Class 9 Geography Chapter 4 (ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ) অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 2 Questions And Answers

ভূমিরূপ কী? ভূপৃষ্ঠের প্রধান ভূমিরূপগুলি কী কী?

ভূমিরূপ হল ভূমির গঠন ও ক্ষয়কারী শক্তির কার্যকারিতার বাহ্যিক অবস্থা বা জ্যামিতিক আকার | ভূপৃষ্ঠের প্রধান ভূমিরূপগুলি হল—পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি।



ভূ-অভ্যন্তরীণ বা অন্তৰ্জাত প্রক্রিয়া কী?

ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তির ফলে প্রাথমিক ভূমিরূপ গঠনের প্রক্রিয়া হল ভূ-অভ্যন্তরীণ বা অন্তর্জাত প্রক্রিয়া। যেমন—ভূ-অন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, পাতসঞ্চরণ প্রভৃতি। এই প্রক্রিয়াগুলি অতি ধীরে বা হঠাৎ করে ঘটে এবং ভূপৃষ্ঠে তার প্রভাব পড়ে।



ভূবহিস্থ বা বহির্জাত প্রক্রিয়া কী?

ভূপৃষ্ঠের ওপরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূমিরূপ গঠন ও বিবর্তনের পদ্ধতি হল ভূবহিস্থ বা বহির্জাত প্ৰক্ৰিয়া | যেমন—আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন প্রভৃতি | এই প্রক্রিয়াগুলি দীর্ঘসময় ধরে ক্রিয়াশীল হয়ে ভূপৃষ্ঠে নানা ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি করে।



ভূগাঠনিক আলোড়ন কী?

পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রাথমিক ভূমিরূপ সৃষ্টির জন্য দায়ী ভূ-অভ্যন্তরের ক্রিয়াশীল প্রক্রিয়া হল ভূগাঠনিক আলোড়ন | ভূ-আলোড়ন প্রধানত দুই প্রকার। যথা— মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়ন।



মহীভাবক আলোড়ন কী ?

ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে ক্রিয়াশীল ভূগাঠনিক আলোড়ন হল মহীভাবক আলোড়ন। এর প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে চ্যুতির সৃষ্টি হয় এবং ভূমিভাগের উত্থান বা অবনমন ঘটে।



গিরিজনি আলোড়ন কী?

ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিকভাবে ক্রিয়াশীল ভূগাঠনিক আলোড়ন হল গিরিজনি আলোড়ন। এর প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে ভাজের সৃষ্টি হয় এবং শিলাস্তরের বিকৃতি ঘটে।



সমস্খিতিগত আলোড়ন কী? 

ভূপৃষ্ঠের প্রধান ভূমিরূপগুলি (পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি) ভূমিভাগের ওপর নিজেদের মধ্যে এক বিশেষ ভারসাম্য বজায় রেখে অবস্থান করে। কোনো কারণে ওই ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে যে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হয়, তাকে সমস্থিতিগত আলোড়ন বলে।



ইউস্ট্যাটিক আলোড়ন ?  

সমগ্র পৃথিবীর জলভাগ অর্থাৎ সাগর মহাসাগরের জলধারণ ক্ষমতার হ্রাসবৃদ্ধির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ বা জলতলের উত্থানপতনের পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত ভূ-আলোড়নকে ইউস্ট্যাটিক আলোড়ন বলা হয়।



ভূগাঠনিক বিপর্যয় (Diastrophism) ?

ভূগাঠনিক বিপর্যয় বলতে ভূমিভাগের ওপরে উঠে আসা বা ভূমিভাগ বসে গিয়ে ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তনকে বোঝায়। এই বিপর্যয় ভূগাঠনিক আলোড়ন, সমস্থিতিক আলোড়ন, ইউস্ট্যাটিক আলোড়ন প্রভৃতি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ঘটে থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে অন্তর্জাত শক্তির বহিঃপ্রকাশ হল ভূগাঠনিক বিপর্যয়।



পর্বত কী?

ভূপৃষ্ঠে বহূদূর বিস্তৃত, সমুদ্রতল থেকে প্রায় 1,000 মিটারের বেশি উঁচু, শিলাময় ভূভাগ হল পর্বত। যেমন— হিমালয় পর্বত।



ভঙ্গিল পর্বত কী?

