Class 9 Geography Chapter 4 (ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 3 Questions And Answers

ভূমিরূপ বলতে কী বোঝ? ব্যাপ্তি বা ক্রম অনুসারে ভূমিরূপের শ্রেণিবিভাগ করো।

উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের ভূমিভাগে নানান বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। শিলাগঠিত এই ভূমির বিভিন্ন রূপ অর্থাৎ ভূমির উচ্চতা, আপেক্ষিক উচ্চতা, আকৃতি, আয়তন, ঢাল ইত্যাদির সমষ্টিগত বৈচিত্র্যকে ভূমিরূপ (Landscape) বলা হয়।



ব্যাপ্তি বা ক্রম অনুসারে ভুমিরূপের শ্রেণিবিভাগ।

ব্যাপ্তি বা ক্রম অনুসারে ভূমিরূপকে প্রধান তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

প্রথম ক্রমের ভূমিরূপ: এটি প্রধানত 2 প্রকার, যথা-[i] মহাদেশ ও [ii] মহাসাগর

দ্বিতীয় ক্রমের ভূমিরূপ: এটি প্রধানত 3 প্রকার, যথা—[i] পর্বত, [ii] মালভূমি ও [iii] সমভূমি। 

তৃতীয় ক্রমের ভূমিরূপ: এটি প্রধানত 2টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। [i] ক্ষয়জাত ভূমিরূপসমূহ— গিরিখাত, জলপ্রপাত, ইয়ারদাং, সার্ক ইত্যাদি। [ii] সঞ্চয়জাত ভূমিরূপসমূহ—বদ্বীপ, প্লাবনভূমি প্রভৃতি |



ধীর অন্তর্জাত প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: ধীর অন্তর্জাত প্রক্রিয়াগুলি অতি ধীরে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সংঘটিত হয় | এই প্রক্রিয়াগুলি প্রধানত তিন প্রকার। যথা—

1) তৃগাঠনিক আলোড়ন: ভূ-অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ার ফলে যখন ভূত্বকের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন ঘটার মাধ্যমে নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয়, তখন তাকে ভূগাঠনিক আলোড়ন বলে। একে পুনরায় দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা–[i] মহীভাবক আলোড়ন এবং [ii] গিরিজনি আলোড়ন |

[i] মহীভাবক আলোড়ন: ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তি যখন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর বা উলম্বভাবে কাজ করে, তখন তাকে মহীভাবক আলোড়ন বলে। এর ফলে ভূত্বকের বিস্তীর্ণ অংশ খাড়াভাবে ওপরে উঠে যায় বা নীচে বসে যায় | মহাদেশজুড়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয় বলে। একে মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic movement) বলে। 

[ii] গিরিজনি আলোড়ন: ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তি যখন ভূত্বকের সঙ্গে অনুভূমিকভাবে বা সমান্তরালে কাজ করে, তখন তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে | এর ফলে ভূত্বকের সংকোচন-প্রসারণ ঘটে। এভাবে ভূত্বকের শিলাস্তরে ভাজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয় বলে একে গিরিজনি অলোড়ন (Orogenic movement) বলে।

ইউস্ট্যাটিক আলোড়ন: সমগ্র পৃথিবীর সাগর-মহাসাগরের জলধারণ ক্ষমতার হ্রাসবৃদ্ধির ফলে অর্থাৎ জলতলের উত্থান বা পতনের ফলে সংঘটিত আলোড়নকে ইউস্ট্যাটিক আলোড়ন বলে। 

সমাধিক আলোড়ন: বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপের মধ্যে উচ্চতাজনিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে ভূ-আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তাকে সমস্থিতিক আলোড়ন বলে।



পিরিজন ও মহীভাবক আলোড়ন একইসঙ্গে সংঘটিত হয় কেন?

