দুর্যোগ ও বিপর্যয় বলতে কী বোঝ?
উত্তর: প্রাকৃতিক বা মানবীয় কারণে অথবা উভয়ের সম্মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট যে সকল ঘটনাবলি পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থার বিঘ্ন ঘটায় তাকে দুর্যোগ (hazard) বলে।
ক্ষপস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী যে সকল ঘটনাবলি প্রাকৃতিক বা মানবীয় কারণে সৃষ্টি হয়ে মানবজীবনকে বিপন্ন করে জীবন ও ধনসম্পত্তির প্রভূত ক্ষতিসাধন করে, তাকে বিপর্যয় (disaster) বলে। অর্থাৎ, বিপর্যয় হল দুর্যোগের পরিণতি।
জনবসতিহীন পার্বত্য ঢালে ধস নামলে তা দুর্যোগ কিন্তু বসতিপূর্ণ অঞ্চলে ধস নামলে এবং সেটি যদি বহু প্রাণ ও সম্পত্তিহানি ঘটায়, তখন তা বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
দুর্যোগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
দুর্যোগের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 1) দুর্যোগ হল একটি আকস্মিক ঘটনা, 2) পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্যোগের আবির্ভাব হয় না। এটি ক্ষুদ্র পরিসরে ঘটে, এর বিস্তারও কম। 3) অনেকসময় দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে, কিন্তু ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে না। 4) দুর্যোগ হল বিপর্যয়ের কারণ, দুর্যোগের পথ ধরেই বিপর্যয় আসে। 5) বাইরের কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই নিজেদের প্রচেষ্টায় দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা যায়।
বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগের শ্রেণিবিভাগ করো ও ব্যাখ্যা দাও।
দুর্যোগকে সাধারণভাবে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
1) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: যে সকল দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক শক্তির কারণে ঘটে থাকে, যেগুলিতে মানুষের কোনোরকম হস্তক্ষেপ থাকে না, সেগুলিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। যেমন—ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ইত্যাদি |
2) মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ: যে সকল দুর্যোগ কোনোরকম প্রাকৃতিক শক্তির সাহায্য ছাড়াই মানুষের নানাবিধ কাজকর্ম যথা—অজ্ঞতা, অসেচতনতা, কুসংস্কার, অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, হিংসা ইত্যাদির প্রভাবে ঘটে, সেগুলিকে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ বলা হয় । যথা—পরমাণু শক্তিকেন্দ্র থেকে অসাবধানতাবশত ঘটা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ।
3) আধাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ: প্রাকৃতিক শক্তি ও মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ যখন যৌথভাবে ক্রিয়াশীল হয়ে কোনো দুর্যোগ ঘটায় তখন সেগুলিকে আধাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। যেমন—অবৈজ্ঞানিকভাবে রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে মৃত্তিকার অনুর্বর হয়ে যাওয়া, মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপের ফলে নদীর গতিপথে বাঁধ নির্মাণ করে জলাধার স্থাপন, বৃক্ষচ্ছেদন বৃদ্ধি পাওয়া প্রভৃতি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে কী বোঝ? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ | যে সকল দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা সম্পন্ন হয়, ওই সকল দুর্যোগকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Hazard) বলা হয় |
বৈশিষ্ট্য: কেবল প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা এটি সংঘটিত হয়। মানুষের কোনোপ্রকার ভূমিকা প্রাকৃতিক দুর্যোগে থাকে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাময়িকভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারাকে ব্যাহত করতে পারে, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। উদাহরণ—ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস ইত্যাদি.
আধাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে কী বোঝা? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: যে সকল দুর্যোগ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ও মানুষের বিবিধ কার্যাবলির যৌথ প্রভাবে ঘটে, সেগুলিকে আধাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ (Quasi-natural Hazard) বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- এ জাতীয় দুর্যোগ মানুষ ও প্রাকৃতিক শক্তি উভয়ের প্রভাবে ঘটে থাকে।
- মানুষের জ্ঞান বা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না হলে এই দুর্যোগ অধিক ঘটে |
- এই প্রকারের দুর্যোগ অনেকসময় ভয়াবহ আকার নিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
উদাহরণ—বাঁকবহুল নদীপাড়ে ভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করা, বৃক্ষচ্ছেদন, অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ, বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদির জন্য নদীপাড়ে ভাঙন আরও দ্রুত সংঘটিত হয়ে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে।
মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ বলতে কী বোঝ? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: যে সকল দুর্যোগ মানুষের নানাবিধ অবিবেচনাপ্রসূত কাজকর্ম যথা—অজ্ঞতা, অবৈজ্ঞানিক মনোভাব, অশিক্ষা, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, হিংসা ইত্যাদির জন্য ঘটে, সেগুলিকে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ (Man-made Hazard) বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- এই জাতীয় দুর্যোগে প্রাকৃতিক শক্তির কোনো ভূমিকা থাকে না।
- মানুষের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা অবিবেচনাপ্রসূত কাজকর্ম এই ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি করে।
- এই ধরনের দুর্যোগ সমাজব্যবস্থাকে পিছিয়ে দেয়, জীবনযাত্রাকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করে।
উদাহরণ—পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ভূমিকম্প, অবৈজ্ঞানিক প্রথায় চাষাবাদের ফলে পার্বত্য ভূমিভাগে ধস নামা ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ।
দুর্যোগের মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: দুর্যোগের মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
1) অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ: মানুষের অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ অনেকসময় দুর্যোগের সৃষ্টি করে। যেমন—পাহাড়ের ঢালে বাড়ি নির্মাণ অথবা পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করলে ভূমিধসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়|
2) অশিক্ষা: অশিক্ষা মানুষের চিন্তার ক্ষেত্রকে সীমিত করে। শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতার কারণে মানুষ অবিবেচনাপ্রসূত এমন কিছু করে যা পরবর্তীকালে প্রকৃতি এবং প্রাণীজগৎ উভয়ের কাছেই দুর্যোগস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।
3) দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা বিবাদ: কুসংস্কার, ধর্মান্বতা প্রভৃতির কারণে সৃষ্ট জাতিগত বিরোধ বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগত দুর্যোগের সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রচুর সম্পত্তি ও প্রাণহানি ঘটে যা মানুষের সাময়িক ও অর্থনৈতিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে |
4) অতিরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি: জনসংখ্যার মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধিও অনেকসময় দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে। যেমন—কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে খাদ্যসমস্যার সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীকালে দুর্যোগের আকার ধারণ করে। আবার অল্প স্থানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করে যার ফলে বহু মানুষের মৃত্যুও হয়।
হড়পা বান কাকে বলে? হড়পা বান সৃষ্টির কারণগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে নীচু অঞ্চলে (কোনো পর্বত বা উচ্চভূমির পাদদেশীয় অঞ্চল) যখন অল্প সময়ে অত্যন্ত তীব্র জলপ্রবাহ নদীখাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন নদীর দু-পাড় জলমগ্ন হয়ে যায়, একে হড়পা বান বলে | হড়পা বান সৃষ্টির কারণগুলি হল—
1)অগ্ন্যুৎপাতের সময় প্রচণ্ড উত্তাপে আগ্নেয় পর্বতের ওপর সঞ্চিত তুষারের খুব তাড়াতাড়ি গলন হলে এই বন্যা সৃষ্টি হয়।
2) নদীর গতিপথে যদি কোনো কারণে ধস নামে তাহলে নদীপথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন বিপুল পরিমাণে জল বন্যার আকারে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
3) প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অথবা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে যে বৃষ্টিপাত হয় তার ফলেও হড়পা বান সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা সৃষ্টির প্রাকৃতিক কারণগুলি লেখো।
বন্যা সৃষ্টির প্রাকৃতিক কারণগুলি হল নিম্নরূপ—
1) দীর্ঘস্থায়ী অধিক বৃষ্টি: কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর জলধারণ ক্ষমতা অতিক্রান্ত হলে বন্যার সৃষ্টি হয়| অতীতে বর্ষাকালে দামোদর নদীতে এই কারণে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা সৃষ্টি হত।
2) নদীর গতিপথের আকৃতি: নদীর গতিপথ অপেক্ষাকৃত সোজা হলে দ্রুত জলনিকাশ হয়। কিন্তু অতি বাঁকযুক্ত বা সর্পিলাকার প্রবাহযুক্ত নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলধারা বাধাপ্রাপ্ত হয় বলে নদী থেকে দ্রুত জলনিকাশ হয় না। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
3) নদী অববাহিকার ভূমির ডাল: নদী এবং তার অববাহিকার ঢাল একটু বেশি হলে দ্রুততার সঙ্গে জল নিকাশ হতে পারে। কিন্তু ঢাল স্বল্প বা মৃদু হলে জলনিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয় ও বন্যা সৃষ্টি করে।
4) ঝড়-ঝঞ্ঝা ও জোয়ারের প্রাবল্য সমুদ্র উপকূলবর্তী অংশে সামুদ্রিক ঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা সৃষ্টি হয়। আবার অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে প্রবল জোয়ারের জল নদীর বিপরীত দিকে সবেগে প্রবেশ করে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বন্যার মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বন্যার মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি হল—
1) বৃক্ষচ্ছেদন: গাছ যেমন মাটিক্ষয় প্রতিরোধ করে, তেমনই বৃষ্টির পরিমাণকেও নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত গাছ কাটার ফলে মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত মৃত্তিকা নদীগর্ভে সঞ্চিত হয়ে নদীর জলধারণক্ষমতা কমিয়ে দেয় ফলে বন্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় | সুতরাং বৃক্ষচ্ছেদনের সাথে বন্যার ধনাত্মক সম্পর্ক বর্তমান।
2) নদী অববাহিকা অঞ্চলে মানুষের হস্তক্ষেপ: নদী অববাহিকায় মানুষের বসতি স্থাপন, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষিকার্যের বিস্তারের ফলে ভূমির ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে বন্যার সম্ভাবনা বাড়ে।
3) নদীপথের পরিবর্তন: মানবিক চাহিদাপূরণের উদ্দেশ্য, যেমন— নদীবাঁধ নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে নদীপথের কৃত্রিম পরিবর্তন ঘটানো হলে বন্যার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বলা যায়, মানবীয় কারণে সৃষ্ট বন্যা ব্যাপকভাবে পরিবেশ তথা মানবজীবনকে প্রভাবিত করে।
বন্যার প্রতিকূল প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
বন্যার প্রতিকূল বা কুপ্রভাবগুলি হল—
1) প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব: [i] বন্যার ফলে জলদূষণ ঘটে, [ii] পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, [iii] মৃত্তিকাদূষণ ঘটে এবং অনেক সময় মৃত্তিকার উর্বরাশক্তি কমে যায়।
2) বাতন্ত্রের ওপর প্রভাব: [i] প্রবল বন্যার স্রোতে ছোটো গাছপালা, ধান, শাকসবজির বিপুল ক্ষতি হয়, [ii] খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হয়. [iii] তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্যাভাব ঘটে, [iv] বন্যার জলস্রোতে অসংখ্য পশুপাখির প্রাণহানি ঘটে ফলে বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
3) মানুষের ওপর প্রভাব: [i] বন্যার প্রভাবে কৃষিকার্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়, [ii] বহু মানুষের প্রাণহানি ও সম্পত্তিহানি ঘটে, [iii] জলবাহিত রোগের (যেমন—কলেরা, টাইফয়েড ইত্যাদি) প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়, [iv] বাসগৃহ, পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন পরিসেবাক্ষেত্র ইত্যাদির বিঘ্ন ঘটে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