গিরিজনি আলোড়নের ফলে সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত পলিতে ভাজ পড়ে ক্রম উত্থানের ফলে যে সুউচ্চ, শৃঙ্গবিশিষ্ট ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে বলে ভঙ্গিল পর্বত। যেমন—হিমালয়, রকি, আন্দিজ, আল্পস ইত্যাদি পর্বত।



পর্বতশৃঙ্গ কী?

পর্বতের উঁচু শঙ্কু আকৃতির শিখর হল পর্বতশৃঙ্গ। যেমন—হিমালয় পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল মাউন্ট এভারেস্ট (8,848 মিটার উঁচু)। একটি পর্বতের একাধিক শৃঙ্গ হতে পারে।



পাতসীমান্ত কী?

মহাদেশ ও মহাসাগর গঠনকারী সঞ্চরণশীল, সুবিশাল ভূত্বকীয় শিলাখণ্ডগুলির এক একটিকে পাত বলে। যেমন—এশীয় পাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত। এরকম দুটি পাতের সীমানাবর্তী অঞ্চলকে বলে পাতসীমান্ত (Plate margin) |



পাতসীমান্ত কত প্রকার ও কী কী?

পাতসীমান্ত প্রধানত তিনপ্রকার। যথা— 1) অভিসারী বা বিনাশকারী পাতসীমান্ত (পরস্পরের দিকে চলন), 2) প্রতিসারী বা গঠনকারী পাতসীমান্ত (পরস্পরের বিপরীতে চলন) ও 3) নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত (পাশাপাশি চলন)।



সুচার লাইন বা সীবনরেখা কী?

যে রেখা বরাবর দুটি মহাদেশীয় পাত জোড়া লেগে যায়, তাকে সুচার লাইন বা সীবনরেখা বলে । এই রেখা বরাবর ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় এবং পর্বতের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়।



মহীখাত কী?

ভূত্বকের অগভীর সংকীর্ণ অংশ, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে পলি, বালি, নুড়ি সস্কৃিত হয়ে পার্শ্বচাপের ফলে ওই পলিস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে মহীখাত বলে। যেমন—টেথিস মহীখাত থেকে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে।



টেথিস সাগর কী ?

ভূবিজ্ঞানীদের মতে কার্বোনিফেরাস যুগের শেষ পর্যায় থেকে ক্রিটেসাস যুগের শুরু পর্যন্ত উত্তরে লরেসিয়া এবং দক্ষিণে গণ্ডোয়ানাল্যান্ডের মাঝে ই টেথিস সাগরের অবস্থান ছিল। টেথিস সাগর থেকে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে।



ঊর্ধ্বোভঙ্গ ও অধোভঙ্গ কী?

ভঙ্গিল পর্বতে বিভিন্ন ধরনের ভাজ থাকে। এগুলির মধ্যে ভাজের উত্তল অংশকে ঊর্ধ্বের্বাভঙ্গ এবং অবতল অংশকে অধোভঙ্গ বলা হয়। 



অভিসারী পাতসীমান্তকে ধ্বংসাত্মক পাতসীমান্ত বলে কেন?

অভিসারী পাতসীমান্ত বলতে যখন দুটি পাত পরস্পর মুখোমুখি অগ্রসর হয় তখন তাদের সীমান্তকে বোঝায় | এইরকম পাতসীমান্তে ভারী পাতের নীচে হালকা পাত ঢুকে যায়। এর ফলে ভূত্বকীয় পাতের ধ্বংস বা বিনাশ ঘটে এবং এই অঞ্চলগুলি ভূমিকম্পপ্রবণ হয়। তাই একে ধবংসাত্মক পাতসীমান্ত বলে।



প্রাচীন ও নবীন ভঙ্গিল পর্বত কী ?

যেসব ভঙ্গিল পর্বত বহু প্রাচীন তাদের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত বলে। তাদে উচ্চতা ক্ষয়ের ফলে কম হয়। যেমন—আরাবল্লি। অপরদিকে, নবীন ভঙ্গিল পর্বত অপেক্ষাকৃত পরে সৃষ্টি হয়েছে এবং এদের উচ্চতাও বেশি। যেমন— হিমালয়।



ক্ষয়জাত পর্বত বলে ?

