প্রশ্ন: ফ্রান্সে কনসুলেট শাসনব্যবস্থা কে, কবে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: 1799 খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে কনসুলেট শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তবে এই শাসনব্যবস্থার অন্য দুইজন কনসাল ছিলেন রোজার ডুকাস ও অ্যাবে সিয়েস।
প্রশ্ন: নাগরিক আইন কী?
উত্তর: ফরাসি বিপ্লবের আদর্শকে সামনে রেখে 1789 খ্রিস্টাব্দের 26 আগস্ট ফরাসি নাগরিকদের জন্য যে অধিকার ঘোষণা করা হয়, তাকে নাগরিক আইন বলা হয়। এতে বলা হয় যে, মানুষ স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিয়েই জন্মগ্রহণ করে, আইন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন, আইনের চোখে সবাই সমান প্রভৃতি।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কীভাবে প্যারিসে জাতীয় সভা রক্ষা করেন?
উত্তর: 1795 খ্রিস্টাব্দে রাজতন্ত্রের সমর্থক উচ্ছৃঙ্খল জনতা প্যারিসে ‘জাতীয় সভা' আক্রমণ করে। নেপোলিয়ন তখন ফরাসি বাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল। তিনি অল্প সংখ্যক সেনার সাহায্যে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে প্যারিসের জাতীয় সভাকে রক্ষা করেন।
প্রশ্ন: অক্টোবরের ঘটনা' (ভঁদেমিয়ার ঘটনা) বলতে কী বোঝ?
উত্তর: 1795 খ্রিস্টাব্দে 5 অক্টোবর রাজতন্ত্রের সমর্থক উচ্ছৃঙ্খল জনতা ফরাসি জাতীয় সভা আক্রমণ করে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নেপোলিয়ন অল্প সংখ্যক সেনার সাহায্যেই উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এই ঘটনাই ইউরোপের ইতিহাসে ‘অক্টোবরের ঘটনা’ বা ‘ভর্দেমিয়ার ঘটনা’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: ‘18 ব্লুমেইয়ার ঘটনা’ কী?
উত্তর: মিশর অভিযানে ব্যর্থতার পর ফ্রান্সের অভ্যন্তরে ডাইরেক্টরি শাসনের দুর্বলতার সুযোগে নেপোলিয়ন ফ্রান্সের ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেন। ফরাসি 18 ব্রুমেইয়ার তারিখে (9 নভেম্বর, 1799 খ্রি.) তিনি সসৈন্যে কাউন্সিল গৃহে উপস্থিত হয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। এই ঘটনা ‘18 ব্লুমেইয়ার ঘটনা' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কীভাবে তুলো বন্দরের বিদ্রোহ দমন করেন?
উত্তর: 1793 খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সুযোগে ব্রিটিশ সেনাপতি ক্যাপ্টেন হুড্ এর নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ভূমধ্যসাগরের উপকূলে ফরাসি অধিকৃত তুলোঁ বন্দর অবরোধ করে। নেপোলিয়ন অল্প সংখ্যক সেনা নিয়ে 1793 খ্রিস্টাব্দে (ডিসেম্বর) অতর্কিত হানা দিয়ে তুলোঁ বন্দরে অবরোধ মুক্ত করেন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কর্তৃক তুলোঁ বন্দর রক্ষার গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়ন কর্তৃক তুলোঁ বন্দর রক্ষার 2টি গুরুত্ব ছিল, যেমন— 1. তিনি ফরাসি বিপ্লবকালীন জাতীয় কনভেনশনের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। 2. এই সাফল্যের জন্য তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত হন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কীভাবে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান ?