খরা সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা করো।
সাধারণত দুটি কারণে খরার সৃষ্টি হয়, যথা— প্রাকৃতিক কারণ ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণ।
প্রাকৃতিক কারণ: [i] দক্ষিগ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতে স্বাভাবিক সময়ের থেকে দেরিতে প্রবেশ করলে অথবা বর্ষাকাল চলাকালীন অনেকদিন বৃষ্টি না হলে অথবা সময়ের আগে মৌসুমি বায়ু প্রত্যাবর্তন করলে, [ii] এল নিনো, লা নিনা এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে, [iii] অধিক বাষ্পীভবনে মাটির আর্দ্রতা নষ্ট হলে খরার সৃষ্টি হয়।
মনুষ্যসৃষ্ট কারণ: [i] অতিরিক্ত বৃক্ষচ্ছেদনের কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্প হ্রাস পেলে, [iii] অতিরিক্ত নগরায়ণ, দূষণ ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট কারণে খরার সৃষ্টি হয়।
ধরার শ্রেণিবিভাগ করো।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ বিভাগ খরার যে শ্রেণিবিভাগটি করেছেন, তা হল নিম্নরূপ —
1) আবহাওয়া সংক্রান্ত খরা (Meterological Drought): দীর্ঘকাল বৃষ্টির অভাবে জলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়ার ফলে যে খরা সৃষ্টি হয়, তাকে আবহাওয়া সংক্রান্ত খরা বলে। এটি তিন প্রকার হয় যথা—
[i] তীব্র খরা: স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে 50% 75% কম বৃষ্টিপাতের ফলে সংঘটিত খরা।
[ii] মধ্যম খরা: স্বাভাবিকের থেকে 25% 50% কম বৃষ্টিপাতের কারণে সংঘটিত খরা।
[iii] মৃদু বা দুর্বল খরা: স্বাভাবিক অপেক্ষা 25% বা তার কম বৃষ্টিপাতের স্বল্পতাজনিত খরা।
2) জ্বল-সংক্রান্ত বা উদকীয় খরা (Hydrological Drought): জলের ঘাটতির ফলে সৃষ্ট খরাই হল জল-সংক্রান্ত খরা। এটি পুনরায় দুটি ভাবে হয়। যথা—
[i] ভূপৃষ্ঠস্থ খরা: বৃষ্টির অভাবে পুকুর, নদী, হ্রদ ইত্যাদি অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের জলভাণ্ডার শুকিয়ে যাওয়ার ফলে সংঘটিত খরা। [ii] ভৌমজলস্তরের খরা: বৃষ্টিপাতের অভাবে ভৌমজলস্তরে জলের
অনুপ্রবেশ বন্ধ হয় এবং জলতল নেমে যায় | অনেকক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভৌমজল নিষ্কাশনের জন্যও এইরূপ খরা সৃষ্টি হতে পারে।
3) কৃষি-সংক্রান্ত খরা (Agricultural Drought): বৃষ্টির অভাবে মৃত্তিকা শুষ্ক হয়ে গেলে শস্য বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায় না, ফলে শস্য বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। একে কৃষি-সংক্রান্ত খরা বলে | আবার ভৌমজল বের করার জন্য ভৌমজলস্তরও নেমে গিয়েও এই খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে | ভারতে সবুজ বিপ্লব পরবর্তীকালে এই অবস্থা ঘটেছিল।
খরার প্রভাবগুলি হল নিম্নরূপ —
1) প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব: [i] খরার ফলে মৃত্তিকায় জলের ঘাটতি হয় যা মৃত্তিকাকে শুষ্ক করে দেয়। [ii] ভৌমজলস্তর অনেকটাই নীচে নেমে যায়। [iii] জলাশয়, খালবিল শুকিয়ে যায়। [iv] দীর্ঘস্পার খরা মরুভূমির প্রসার ঘটিয়ে থাকে।
2) বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব: [i] জলের অভাবে উদ্ভিদ শুকিয়ে যায় বা পাতা ঝরে যায়। [ii] স্থায়ী খরার সঙ্গে অধিক তাপমাত্রা দাবানল সৃষ্টি করে। [iii] জলের অভাবের জন্য বিভিন্ন পশুপাখি অন্যত্র চলে যায়। অনেকসময় জল ও পানীয়ের সংকটে এদের মৃত্যুও ঘটে | সামগ্রিকভাবে বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হয়।
3) অর্থনীতির ওপর প্রস্তাব: [i] জলের অভাবে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ হয়। খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়। [ii] কৃষিজ কাচামালের ওপর নির্ভরশীল শিল্পও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। [iii] কৃষকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে।
4) মানুষের ওপর প্রভাব: [i] খরার প্রভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যায়। [ii] খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনে মানুষ বাধ্য হয়ে বাসস্থান পরিত্যাগ করে।
ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক কারণগুলি আলোচনা করো।
ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক কারণগুলি হল নিম্নরূপ—
1) পাত্র সঞ্চালন: ভূত্বক গঠনকারী পাতগুলি কোথাও পরস্পরের মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, আবার কোথাও পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় বা কোথাও একে অন্যকে পাশ কাটিয়ে অগ্রসর হয়। পাতের এরূপ সঞ্চালনের ফলে ভূমিকম্প ঘটে।
2) অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরি থেকে ম্যাগমা নির্গমনের সময় ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী চাপে অনেকসময় ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
3) সমস্থিতিজনিত কারণ: ম্যাগমা বা ভূত্বকীয় পাতের অনুপ্রবেশের সময় পর্বত, মালভূমি, সমভূমি প্রভৃতি ভূমিরূপগুলির সমস্থিতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। যেমন—সমস্থিতিক ভারসাম্য হ্রাসজনিত কারণে 1949 সালে লাহোরের ভূমিকম্প ঘটেছিল।
4) ধস ও হিমানী সম্প্রপাত: উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ওপর থেকে প্রকান্ড পাথরখণ্ড বা হিমবাহ (বরফ) নীচে পড়ে গেলে তার আঘাতে স্থানীয়ভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
5) উল্কাপাত: বড়ো আকারের উল্কা বা মহাজাগতিক বস্তুর পতনের ফলে সৃষ্ট আঘাতে ভূমিকম্প হতে পারে | আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা প্রদেশের মিটিওর ক্বাটার এরূপ একটি প্রকাণ্ড উল্কাপাতজনিত ভূমিকম্পের সাক্ষী।
ভূমিকম্প সৃষ্টির অপ্রাকৃতিক বা মানবীয় কারণ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: ভূমিকম্প সৃষ্টির অপ্রাকৃতিক বা মানবীয় কারণসমূহ হল—
1) বাঁধ নির্মাণ: নদীর প্রবাহপথে মানবীয় প্রয়োজন (জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও শিল্পে জলের জোগান প্রভৃতি) পূরণের উদ্দেশ্যে বাঁধ নির্মাণ করা হলে সেই বাঁধের পিছনে সঞ্ছিত জলরাশির প্রবল চাপেও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যেমন— 1967 সালে মহারাষ্ট্রের কয়না বাঁধে সতি জলের চাপে সেই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছিল।
