Class 9 Geography Chapter 3 (পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 3 Questions And Answers

পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা কতখানি?

পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলি হল – 1) পৃথিবীতে কোনো মহাদেশ, দেশ, রাজ্য, জেলা, শহর, বন্দর, পর্বত, শিল্পকেন্দ্র, মালভূমি ইত্যাদি ঠিক কোথায় অবস্থিত তা জানার জন্য অবস্থান নির্ণয় করা অত্যন্ত প্রয়োজন। 2) বিভিন্ন বিপর্যয় ঘটলে গ্রান ও উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্যও অবস্থান নির্ণয় জরুরি। 3) নৌ-পরিবহণের জন্য অবস্থান জানা প্রয়োজন | 4) কোনো স্থান থেকে সম্পদ সংগ্রহ করতে হলেও তার অবস্থান অবশ্যই জানতে হবে। 5) সামরিক বা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের অবস্থান জানা, ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য নিঁখুত অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজন হয় |



নিরক্ষরেখাকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা নির্বাচনের কারণ কী কী হতে পারে?

নিরক্ষরেখাকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা হিসেবে নির্বাচনের প্রধান কারণগুলি হল—

গোলাধঁ নিরূপণ: নিরক্ষরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝবরাবর পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত থাকায় এর সাহায্যে পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই গোলার্ধে ভাগ করা হয়।

অক্ষাংশ নিরূপণ: এই রেখার সাপেক্ষে পৃথিবীর কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব বা অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়| 

অক্ষরেখা অঙ্কন: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে অন্যান্য সকল অক্ষরেখা অঙ্কন করা হয় |

উয়ুমণ্ডল সৃষ্টি: নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী অংশে সারাবছরই মোটামুটি লম্বভাবে সূর্যালোক পড়ে বলে এখানে উষ্মমণ্ডল সৃষ্টি করেছে।

দিনরাতের দৈর্ঘ্যের সমতা: নিরক্ষরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে অবস্থান করায় এই রেখায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সারাবছরই প্রায় 12 ঘণ্টা করে হয়।



নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত বলা হয়—কারণ ব্যাখ্যা করো।

গোলকের পৃষ্ঠদেশে অঙ্কিত বৃত্তের কেন্দ্র এবং গোলকের কেন্দ্র যখন একই বিন্দুতে অবস্থান করে, তখন তাকে মহাবৃত্ত (Great Circle) বলা হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠে অঙ্কিত কাল্পনিক অক্ষরেখাগুলির মধ্যে নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত বলা হয় | কারণ– 1) নিরক্ষরেখা হল অক্ষরেখাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়ো বৃত্ত | এর চেয়ে বড়ো কোনো বৃত্ত ভূগোলক (গ্লোব)-এ আঁকা সম্ভব হয় না। 2) পৃথিবীর কেন্দ্র ও নিরক্ষরেখার কেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থান করে থাকে। 3) মহাবৃত্ত বরাবর কোনো গোলককে ছেদ করলে দুটি সমান অংশ পাওয়া যায়।



অক্ষরেখা কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

ভূপৃষ্ঠকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে থাকা সম-অক্ষাংশযুক্ত কাল্পনিক পূর্ণ বৃত্তাকার রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে । ভূপৃষ্ঠের ওপর একই অক্ষাংশে অবস্থিত স্থানগুলিকে যোগ করে অক্ষরেখা আঁকা হয়।

বৈশিষ্ট্য: 1) দুই মেরুবিন্দু ছাড়া বাকি সব অক্ষরেখাগুলি প্রত্যেকটি পূর্ণবৃত্ত এবং পরস্পর সমান্তরাল। 2) অক্ষাংশের মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অক্ষরেখার পরিধি কমে যায়। 3) উভয় মেরুতে অক্ষরেখা বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 4) কোনো নির্দিষ্ট অক্ষরেখা বরাবর ভূপৃষ্ঠের প্রতিটি স্থানের অক্ষাংশ সমান | 5) অক্ষরেখার পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়| তাই ভিন্ন অক্ষাংশবিশিষ্ট স্থানগুলির জলবায়ুও ভিন্ন হয়। 6) একই অক্ষরেখায় অবস্থিত ভিন্ন স্থানের স্থানীয় সময়ও ভিন্ন হয়ে থাকে।



দ্রাঘিমা ও দ্রাঘিমারেখা



নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবী প্রদক্ষিণ করলে একজন পর্যটকের সময়ের পরিবর্তন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা হয় এবং নিরক্ষরেখা থেকে একটি দ্রাঘিমারেখা বরাবর মেরু অঞ্চল পর্যন্ত গেলে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা যায়-সংক্ষেপে কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সূর্যকে সামনে রেখে পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে এবং একবার সম্পূর্ণ আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় 24 ঘণ্টা বা 1 দিন| একজন পর্যবেক্ষক নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করলে, তাকে দ্রাঘিমারেখাগুলি অতিক্রম করতে হয় এবং আবর্তনের জন্য প্রতি 1° দ্রাঘিমার ব্যবধানে সময়ের ব্যবধান হয় 4 মিনিট। তাই নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবী প্রদক্ষিণ করলে ওই পর্যটকের সময়ের পরিবর্তন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা হয়।
অন্যদিকে, নিরক্ষরেখা থেকে দুই মেরুর দিকে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফলের তীব্রতা ক্রমশ কমে যায় বলে জলবায়ুও ক্রমশ শীতল হতে থাকে। তাই নিরক্ষরেখা থেকে একটি দ্রাঘিমারেখা বরাবর মেরু অঞ্চল পর্যন্ত গেলে জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।




কোনো স্থানের দ্রাঘিমা কীভাবে নির্ণয় করা যায়?