উত্তর: 1795 খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত ডাইরেক্টরি শাসন ফরাসিবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। আর্থিক সংকট, দুর্নীতি ও অরাজকতার কারণে ডাইরেক্টরি শাসন জনপ্রিয়তা হারায়। অতঃপর নেপোলিয়ন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কয়েকজন ডাইরেক্টরকে নিয়ে 9 নভেম্বর 1799 খ্রিস্টাব্দে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের যুগ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: 1799 খ্রিষ্টাব্দে নেপোলিয়ন ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে শাসন ক্ষমতা দখল করেন এবং 1804 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি জাতির উপাধি গ্রহণ করেন। এভাবে 1799 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1814 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি অপ্রতিহত কর্তৃত্ব নিয়ে ফ্রান্স শাসন করেন এবং প্রায় সমগ্র ইউরোপ তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাই 1799–1814 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল ইউরোপের ইতিহাসে ‘নেপোলিয়নের যুগ’ নামে অভিহিত।
প্রশ্ন: ক্যাম্পো-ফোর্মিও’-র সন্ধি সম্পর্কে কী জানো ?
উত্তর: ক্যাম্পো-ফোর্মিও’র সন্ধি হল নেপোলিয়নের সামরিক কৃতিত্বের প্রথম স্বাক্ষর। নেপোলিয়নের কাছে আরকোলা (১৭৯৬ খ্রি.) এবং রিভেলির (১৭৯৭ খ্রি.) যুদ্ধে পরাজিত হয়ে অস্ট্রিয়া ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স বিরোধী প্রথম শক্তিজোট ভেঙে যায়।
প্রশ্ন: কনসুলেটের শাসনকালে 'অষ্টম বর্ষের সংবিধান' বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কনসুলেটের শাসনকালে প্রবর্তিত নতুন সংবিধান অষ্টম বর্ষের সংবিধান নামে পরিচিত। এই সংবিধানে 1. প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়। 2. চার কক্ষযুক্ত আইনসভার ওপর আইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং 3. প্রথম কনসালের হাতে শাসনের কার্যকরী ক্ষমতা রাখা হয়।
প্রশ্ন: প্রথম কনসাল হিসেবে নেপোলিয়ন কী কী ক্ষমতার অধিকারী হন?
উত্তর: কনসুলেটের সংবিধান অনুযায়ী তিনজন কনসাল নিয়ে গঠিত শাসন পরিষদের ওপর দেশের শাসনভার ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রথম কনসাল হিসেবে নেপোলিয়নই ছিলেন সর্বেসর্বা। তার হাতে আইন প্রণয়ন, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ক্ষমতা দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: কোন্ কোন্ দেশ নিয়ে কবে প্রথম ফ্রান্স বিরোধী শক্তিজোট গঠিত হয়?
উত্তর: 1793 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, স্পেন, পোর্তুগাল, সার্ডিনিয়া প্রভৃতি দেশ ফ্রান্স বিরোধী প্রথম শক্তিজোট গঠন করে।
প্রশ্ন: কোন্ কোন্ দেশ নিয়ে কবে ফ্রান্স বিরোধী দ্বিতীয় শক্তিজোট গঠিত হয়?
উত্তর: ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পোর্তুগাল, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ নিয়ে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স বিরোধী দ্বিতীয় শক্তিজোট গঠিত হয়।
প্রশ্ন: ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তৃতীয় শক্তিজোেট কারা গড়ে তুলেছিল?
উত্তর: 1805 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ নিয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তৃতীয় শক্তিজোট গঠিত হয়।
প্রশ্ন: কনসুলেটের শাসন কী?
উত্তর: ডাইরেক্টরি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে 1799 খ্রিস্টাব্দে (9 নভেম্বর) নেপোলিয়ন যে শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন সেই শাসনব্যবস্থার নাম ‘কনসুলেট শাসন’। এই শাসনব্যবস্থা অনুসারে ফ্রান্সের প্রশাসন ব্যবস্থার তিনজন কনসালকে নিয়ে এক প্রশাসক মণ্ডলী নিযুক্ত করা হল। এদের মধ্যে প্রথম কনসাল ছিলেন নেপোলিয়ন এবং অপর দুজন হলেন অ্যাবে সিয়েস ও রজার ডুকোস। তাঁরা ছিলেন প্রথম কনসালের সহকারী ও আজ্ঞাবাহী মাত্র।
প্রশ্ন : কনসুলেটের সংবিধান কী?