2) পারমাণবিক বিস্ফোরণ: পরীক্ষামূলকভাবে পারমাণবিক বোমা।বিস্ফোরণের ফলেও ভূমিকম্প হয়। যেমন–1999 সালে রাজস্থানের পোখরানের পরীক্ষামূলকভাবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে ভূমিকম্প হয়েছিল।
3) খনির ছাদ ধসে পড়া: বিভিন্ন খনি অঞ্চলে মাটির তলা থেকে খনিজ সম্পদ বের করে নেওয়ার পর বালি দিয়ে সঠিকভাবে ভরাট না করার ফলে অনেকসময় খনির ছাদ ধসে পড়ে স্থানীয়ভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে থাকে। যেমন–রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে প্রায়ই এইরূপ ভূমিকম্প ঘটে থাকে।
ভূমিকম্পের প্রভাবগুলি উল্লেখ করো।
ভূমিকম্পের প্রভাবগুলি হল—
1) মাঝারি থেকে ভারী ভূমিকম্পে বাড়িঘর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
2) নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়।
3) পাহাড়ে ধস নামে |
4)রাস্তাঘাট, সেতু রেললাইন প্রভৃতি নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেকক্ষেত্রে বেঁকে যায় ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
5) বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
6) মাটির তলা থেকে জল, বালি, কাদা, ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে |
7) অনেকসময় সমুদ্রতলের উত্থান হয়।
হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ—এর কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ | এর কারণ– হিমালয় পর্বতমালা ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং এই পাতদুটি এখনও পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসছে বলে তাদের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে শিলাস্তরের পার্শ্ববর্তী চাপ ও পীড়নের ফলে শিলায় চ্যুতির সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ। 3 ভূমিধসের কারণেও পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এইসব কারণেই হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প বেশি ঘটে।
ভূমিভাগে ধস নামার প্রাকৃতিক কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।
ভূমিভাগে ধস নামার প্রাকৃতিক কারণগুলি হল নিম্নরূপ -
1) বৃষ্টিপাতের আধিকা: অধিক চালযুক্ত ভূমিভাগে (যেমন-পর্বত) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটলে শিলাস্তরে জল প্রবেশ করে তা ভূমিস্তাগকে আলগা বা শিথিল করে দেয়। ফলে ধসের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
2) শিলা গঠন: সাধারণভাবে দুর্বল ভূগঠন বিশেষত দারগ, চ্যুতি, ফাটলযুক্ত ভূমিরূপ অন্যন্য ভূমিরূপ অপেক্ষা দ্রুত আলগা হয়ে পড়ে ও ধসের সৃষ্টি হয় ।
3) ভূমির ঢাল: সমতল ভূমিভাগ অপেক্ষা পার্বত্য অঞ্চলের তালু ভূমিভাগে অভিকর্ষজ বলের টান অনেক বেশি থাকে। তা ছাড়া আবহবিকার ঘটার ফলে শিলাস্তর আলগা হয়ে থাকে। এজন্য এরূপ তালু ভূমিভাগে বেশিমাত্রায় ধস নামে।
4) ভূমিকম্প: ভূমিকম্প বা ভূ-আন্দোলনের ফলে চালু অঞ্চলে ধস নামতে পারে | যেমন—পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা এই কারণে অত্যধিক মাত্রায় ধসপ্রবণ।
5) মাটির চরিত্র: মাটিতে নুড়ি, বালির ভাগ বেশি থাকলে তাতে সহজে জল প্রবেশ করে ও আলগা করে দেয়। এর ফলেও ধস সৃষ্টি হতে পারে।
ভূমিধসের মানবীয় কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ভূমিধসের মানবীয় কারণগুলি হল—
বৃক্ষচ্ছেদন: গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে রাখে, ফলে মাটির গঠন দৃঢ় হয়। তবে মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত বৃক্ষচ্ছেদনের ফলে মাটি আলগা হয়ে পড়লে ধসের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বৃক্ষের পরিমাণের সাথে ধসের ঋণাত্মক সম্পর্ক।
নগরায়ণ: দুর্বল শিলা বা পার্বত্য এলাকার খাড়া ঢালে মানুষের নিজ প্রয়োজনে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর তৈরি করলে পাহাড়ে ধস লক্ষ করা যায়।
ঝুমচাষ: পাহাড়ি উপজাতিগোষ্ঠীর অবৈজ্ঞানিক প্রথায় ঝুমচাষ, ধাপচাষের ফলে ওই অঞ্চলে ধস প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
পশুচারণ: পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পশুচারণের ফলে গাছের পরিমাণ হ্রাস পায় যা ভূমিক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে, ফলে ধস প্রবণতা বাড়ে।
পার্বত্য এলাকা ধসপ্রবণ কেন?
বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা মানবীয় কারণে, ঢালের উপরিস্থিত পদার্থসমূহ (পাথর, শিলা, নুড়ি প্রভৃতি) আকস্মিকভাবে ভূপৃষ্ঠের ঢাল বরাবর অভিকর্ষের টানে নীচের দিকে নেমে এলে তাকে ধস বলে। ভারতের পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলসমূহ অধিক ধসপ্রবণ, কারণ—
1) ভূতাত্ত্বিক কারণ: পার্বত্য অঞ্চলের ভূমিভাগ অত্যধিক ঢালু হওয়ায় এখানে ধসের সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া পর্বতের পাদদেশে সতি আবহবিকারজাত শিলাচূর্গও ঢাল বেয়ে ধসের আকার নেমে আসে |
2) জলবায়ুগত কারণ: পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত এবং তুষারগলা জল শিলায় প্রবেশ করলে শিলা শিথিল হয়ে যায় এবং ধসের প্রবণতা বাড়ে।
3) মানুষের ভূমিকা: পাহাড়ি ঢালে বৃক্ষচ্ছেদন, বাসগৃহ নির্মাণ, রাস্তা তৈরি প্রভৃতির ফলে শিলাস্তর শিথিল হয়ে পড়ায় ধসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
হিমানী সম্প্রপাতের নিয়ন্ত্রণকারী বিষয়গুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: হিমানী সম্প্রপাত নিয়ন্ত্রণকারী বিষয়গুলি হল—
1) ভূমির ঢাল: অধিক তালযুক্ত ভূমিতে (35°-45°) বিশেষত উত্তল আকৃতির ঢালে হিমানী সম্প্রপাতের সর্বাধিক সম্ভবনা দেখা যায়। তা ছাড়া ঢাল মসৃণ হলে এই ধরনের বিপর্যয় আরও বৃদ্ধি পায়।
2) অতিরিক্ত তুষারপাত: পর্বতের শিখরদেশে অতিরিক্ত তুষারপাত হলে সেই তুষারের চাপে অনেক সময় বিশালাকার বরফের চাই খসে পড়ে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
3) তুষার গলন: সঞ্চিত তুষারের ওপর সৌরকিরণ পড়লে বা অপেক্ষাকৃত উম্ন বায়ু প্রবাহিত হলে তা সঞ্চিত তুষারকে ক্রমাগত গলিয়ে দেয়। এভাবে সঞ্চিত তুষার ক্রমাগত গলতে থাকলে একসময় আলগা হয়ে হিমানী সম্প্রপাত সৃষ্টি করতে পারে।
4) ভূমিকম্প: ভূমিকম্পের ফলেও বরফে ফাটল সৃষ্টি হয় ও হিমানী সম্প্রপাত ঘটতে পারে।