গিরিজনি আলোড়ন এবং মহীতাবক আলোড়ন দুটি পৃথক প্রক্রিয়া হওয়া সত্ত্বেও একইসঙ্গে সংঘটিত হয়। গিরিজনি আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে সমান্তরালভাবে বা অনুভূমিকভাবে কাজ করে। এর ফলে শিলাস্তরে সংকোচন-প্রসারণ ঘটে। কোনো একটি স্থানে প্রসারণ ঘটলে অন্য কোথাও সংকোচন ঘটে। সংকোচনবলের প্রভাবে শিলাস্তরে ভাজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয়। আবার কোথাও বা শিলাস্তরে চিড় ধরে চ্যুতি বা ফাটল সৃষ্টি করে। ওই ফাটল বা চ্যুতি বরাবর ভূমিভাগের বিস্তীর্ণ অংশ বসে যায় বা উঠে যায়। এই উল্লম্বভাবে উত্থান বা অবনমন হল মহীভাবক আলোড়ন।

আবার মহীভাবক আলোড়নের প্রভাবে শিলাস্তরে চ্যুতি বা ফাটল সৃষ্টি হলে তার ফলে সৃষ্ট প্রসারণবল পার্শ্ববর্তী শিলান্তরে পার্শ্বচাপ দেয়, ফলে সেখানে ভাজ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ গিরিজনি আলোড়ন সংঘটিত হয়। এভাবে দেখা যায় গিরিজনি আলোড়ন এবং মহীভাবক আলোড়ন ভূপৃষ্ঠ একইসঙ্গে কাজ করে অর্থাৎ একটির প্রভাবে অন্যটি সংঘটিত হয়।

গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে যদি কোথাও ডলি পর্বত সৃষ্টি হয়, তাহলে তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মহীভাবক আলোড়নের প্রভাবে সৃষ্ট চ্যুতির নিদর্শন দেখতে পাওয়া যাবে। যেমন- হিমালয় একটি ভঙ্গিল পর্বত এবং এই পর্বতে ভাজ ও চ্যুতি উভয়ই দেখা যায়।



আরোহণ, অবরোহণ এবং পর্যায়ন পক্রিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক নিরূপণ করো।

উত্তর: বিভিন্ন প্রকার বহিষ্ণু প্রক্রিয়ার মধ্যে আরোহণ, অবরোহণ ও পর্যায়ন হল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য | অবরোহণ প্রক্রিয়া মূলত ক্ষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন বহিস্থ শক্তি যথা—নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি ভূমিরূপের ক্ষয়সাধন করে ভূমির উচ্চতা কমিয়ে ফেলে অর্থাৎ নীচু করে ফেলে। একেই অবরোহণ প্রক্রিয়া বলে। আবার ওই সকল বহিস্থ শক্তির দ্বারা ভূমিরূপের ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থসমূহ নীচু কোনো স্থানে জমা করে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে। এভাবে উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে আরোহণ প্ৰক্ৰিয়া বলে |

অন্যদিকে অবরোহণ এবং আরোহপ এই দুই সম্মিলিত প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূমিভাগের ভারসাম্য অবস্থায় পৌঁছানো বা সমতলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলা হয়। সুতরাং অবরোহপ, আরোহণ এবং পর্যায়ন প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।



অবরোহণ ও আরোহণ পরস্পরের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অবরোহন প্রক্রিয়া ভূমিরূপের উচ্চতা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। নগ্নীভবন  বা নির্মোচন প্রক্রিয়ার দ্বারা কোনো উচ্চভূমিভাগ ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এবং অপসারিত হয়ে ওই ভূমিভাগের উচ্চতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায় বা নীচু হয়ে যায়। একেই অবরোহণ প্রক্রিয়া (Deductive process) বলা হয়।

অন্যদিকে, অবরোহনের ফলে সৃষ্ট পদার্থসমূহ বাহিত হয়ে (বিভিন্ন ভূপ্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা) কোনো নীচু ভূমিভাগে সঞ্চিত হয়ে ওই ভূমিভাগের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এভাবে কোনো ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে আরোহণ (Inductive process) বলা হয় ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, অবরোহণ হল ক্ষয়ের মাধ্যমে ভূমিভাগের নীচু হওয়ার প্রক্রিয়া এবং আরোহণ হল সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। তাই প্রক্রিয়া দুটি পরস্পরের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া।



জনজীবনে পর্বতের প্রভাব কী?