উত্তর: কনসুলেটের শাসনকালে প্রবর্তিত নতুন সংবিধান অষ্টম বর্ষের সংবিধান নামে পরিচিত। এতে প্রথম কনসাল হলেন নেপোলিয়ন এবং অপর দুজন ছিলেন প্রথম কনসালের সহযোগী। আইনসভাকে চারটি কক্ষে ভাগ করা হয়। এতে মুখ্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন স্বয়ং নেপোলিয়ন।
প্রশ্ন : নেপোলিয়নকে কেন মিশর অভিযানে পাঠানো হয়েছিল?
উত্তর: ইতালি জয় করে ফ্রান্সে ফিরে এলে ফরাসি জনগণ নেপোলিয়নকে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা জানায়। নেপোলিয়নের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ডাইরেক্টরি তাঁকে মিশর জয়ের জন্য আদেশ দেয়। পিরামিডের যুদ্ধে জয়লাভ করলেও নীলনদের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি নেলসনের হাতে তিনি পরাজিত হন। এবং কোনোক্রমে দেশে ফিরে আসেন।
প্রশ্ন: নীলনদের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?'
উত্তর: 1798 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সেনাপতি নেপোলিয়ন ও ইংরেজ সেনাপতি নেলসনের মধ্যে নীলনদের যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবহর ফরাসি নৌবহরকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেয়।
প্রশ্ন: অ্যামিয়েন্সের সন্ধির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: 1802 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির ফলে সাময়িককালের জন্য হলেও উভয় দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয়। এই সন্ধি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই ফ্রান্স বিরোধী দ্বিতীয় শক্তিজোট ভেঙে যায়।
প্রশ্ন: অস্টারলিজের যুদ্ধের গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়ন 1802 খ্রিস্টাব্দে (2 ডিসেম্বর) অস্টারলিজের যুদ্ধে রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার যুগ্ম বাহিনীকে। শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। অস্ট্রিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিস ফ্রান্সের সঙ্গে প্রেসবার্গের সন্ধি (26 ডিসেম্বর 1806 খ্রি.) স্বাক্ষরে বাধ্য হয়। এর ফলে ফ্রান্স বিরোধী তৃতীয় শক্তিজোট ভেঙে যায়।
নেপোলিয়ন কর্তৃক ফ্রান্সের ক্ষমতা লাভের গুরুত্ব কী ?
উত্তর: নেপোলিয়ন কর্তৃক ফ্রান্সের ক্ষমতা লাভের প্রধান গুরুত্ব ছিল তিনটি, যথা: 1. নেপোলিয়নের ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে। ফরাসি বিপ্লবের সাম্যনীতি বাস্তবায়িত হয়; 2. নেপোলিয়নের নেতৃত্বে কনসুলেটের শাসন ছিল রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পদক্ষেপ এবং 3. ক্ষমতা লাভ করে নেপোলিয়ন ফ্রান্সকে কেন্দ্র করে ইউরোপে ফরাসি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়নের বিভিন্ন ভাগগুলি লেখো।
উত্তর: কোড নেপোলিয়নের মোট 2287টি ধারা (মতান্তরে 2281) আছে এবং এই ধারাগুলি প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। যথা— 1. বাণিজ্যিক কোড, 2. দেওয়ানি কোড ও 3. ফৌজদারি কোড।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়ন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: 1. ফ্রান্সে বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত আইনগুলির সমন্বয় সাধন করা হয়, 2. ফরাসি বিপ্লবে সাম্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়, 3. কোড নেপোলিয়নের মূল নীতিগুলি অনুসরণ করে ইউরোপীয় দেশগুলি নিজেদের সংবিধান পরিবর্জন ও পরিবর্ধন করে। এই সকল কারণে কোড নেপোলিয়ন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়নের কয়েকটি ত্রুটি উল্লেখ করো।
উত্তর: কোড নেপোলিয়ন একেবারে ত্রুটিমুক্ত ছিল না। কারণ— 1. রোমান আইনকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, ফলে আইনসংহিতায় বৈচিত্র্যের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 2. নারীকে পুরুষের অধীনে রাখা হয়, 3. শ্রমিকদের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, কাজের অধিকার, নিম্নতম মজুরির অধিকার এমনকি ধর্মঘটের অধিকারও দেওয়া হয়নি। 4. পারিবারিক সম্পত্তির অধিকার থেকে নারীদের বঞ্ছিত করা হয়। বলা হয় স্বামীর সম্পত্তি ছাড়া নারীরা কোনো সম্পত্তি অর্জন, বিক্রি বা দান করবে না।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নকে ‘দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান’ বলা হয়-কেন?