5) মানুষের ভূমিকা: মানুষের কাজকর্ম যেমন—পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক বা রেলপথ নির্মাণের জন্য ডিনামাইট বিস্ফোরণ, বৃক্ষচ্ছেদন, তুষারকেন্দ্রিক বিনোদনমূলক কাজ প্রভৃতিও হিমানী সম্প্রপাত ঘটাতে পারে।
রিজার্ড সম্পর্কে টীকা লেখো।
উত্তর: আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, রিজার্ড (Blizzard) হল একধরনের অতিশীতল বায়ুপ্রবাহ, যার মধ্যে তুষারকণা থাকে এবং বরফাবৃত ভূভাগের ওপর এটি ক্রিয়াশীল হয়।
বৈশিষ্ট্য: রিজার্ডের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ করা যায়—
[i] বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ: এই ঝড় চলাকালীন ঘণ্টায় প্রায় 56 কিমি বেগে অতিশীতল বায়ু প্রবাহিত হয়।
[ii] দৃশ্যমানতা: ঝড়ের সময় দৃশ্যমানতা খুব কমে যায়, স্বল্প দূরত্বেও কিছু দেখা যায় না।
[iii] ঝড়ের স্থায়িত্ব: এর স্থায়িত্ব কমপক্ষে প্রায় 3 ঘণ্টা হয়ে থাকে।
প্রভাবিত অঞ্চল: অ্যান্টার্কটিকা, উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ, কানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার উত্তরভাগ, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, তাসমানিয়ার পার্বত্য অঞ্চল ছাড়াও যে-কোনো বরফাবৃত উচ্চ পার্বত্য অংশে রিজার্ড দেখা যায়।
রিজার্ডের ফলাফল লেখো। অথবা, ব্লিজার্ড কীভাবে বিপর্যয় ডেকে আনে তা লেখো।
ব্লিজার্ডের উপস্থিতি অনেক সময় দুর্যোগ বা বিপর্যয় ডেকে আনে | একটানা দীর্ঘ সময় ধরে অতিশীতল বায়ুপ্রবাহের (তুষারকণা বহনকারী) ফলে বিভিন্নভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যেমন—
1) শারীরিক অসুস্থতা: তীব্র শীতল বায়ুপ্রবাহের ফলে মানুষের দৈহিক কষ্ট বৃদ্ধি পায়, শারীরিক উন্নতা হ্রাস পাওয়ায় অসুস্থতা দেখা যায়|
2) বিপর্যস্ত পরিবহণ ব্যবস্থা: এর ফলে ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ অংশে পুরু তুষারের স্তর জমা হয়, ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যেমন—1972 সালে ইরানে ব্লিজার্ডের প্রভাবে প্রায় 4000 মানুষ প্রাণ হারিয়ে ছিলেন।
3) বন্যা: এই ঝড়ের পর সস্কৃিত পুরু বরফের আস্তরণ গলে গেলে জলপ্রবাহ সৃষ্টি হয় | সেই জলপ্রবাহ থেকে বন্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
4) জনজীবন সুধ: দীর্ঘদিন ধরে অতিশীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে পরিবহণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, পানীয় জল সরবরাহ প্রভৃতি অতি প্রয়োজনীয় পরিসেবাগুলি স্তব্ধ হয়ে যায়। ফলে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অগ্ন্যুৎপাতের কারণগুলি হল নিম্নরূপ
1) পাত সঞ্চালনজনিত কারণ: পাতসংস্থান মতবাদ অনুসারে ভূত্বক কতকগুলি ছোটো-বড়ো পাতের সমন্বয়ে গঠিত। এই পাতগুলি ভূ অভ্যন্তরীণ পরিচলন তাপস্রোতের জন্য সঞ্চারণশীল। এগুলি কোথাও পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে, কোথাও পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, আবার কোথাও পরস্পরের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই অগ্ন্যুৎপাতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
2) ভৃত্বকীয় গঠন: ভূত্বক সর্বত্র সমান পুরু নয়। কোথাও ভূত্বক বেশ পুরু বা মোটা, আবার কোথাও-বা বেশ পাতলা | পাতলা অংশ অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয় বলে সেখানে বিভিন্ন ভূ-আলোড়ন সংঘটিত হলে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। ওই ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং সেখান দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে আসে।
3) ভূ-অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও বাষ্পচাপ: ভূত্বকের কোনো ফাটল বরাবর জন প্রবেশ করলে তা প্রচণ্ড তাপের প্রভাবে বাষ্পে পরিণত হয়। সেই বাষ্প বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেয় ফলে ফাটল বাড়তে থাকে এবং একসময় বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগ্ন্যুৎপাত ঘটায় | আবার ভূ অভ্যন্তরভাগের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে বিভিন্ন গ্যাসের চাপ বেড়ে গিয়েও অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রাকৃতিক প্রভাব
1) ভূমিরূপ গঠন: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি, আগ্নেয়পর্বত, জ্বালামুখ ও ক্যালডেরা, নানা প্রকার উদ্ভেদ (ডাইক, সিল) প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
2) ভূমিকম্প: অগ্ন্যুৎপাতের সময় সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে ভূপৃষ্ঠের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
3) পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের সংযুক্তি ঘটে, বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। সামগ্রিকভাবে কোনো স্থানের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
মানবীয় প্রভাব
1) তৃ-আন্তরণ সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বিস্তীর্ণ ভূমিভাগ লাভার আস্তরণে ঢাকা পড়ে যায়।
2) জীবন ও সম্পত্তিহানি: অগ্ন্যুৎপাত মানুষ, গবাদি পশু, বন্য জীবজন্তু, গাছপালা প্রভৃতি জীবজগতের উপাদান এবং বাড়িঘর, যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা ইত্যাদির ধ্বংসসাধন করে।
3) কৃষির সমস্যা: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বিস্তীর্ণ ভূভাগ লাভা দ্বারা আবৃত হওয়ায় কৃষিজমি নষ্ট হয়, মাটির চরিত্র তাপের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়, ছাই পড়ে মাটি অনুর্বর হয়ে যায় ও ফসল উৎপাদন হ্রাস পায়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বা ফলাফলসমূহ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বা ফলাফলগুলি হল—
1) প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব
[i] বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি : ঘূর্ণিঝড়ের ফলে গাছপালা ও জীবজগৎ ধ্বংস হয় | ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় |
[ii] বন্যা: অনেকসময় ঘূর্ণিঝড়ের ফলে কোনো এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
2)মানুষের ওপর প্রভাব
[i] জীবন ও সম্পত্তিহানি: বহু মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিনাশ ঘটে। পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে জনজীবন ব্যাহত হয়।
