Class 9 Geography Chapter 5 (আবহবিকার) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 3 Questions And Answers

কোন্ কোন্ উপাদান আবহবিকারকে প্রভাবিত করে?

উত্তর: যে সকল উপাদানগুলি আবহবিকারকে প্রভাবিত করে সেগুলি হল নিম্নরূপ—

1) শিলার প্রকৃতি: নরম শিলা বা ফাটলযুক্ত শিলায় দ্রুত আবহবিকার ঘটে।

2) ভূপ্রকৃতি: পর্বত ও মালভূমির অধিক ঢালযুক্ত অংশে আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি থাকে।

3) জলবায়ু: (জল্লুবায়ুর বিভিন্ন উপাদান (বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, উম্নতা) আবহবিকারকে সর্বাধিক প্রভাবিত করে।

4) জৈবিক উপাদান: উদ্ভিদের শিকড়, ফুল, ফল, মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি ইত্যাদি আবহবিকারকে প্রভাবিত করে।



আবহবিকারের সঙ্গে জলবায়ু কীভাবে সম্পর্কিত।

আবহবিকারের সঙ্গে জলবায়ু প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। একটি নির্দিষ্ট জলবায়ু অঞ্চলে নির্দিষ্ট প্রকার আবহবিকার লক্ষ করা যায় | যেমন—

1) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সারাবছর উন্নতা ও বৃষ্টিপাত বেশি থাক, ফলে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি | আবার এই অঞ্চলে অধিক উন্নতার কারণে যান্ত্রিক আবহবিকারও দেখা যায় ।

2) উষ্ণ—শুষ্ক মরু জলবায়ু অঞ্চল: এইসব অঞ্চলে অধিক উয়তার প্রসর ও প্রায় বৃষ্টিহীনতার কারণে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাধান্য (যেমন— শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিশরণ প্রভৃতি) দেখা যায়।

3) শীতল পার্বত্য জলবায়ু /মেরু জলবায়ু অঞ্চল: শীতল পার্বত্য জলবায়ু বা মেরু অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব কম বলে তুষার কেলাস গঠন প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটে।



মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় কেন?

উত্তর: মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় কারণ—

1) উয়তার প্রসর বেশি: মরু অঞ্চলে দিন ও রাত্রির উন্নতার প্রসর খুব বেশি | দিনেরবেলায় শিলার প্রসারণ ও রাত্রে সংকোচন ঘটে ফলে যান্ত্রিক উপায়ে শিলার বিচূর্ণন সহজেই হয়।

2) বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা: মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় বলে রাসায়নিক আবহবিকার তেমন হয় না। জলের অভাবে উদ্ভিদের বিকাশ না হওয়ায় জৈবিক আবহবিকারও দেখা যায় না। ফলে মূলত তাপমাত্রার প্রভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিলার বিচূর্ণন ঘটে।

3) অধিক ক্ষয়ীভবন: মরু অঞ্চলে অধিক ক্ষয়ীভবনের ফলে ওপরের শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফলে চাপ কিছুটা কমে যায় এবং নীচের শিলা ভারমুক্ত হয়ে প্রসারিত হওয়ার সময় ফাটল সৃষ্টি হয়। এই ফাটল বরাবর শিলার বিচুর্পন ঘটে।



বৃষ্টিপাত যান্ত্রিক আবহবিকারকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বৃষ্টিপাত যান্ত্রিক আবহবিকারকে প্রভাবিত করে | কারণ—

1) তুষার কেলাস সৃষ্টি: শিলার ফাটলের মধ্যে জল জমে তুষার কেলাস গঠিত হলে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়। বৃষ্টির জল সেই তুষার কেলাস সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

2) শিলায় আঘাত: বৃষ্টির ফোটা দীর্ঘদিন ধরে শিলাকে আঘাত করে ক্রমশ দুর্বল করে যান্ত্রিক আবহবিকারে সাহায্য করে| 3 শিলার আয়তন বৃদ্ধি: শিলার মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থ বৃষ্টির জলে স্ফীত হয়ে শিলার আয়তন বৃদ্ধি করে এবং যান্ত্রিক আবহবিকারে সাহায্য করে।



শঙ্কমোচন প্রক্রিয়া গ্র্যানাইট শিলায় বেশি কার্যকরী হয় কেন?

