গণিতজ্ঞ গ্যাসপার্ড ডি. কোরিওলিস প্রমাণ করেন, পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য একটি কেন্দ্রবহির্মুখী বলের সৃষ্টি হয়। এই বলটিই গ্যাসপার্ড ডি কোরিওলিস-এর নাম অনুসারে কোরিওলিস বল নামে পরিচিত।
পৃথিবীর কোন্ অংশে কোরিওলিস বলের প্রভাব সর্বপেক্ষা কম ও কোথায় সর্বাপেক্ষা বেশি?
নিরক্ষরেখার কোরিওলিস বলের প্রভাব সবচেয়ে কম (শূন্য) এবং নিরক্ষরেখা মেরুর দিকে ক্রমশ বাড়তে থাকে ও মেরুতে তা সর্বাধিক হয়।