[ii] রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি: ঘূর্ণিঝড়ের ফলে জল দূষিত হলে কলেরাসহ বিভিন্ন জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
দাবানল সৃষ্টির কারণগুলি লেখো।
দাবানল সৃষ্টির কারপগুলি হল—
1) প্রাকৃতিক কারণ:
[i] বজ্রপাতের সময় বনভূমির শুকনো পাতা বা কাণ্ডে আগুনের ফুলকি পড়ে আগুন লাগতে পারে। [ii] শুষ্ক ঋতুতে, পার্বত্য তালে পাথরের টুকরো গড়িয়ে নামার সময় আগুনের ফুলকি সৃষ্টি হতে পারে। [iii] আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় অনেক ক্ষেত্রে বনাঞ্চলে দাবানল সৃষ্টি হতে পারে | [iv] গাছে গাছে ঘষা লেগে দাবানল সৃষ্টি হয় |
2) মনুষ্যসৃষ্ট কারণ:
[i] ঝুমচাষ পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করার সময় যখন জঙ্গল পুড়িয়ে কৃষিক্ষেত্রে তৈরি করা হয় সেই সময় বনভূমিতে দাবানল সৃষ্টি হতে পারে [ii] পর্বতারোহী বা শ্রমিকদের অস্থায়ী তাবু এবং রান্নার জন্য বা নিরাপত্তার জন্য জ্বালানো আগুন থেকেও বনভূমিতে আগুন লাগতে পারে। [iii] অসতর্কভাবে বনভূমিতে জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেটের টুকরো ফেললে তা থেকে দাবানল ঘটতে পারে।
দাবানলের ফলাফলগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: দাবানলের ফলাফলগুলি হল— 1) বনভূমিতে আগুন লাগলে বন্য জীবজন্তু ও গাছপালার ক্ষতি হয় | ফলে বনভূমির বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়। 2) বনভূমির মধ্যে যদি কোনো বসতি থাকে তাহলে অনেকসময় দাবানলে প্রভাবে সেই গ্রাম বা জনবসতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 3) দাবানলের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা বায়ুদূষণ ঘটায়। 4) মাটিক্ষয় হয় ও মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। 5) দাবানল সন্নিহিত অঞ্চলে বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 6) দাবানলের ছাই, স্থানীয় নদী ও পুকুরের জলে পড়ে জলের গুণমান হ্রাস করে।
সুনামি কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে? অথবা, সুনামির উৎপত্তির কারণগুলি সম্পর্কে লেখো |
উত্তর: সুনামি সৃষ্টির কারণগুলি হল—
1) সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প: সমুদ্রতলদেশে পাতের সালনের ফলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়, যার ফলে ব্যাপক আকারে সুনামি ঘটে | রিখটার স্কেলের মাত্রা যদি 7.5 বা তার বেশি হয়, তাহলে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ 2004 সালের 26 ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে সংঘটিত সুনামির কথা উল্লেখযোগ্য।
2) অগ্ন্যুৎপাত : সমুদ্রতলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলেও সুনামির সৃষ্টি হয়। যেমন—1883 সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সুনামি হয়েছিল।
3) উল্কাপাত: সমুদ্রগর্ভে বৃহদায়তন উল্কাপাতের ফলেও সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।
সুনামির প্রভাব/ফলাফল সম্পর্কে লেখো |
উত্তর: সুনামির উল্লেখযোগ্য প্রভাব/ফলাফলগুলি হল—
1) জলমগ্নতা: সুনামির কবলে পড়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল জলমগ্ন হয়। ফলে নিম্ন সমতল ভূমি বা চাষযোগ্য জমি লবণাক্ত জলের প্রভাবে উর্বরতা হারিয়ে ফেলে ও কৃষিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
2) জীবন ও সম্পত্তিহানি: আকস্মিকভাবে ব্যাপক আকারের সুনামি ঘটলে সেই সুনামির প্রভাবে মানুষসহ প্রচুর প্রাণীর জীবনহানি ঘটে। এর পাশাপাশি বন্দর, পোতাশ্রয়, জনবসতি, পরিবহণ ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। যেমন–2004 সালের 26 ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া সুনামির প্রভাবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার (ভারতসহ) 14টি দেশের প্রায় 2 লক্ষ 30 হাজার লোকের মৃত্যু ঘটেছিল।
3) সামুদ্রিক বাভুতন্ত্রের ক্ষতি: সুনামির ফলে সামুদ্রিক জীবজগৎ ব্যাপকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
4) দ্বীপের সৃষ্টি বা বিনাশ: সুনামির ফলে অনেক সময় কোনো নতুন দ্বীপের সৃষ্টি হতে পারে বা কোনো দ্বীপ ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে।
বিপর্যয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: বিপর্যয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ
1) জনজীবন বিপর্যস্ত: বিপর্যয় মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ এবং জনজীবনকে বিপর্যস্ত বা ব্যাহত করে।
2) সম্পত্তি জীবনহানি: বিপর্যয়ের ফলে প্রচুর পরিমাণে সম্পত্তিহানি জীবনহানি ঘটে।
3) ভূমিরূপ-সংক্রান্ত বিপর্যয়: নদী, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী শক্তিগুলির দ্বারা যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিরূপ সংক্রান্ত বিপর্যয় বলে। যেমন—নদীপাড়ের ভাঙন, পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস, সমুদ্র উপকূলের ক্ষয় প্রভৃতি।
4) বায়ুমণ্ডলীয় বিপর্যয়: আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তনে যে বিপর্যয় ঘটে তাকে বায়ুমণ্ডলীয় বিপর্যয় বলে। যেমন— ঘূর্ণিঝড়, বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো, তুষারঝড় প্রভৃতি।
5) মৃত্তিকাগত বিপর্যয়: মৃত্তিকার ক্ষয়, লবণতা বৃদ্ধি, মরুভূমির প্রসার, মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তির হ্রাস প্রভৃতি কারণে যে বিপর্যয় ঘটে, তাকে মৃত্তিকাগত বিপর্যয় বলে।
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাগুলি উল্লেখ করো।
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাসমূহ হল—
বিপর্যয়ের ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ক্ষতিসাধিত হয়ে থাকে | তাই বলা যায়, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার একমাত্র প্রয়োজনীয়তা হল এইসকল ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হ্রাস করা।
(1) আর্থিক ক্ষতিরোধ
[i] কৃষিজ ক্ষতিরোধ: বিভিন্ন দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের (যেমন—বন্যা, খরা, ভূমিকম্প প্রভৃতি) ফলে জমির লবণতা বৃদ্ধি ও উর্বরতা হ্রাস পায় | এর ফলে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হয় | বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে যে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয় তার দ্বারা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