উত্তর: ‘আইন সংহিতা' রচনার জন্য নেপোলিয়নকে দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান বা বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের প্রেস্টিনিয়ান বলা হয়। মধ্য যুগে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের বা বাইজানটাইন •সাম্রাজ্যের সম্রাট জাস্টিনিয়ান তাঁর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন • অইিনগুলিকে প্রথম একটি গ্রন্থে সংকলিত করেন। নেপোলিয়নও ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত আইনগুলির সমন্বয়সাধন করে কোড নেপোলিয়ন রচনা করেন। তাই নেপোলিয়নকে জাস্টিনিয়ানের সঙ্গে তুলনা করে ‘দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়নের দেওয়ানি কোড সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর: কোড নেপোলিয়নের দেওয়ানি আইনগুলিতে বলা হয়—আইনের চোখে সকলে সমান। সমাজে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ লাভের অধিকার আছে। ‘Career open to talent' এই নীতি স্বীকৃতি পায়। গির্জার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিপ্লবের সময় যারা কিনেছিল সেই সম্পত্তিকে তাদের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়নের ফৌজদারি কোডে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: ফৌজদারি কোডে বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জুরি প্রথার প্রবর্তন করা হয়। রাজনৈতিক অপরাধীদের সাধারণ অপরাধীদের থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেওয়া হয়। অপরাধীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের প্রথা লোপ করা হয়। ফৌজদারি আইনের সাহায্যে ফ্রান্সে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়ন কী?
উত্তর: ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত আইনগুলির পার্থক্য দূর করে এবং পরস্পর বিরোধী আইনগুলির মধ্যে ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে নেপোলিয়ন বিশিষ্ট আইনবিদদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন। নেপোলিয়নের উদ্যোগে এই আইন পরিষদের চার বছরের (১৮০০–১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে) অক্লান্ত প্রচেষ্টায় যে আইনবিধি রচিত হয় তাকেই ‘কোড নেপোলিয়ন’ বা ‘নেপোলিয়নের আইন সংহিতা' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়ন প্রবর্তনের কারণ কী ছিল?
কোড “নেপোলিয়ন প্রবর্তনের প্রধান কারণগুলি ছিল— 1. ফরাসি বিপ্লবকালে ঘোষিত বিধি ও আইন ব্যবস্থাকে আইনগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা। 2. ফ্রান্সে প্রচলিত আইন ব্যবস্থাকে (যেমন—স্থানীয় আইন, যাজকীয় আইন, রাজকীয় অনুশাসন, সামন্ততান্ত্রিক বিধি) জটিলতা মুক্ত করে একই ধরনের আইন স্থাপন প্রণয়ন।
প্রশ্ন: কোড নেপোলিয়নকে সমাজের ‘বাইবেল’ বলা হয় কেন ?