উত্তর: জনজীবনের ওপর পর্বতের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। যেমন- 1) পার্বত্য অঞ্চলে বনভূমি থাকায় তা নানা ধরনের বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। 2) পার্বত্য অঞ্চল বিভিন্ন নদনদীর উৎসস্থল। 3) পার্বত্য অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 4) হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজের মতো সুউচ্চ এবং সুবিস্তৃত পর্বতশ্রেণিগুলি বহু এলাকার জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে। 5) এ ছাড়া পর্যটনশিল্প, পশুপালন ও কাষ্ঠশিল্পের জন্য পার্বত্য অঞ্চল বিখ্যাত | 6) খাড়া ঢাল এবং পাথুরে ভূমির জন্য উন্নত ধরনের রাস্তাঘাট নির্মাণ করা খুবই কষ্টকর ও ব্যয়সাধ্য বলে পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি কম। এ ছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলের মাটি পাথুরে হওয়ায় তা কৃষিকাজের অনুপযোগী।



ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায় কেন?

উত্তর: সমুদ্রগর্ভে যখন স্তরে স্তরে পলি জমা হয়, তখন তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ চাপা পড়ে। পলি জমাট বেঁধে পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় ওই সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ প্রবল চাপে ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। এজন্য পাললিক শিলার মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের ছাপযুক্ত জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রগর্ভে সৃষ্ট ওই পাললিক শিলাস্তরে ভাজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি হয়। এই কারণে ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায়।



পার্বত্য অঞ্চলে ভারী শিল্প গড়ে উঠতে পারে না—কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে ভারী শিল্প গড়ে না ওঠার কারণগুলি হল— 

1) বন্ধুর ভূপ্রকৃতি: পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিভাগ বন্ধুর প্রকৃতির হওয়ায় উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না।

2)  স্বল্প জনবসতি: বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, শীতল জলবায়ু, অনুর্বর মাটি প্রভৃতি কারণে পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি স্বল্প হয়। ফলে, শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা বা বাজার কম।

3) অন্যান্য বাধা: পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার অভাব প্রভৃতি অসুবিধা পার্বত্য অঞ্চলে ভারী শিল্পের বিকাশকে ব্যাহত করে।



ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো |

ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য—

1) নামকরণের তাৎপর্য: পাললিক শিলাস্তরে ভাজ পড়ে উঁচু হয়ে এই পর্বত সৃষ্টি হয় বলে, একে ‘ভঙ্গিল পর্বত’ বলা হয়।

2) প্রয়োজনীয় শক্তি: গিরিজনি আলোড়নের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় | 

3) প্রধান অংশ: ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান দুটি অংশ বর্তমান—ঊর্ধ্বোভঙ্গ ও অধোভঙ্গ।

4) শিলার প্রাধান্য: ভঙ্গিল পর্বতে পাললিক শিলার আধিক্য থাকলেও স্থানীয়ভাবে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা-ও দেখা যায়।

জীবাশ্ম সৃষ্টি: পাললিক শিলায় গঠিত হওয়ায় ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায়।

একাধিক শৃঙ্গ: ভঙ্গিল পর্বতে একাধিক শৃঙ্গ থাকে। যেমন— হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট, মাকালু, ফালুট, কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য: [i] ভঙ্গিল পর্বত অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হয়, [ii] পাত সঞ্চরণ অব্যাহত থাকায় এর উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, [iii] ঢাল খাড়া হয়, [iv] শঙ্কু আকৃতির হয়, [v] বন্ধুরতা বেশি হয় |



ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ-কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ার কারণগুলি হল— 

1)পাতের চলন: পাতসংস্থান মতবাদ অনুযায়ী, অভিসারী পাতসীমান্তে দুটি মহাদেশীয় পাতের চলনে সংঘর্ষ হয়। ফলে, ওই পাতসীমান্তে সৃষ্ট ভঙ্গিল পর্বতে ভূকম্পন হয়।

2) উত্থান: পাত সরণের ফলে ভাজপ্রাপ্ত পাললিক শিলার ক্রমশ উত্থানের সময়ও ভূমিকম্প হয়।

3) ধস: সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বতের কোনো অংশের শিলাস্তরে আকস্মিকভাবে ধস নামলে, তার প্রভাবেও ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়।



আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপের তারতম্য, মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় পাতের সরণ, ভূমিকম্প প্রভৃতি কারণে ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা কখনো কখনো ভূত্বকের কোনো গভীর ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ওপরে উঠে আসে । ওই ম্যাগমা ফাটলের মুখের চারধারে স্তূপীকৃত হয়ে জমতে থাকে এব ক্রমশ উঁচু হয়ে পর্বতের আকার ধারণ করে। উদাহরণ—জাপানের ফুজিয়ামা, ইটালির ভিসুভিয়াস প্রভৃতি পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য আগ্নেয় পর্বত।



আগ্নেয় পর্বত কীভাবে গঠিত হয়?