বিভিন্ন ক্ষয়কারী প্রাকৃতিক শক্তির (আবহবিকার, নদী, বায়ু প্রভৃতি) দ্বারা কোনো সুউচ্চ, বিস্তৃত শিলাময় ভূভাগের ক্ষয়প্রাপ্ত অবশিষ্ট অংশ পর্বতের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত হলে, তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। যেমন—ভারতের আরাবল্লি পর্বত।



সয়জাত পর্বত/আগ্নেয় পর্বত কী ?

ভূ-আন্দোলনের ফলে গুরুমণ্ডলের ম্যাগমা ভূত্বকের ফাটলপথে বাইরে বেরিয়ে এসে সঞ্চিত হয়ে যে পর্বতের মতো শিলাময়, বহুদূর বিস্তৃত উচ্চভূমি সৃষ্টি করে তা সঞ্চয়জাত পর্বত বা আগ্নেয় পর্বত নামে পরিচিত | যেমন— জাপানের ফুজিয়ামা।



সংয়জাত মালভূমি ভারতের কোথায় দেখা যায় ?

দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমে মহারাষ্ট্র মালভূমিসহ দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে লাভা নিঃসৃত ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত সঞ্চয়জাত মালভূমি দেখা যায়।



জ্বালামুখ কী ?

আগ্নেয় পর্বতের চূড়ায় একটি মুখ বা গর্ত থাকে যার মধ্যে দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয় অর্থাৎ লাভা, গ্যাস, ভস্ম প্রভৃতি বেরিয়ে আসে, তাকে জ্বালামুখ বলা হয়। জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরিতে একাধিক জ্বালামুখ রয়েছে।



উত্তাপ কেন্দ্র বলতে কী বোঝ? 

কোনো কোনো পাতের মধ্যবর্তী দুর্বল বা পাতলা অংশে ভূ-অভ্যন্তরের তেজস্ক্রিয় পদার্থের কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই অংশ দিয়ে পরবর্তীকালে উর্ধ্বমুখী পরিচলন স্রোতের সাথে ম্যাগমা লাভারূপে বাইরে বেরিয়ে এসে আগ্নেয় পর্বত গঠন করে। ভূপৃষ্ঠে এরকম প্রায় 25 টি উত্তাপ কেন্দ্র (hotspot) আছে।



প্লিউম কি? 

গুরুমণ্ডলে স্বাভাবিক অপেক্ষা উন্ন স্থানগুলিতে উন্নতার কারণে ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ বা স্রোত লক্ষ করা যায়। ম্যাগমার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকেই প্লিউম বলে| অনেক সময় ওই স্থানগুলির ওপরে ভূপৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরি অবস্থান করতে দেখা যায় | সাহারার টিবেস্টি এরূপ একটি প্লিউমের ওপর অবস্থিত আগ্নেয়গিরি।



ক্যালডেরা বা জ্বালামুখ গহ্বর কী?

আগ্নেয়গিরির যে মুখ দিয়ে লাভা, গ্যাস, ছাই প্রভৃতি ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়, তাকে জ্বালামুখ বলে | বিশাল আকৃতির অগভীর জ্বালামুখকে ক্যালডেরা বলে | কখনো কখনো জ্বালামুখের গর্ত বসে গিয়ে ক্যালডেরার সৃষ্টি হয়। এগুলিতে জল জমে অনেকসময় ‘ক্যালডেরা হ্রদ’ সৃষ্টি করে।



অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলতে কী বোঝ ?

ভূগাঠনিক পাতগুলি গুরুমণ্ডলের ঊর্দ্ধাংশে যে স্তরের ওপর ভাসমান অবস্থায় আছে। সেই স্তরকে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলে| এই অংশে ভারী পাতগুলি প্রবেশ করলে উন্নতার প্রভাবে গলে গিয়ে অ্যান্ডোসইটিক লাভা সৃষ্টি করে। এই অংশ থেকে ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে লাভা আকারে বেরিয়ে আসে।



ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ কাকে বলে?