উত্তর: উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যখন শিলার ওপরের স্তর নীচের স্তর থেকে পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে আসে, তখন তাকে শল্কমোচন বলে। সমসত্ত্ব শিলায় এই প্রক্রিয়া দেখা যায় | শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় শিলার ওপরের স্তর দিনেরবেলা যতটা উত্তপ্ত হয়, শিলার ভিতরে সেই সমপরিমাণ উত্তাপ পৌঁছাতে পারে না এবং শিলার বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশের মধ্যে তাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে দিনেরবেলা শিলার বাইরের অংশ বেশি উত্তপ্ত হয়ে আয়তনে বেড়ে যায় ও পীড়ন বা চাপের ফলে আলগা হয়ে মূল শিলা থেকে খুলে আসে | গ্র্যানাইট শিলা সমসত্ত্ব খনিজ দ্বারা গঠিত হওয়ায় শল্কমোচন প্রক্রিয়াটি এই শিলায় বেশি কার্যকরী হয়।



গ্র্যানাইট শিলাগঠিত পাহাড়গুলির মাথা গোলাকার বা গম্বুজাকৃতি হয় কেন? 

উত্তর: গ্র্যানাইট শিলাগঠিত অঞ্চলে শল্কমোচন প্রক্রিয়াটি অধিক কার্যকরী হয় বলে ওই অঞ্চলটির পাহাড়গুলির মাথা গোলাকার হয়। ঊন্ন ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলে এরূপ গোলাকার পাহাড় বেশি দেখা যায়। মরুভূমি অঞ্চলে দিনেরবেলা তাপ গ্রহণের ফলে শিলার বাইরের স্তর খুব উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ দ্রুত ঠান্ডা হয়। ফলে শিলার বাইরের স্তরে সংকোচন-প্রসারণের মাত্রাও বেশি হয়। সেইজন্য অসম টান ও পীড়নের ফলে শিলার বাইরের স্তরগুলি মূল পিলা থেকে পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে আসে। এই ধরনের আবহবিকারতে শল্কমোচন বলে | এই প্রক্রিয়ায় শিলার তীক্ষ্ণ অংশগুলি পুরোপুরি ভেঙে যায় এবং উপরিভাগ দেখতে গোলাকার হয়। এইজন্য গ্র্যানাইট শিলাগঠির পাহাড়গুলির মাথা গোলাকার হয়।



মরু অঞ্চলের অধিবাসীরা বিকেলের দিকে গুলি ছোড়ার মতো আওয়াজ শুনতে পান কেন?

উয় মরু অঞ্চলে দৈনিক উয়তার প্রসর খুব বেশি | আবার বিষমসত্ত্ব শিল খনিজগুলির উত্তাপ শোষণ করার ক্ষমতা ভিন্ন হওয়ায় উন্নতার তারতম্যে এরা ভিন্ন ভিন্ন হারে প্রসারিত হয় ও সংকুচিত হয় | সেইজন্য শিলাগাত্রে প্রবল পীড়ন। ও টানের সৃষ্টি হয়। বিকেলের দিকে মরুভূমিতে যখন উষ্মতা কমে আসছে থাকে, তখন শিলায় খনিজগুলির সংকোচন শুরু হয়। এর ফলে শিলার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয় এবং শিলার কিছু অংশ সশব্দে মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় | এই ধরনের আবহবিকারকে ক্ষুদ্রকণা বিপরণ বলে | এই শব্দগুলি ছোঁড়ার শব্দের মতোই তীব্র ও তীক্ষ্ণ হয়। এই কারণের জন্য মরু অঞ্চলের অধিবাসীরা বিকেলের দিকে গুলি ছোড়ার মতো আওয়াজ শুনতে পায়।



উষ্ণ মরু অঞ্চলে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বেশি হয় কেন?