আগ্নেয় পর্বত বিভিন্নভাবে গঠিত হতে পারে, যেমন—  1) অভিসারী বা সংঘর্ষকারী দুটি পাতের সংযোগস্থলের দুর্বল অংশে ম্যাগমা উদ্‌গিরণের ফলে আগ্নেয় পর্বত তৈরি হতে পারে। 2) দুটি পাত পরস্পরের থেকে দূরে সরে গেলে অপসারী পাতসীমা বরাবর দুর্বল অংশে ম্যাগমা উদ্‌গিরপের ফলে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হতে পারে। 3) কখনো কখনো পাতের মধ্যস্থলে তেজস্ক্রিয়তাজনিত কারণে সৃষ্ট হওয়া উত্তাপ কেন্দ্র (hotspot) থেকে তৈরি হওয়া ঊর্ধ্বমুখী পরিচলন স্রোতের সাথে উঠে আসা ম্যাগমা এধরনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করতে পারে | জাপানের ফুজিয়ামা, ইটালির ভিসুভিয়াস, ভারতের ব্যারন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য আগ্নেয় পর্বত। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।



আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1) আকৃতি: আগ্নেয় পর্বতের আকৃতি কিছুটা ত্রিভুজ বা শঙ্কুর মতো হয়।

2) জ্বালামুখের উপস্থিতি: আগ্নেয় পর্বতের চূড়ায় যে মুখ থাকে সেখান থেকে অগ্ন্যুৎপাত্র হয়, তাকে জ্বালামুখ বলা হয়।

3) একাধিক জ্বালামুখ: বড়ো বড়ো আগ্নেয়গিরির একাধিক জ্বালামুখ থাকতে পারে।

4) ম্যাগমা গহবরের সঙ্গে সংযোগ: আগ্নেয় পর্বতের জ্বালামুখ একটি নলাকৃতি পথের মাধ্যমে ভূগর্ভের ম্যাগমা গহবরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। 

5) ঢাল: আগ্নেয় পর্বতের চারপাশে যথেষ্ট খাড়া ঢাল থাকে।

6) উচ্চতা: আগ্নেয় পর্বতের উচ্চতা মাঝারি ধরনের হয়।



আগ্নেয় পর্বতের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তেমন জনবসতি গড়ে না ওঠার কারণ কী?

উত্তর: আগ্নেয় পার্বত্য অঞ্চল ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে জনবসতি গড়ে না ওঠার কারণগুলি হল—

1) অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা: সক্রিয়, সুপ্ত আগ্নেয় পর্বতগুলিতে যে-কোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে । এই আতঙ্কের ফলে জনবসতি গড়ে ওঠে না। 

2) ভূমিকম্প প্রবণতা: আগ্নেয়গিরি অঞ্চলগুলি ভূগাঠনিকভাবে অস্থির প্রকৃতির বলে পাতের চলনে ভূমিকম্পপ্রবণ হয়।

3) অনুর্বর মৃত্তিকা: লাভা সঞ্চয়ের ফলে এই অঞ্চলগুলির ভূপ্রকৃতি বন্ধুর, ফলে অনুর্বর মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়, যা জনবসতি বিস্তারের পক্ষে প্রতিকূল।



আগ্নেয় পর্বতের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প বেশি হয় কেন?

আগ্নেয় পার্বতের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প বেশি হওয়ার কারণ—

 1) ধ্বংসাত্মক বা অভিসারী পাতসীমান্ত বরাবর আগ্নেয় পর্বত গঠিত হলে দুটি পাতের সংঘর্ষের কারণে সেটি ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে ওঠে। 2) গঠনাত্মক বা প্রতিসারী পাতসীমান্তে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হলে অ্যাসথেনোস্ক্রিয়ার থেকে যে তরল ম্যাগমা উঠে আসে তার চাপে ভূমিকম্প হতে পারে। 3) উত্তাপ কেন্দ্রে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হলে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা, গ্যাস প্রভৃতি ভূপৃষ্ঠে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেয় এবং ভূমিভাগের কম্পন ঘটে |



বিদার অগ্ন্যুম বলতে কী বোঝ?