উত্তর: কোড নেপোলিয়ন নামে আইন সংহিতাকে সমাজের ‘বাইবেল' বলার কারণগুলি হল- 1. এই আইন সংকলনটি ফ্রান্সে আইনগত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ফরাসি সমাজে আইনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, 2. এই কোডে ফরাসি বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ আদর্শগুলিকে আইনসংগত করার ফলে বুর্জোয়া শ্রেণি ও কৃষকসহ ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ খুশি হয়েছিল। এই কারণে ঐতিহাসিক লেফেভর কোড নেপোলিয়নকে ফরাসি সাম্রাজ্যের ‘বাইবেল' বলেছেন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের অর্থনৈতিক সংস্কারের দুটি দিক চিহ্নিত করো।
উত্তর: নেপোলিয়নের অর্থনৈতিক সংস্কারের দুটি দিক ছিল— 1. রাষ্ট্রীয় বাজেট প্রবর্তন ও মুদ্রানীতির সংস্কার সাধন এবং 2. নতুন কর প্রবর্তন ও তা আদায়ের জন্য দক্ষ ব্যবস্থাসহ ব্যাংক অফ ফ্রান্স-এর প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের ক্ষমতা দখলের পূর্বে ফ্রান্সের রাজ্যসীমা কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়নের ক্ষমতা দখলের পূর্বে ফ্রান্সের রাজ্যসীমা ছিল এরকম- 1. ফ্রান্সের উপর নির্ভরশীল ছয়টি প্রজাতন্ত্র ছিল এবং এগুলি ছিল ফ্রান্সের করদ রাজ্য, 2. এগুলি হল হেলভেটিক রিপাবলিক (সুইজারল্যান্ড), সিজালপাইন, লিগুরিয়ান, রোমান এবং পার্থেলোপিয়ান রিপাবলিক (ইতালির অঞ্চল) এবং বাটাভিয়ান রিপাবলিক (হল্যান্ড)।
প্রশ্ন: মিলান ডিক্রিতে কী বলা হয়েছিল?
উত্তর: 1807 খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন মিলান ডিক্রি জারি করে ঘোষণা করেন যে, যে সকল পণ্যবাহী জাহাজ তা মিত্র বা নিরপেক্ষ যে দেশেরই হোক না কেন ব্রিটেনের কোনো বন্দরে এই নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ প্রবেশ করলে তাকে শত্রু দেশের জাহাজ বলেই গণ্য হবে। অর্ডারস ইন কাউন্সিল অনুযায়ী ইংল্যান্ডের কাছ থেকে লাইসেন্স নিলে তাদের যে কোনো বন্দরে ব্রিটিশ সম্পত্তি হিসাবে গণ্য করে ফ্রান্স তাদের পণ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করবে।
প্রশ্ন: লুনভিলের সন্ধি কী?
উত্তর: ম্যারেঙ্গোর যুদ্ধে (1800 খ্রিস্টাব্দ) ও হোহেনলিন্ডেন-এর যুদ্ধে অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়। এরপর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে লুনভিলের সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন: অ্যামিয়েন্স-এর সন্ধি কবে ও কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর: 1802 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে অ্যামিয়েন্সের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: টিলসিটের সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এর স্বাক্ষরকারী কারা ছিল?
উত্তর: 1807 খ্রিস্টাব্দে টিলসিট-এর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই সন্ধির স্বাক্ষরকারী ছিলেন ফরাসি স নেপোলিয়ন ও রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার।
প্রশ্ন: ডিপসিট-এর সন্ধির গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: 1807 খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন ও রাশিয়ার জার আলেকজান্ডারের মধ্যে টিলসিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির ফলে- 1. ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সমগ্র ইউরোপে নেপোলিয়নের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। 2. নেপোলিয়নের গৌরব ও মর্যাদা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়।
প্রশ্ন: ট্রাফালগারের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর: 1805 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ফ্রান্সের ট্রাফালগারের যুদ্ধ হয়েছিল। ইংল্যান্ডের নৌ-সেনাপতি ছিলেন নেলসন এবং অন্যদিকে ছিলেন ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন।
প্রশ্ন: ট্রাফালগারের যুদ্ধের পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: 1805 খ্রিস্টাব্দে (21 অক্টোবর) ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে ট্রাফালগারের যুদ্ধ হয়। ইংরেজ সেনাপতি নেলসন এই যুদ্ধে ফরাসি নৌবহরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেন। এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে নেপোলিয়নের সমুদ্রপথে ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অন্য কোনো উপায়ে ইংল্যান্ডকে জব্দ করার কথা ভাবতে হয়। এই ভাবনার ফলশ্রুতিই ছিল নেপোলিয়ন কর্তৃক মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা প্রবর্তন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কেন বিপ্লবের সন্তান' নামে পরিচিত?