[ii] শিল্পক্ষেত্রে ক্ষতিরোধ: দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সময় বিভিন্ন শিল্পজাত
দ্রব্য এবং শিল্পের পরিকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় | বিপর্যয় ব্যবস্থপনার ফলে শিল্পক্ষেত্রে এই ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়।
[iii] পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষতিরোধ: ধস, ভূমিকম্প প্রভৃতির ফলে পরিবহণ ব্যবস্থায় যে বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার দ্বারা বিকল্প পরিবহণ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিপর্যস্ত এলাকার পুনর্গঠন করা সহজ হয়।
[iv] অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষতিরোধ: কোনো বিপর্যয়প্রবণ এলাকায় কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন মানবিক ক্ষতি হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দ্বারা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাসের সাথে সাথে সেই অঞ্চলের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
2) সামাজিক ক্ষতিরোধ
[i] পুনর্বাসন-পুনর্গঠন: বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে বিপর্যস্ত এলাকায় জরুরিকালীন তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো যায় ও ত্রাণ পরিসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। এর দ্বারা সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত অধিবাসীদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প গঠন ও রূপায়ণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন করা যায়।
[ii] প্ৰয়োজনীয় দ্রব্যাদির জোগান: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিপর্যয়কালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিপর্যয়ের পরবর্তীকালে দ্রুত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়।
[iii] বাড়িঘরের ধ্বংসরোধ: বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সঠিক সময় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস রোধ করা সম্ভব হয়।
3) পরিবেশগত ক্ষতিরোধ
[i] দূষণরোধ: বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে, অনেকাংশেই দূষণ রোধ করা যায়। উদাহরণ— ধসপ্রবণ এলাকায় ধস প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাতাসে ধুলোর পরিমাণ কমে এবং বায়ুদূষণ রোধ হয়।
[ii] বাভুতন্ত্রের গঠন: বিপর্যয়ের ফলে কোনো এলাকার বাস্তুতন্ত্রের যতটা ক্ষতি হয়, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দ্বারা সেই ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা যায় | ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
[iii] প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতিরোধ: বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস, গবেষণা, মহড়া, সতর্কীকরণ দ্বারা বিপর্যয়ের ক্ষতির পরিমাণ যেমন এড়ানো যায় তেমনি বিপর্যয়ের পরিমাণও কমে।
বিপর্যয়ের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব কিভাবে ?
বিপর্যয় প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর বেশ কিছু উপায় আছে। এই উপায়গুলি বিপর্যয়ের ব্যবস্থাপনা নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থাপনাগুলি হল—
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: বিপর্যয় ঘটার আগেই বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি দ্বারা বিপর্যয়ের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব | যেমন—[i] জনসচেতনতা বৃদ্ধির সহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ করা, [ii] জরুরি আইন প্রণয়ন করা, [iii] অঞ্চলভিত্তিক সমীক্ষা ও মানচিত্র প্রস্তুত করে বিপর্যয়প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, [iv] দুর্যোগের পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য বা খবর বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি।
প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা: বিপর্যয়ের পরবর্তীকালীন সময়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর দুটি পর্যায় বর্তমান— [i] প্রথম পর্যায়ে বিপর্যয়কবলিত মানুষদের উদ্ধার ও ত্রাণকার্য শুরু করা এবং তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হয় | [ii] দ্বিতীয় পর্যায়ে, ভাঙা ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, পথঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জলের ব্যবস্থা প্রভৃতি নতুন করে গড়ে তুলে জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়|
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক ধাপ আলোচনা করো। অথবা, বিপর্যয় পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা সংক্ষেপে লেখো।
বিপর্যয়প্রবণ অঞ্চলে বিপর্যয়ের পূর্বে কিছু প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়—
1) তথ্য সংগ্রহ: এইক্ষেত্রে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কারণগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। যেমন—বন্যা ও খরার ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের (বিগত বছরগুলির) তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
2) তথ্য বিশ্লেষণ ও মানচিত্রকরণ: সংগৃহীত তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অঞ্চলের বিপর্যয়ের মাত্রার পার্থক্য অনুসারে মানচিত্রকরণ করা দরকার| যেমন—খরার ক্ষেত্রে 375 মিলি বার্ষিক বৃষ্টিপাতযুক্ত এলাকাকে চরম শুষ্ক অঞ্চল, 375-750 মিলি বার্ষিক বৃষ্টিপাতযুক্ত এলাকাকে প্রায় শুষ্ক অঞ্চল বলে চিহ্নিত করা হয়।
3) গবেষণী: সংগৃহীত তথ্যগুলির মানচিত্রায়ণের পর উক্ত অঞ্চলে দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে গবেষণা করা প্রয়োজন।
4) পূর্বাভাস: তথ্য বিশ্লেষণ এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলে বিপর্যয়ে ক্ষতির মাত্রা হ্রাস করা যেতে পারে।
5) প্রশিক্ষণ: বিপর্যয়ে ক্ষতির মাত্রা যাতে তুলনামূলকভাবে কম হয় সেই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র, রাজ্য, জেলা সকল স্তরে সেনাবাহিনীসহ সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
6) সতর্কীকরণ: বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জনসচেতনতার প্রসার ও আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিপর্যয়কালীন ব্যবস্থাপনাগুলি কী?