ভূপৃষ্ঠের কোনো ফাটল বা দুর্বল স্থান বরাবর উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা নিঃশব্দে কোনোরকম বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে লাভা বেরিয়ে আসে | এই প্রকার অগ্ন্যুগমকে বিদার অগ্ন্যুদ্‌গম বা ফিসার অগ্ন্যুৎপাত বলে | ভূমিরূপ গঠন: বিদার অগ্ন্যুদ্‌গমের ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল লাভা দ্বারা আবৃত হলে মালভূমি বা লাভা সমভূমি সৃষ্টি করে। উদাহরণ— ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি এরূপ অগ্ন্যুদ্‌গমের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।



প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা কী?  অথবা, প্রশান্ত মহাসাগরে চারপাশে প্রচুর আগ্নেয়গিরি দেখা যায় কেন?

পৃথিবীর সর্বাধিক আগ্নেয়গিরি প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে রয়েছে | মেখলা শব্দের অর্থ—কোমর বন্ধনী। প্রায় 500টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (সমগ্র পৃথিবীর 70%) প্রশান্ত মহাসাগরকে বন্ধনীর মতো ঘিরে আছে। একেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলে| এটি দক্ষিণ আমেরিকায় হর্ন অন্তরীপ থেকে শুরু করে আন্দিজ পর্বত ও রকি পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে বিস্তৃত হয়ে পশ্চিমে অ্যালুসিয়ান, কামচাটকা, জাপান, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত।



বেনিয়ফ জোন কী?

দুটি পাতের অনুভূমিক চলনের ফলে যে অঞ্চল বরাবর ভারী পাত হালকা পাতের নীচে প্রবেশ করে সেই অঞ্চলকে অধঃপাত অঞ্চল বা বেনিয়ফ জোন বলে | বিজ্ঞানী হুগো বেনিয়ফ-এর নামানুসারে এই অঞ্চলকে বেনিয়ফ জোন বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য: বেনিয়ফ জোনে পাতের গলন, ম্যাগমার পরিচলন স্রোত, ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়।

উদাহরণ: ইউরেশিয়ান পাত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসার ফলে ভারী প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত হালকা ইউরেশিয়ান পাতের নীচে প্রবেশ করে বেনিয়ফ জোন-এর সৃষ্টি করেছে।



উদাহরণসহ স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর: স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 

1) দুটি চ্যুতিরেখার মাঝখানের অংশ পার্শ্বচাপের ফলে ওপরে উঠে এলে স্তূপ পর্বতের সৃষ্টি হয় এবং এর দু-পাশে দুটি গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয় । উদাহরণ—সাতপুরা এই ধরনের স্তূপ পর্বত এবং এর দু-পাশের দুটি গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে যথাক্রমে নর্মদা ও তাপ্তী নদী প্রবাহিত হয়েছে । 

2) দুটি চ্যুতিরেখার মধ্যবর্তী অংশের ভূমি খাড়াভাবে বসে গেলে সৃষ্টি হয় গ্রস্ত উপত্যকা এবং ওই অবনমিত অংশের দু-পাশে দুটি স্তূপ পর্বত সৃষ্টি হয়। উদাহরণ—ফ্রান্সের ভোজ এবং জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এই ধরনের দুটি স্তূপ পর্বত এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী গ্রস্ত উপত্যকা দিয়ে রাইন নদী প্রবাহিত হয়েছে। 3) স্তূপ পর্বতের দু-পাশের ঢাল বেশ খাড়া এবং শীর্ষদেশ কিছুটা চ্যাপটা হয়। 4) স্তূপ পর্বতের উচ্চতা এবং বিস্তৃতি খুব বেশি হয় না এবং এই পর্বত সাধারণত শৃঙ্গবিহীন হয়।



গ্রস্ত উপত্যকা এবং হোস্ট কাকে বলে?