উত্তর: উষ্ণ মরু অঞ্চলে দিনেরবেলা তাপমাত্রা বেশি থাকায় অসমসত্ত্ব শিলা অধিক উত্তপ্ত হয় ও প্রসারিত হয়। অপরদিকে, রাত্রিবেলা তাপমাত্রা কম থাকায় সেই শিলা সংকুচিত হয়। এই প্রসারণ ও সংকোচন ক্রমাগত চলতে থাকায় শিলাগাত্রে প্রবল পীড়ন ও টানের সৃষ্টি হয়। ক্রমাগত পীড়ন ও টানের ফলে শিলাস্তরগুলিতে ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে এই ফাটল বরাবর শিলাস্তরগুলি আলগা হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ভেঙে যায়। এইজন্য উষ্ণ মরু অঞ্চলে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বেশি হয়।



যান্ত্রিক আবহবিকারে কী ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়?

উত্তর: শিলার শল্কমোচন ঘটলে গোলাকৃতি ভূমিরূপ তৈরি হয়। (যেমন - গ্রানাইটের শল্কমোচনে ঝাড়খণ্ডের রাচি হ্রদের পাশে ‘রাঁচি ডোম' সৃষ্টি হয়েছে। তুষার দ্বারা আবহবিকারে শিলা টুকরো টুকরো হয়ে তীক্ষ্ণ শিলাখণ্ডে পরিণত হয়। এঁদের ট্যালাস বা স্ক্রী বলে।



উয়-আর্দ্র জলবায়ুতে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি দেখা যায় কেন ?

নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় উম্ন-আর্দ্র জলবায়ুতে অধিক উষ্মতা ও বৃষ্টিপাতের কারণে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি হয়। কারণ— 1) বৃষ্টির জল পড়ার সময় বাতাসের CO₂ এর সঙ্গে মিশে মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত জল চুনাপাথরের (ক্যালশিয়াম কার্বনেট) সংস্পর্শে এলে ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট উৎপন্ন করে ও শিলার আবহবিকার হয় | 2) কোনো কোনো শিলার খনিজের জলশোষণ ক্ষমতা বেশি। ওইসব খনিজগুলি অধিক জলশোষণ করায় শিলার খনিজের অণুগুলির মধ্যে পারস্পরিক জোটবদ্ধতা নষ্ট হয়ে যায় ও শিলার আবহবিকার ঘটে| 3) আর্দ্র অঞ্চলে উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল মাটিতে পড়ার পর পচে গিয়ে প্রথমে হিউমাস ও পরে হিউমিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। এই অ্যাসিড শিলাকে বিয়োজিত করে ও আবহবিকার ঘটায় |



চুনাপাথর সমৃদ্ধ অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি হয় কেন?

উত্তর: বৃষ্টির জল পড়ার সময় বায়ুর CO₂ এর সাথে মিশে মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে| এই কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথরের সাথে মিশে ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি করে, যা জলে দ্রবীভূত হয়। এই কারণের জন্য চুনাপাথর সমৃদ্ধ অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি হয়। কার্বনেশন প্রক্রিয়ায় চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে চুনাপাথর বিয়োজিত এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নানা ধরনের ভূমিরূপ তৈরি করে। স্ট্যালাকটাইট, স্ট্যালাগমাইট হল এই ধরনের রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ।



আবহবিকারের ফলে কী কী ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়?