উত্তর: নেপোলিয়ন সাম্রাজ্য বিস্তার ও সামরিক অভিযানের দ্বারা ইউরোপে পুরাতনতন্ত্রের পতন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটান। কোড নেপোলিয়নের মাধ্যমে আইনগত সমতা ও যোগ্যতার মর্যাদা দানের ব্যবস্থা করেন। নেপোলিয়ন। ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিলেও ইউরোপে সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ ছড়িয়ে দিয়ে জনগণের আত্মবিকাশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই কারণে ঐতিহাসিক ফিশার নেপোলিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলেছেন।
প্রশ্ন: 1801-এর কনকরডাট কী ছিল?
উত্তর: ধর্মীয় ক্ষেত্রে সংহতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন রোমান পোপের সঙ্গে যে আপস মীমাংসা করেন তা ‘কনকরডার্ট’ (1801 খ্রি.) নামে পরিচিত। এই মীমাংসা চুক্তির শর্তানুসারে 1. ফ্রান্সের সব বিশপকে পদত্যাগ করতে হয়। 2. যাজকদের সরাসরি রাজকোশ থেকে বেতন দানের ব্যবস্থা করা হয়। 3. ক্যাথলিক ধর্মমতকে ফ্রান্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মমত বলে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়। 4. চার্চের ভূ-সম্পত্তি আগের মতো বাজেয়াপ্ত অবস্থায় রাখা হয়।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন নিজ বংশের কোথায় কোথায় শাসক পদে বসান?
উত্তর: নেপোলিয়ন ইউরোপের তিন প্রধান শক্তি অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া এবং রাশিয়াকে পরাজিত করে সেখানকার স্থানীয় শাসকদের উচ্ছেদ করে নিজ আত্মীয়দের শাসক হিসাবে মনোনীত করেন। তার নির্দেশেই জার্মানিতে ভাইজেরোম, স্পেনে আর এক ভাই জোসেফ, ইটালিতে সৎ পুত্রে ইউজিন, নেদারল্যান্ডস-এ আর এক ভাই লুসিয়ান, নেপল্স-এ ভগ্নিপতি মিউরাহ শাসন ক্ষমতায় বসেন।
প্রশ্ন: রাইনের রাষ্ট্রসংঘ বা Confederation of the Rhine কী?
উত্তর: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট 1806 খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবলুপ্তি ঘটিয়ে অস্ট্রিয়া ছাড়া জার্মানির ব্যাভেরিয়া, ব্যাডেন, উটেম বার্গ, ম্যাক্সনি এবং আরো 28টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য নিয়ে রাইন রাষ্ট্রসংঘ বা 'কনফেডারেশন অব দ্য রাইন' গঠন করেন। এই রাষ্ট্রসংঘের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণ নেপোলিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল।
প্রশ্ন: কিংডম অব ওয়েষ্টফেলিয়া (Kingdom of West Phalia) কোন্ কোন্ অঞ্চল নিয়ে গঠিত?
উত্তর: নেপোলিয়ন, পোল্যান্ডের কিছু অংশ ও পশ্চিম প্রাশিয়া নিয়ে 1807 খ্রিস্টাব্দে একটি রাষ্ট্র সমবায় গড়ে তোলেন যা 'কিংডম অব ওয়েস্টফেলিয়া' নামে পরিচিত ছিল। মূলত হ্যানোভার, ব্রান্স উইক, হেসে কেসেল, রেনিস প্রদেশ-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। নেপোলিয়নের ভাই জেরোম এই অঞ্চলের শাসক ছিলেন।
প্রশ্ন: সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র কী?
উত্তর: নেপোলিয়ন ইতালিকে অস্ট্রিয়ার কবলমুক্ত করে ডাইরেক্টরি আমলে মিলান ও লম্বার্ডিকে নিয়ে সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র গঠন করেন। এটির পরে নাম হয় ইতালি প্রজাতন্ত্র (1802 খ্রি.) সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি ইতালিতে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটান।
প্রশ্ন: সুইস কনফেডারেশন কী?