গ্রস্ত উপত্যকা: যখন দুটি সমান্তরাল বা স্বাভাবিক চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশের ভূমি খাড়াভাবে বসে যায়, তখন ওই অবনমিত অংশকে বলা হয় গ্রস্ত উপত্যকা। তবে একটি স্তূপ পর্বতের দু-পাশেও গ্রস্ত উপত্যকা থাকতে পারে| উদাহরণ—ব্ল্যাক ফরেস্ট ও ভোজ পর্বতের মধ্যবর্তী রাইন নদীর উপত্যকা হল একটি গ্রস্ত উপত্যকা।

হোস্ট: যখন দুটি চ্যুতিরেখার মধ্যবর্তী ভূমি বসে না গিয়ে চাপের ফলে ওপরে উঠে পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে বলা হয় হোর্স্ট | উদাহরণ—সাতপুরা পর্বত। সুতরাং গ্রস্ত উপত্যকা এবং হোস্ট—দুই-ই হল চ্যুতির ফলে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ|



স্তুপ পর্বতের পাশেই গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয় কেন?

উত্তর: মহীভাবক ভূ-আলোড়নের টান ও সংকোচন বলের জন্য ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয় | পাশাপাশি দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ উঠে গিয়ে অথবা দু-পাশের অংশ দুটি বসে যেতে পারে। এর ফলে মধ্যবর্তী উত্থিত ভূমিভাগকে স্তূপ পর্বত এবং পার্শ্বের অবনমিত অংশটিকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে । যেমন—ভারতের সাতপুরা পর্বতের উভয় পাশে নর্মদা ও তাপ্তী নদীর গ্রস্ত উপত্যকা অবস্থিত | অন্যদিকে, যদি দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে যায় অথবা দু-পাশের অংশ দুটি উত্থিত হয়ে যায়, তখন মধ্যবর্তী বসে যাওয়া অংশে গ্রস্ত উপত্যকা এবং দু-পাশের উত্থিত অংশে স্তূপ পর্বত সৃষ্টি হয়। যেমন—ইউরোপের রাইন নদীর (গ্রস্ত উপত্যকার) দু-পাশে ফ্রান্সের ভোজ ও জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট স্তূপ পর্বত অবস্থান করছে । সুতরাং বলা যায়, স্তুপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা সবসময় পাশাপাশি অবস্থান করে।



ক্ষয়জাত পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ক্ষয়জাত পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—  1) এই ধরনের পর্বতের বিস্তার খুব কম হয়। 2) এর উচ্চতা কম হয়। 3) দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় হয় বলে এদের ঢাল কম | 4) পর্বতের শীর্ষদেশ গোলাকার বা গম্বুজাকার হয়। 5) তিন ধরনের শিলা দিয়েই এধরনের পর্বত গঠিত হয়। 6) এইগুলি খুবই কঠিন ও প্রাচীন শিলা দিয়ে তৈরি।



মালভূমি সৃষ্টির কারণগুলি লেখো।

প্রধানত তিনটি কারণে মালভূমির সৃষ্টি হয়—

1) ভূ-আলোড়ন: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠের প্রাচীন স্থলভাগগুলি পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে এক-একটি মালভূমিরূপে অবস্থান করে, একে মহাদেশীয় মালভূমি বলো উদাহরণ—দাক্ষিণাত্য মালভূমি, আরবের মালভূমি প্রভৃতি।

2) প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিসমূহের কার্য: সূর্যের তাপ, বায়ুপ্রবাহ, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিসমূহ উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল বা অন্য কোনো উচ্চভূমিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে প্রায় সমতল শীর্ষদেশবিশিষ্ট মালভূমিতে পরিণত করে। উদাহরণ— ছোটোনাগপুরের মালভূমি |

3) লাভা সঞ্চয়: ভূ-অভ্যন্তরস্থ ম্যাগমা লাভারূপে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এসে ক্রমশ সঞ্চিত হয়েও মালভূমির সৃষ্টি হয়। উদাহরণ—ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ হল লাভা মালভূমি।



জনজীবনে মালভূমির প্রভাব কী?