উত্তর: কোনো স্থানের দ্রাঘিমা দু-রকমভাবে নির্ণয় করা যায়। যথা—
1) সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী: 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় 4 মিনিট । কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সঙ্গে 4 মিনিট সময় যোগ করলে, ওই স্থানের অবস্থান তার 1° পূর্বে এবং 4 মিনিট সময় বিয়োগ করলে, ওই স্থানের অবস্থান তার 1° পশ্চিমে হবে।
2) গ্রিনিচের সময়ের মাধ্যমে: গ্রিনিচের দ্রাঘিমা 0°। সুতরাং, গ্রিনিচের সময় এবং অন্য কোনো জায়গার স্থানীয় সময় জানা থাকলে সময়ের পার্থক্য থেকে ওই জায়গার দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। যেমন—ভারত ও গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য 5 ঘণ্টা 30 মিনিট, সুতরাং দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে 82°30' |


দ্রাঘিমার পরিবর্তনের সাথে স্থানীয় সময়ের পরিবর্তন হয় কেন?

উত্তর: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে 24 ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে। এই আবর্তন গতির জন্য প্রতিদিন প্রতিটি দ্রাঘিমারেখাই একবার সূর্যের সামনে আসে। সূর্যের আলো যখন যে দ্রাঘিমার ওপর লম্বভাবে পড়ে তখন সেখানে মধ্যাহ্ন হয়। এই সময় অনুসারে ওই দ্রাঘিমার স্থানীয় সময় নির্ণয় করা হয়| সুতরাং পৃথিবীর দ্রাঘিমারেখাগুলির ওপর সময় কী হবে তা পৃথিবীর আবর্তন এবং সূর্যরশ্মির পতনকোণের ওপর নির্ভর করে। তাই, এই দ্রাঘিমারেখা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সময়েরও পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।


দ্রাঘিমা ও সময় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত—কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দ্রাঘিমা ও সময় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত | কারণ—
1)  মধ্যাহ্ন ও স্থানীয় সময় নির্ধারণ: দ্রাঘিমার সাহায্যে যে-কোনো স্থানের মধ্যাহ্ন সময় নির্ণয় করা যায়। এই মধ্যাহ্নের সময় থেকে বাকি দিনের সময়ের হিসাব করা যায়। কারণ পৃথিবীর প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা 24 ঘণ্টায় একবার সূর্যের সামনে আসে।
2) প্রতি 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় 4 মিনিট: পৃথিবী সূর্যের সামনে একবার আবর্তন করতে সময় নেয় 24 ঘণ্টা। অর্থাৎ, পৃথিবী 1 ঘণ্টায় আবর্তন করে 360 24 = 15° বা 4 মিনিটে 1°।
3) পূর্ব ও পশ্চিম দিকের স্থানের দ্রাঘিমার সময় যথাক্রমে এগিয়ে ও পিছিয়ে থাকে: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলে পূর্বের স্থানগুলিতে আগে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। তাই পূর্বে অবস্থিত কোনো স্থানের সময় এগিয়ে এবং পশ্চিমে অবস্থিত স্থানের সময় পিছিয়ে থাকে।



মূলমধ্যরেখা ও আন্তর্জাতিক তারিখরেখার ব্যবহার লেখো।

1) মূলমধ্যরেখার ব্যাবহার: [i] মূলমধ্যরেখার পূর্বদিক পূর্ব গোলার্ধ এবং পশ্চিমদিক পশ্চিম গোলার্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়। [ii] এই রেখার স্থানীয় সময়কে পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে মানা হয়। [iii] পৃথিবীর কোনো স্থান মূলমধ্যরেখা থেকে কতটা পূর্বে বা পশ্চিমে জানার জন্য এই রেখা জরুরি। 
2) আন্তর্জাতিক তারিখরেখার ব্যবহার: [i] এটি বার ও তারিখ বিভাজন রেখা। [ii] এই রেখার পূর্বদিকের সঙ্গে পশ্চিমদিকের অংশে সময়ের প্রভেদ একদিনের হয়।



আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কীভাবে স্থির করা হয়? অথবা, তারিখবিভাজিকা বলতে কী বোঝ?