ভূমধ্যসাগরের তীরে ইটালির লিপারি দ্বীপে স্ট্রম্বলি নামক আগ্নেয়গিরি দিয়ে ঘনঘন অগ্ন্যুৎপাত হয়। রাত্রিবেলা এই আলো বহুদূর থেকে দেখা যায়। ভূমধ্যসাগরে চলমান জাহাজগুলির নাবিকরা ওই আলো দেখে তাদের দিক ও অবস্থান নির্ণয় করতেন বলে, একে ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ বলে।



চ্যুতি কী?

মহীভাবক আলোড়নে ভূত্বকের শিলাস্তরে অসম পীড়ন ও টানের ফলে। কাটলের সৃষ্টি হয়। ওই ফাটল বরাবর শিলাস্তরের কোনো অংশ অপর অংশ থেকে পৃথক হয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হল চ্যুতি।



ভূপ পর্বত কী?  

হীভাবক আলোড়নে সৃষ্ট চ্যুতি বরাবর, ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর স্তূপাকারে ওপরে উঠে পর্বতের মতো উচ্চভূমি সৃষ্টি করে, এটিই স্তূপ পর্বত নামে। পরিচিত। যেমন—ভারতের সাতপুরা, জার্মানির ব্ল্যাকফরেস্ট প্রভৃতি।



মালভূমি কী ?

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে 300 মিটারের বেশি উঁচু, তরঙ্গায়িত, খাড়া ঢালযুক্ত, টেবিলের ন্যায় ভূমিরূপ হল মালভূমি। যেমন— ছোটোনাগপুর মালভূমি, দাক্ষিণাত্যের মালভূমি ইত্যাদি।



টেবিলল্যান্ড কী ? অথবা, মালভূমিকে টেবিলল্যান্ড বলা হয় কেন?

মালভূমিকে টেবিলল্যান্ড বলা হয়। কারণ মালভূমির প্রান্তদেশ অনেকটা টেবিলের মতোই খাড়াই এবং পৃষ্ঠদেশ সামান্য ঢেউখেলানো। টেবিলের সঙ্গে মালভূমির আকৃতির মিল থাকায় একে টেবিলল্যান্ডও বলা হয়ে থাকে।



পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কী ?

ভূ-আন্দোলনের ফলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময়, পাশাপাশি সমান্তরাল দুটি ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে কোনো ভূভাগ উঁচু হয়ে এই মালভূমি সৃষ্টি হয় | যেমন—হিমালয় ও কুয়েনলুন পর্বতের মাঝে তিববত মালভূমি অবস্থিত। 



ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি ভারতের কোথায় দেখা যায় ?

ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি, দাক্ষিণাত্য মালভূমি ও মেঘালয় মালভূমির অংশবিশেষে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি দেখা যায়।



ডেকান ট্র্যাপ কী ?

ডেকান ট্র্যাপ হল দক্ষিণ ভারত তথা দাক্ষিণাত্য মালভূমির ধাপযুক্ত ভূমিরূপ (সুইডিশ শব্দ ‘trap’-এর অর্থ সিঁড়ি) | দক্ষিণ ভারতের (মহারাষ্ট্র সংলগ্ন) বিস্তীর্ণ অংশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা সঞ্চয়ের পরে প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়ের কারণে ব্যাসল্ট শিলাস্তরে এরকম ধাপের ন্যায় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে।'



পামিরকে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলে কেন? 

 অন্যান্য মালভূমির মতো পামিরের উপরিভাগ কিছুটা সমতল এবং চারপাশের ঢাল খাড়া। পামির পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি | এর গড় উচ্চতা 4,873 মিটার। এজন্য পামির মালভূমিকে 'পৃথিবীর ছাদ' বলে।



সমভূমি কী ?

সমুদ্রপৃষ্ঠের সমতলে বা সামান্য উঁচুতে (300 মিটারের কম) অবস্থিত, মৃদু ঢালবিশিষ্ট বিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগ সমভূমি নামে পরিচিত। যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমি।



উন্নত সমভূমি কী?

ভূ-আন্দোলনের কারণে কোনো নিম্নভূমি উঁচু হয়ে সৃষ্ট সমভূমি হল উন্নত সমভূমি | যেমন—ভারতের পূর্ব উপকূলের সমভূমি।



অবনত সমভূমি কী ?