আবহবিকার এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ অথবা বিয়োজিত হয়ে স্বস্থানেই পড়ে থাকে। আবার ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে সেই সকল ক্ষয়িত পদার্থ স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং আবহবিকার এবং ক্ষয়ীভবন মিলিতভাবেই বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। যেমন— 1) গ্র্যানাইট জাতীয় শিলা শল্কমোচন প্রক্রিয়ার দ্বারা গোলাকৃতি ধারণ করে এবং অনেকক্ষেত্রে গম্বুজাকৃতি ভূমি সৃষ্টি করে। 2) উষ্ণ-মরু জলবায়ু অঞ্চলের শুক পরিবেশে ইনসেলবার্জ জাতীয় অবশিষ্ট পাহাড় সৃষ্টি হয়। অনেকক্ষেত্রে এগুলি আরও অধিক আবহবিকার এবং ক্ষয়ীভবন দ্বারা মেসা, বিউট-জাতীয় ভূমিরূপও সৃষ্টি করে। 3) আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে অনেকসময় টর জাতীয় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। 4) চুনাপাথরগঠিত অঞ্চলে দ্রবণ এবং অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ার ফলে গুহা, স্ট্যালাগটাইট, স্ট্যালাকমাইট, স্তম্ভ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। আবার অনেকক্ষেত্রে এরূপ অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র বা সিঙ্কহোলের মধ্যে দিয়ে নদীর জল প্রবেশ করে ভূপৃষ্ঠে শুষ্ক নদী উপত্যকা বা অন্ধ নদী উপত্যকা সৃষ্টি করে। 5) পর্বতের পাদদেশে ট্যালাস বা স্ক্রী সঞ্জিত হয়ে প্রস্তরময় ভূমি বা ফেলসেনমার সৃষ্টি করে।



আবহবিকার কীভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে?

উত্তর: মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধিতে আবহবিকারের ভূমিকা– 1) আবহবিকারের মাধ্যমে সৃষ্ট শিলাচল ভূত্বকের ওপর নরম আস্তরণ তৈরি করে, যাকে রেগোলিথ বলে। এই রেগোলিথের মধ্যস্থ খনিজগুলি বৃষ্টির জলের মাধ্যমে মাটির নীচের স্তরে যায় ও উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগান দেয়। 2) জৈব আবহবিকার প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের শিকড় শিলাকে ফাটিয়ে দেয়। এ ছাড়া কেঁচো, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণী মাটির গভীর পর্যন্ত গর্ত করে মাটিতে বায়ু চলাচলের সুযোগ করে দিয়ে মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি করে। 3) গাছের পাতা, ফুল, শিকড়, প্রাণীর দেহাবশেষ প্রভৃতি মাটির সাথে মিশে আবহবিকারের মাধ্যমে হিউমাস তৈরি করে। ওই হিউমাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।



ধাপচাষ কীভাবে মৃত্তিকা সংরক্ষণে সহায়তা করে?

পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের ঢাল বরাবর নেমে আসা জলের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে মাটির ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এক্ষেত্রে পার্বত্য ঢালের সমান্তরালে বিভিন্ন উচ্চতায় সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে কৃষিজমি প্রস্তুত করা হয়| এই কৃষিজমিগুলিকে মাটির ছোটো ছোটো বাঁধ দিয়ে ঘেরা থাকে। ফলে ঢাল বরাবর জলপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কৃষিজমিতেই জল জমতে থাকে | এভাবে জলের পৃষ্ঠীয়প্রবাহ হ্রাস পায় ও অনুস্রাবণ বৃদ্ধি পায় | এই ধাপ চাষে ব্যবহৃত ধাপ তিন প্রকার | যথা—

1) বেঞ্চ ধাপ : ধাপের নীচের অংশ সমতল থাকে এবং বাইরের দিকের প্রান্তে নীচু আল তৈরি করা হয়।

2) পর্যায়িত ধাপ : এই সকল ধাপগুলি প্রবহমান জলের গতিকে রোধ করে মৃত্তিকা সংরক্ষণে সহায়তা করে।

3) সমতল ধাপ: এই সকল ধাপের তলদেশ সমতল হয় এবং বিভিন্ন শস্য চাষের জন্য এখানে জল ধরে রাখা হয় এর ফলে মৃত্তিকাক্ষর নিয়ন্ত্রণ হয় এবং মাধ্যমে মৃত্তিকার সংরক্ষণ করা যায়।