উত্তর: বার এবং তারিখ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় এর সমাধানে 180° দ্রাঘিমারেখার অনুসরণে আন্তর্জাতিক তারিখরেখাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 1884 খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি-তে অধ্যাপক ডেভিডসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক দ্রাঘিমা সম্মেলন-এ 180° দ্রাঘিমারেখার অনুসরণে ‘আন্তর্জাতিক তারিখরেখা'কে নির্দিষ্ট করা হয়| এই রেখার দু-পাশে সময়ের প্রভেদ 1 দিন বা 24 ঘণ্টা | আন্তর্জাতিক তারিখরেখা থেকে পশ্চিম গোলার্ধে গেলে 1 দিন কমিয়ে এবং পূর্ব গোলার্ধের দিকে গেলে 1 দিন বাড়িয়ে নিতে হয় | এই রেখা বার ও তারিখ বিভাজনে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে |



180° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কল্পনা করা হয়ে থাকে কেন? 

180° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কল্পনা করা হয়। কারণ—  1) 180° দ্রাঘিমারেখারেখা হল পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের বিভাজন রেখা । 2) রেখাটি বেশিরভাগ অংশই জলভাগের ওপর দিয়ে প্রসারিত হয়েছে।



প্রতিপাদ স্থানের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

 উত্তর: প্রতিপাদ স্থান হল ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত একটি স্থান। 1) অক্ষাংশগতভাবে কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশের মানের পরিবর্তন হয় না। তবে গোলার্ধের পরিবর্তন হয়। 2) দ্রাঘিমাগত দিক থেকে কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের পার্থক্য হয় 180° এবং পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে। 3) কোনো স্থান নিরক্ষরেখায় অবস্থিত হলে তার প্রতিপাদ স্থানও নিরক্ষরেখায় অবস্থিত হবে এবং 180° দ্রাঘিমার কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থান 0° দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে। এই দুইক্ষেত্রে যথাক্রমে অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমার পরিবর্তন হবে না।



দ্রাঘিমার ভিত্তিতে কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থান কীভাবে নির্ণয় করা যায়?

উত্তর: ভূগোলকের যে-কোনো ব্যাসের দুই প্রান্তের দুটি বিন্দুর একটিকে অন্যটির প্রতিপাদ স্থান বলে | সুতরাং, কোনো স্থানের দ্রাঘিমা জানা থাকলে তার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমাও বের করা সম্ভব। বিপরীত পৃষ্ঠে অবস্থিত হওয়ায় ওই স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে 180° | যেমন—কলকাতার দ্রাঘিমা 88°30´ পূর্ব। যেহেতু প্রতিপাদ স্থানের সঙ্গে দ্রাঘিমার পার্থক্য 180° হয়। সুতরাং কলকাতার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমা হবে 180°-88°30´ পূর্ব অর্থাৎ 91°30′ পশ্চিম।



কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য 12 ঘণ্টা হয় কেন?

কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য 12 ঘণ্টা হয়। 
কারণ—ভূগোলকের যে-কোনো বিন্দু থেকে কোনো কল্পিত ব্যাস ভূকেন্দ্র ভেদ করে ভূগোলকের বিপরীত দিকের যে বিন্দুতে স্পর্শ করে, সেই বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে | অর্থাৎ, প্রতিপাদ স্থান বিপরীত দ্রাঘিমায় অবস্থিত হয় | কোনো স্থান এবং প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় 180°। সুতরাং, অঙ্কের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায় যে— 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় = 4 মিনিট 180° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয়
= 180 × 4 মিনিট
= 720 মিনিট
=12 ঘণ্টা





মহাবৃত্ত বলতে কী বোঝ?

গোলকের পৃষ্ঠদেশে অঙ্কিত বৃত্তের কেন্দ্র এবং গোলকের কেন্দ্র যখন একই বিন্দুতে অবস্থান করে, তখন তাকে মহাবৃত্ত (Great Circle) বলে।

বৈশিষ্ট্য: [i] মহাবৃত্তের চেয়ে বড়ো কোনো বৃত্ত ভূগোলকে আঁকা যায় না। [ii] মহাবৃত্তের কেন্দ্র ও ভূগোলকের কেন্দ্র এক বিন্দুতে অবস্থান করে | [iii] দুটি বিপরীতমুখী দ্রাঘিমারেখা সম্মিলিতভাবে একটি মহাবৃত্ত গঠন করে। 
উদাহরণ : পৃথিবীর অক্ষরেখাগুলির মধ্যে নিরক্ষরেখা হল মহাবৃত্ত।



প্রতিপাদ স্থান বলতে কী বোঝ?

ভূগোলকের যে কোনো বিন্দু থেকে কোনো কল্পিত ব্যাস পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে ভূগোলকের বিপরীত দিকের যে বিন্দুতে স্পর্শ করে, সেই বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে।

বৈশিষ্ট্য: [i] কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হয় 12 ঘণ্টা | [ii] কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় 180° | [iii] অক্ষাংশের মান একই হলেও কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থান তার বিপরীত গোলার্ধে অবস্থিত হয়।
উদাহরণ : ওপরের চিত্রে, কলকাতার অক্ষাংশ 22°34´ উত্তর এবং দ্রাঘিমা 88°30′ পূর্ব। এক্ষেত্রে কলকাতার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ হবে 22°34' দক্ষিণ এবং দ্রাঘিমাংশ হবে (180° – 88°30') = 91°30^ পশ্চিম |