যখন ভূ-আন্দোলনের ফলে কোনো উচ্চভূমি বসে গিয়ে সমভূমির বৈশিষ্ট্যযুক্ত ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে অবনত সমভূমি বলে। যেমন— ভারতের পশ্চিম উপকূলের সমভূমি।



একটি উন্নত ও একটি অবনত সমভূমির উদাহরণ দাও।

1) উন্নত সমভূমি—মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি | 

2) অবনত সমভূমি—তুরানের নিম্নভূমি |



প্লাবন সমভূমি কী ?

প্লাবনের সময় জলস্রোতের সঙ্গে প্রচুর পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি নদীর দু-পাশে অপেক্ষাকৃত নীচু স্থানগুলিতে সঞ্চিত হয়ে নদীর দু-পাশের নীচু জায়গা ভরাট করে প্লাবন সমভূমির সৃষ্টি করে। যেমন—নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি।



প্লাবন সমভূমি ভারতের কোথায় দেখা যায় ?

ভারতের গঙ্গা নদীর উভয় দিকে, বিহারের পার্টনা ও মুঙ্গেরের কাছে প্লাবন সমভূমি দেখা যায় |



পেডিমেন্ট কী?

শুষ্ক বা মরু জলবায়ু অঞ্চলে উচ্চভূমির পাদদেশে সঞ্চিত ঢালু প্রস্তরময় ভূভাগ হল পেডিমেন্ট। ('pedi’ অর্থ পাদদেশ এবং 'mont' অর্থ পাহাড় বা পর্বত)। যেমন—অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশে পেডিমেন্ট দেখা যায়।



সমপ্রায় সমভূমির এরকম নামকরণ করা হয়েছে কেন?

কোনো প্রাচীন মালভূমি বা উচ্চভূমি বহুযুগ ধরে প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু ইত্যাদি) প্রভাবে ক্ষয় পাওয়ার ফলে মালভূমি বা উচ্চভূমিটি দেখতে অনেকটা সমভূমির মতো হয়ে যায় বলে এর নাম সমপ্রায় সমভূমি। উদাহরণ—ছোটোনাগপুর মালভূমির কোনো কোনো অংশে সমপ্রায় সমভূমি লক্ষ করা যায়।



মোনাডনক কী ?

সমপ্ৰায় ভূমিতে মাঝে মাঝে দু-একটি কঠিন শিলায় গঠিত পাহাড় বা টিলা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। এগুলিকে মোনাডনক বলে। যেমন—শুশুনিয়া পাহাড়।



ইনসেলবার্জ কী?

উষ্ণ মরু এবং শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে কঠিন শিলায় গঠিত শিলাখণ্ড মাথা উঁচু করে অর্থাৎ ক্ষয় প্রতিরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলিকে ইনসেলবার্জ বলে | জার্মান ভাষায় 'ইনসেলবার্জ' কথার অর্থ হল 'দ্বীপ শৈল’। ভারতের থর মরুভূমি ও আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে ইনসেলবার্জ দেখতে পাওয়া যায়।



বাজাদা কী?

বাজাদা একপ্রকার সঞ্চয়জাত সমভূমি। শুষ্ক মরু অঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে ক্ষয়ের ফলে পেডিমেন্ট নামে একপ্রকার সমভূমি সৃষ্টি হয়। ওই অংশের ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ বায়ু এবং নদীর দ্বারা বাহিত হয়ে পেডিমেন্টের নীচের অংশে সঞ্চয়ের মাধ্যমে একপ্রকার সমভূমি সৃষ্টি করে। একে বাজাদা বলে | যেমন—আফ্রিকার অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশে বাজাদা দেখা যায়।



সমভূমির গুরুত্ব লেখো।

সমভূমির গুরুত্বসমূহ হল – 1) সমভূমিতে কৃষিকাজ সর্বাধিক হয়। 2) সমভূমি অঞ্চল উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত 3) কৃষি এবং পরিবহণ উন্নত বলে শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সমভূমি আদর্শ । 4) পৃথিবীর প্রায় 90 শতাংশ মানুষ সমভূমিতে বাস করে।