উত্তর: ইতালির উত্তরে সুইজারল্যান্ডে হেলভেটিক প্রজাতন্ত্রকে নেপোলিয়ন সুইস কনফেডারেশনে পরিণত করেন। এই কনফেডারেশনের উনিশটি ক্যানটন ফ্রান্সের অধীনে ছিল।
প্রশ্ন: গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: নেপোলিয়ন রাশিয়ার অধীনস্থ পোল্যান্ডের এলাকা ও রাশিয়ার কিছু অঞ্চল নিয়ে একটি রাষ্ট্রসংঘ গড়ে তোলেন। এই রাষ্ট্রসংঘ গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ নামে পরিচিত। স্যাক্সনির রাজার হাতে এখানকার শাসনভার দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কেন বিপ্লবের তরবারি নামে পরিচিত?
উত্তর: নেপোলিয়ন বিপ্লবের তরবারি নামে পরিচিত। কারণ : ফরাসি বিপ্লবকালে তিনি বিভিন্নভাবে বিপ্লবকে রক্ষায় সচেষ্ট হয়েছিলেন। প্রথম কনসাল ও সম্রাটরূপে তিনি ফ্রান্সকে কেন্দ্র করে প্রায় গোটা ইউরোপে ফরাসি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে দেশে ফরাসি বিপ্লবের ভাবধারা ছড়িয়ে দেন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণের কারণ কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়ন কর্তৃক রাশিয়া আক্রমণের কারণগুলি হল– 1. নিকট প্রাচ্যে রাশিয়ার সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রচেষ্টা নেপোলিয়নের কাম্য ছিল না। 2. মহাদেশীয় ব্যবস্থাকে রাশিয়া কার্যকর করলেও শেষপর্যন্ত বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে নেপোলিয়নের কাছে একটি চরমপত্র পাঠায়। নেপোলিয়ন এই চরমপত্র মেনে নিতে রাজি ছিলেন না, তাই তিনি রাশিয়া আক্রমণ করেন।
প্রশ্ন: গ্র্যান্ড আর্মি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রুশঙ্গার পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মহাদেশীয় ব্যবস্থা কার্যকর করতে অসম্মত হওয়ায়, নেপোলিয়ন রাশিয়া অভিযানের উদ্দেশ্যে তিন লক্ষ ফরাসি সৈন্যের সঙ্গে মিত্র দেশের তিন লক্ষ সৈন্য নিয়ে মোট 6 লক্ষ সৈন্যের একটি সৈন্যবাহিনী গঠন করেন যা গ্র্যান্ড আর্মি নামে পরিচিত। কিন্তু রাশিয়া অভিযানে গিয়ে নেপোলিয়নের সৈন্যদল প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের পরিণতি কী ছিল?
উত্তর: নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের পরিণতি ছিল— 1. নেপোলিয়নের গ্র্যান্ড আর্মি এই অভিযানে বিপর্যস্ত হয়। 2. এই অভিযানের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে নেপোলিয়নের 6 লক্ষ সৈন্যের মধ্যে মাত্র 30 হাজার সৈন্য অবশিষ্ট ছিল। 3. নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের ব্যর্থতার ফলে নেপোলিয়নের অপরাজেয় গরিমা ম্লান হয়ে যায় এবং রাশিয়া ও প্রাশিয়ায় নেপোলিয়ন বিরোধী জোট গঠিত হয়।
প্রশ্ন: চতুর্থ রাষ্ট্রজোট কী?
উত্তর: নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে– 1) 1813 খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন বিরোধী যে রাষ্ট্রজোট গড়ে উঠেছিল তা চতুর্থ রাষ্ট্রজোট নামে পরিচিত। 2) রাশিয়া, প্রাশিয়া, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন প্রভৃতি ১৩টি ইউরোপীয় দেশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশ্ন: 'জাতি সমূহের যুদ্ধ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 1813 খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নেপোলিয়নের সঙ্গে রাশিয়া, প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, পোল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্রের লিপজিগের যুদ্ধকে জাতিসমূহের যুদ্ধ বলা হয়েছে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইউরোপের ১৩টি রাষ্ট্র এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল বলে এই যুদ্ধকে ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ বলা হয়। তাছাড়া এই যুদ্ধে জনসাধারণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে দারুণভাবে দেখা যায়।
প্রশ্ন: উপদ্বীপের যুদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 1808 খ্রিস্টাব্দে আইবেরীয় উপদ্বীপে (পোর্তুগাল ও স্পেন) নেপোলিয়ন বিরোধী যে গণ অভ্যুত্থান দেখা দেয়, তা ‘উপদ্বীপের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। 1808-1813 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই যুদ্ধে স্পেন ও পোর্তুগাল ব্রিটিশ সহায়তায় নেপোলিয়নকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এবং স্পেনের ওপর অধিকার ত্যাগে বাধ্য করে।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কোন্ দেশের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, এবং কেন?