উত্তর: জনজীবনের ওপর মালভূমির বিচিত্র প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেমন— 1) অধিকাংশ প্রাচীন মালভূমি নানা ধরনের খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়। যেমন—ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চল, ব্রাজিলের উচ্চভূমি অঞ্চল, কানাডার শিল্ড অঞ্চল প্রভৃতি খনিজ সম্পদের জন্য বিখ্যাত। 2) ভূমিরূপের বন্ধুরতার কারণে মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলি বেশ খরস্রোতা হয়, ফলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূল অবস্থা থাকে। উদাহরণ—দাক্ষিগাত্য মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত অধিকাংশ বড়ো নদীকেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। 3) মালভূমি কিছুটা বন্ধুর ও পাথুরে হয় বলে কৃষিকাজে যথেষ্ট ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।



মালভূমি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয় কেন?

মালভূমি নানাভাবে তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে যেসব মালভূমি আগ্নেয় বা রূপান্তরিত শিলায় গঠিত হয়, সেইসব মালভূমি সাধারণত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। ভূগর্ভের লাভা বাইরে বেরিয়ে এলে ধীরে ধীরে শীতল হয়ে যেসব মালভূমি গঠিত হয়, সেইসব মালভূমিতে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি খনিজের প্রাধান্য দেখা যায়। আবার, রূপান্তরিত শিলায় গঠিত মালভূমিতে কয়লা, সোনা, রূপা, তামা ও আরও নানাপ্রকার খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়। ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি নানাবিধ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বলে একে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার' বলে।



পর্বতবেষ্টিত মালভূমির বৈশিষ্ট্য লেখো।

ভূ-আন্দোলনে গঠিত এই ধরনের মালভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 1) এই মালভূমির চারিদিকে মূলত ভঙ্গিল পর্বত অবস্থান করে। 2) এইধরনের মালভূমির উচ্চতা খুব বেশি হয়। 3) এই মালভূমি মূলত পাললিক শিলায় গঠিত হয়। 4) এই মালভূমিগুলি সুউচ্চ এবং গঠনের ভিত্তিতে জটিল প্রকারের হয়। উদাহরণ—তিব্বতের মালভূমি, আনাতোলিয়ার মালভূমি প্রভৃতি।



পর্বতবেষ্টিত মালভূমি সবসময় ভঙ্গিলে পর্বত দ্বারা বেষ্টিত থাকে কেন?

উত্তর: গিরিজনি ভূ-আলোড়নের সময় দুটি মহাদেশীয় পাতের পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার সময় তাদের মধ্যবর্তী মহীখাতে সতি পলিরাশিতে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে। এর ফলে মহীখাতের প্রান্ত বরাবর ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয় এবং মহীখাতের মধ্যবর্তী স্থান উত্থিত হয়ে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি সৃষ্টি করে। এই কারণে পর্বতবেষ্টিত মালভূমিকে মধ্যমাভূমি (Median mass) বলা হয়। পর্বতবেষ্টিত মালভূমি নবীন ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণিগুলি সৃষ্টির সময় একইসঙ্গে সৃষ্টি হয় বলে সবসময় ভঙ্গিল পর্বতবেষ্টিত থাকে।

যেমন—পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমি | এটি উত্তরে কুয়েনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত আছে।



মালভূমির প্রান্তভাগে অনেক জলপ্রপাত দেখতে পাওয়া যায় এর কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মালভূমি সমুদ্রসমতল থেকে কমপক্ষে 300 মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হয়। সাধারণভাবে মালভূমি কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত, পৃষ্ঠদেশ মৃদু ঢেউখেলানো বা তরঙ্গায়িত প্রকৃতির এবং পার্শ্বদেশ খাড়া ঢালবিশিষ্ট হয়। এককথায় মালভূমিকে দেখতে খানিকটা টেবিলের ন্যায়। এজন্য মালভূমিকে কখনো কখনো ‘টেবিলল্যান্ড’-ও বলা হয় । মালভূমির এই আকৃতির জন্য এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলি যখন প্রান্তভাগে এসে কোনো নিম্নভূমিতে পড়ে তখন খাড়া ঢালের জন্য সরাসরি নদীর জল ওপর থেকে নীচে পড়ে জলপ্রপাত তৈরি করে | এজন্য মালভূমির প্রান্তভাগে অনেক জলপ্রপাত দেখতে পাওয়া যায় | যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগে সুবর্ণরেখা নদীর ওপরে সৃষ্ট দশম জলপ্রপাত।



পামির পৃথিবীর অনেক পর্বতের থেকে অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি মালভূমি কেন?

