Class 9 Geography Chapter 9 (মানচিত্র ও স্কেল) অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Mark 2 Questions And Answers

মানচিত্র কী?

মানচিত্র হল সমতল কাগজে, নির্দিষ্ট স্কেল ও নির্দিষ্ট অভিক্ষেপে প্রচলিত সাংকেতিক চিহ্ন ও মূলনীতির সাহায্যে, পৃথিবী বা তার অংশবিশেষের প্রকাশ।



প্রাচীন মানচিত্রগুলি কী দিয়ে তৈরি করা হত ?

এস্কিমো, রেড ইন্ডিয়ান, মার্সাল দ্বীপবাসীদের আঁকা মানচিত্রগুলি নৃতত্ত্ববিদদের মতে প্রাচীন। সরু কাঠামোর সাথে তালপাতা দিয়ে মাছ বা শামুকের খোলা বেঁধে চার্ট তৈরি করা হত।



মানচিত্র আঁকার জন্য দিকের ব্যবহার প্রথম কোথায় শুরু হয়েছিল ? 

ব্যাবিলনে। ব্যাবিলনীয়রা মানচিত্র আঁকার ক্ষেত্রে উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম এই চারটি দিক প্রথম ব্যবহার করেছিল।



মানচিত্র আঁকার প্রধান উপাদানগুলি কী কী ?

মানচিত্র আঁকার প্রধান উপাদানগুলি হল স্কেল, অভিক্ষেপ, সমতলপৃষ্ঠ, বিষয়, উত্তররেখা নির্দেশ, সীমারেখা অঙ্কন প্রভৃতি।



উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে মানচিত্রকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায় ? 

উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে মানচিত্রকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—সাধারণ উদ্দেশ্যে নির্মিত মানচিত্র (যেমন—ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশের মানচিত্র) এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে নির্মিত মানচিত্র (যেমন—সড়কপথের মানচিত্র)।



স্কেলের ভিত্তিতে মানচিত্র কয়প্রকার ও কী কী? 

স্কেলের ভিত্তিতে মানচিত্র তিন প্রকার। যথা—ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র, মাঝারি স্কেল মানচিত্র ও বৃহৎ স্কেল মানচিত্র।



ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্রের সুবিধাগুলি কী কী ?

ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্রের সুবিধাগুলি হল— ক্ষুদ্র স্কেলে বড়ো অঞ্চলকে ছোটো করে দেখানো যায়। একটি কাগজে সমগ্র পৃথিবী বা তার অংশকে দেখানো যায়।



বৃহৎ স্কেল মানচিত্রের সুবিধাগুলি কী কী?

বৃহৎ স্কেল মানচিত্রের সুবিধাগুলি হল – 1) ছোটো অঞ্চলকে বড়ো করে দেখানো যায়। 2) আন্তর্জাতিক সাংকেতিক চিহ্নের সাহায্যে বিভিন্ন বিষয়কে মানচিত্রে তুলে ধরা যায়।



ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র কী ধরনের মানচিত্র ?

ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র মাঝারি স্কেল মানচিত্র। এই মানচিত্রের স্কেল 1:50000 থেকে 1 : 10000000 হয়ে থাকে। 



হ্রাসপ্রাপ্ত মানচিত্র কাকে বলে?

মানচিত্রকে যখন ছোটো করে প্রকাশ করা হয় তখন তা হ্রাসপ্রাপ্ত মানচিত্রে (reduced map) পরিণত হয়। এই কৌশলকে হ্রাসকরণ (reduction) বলে | এক্ষেত্রে মানচিত্রে স্কেলের অনুপাত বৃদ্ধি পায়।



বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মানচিত্র কাকে বলে?

মানচিত্রকে যখন বড়ো করে প্রকাশ করা হয় তখন তা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মানচিত্রে (enlarged map) পরিণত হয় | এই কৌশলকে বৃদ্ধিকরণ (enlargement) বলে । এক্ষেত্রে মানচিত্রে স্কেলের অনুপাত হ্রাস পায়।



ব্লু প্রিন্ট (Blueprint) কী?

ঘরবাড়ি, বাজার, নগর প্রভৃতি পরিকল্পনামতো নির্মাণের জন্য আগেই স্কেলের সাহায্যে একটি নকশা আঁকতে হয়, যা ব্লু প্রিন্ট (blue print) নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে স্কেল 1:500, 1:1250 1 ইঞ্চিতে ৪ ফুট প্রভৃতি হয়ে থাকে।



ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র কী? অথবা, মৌজা মানচিত্র কী?

ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্রে গ্রামীণ অঞ্চলের ভূমিভাগ জরিপ করে প্রতিটি জমির আকার, ক্ষেত্রফল, সীমারেখা নির্দিষ্ট দাগনম্বরসহ কেলের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে স্কেল সাধারণত 16 ইঞ্চিতে 1 মাইল হয়ে থাকে| 



ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র কী কাজে লাগে?

ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র ভূমিরাজস্ব অফিসে জমির খাজনা আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ভূমিব্যবহার মানচিত্র (landuse map) তৈরিতে এই মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। 



কোন্ স্কেলের মানচিত্রের সাহায্যে অ্যাটলাস বা গ্লোব আঁকা যায় ?

ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্রের সাহায্যে অ্যাটলাস বা গ্লোব আঁকা যায়। এই ধরনের মানচিত্রে বিষয়বস্তুর বিবরণ নিখুঁতভাবে থাকে না।



পরিমাণগত মানচিত্র কী?

পরিমাণগত মানচিত্রে ভৌগোলিক উপাদানের পরিমাণগত দিক (রাশিতথ্যের পরিমাণের তারতম্য, উচ্চতা, ক্ষেত্রফল প্রভৃতি) প্রকাশ করা হয়।

যেমন—ভারতের জনঘনত্ব মানচিত্র। 



বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র কী?

যেসব মানচিত্র বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানের মধ্যে থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে প্রদর্শন করে, সেগুলি হল বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র। অনেকক্ষেত্রে একাধিক বিষয় থাকতে পারে, তবে তাদের মধ্যে একটিমাত্র মূল বিষয় এবং বাকিগুলি সহযোগী বিষয় হয়। যেমন— জলবায়ুগত মানচিত্র।



প্রাকৃতিক মানচিত্র কাকে বলে?

মানচিত্রে যখন প্রাকৃতিক বিষয়গুলি (যেমন—ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু প্রভৃতি) দেখানো হয়, তখন তাকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে।



সাংস্কৃতিক মানচিত্র কাকে বলে?

যে মানচিত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে (যেমন – ধর্ম, ভাষা, জনসংখ্যার বঞ্ছন, জনঘনত্ব প্রভৃতি) উপস্থাপন করা হয়, তাকে সাংস্কৃতিক মানচিত্র বলে।



আবহাওয়া মানচিত্র কাকে বলে?

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যথা বায়ুর উন্নতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুর চাপ, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত মানচিত্রকে আবহাওয়া মানচিত্র বলে | এই মানচিত্রের সাহায্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।



রাজনৈতিক মানচিত্র বলতে কী বোঝ?

পৃথিবীর মানচিত্রে বিভিন্ন দেশ বা ভূখণ্ডের অবস্থান, সীমা, রাজধানী, প্রশাসনিক কেন্দ্রের অবস্থান ইত্যাদি রাজনৈতিক মানচিত্রে দেখানো হয়। এই মানচিত্র থেকে কোনো দেশের বা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।



বন্ধুরতা মানচিত্র কাকে বলে?

যেসব মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের উচ্চতা, গভীরতা, পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি সম্পর্কে উল্লেখ থাকে, তাদের বন্ধুরতা মানচিত্র (relief map) বলে| মূলত সমোন্নতি রেখার সাহায্যে এই মানচিত্র প্রদর্শিত হয়।



মানচিত্র স্কেল ?

 মানচিত্রে দুটি বিন্দুর দূরত্ব ও ভূপৃষ্ঠের ঠিক ওই দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বের অনুপাত হল স্কেল। যেমন—মানচিত্রে 1 সেমি দূরত্ব ভূপৃষ্ঠের 500 মিটার দূরত্বের সমান হলে মানচিত্রের স্কেল হবে 1 সেমিতে 500 মিটার।



প্রকাশের মাধ্যম অনুযায়ী স্কেল কয় প্রকার ও কী কী?

প্রকাশের মাধ্যম অনুযায়ী স্কেল তিন প্রকার | যথা – 1) বিবৃতিমূলক স্কেল (statement scale), 2) ভগ্নাংশসূচক স্কেল (representative fraction scale) এবং 3) লৈখিক স্কেল (graphical scale)।



মানচিত্রে স্কেলের প্রয়োজনীয়তা কতখানি?

মানচিত্র হল নির্দিষ্ট স্কেলে সমগ্র পৃথিবীর বা পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো অংশকে জ্যামিতিক পদ্ধতিতে দ্বিমাত্রিক উপস্থাপন। স্কেল ছাড়া মানচিত্র অঙ্কন সঠিক নয়। তাই মানচিত্র অঙ্কনে স্কেলের ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।



ভগ্নাংশসূচক স্কেল ?

জন্নাংশসূচক ফেলে মানচিত্রে দুটি বিন্দুর দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠে ওই দুটি বিন্দুর প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে ভগ্নাংশ বা আনুপাতিকভাবে প্রকাশ করা হয়। যেমন—কোনো মানচিত্রের ফেন্স 1: 3000 অর্থাৎ মানচিত্রের। একক দূরত্ব ভূপৃষ্ঠের 3000 একক দূরত্বের সমান।



ভগ্নাংশসূচক স্কেলের সুবিধাগুলি কী কী?

ভগ্নাংশসূচক স্কেলের সুবিধাগুলি হল— 1) ভগ্নাংশসূচক স্কেল এককবিহীন (unitless) স্কেল হওয়ায় যে কোনো এককে সহজেই এর পরিবর্তন করা যায়। 2) এই স্কেলকে সহজেই বিবৃতিমূলক এবং রৈখিক স্কেলে রূপান্তর করা যায়।



ভগ্নাংশসূচক স্কেলের অসুবিধাগুলি কী কী?