উত্তর: বিপর্যয় চলাকালীন তিন ধরনের ব্যবস্থাপনা নেওয়া যেতে পারে । যেমন—
1) উদ্ধারকার্য : বিপর্যয়ের সময় জরুরিকালীন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের উদ্ধারকার্যে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা উচিত। দ্রুততার সাথে বিপর্যয়গ্রস্ত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে।
2) ত্রাণ পরিসেবা: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে, বিভিন্ন NGO-র উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পরিসেবা পৌঁছে দিতে হবে। একইসাথে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও ওই পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, খাদ্য ও পানীয় জলের জোগান দেওয়া একান্ত কাম্য।
3) নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর: যদি বোঝা যায় বিপদের মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে তবে বিপর্যয়পীড়িত মানুষকে এই উপদূত স্থান থেকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার শেষ পর্যায় সংক্ষেপে লেখো | অথবা, বিপর্যয় পরবর্তী ব্যবস্থাপনা আলোচনা করো।
উত্তর: কোনো অঞ্চলে বিপর্যয় ঘটার পর সেই অঞ্চলের জনজীবনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য এর পরবর্তীতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেমন—
1) পুনর্বাসন বিপর্যস্ত এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পরিবহপ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিসেবাগুলিকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
2) পুনর্গঠন বিপর্যস্ত এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্প গঠন করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানবজীবনের কাঠামোকে পুনর্গঠন করা হয়ে থাকে । যেমন—খরাপ্রবণ এলাকায় জলবিভাজিকা প্রকল্প, সেচ প্রকল্প গঠনের দ্বারা বিপর্যয়ের প্রভাব ও প্রবণতা কমানো যায়।
প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্যোগ ও বিপর্যয়গুলিকে (ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত) সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা মানুষের না থাকলেও পূর্ব পরিকল্পনা ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই ব্যবস্থাপনা থাকলে বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে কিছুটা হ্রাস করা যায়।
বন্যার পূর্বে গ্রহণীয় ব্যবস্থাগুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: বন্যার পূর্বে গৃহীত ব্যবস্থাগুলি হল— 1) নদী অববাহিকার জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো, নদীর ধারণ অববাহিকা ও অববাহিকা অঞ্চলে বনসৃজন, ধাপ কেটে ঢালের পরিবর্তন, পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ, সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ ইত্যাদি। 2) নদীর অতিরিক্ত জল সঞ্চয় করে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত জলাধার ও ব্যারেজ নির্মাণ করা। 3) নীচু এলাকাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে বা নির্দিষ্ট দিকে বাঁধ দেওয়া বা ডাইক সৃষ্টি করা। 4) নদীর জলধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নদীগর্ভে সঞ্চিত পলির নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। 5) মৃতপ্রায় ও মজে যাওয়া নদীগুলির সংস্কার করা প্রয়োজন | 6) উপযুক্ত প্রচার ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্যা তথা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বন্যা চলাকালীন গ্রহণীয় ব্যবস্থাগুলি কী কী?
উত্তর: বন্য চলাকালীন যে ব্যবস্থাগুলি নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলি হল— 1) জল বাড়লে বাড়ির বাইরে না বেরিয়ে উঁচু স্থানে অবস্থান করতে হবে। 2) হাতের কাছে পলিথিন প্যাকেট, মোটা সুতো বা দড়ি, টর্চ, দেশলাই, মোমবাতি, দরকারি কাগজপত্র, শুকনো জামাকাপড়, শুকনো খাবার, রেডিয়ো, মশারি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখতে হবে। 3) বৈদ্যুতিক সুইচ, জলের কল ও গ্যায়ের সিলিন্ডারের মুখ ভালো করে কধ করে রাখতে হবে। 4) আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ ও ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ভূমিকম্পের পূর্বে এবং ভূমিকম্প চলাকালীন গ্রহণীয় গ্রহণীয় ব্যবস্খাসমূহ ব্যাখ্যা করো।
1) ভূমিকম্পের পূর্বে গ্রহণীয় ব্যবস্থাসমূহ: [i] ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ভূমিকম্পরোধক বাড়ি তৈরি করে তাতেই বসবাস করতে হবে| [ii] ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মানুষদের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, যেমন—পানীয় জল, খাদ্যসামগ্রী, টর্চ, মোমবাতি, হেলমেট ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে রাখা দরকার] [iii] ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের নিকটে কোথায় প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, ফায়ার স্টেশন আছে সে বিষয়ে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
2) ভূমিকম্প চলাকালীন গ্রহণীয় ব্যবস্থাসমূহ: ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতর থাকলে [i] ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে দূরে ফাকা জায়গায় চলে যেতে হবে। [ii] ঘরের মধ্যে থাকলে খাট, টেবিল ইত্যাদি শক্ত কোনো বস্তুর নীচে আশ্রয় নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত] [iii] মোমবাতি, দেশলাই, গ্যাস বা অন্যান্য কোনোভাবে আগুন জ্বালানো উচিত নয় | [iv] বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে|আবার ভূমিকম্পের সময় বাড়ির বাইরে থাকলে [v] বহুতল বাড়ি, গাছ ইলেকট্রিক তার থেকে তৎক্ষণাৎ দূরে সরে গিয়ে মাঠ বা কোনো ফাঁকা স্থানে চলে যেতে হবে।
সুনামি মোকাবিলার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
উত্তর: সুনামি মোকাবিলায় গ্রহণীয় পদক্ষেপসমূহ হল— 1) সুনামি যেহেতু আকস্মিক প্রাকৃতিক ঘটনা তাই আধুনিক উপগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুনামির আগাম বার্তা উপকূলবর্তী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা সমুদ্রে না যায় এবং সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। 2) সুনামির পূর্বেই সমুদ্রসৈকত এবং উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে মানুষদের অন্যত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। 3) পূর্বাভাস অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে হবে। 4) উপকূলবর্তী অঞ্চলে মৃত্তিকাক্ষয় রোধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয়প্রবণ এলাকাগুলি কী কী?
পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয়প্রবণ এলাকাগুলি হল—
1) দার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল: এই পাহাড়ি এলাকায় মূলত ধস, বন্যার প্রকোপ বেশি।
2) সুন্দরবন অঞ্চল: পশ্চিমবঙ্গের একেবারে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার প্রকোপ অধিক।
3) মালভূমি অঞ্চল: সমগ্র পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম জেলার পশ্চিমাংশ হল মালভূমি অঞ্চল | এই এলাকায় বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার জন্য খরার প্রকোপ লক্ষ করা যায়।
4) সমভূমি অঞ্চল: পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমগ্র দক্ষিণাংশ সমভূমির অন্তর্গত। এই এলাকা গাঙ্গেয় সমভূমির অন্তর্গত হওয়ায়, বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