আবহবিকারের ফলাফল উল্লেখ করো এবং আবহবিকারের ফলে কীভাবে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয় তা ব্যাখ্যা করো।

আবহবিকারের ফলাফল: 

আবহবিকারের ফলাফলগুলি হল নিম্নরূপ — 

1) ভূমিরূপের সৃষ্টি: আবহবিকারের ফলে আর্দ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলে টর, উষ্ণ মরু অঞ্চলে ইনসেলবার্জ, গোলাকৃতি পাহাড়, চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে দ্রবণ গর্ত, গুহা, স্ট্যালাকটাইট প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। 

2) খনিজের সৃষ্টি: শিলার বিয়োজনের মাধ্যমে নতুন ধরনের খনিজ পদার্থের সৃষ্টি হয়। যেমন—আৰ্দ্ৰ ক্রান্তীয় অঞ্চলে বক্সাইটের সৃষ্টি হয়।

3) কৃষিকার্যের সুবিধা: আবহবিকারের ফলে শিলাস্তর চূর্ণবিচূর্ণ হয় বলে মাটির জলধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মৃত্তিকায় জল ও বায়ুর সঞ্চালন ভালো হয় ফলে কৃষিকার্যের সুবিধা হয়।

4) রেগোলিথের সৃষ্টি: শিলার বিচূর্ণন ও বিয়োজনের ফলে রেগোলিথের সৃষ্টি হয়, তা পরবর্তী সময়ে মৃত্তিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 


আবহবিকারের ফলে মৃত্তিকার উৎপত্তি


আবহবিকারের মাধ্যমে মৃত্তিকার সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে কয়েকটি পর্যায়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে -

প্রথম পর্যায়: যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন প্রক্রিয়া (যেমন— প্রস্তরচাই খণ্ডীকরণ, শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিশরণ) এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদের দ্বারা জৈবিক আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়। ভূপৃষ্ঠের ওপর গঠিত এই আলগা শিলাচূর্ণের স্তরকে রেগোলিথ (Rego lith) বলে | যা হল মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রথম পর্যায়|

দ্বিতীয় পর্যায়: রেগোলিথের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল, বায়ু প্রভৃতি শিলার নীচের স্তরে প্রবেশ করে রাসায়নিক আবহবিকারের মাধ্যমে শিলাচূর্ণের খনিজ পদার্থ বিয়োজিত হয়। ওই বিয়োজিত খনিজ পদার্থ জলের দ্বারা ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) নীচের স্তরে নেমে আসে, একে এলুভিয়েশন বলা হয়।

তৃতীয় পর্যায় আবার অন্যদিকে রেগোলিথের উপরিভাগে জীবদেহজাত নানা ধরনের জৈব পদার্থ সঞ্চিত হয়। শিলাস্থিত অণুজীবেরা (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি) ওইসব জৈব পদার্থের বিয়োজন ঘটিয়ে হিউমাস তৈরি করে। ওই হিউমাস শিলাচূর্ণের সাথে মিশে শিলাচূর্ণকে নমনীয় করে এবং জলধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

রেগোলিথের সৃষ্টি, ধৌত প্রক্রিয়ায় খনিজ পদার্থের স্থানান্তর, হিউমাসের সৃষ্টি, বিয়োজন প্রভৃতি প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে এবং উপপৃষ্ঠীয় অংশে সূক্ষ্ম কণাযুক্ত আলগা স্তরের সৃষ্টি হয় যা, সোলাম (Solum) নামে পরিচিত। এই সোলাম থেকেই মৃত্তিকার উৎপত্তি ঘটে।

মৃত্তিকার ওপরের দিকের কণাগুলি সূক্ষ্ম হয় এবং গভীরতা বৃদ্ধিতে কণার আকারও বৃদ্ধি পায়। ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলির পার্থক্যের ভিত্তিতে মৃত্তিকায় কতকগুলি অনুভূমিক স্তর দেখা যায় । এগুলিকে ওপর থেকে নীচের দিকে যথাক্রমে A, B ও C স্তর নামে অভিহিত করা হয়।