ভগ্নাংশসূচক স্কেলের দুটি অসুবিধা হল– 1) অনভিজ্ঞ মানচিত্র পাঠকদের কাছে এই স্কেলের মাধ্যমে মানচিত্র পাঠ অসুবিধাজনক। 2) কোনো মানচিত্রকে ছোটো বা বড়ো করলে নতুন করে এই স্কেল নির্ধারণ করতে হয়।



বিবৃতিমূলক স্কেল কী?

বিবৃতিমূলক স্কেলে মানচিত্রে দুটি বিন্দুর দূরত্ব ও ভূমিভাগে ওই দুটি বিন্দুর প্রকৃত দূরত্বের সম্পর্ককে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যেমন— 1 সেমিতে 2 কিমি। এক্ষেত্রে বুঝতে হবে, মানচিত্রের ওপর 1 সেমি দূরত্ব ভূপৃষ্ঠে 2 কিমি দূরত্বকে নির্দেশ করছে।



বিবৃতিমূলক স্কেলের সুবিধাগুলি কী কী ?

বিবৃতিমূলক স্কেলের সুবিধাগুলি হল— 1) সহজেই প্রকাশ করা যায়। 2) জটিল গণনা করতে হয় না এবং ছবি এঁকেও দেখাতে হয় না।



লৈখিক স্কেল কাকে বলে?

মানচিত্র ও ভূমিভাগের দুটি বিন্দুর দূরত্বের সম্পর্ককে যখন চিত্র এঁকে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে লৈখিক স্কেল বলা হয়।



রৈখিক স্কেল কাকে বলে?

মানচিত্র এবং ভূমিভাগের নির্দিষ্ট দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে যে ফেলে সরলরেখার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকে রৈখিক স্কেল ( linear scale) বলে। এই স্কেলে দুটি অংশ থাকে। যথা—প্রাথমিক বিভাগ ও গৌণ বিভাগ।



রৈখিক স্কেলের সুবিধাগুলি কী কী?

রৈখিক স্কেলের দুটি সুবিধা হল— 1) সরলরেখার মাধ্যমে রৈখিক স্কেল প্রকাশ করা হয় বলে সহজে বোঝা যায়। 2) মানচিত্রটিকে ছোটো বা বড়ো করলে অঙ্কিত স্কেলটিও আনুপাতিক হারে ছোটো বা বড়ো হয় বলে স্কেল ব্যবহারে অসুবিধা হয় না।



রৈখিক স্কেলের মুখ্যভাগ ও গৌভাগ কাকে বলে? 

একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের সরলরেখাকে যখন সুনির্দিষ্ট কতকগুলি সমান অংশে ভাগ করা যায় তখন ওই এক একটি অংশকে মুখ্যভাগ বলে। আবার মুখ্যভাগকে যখন আরও কতকগুলি ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা হয়, তাকে গৌণভাগ বলে।



তুলনামূলক স্কেল কাকে বলে?

দুটি ভিন্ন এককের মধ্যে তুলনার জন্য পাশাপাশি যখন দুটি স্কেল অঙ্কন করা হয়, তখন তাকে তুলনামূলক ফেল (Comparative Scale) বলে। তুলনামূলক ক্ষেলে, দুটি স্কেলেরই প্রাথমিক ও গৌণ বিভাগের মান একই হলেও একক পৃথক হয়। যেমন- 10 কিমি ও 10 মাইল।



কণীয় স্কেল কাকে বলে ?

সদৃশকোণী ত্রিভুজের নীতি অনুযায়ী আয়তক্ষেত্রাকার ছকে দুটি কর্ণকে যুক্ত করে রৈখিক স্কেলের গৌপভাগের মানকে ভগ্নাংশে পরিণত করে আরও শুক্ষ্ম মান পাওয়ার জন্য যে স্কেল তৈরি করা হয়, তাকে কর্ণীয় লেdiag onal scale) বলে।



ভার্নিয়ার স্কেল কী?

ভার্নিয়ার স্কেলে, মূল স্কেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরণযোগ্য ছোটো স্কেল থাকে, যার সাহায্যে ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশ মানের পরিমাপ করা হয়।



কোনো মানচিত্রের স্কেল 1 50000–একে বিবৃতিমূলক স্কেলে প্রকাশ করো।

মানচিত্রের স্কেল 1:50000। এই আনুপাতিক স্কেলকে R.R বা ভগ্নাংশসূচক স্কেল বলা হয়। এই স্কেলে কোনো একক থাকে না, ফলে বিবৃতিমূলক স্কেলে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে যে কোনো এককের সাহায্য নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনুপাতের লব অর্থাৎ 1 সবসময় মানচিত্র দূরত্ব এবং হর অর্থাৎ 50000 ভূমি দূরত্ব নির্দেশ করে। এই R.E. স্কেলকে বিবৃতিমূলক স্কেলে এভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে | যেমন—মানচিত্রে 1 সেমি দূরত্ব ভূমিভাগে 50000 সেমি বা 500 মিটার দূরত্ব নির্দেশ করছে।