পামির মালভূমির গড় উচ্চতা 4,878 মিটার। এর উচ্চতা পৃথিবীর সকল মালভূমি অপেক্ষা বেশি | অধিক উচ্চতার জন্য একে ‘পৃথিবীর ছাদ' বলা হয় । অনেক পর্বত অপেক্ষা এর উচ্চতা বেশি। তা সত্ত্বেও একে মালভূমি বলার কারণ হল— 

(1) আকৃতি: পামিরের আকৃতি অনেকটা বৃহদাকার টেবিলের ন্যায়। টেবিলের ন্যায় দেখতে ভূমিরূপগুলি মালভূমি হয়। এজন্য মালভূমিকে অনেকসময় ‘টেবিলল্যান্ড' বলা হয়।

2) পৃষ্ঠদেশের ভূপ্রকৃতি: পামিরের পৃষ্ঠদেশ মৃদু ঢেউখেলানো বা তরঙ্গায়িত। পর্বতের ন্যায় অধিক আপেক্ষিক উচ্চতাবিশিষ্ট নয় 

3) সূঁচালো শৃঙ্গের অনুপস্থিতি: বিভিন্ন পর্বতের ন্যায় পামিরে অসংখ্য শৃঙ্গ দেখতে পাওয়া যায় না। যদিও চ্যাপটা মস্তকবিশিষ্ট কিছু পাহাড় আছে (যেমন—লিওপারগেল)।

4) খাড়া পার্শ্বদেশ: পামির মূলত পর্বতবেষ্টিত মালভূমি হলেও যে অংশ পর্বতবেষ্টিত নয়, সেই অংশ খাড়া ঢালবিশিষ্ট। অর্থাৎ মালভূমির বৈশিষ্ট্যযুক্ত।



হিমবাহ সমভূমি ও লোয়েস সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: হিমবাহ সমভূমির গঠন: হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে এ ধরনের সমভূমির সৃষ্টি হয়। মূলত হিমবাহবাহিত মোরেন অর্থাৎ নুড়ি, কাঁকর, পাথর প্রভৃতি পদার্থসমূহ বহিঃধৌত হয়ে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে হিমবাহ সমভূমির সৃষ্টি করে। উদাহরণ—উত্তর আমেরিকার প্রেইরি অঞ্চল ও উত্তর ইউরোপের সমভূমিগুলি এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে।

লোয়েস সমভূমির গঠন: অনেকসময় সূক্ষ্ম বালিকণা, পলিকণা ইত্যাদি প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে অনেকদূর পর্যন্ত উড়ে যায় এবং দূরবর্তী কোনো নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হয়ে সমভূমির সৃষ্টি করে। একে বলে লোয়েস সমভূমি | উদাহরণ—মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে এরকম বালুকারাশি উড়ে গিয়ে উত্তর চিনের ছোয়াংহো নদীর অববাহিকায় সঞ্ছিত হয়ে লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি করেছে।



গ্লাবনভূমির পার্শ্বে স্বাভাবিক বাঁধ গড়ে ওঠে কেন?

নদীর মধ্য এবং নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল কম হওয়ার জন্য স্রোতের বেগও কম থাকে। ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল নদীতে চলে আসলে নদীর ধারণক্ষমতা অতিক্রান্ত হয় এবং দুকূল ছাপিয়ে প্লাবনভূমি সৃ করে। প্লাবনের সময় নদীর কিনারায় স্রোতের বেগ সামান্য থাকে বলে নুড়ি, বালি, পলি সঞ্চিত হয়। আবার প্লাবনের পরে জল নদীখাতে ফিরে যাওয়ার সময়ও পলি, কাদা ইত্যাদি কিনারায় সস্কৃিত হয়। প্রতি বছর এরূপ প্লাবন সৃষ্টির ফলে কিনারায় নুড়ি, বালি, পলির সঞ্চয় ঘটে বাঁধের আকার নেয় ও ধীরে ধীরে তার উচ্চতা বাড়তে থাকে। এভাবে শৈলশিরা ন্যায় স্বাভাবিক বাঁধ সৃষ্টি হয়। সুতরাং প্লাবনভূমি এবং স্বাভাবিক বাঁধ একসঙ্গেই সৃষ্টি হয় এবং প্লাবনভূমির পাশেই স্বাভাবিক বার্ম অবস্থান করে।