উত্তর: শিল্প বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এবং নৌশক্তিতে বালিয়ান ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেপোলিয়ন মহাদেশীয় ব্যবস্থা জারি করেছিলেন। মূলত দুটি কারণে এই অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকরী করেছিলেন। 1. অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইংল্যান্ডরে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পর্যুদস্ত করা 2. ইংল্যাণ্ডের অনুপস্থিতি ইউরোপের বাজারে ফরাসি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করে ফরাসি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: নৌযুদ্ধে অপরাজেয় ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন ঘোষণা করেন যে, ইংল্যান্ডের কোনো জাহাজ ফ্রান্স বা তার মিত্রশক্তি বা নিরপেক্ষ কোনো দেশের বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। এবং ইউরোপের কোনো রাষ্ট্র ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এই অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যবস্থাই ‘মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা’ বা ‘কন্টিনেন্টলি সিস্টেম' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় ব্যবস্থা ঘোষণা করতে নেপোলিয়ন কী কী ডিক্রি জারি করেন?
উত্তর: 1806 খ্রিস্টাব্দে বার্লিন ডিক্রি, 1807 খ্রিস্টাব্দে মিলান ডিক্রি, 1807 খ্রিস্টাব্দে ওয়ারস ডিক্রি এবং 1810 খ্রিস্টাব্দে ফন্টেনব্যু ডিক্রি জারি করে মহাদেশীয় ব্যবস্থা ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছিল কেন?
উত্তর: মহাদেশীয় ব্যবস্থা ব্যর্থতার কারণ – 1. মহাদেশীয় ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ফরাসি নৌ শক্তির অভাব। নেপোলিয়ন সুদীর্ঘ উপকূল অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালাতে পারেনি। 2. শিল্পে অনুন্নত ফ্রান্সের পক্ষে ইউরোপীয় বাজারে ইংল্যান্ডের উন্নত শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় ব্যবস্থাকে দ্বিমুখী অস্ত্র’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: মহাদেশীয় ব্যবস্থা ছিল একটি অবাস্তব ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা দ্বারা নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে যেমন বিব্রত করেছিলেন তেমনি এই ব্যবস্থার অসারতা তাঁর পতনকে অনিবার্য করে তুলেছিল। যে অস্ত্র নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন তা ইংল্যান্ডকে যতটা আঘাত করেছিল তার তুলনায় অনেক বেশি আহত করেছিল ফ্রান্সকে। তাই মহাদেশীয় ব্যবস্থাকে ‘দ্বিমুখী অস্ত্র’ বলা হয়।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় প্রথা কী?
উত্তর: নৌ যুদ্ধে অপরাজেয় ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন ঘোষণা করেন যে, ইংল্যান্ডের কোনো জাহাজ ফ্রান্স বা তার মিত্রশক্তি বা নিরপেক্ষ কোনো দেশের বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং কোনো রাষ্ট্র ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এই অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যবস্থাই মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা বা ‘কন্টিনেন্টলি সিস্টেম' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: বার্লিন ডিক্রীতে কি বলা হয়েছিল?
উত্তর: 1806 খ্রিস্টাব্দে নভেম্বর মাসে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বার্লিনে এক হুকুমনামা ঘোষণা করেন তাতে তিনি বলেন— 1. ইংল্যান্ডের ওপর নৌ অবরোধ জারি করা হল। 2. ফ্রান্স বা তার মিত্র বা নিরপেক্ষ দেশের বন্দরগুলিতে ইংল্যান্ডের কোনো জাহাজকে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং ইংল্যান্ডের কোনো পণ্যদ্রব্য এই সকল দেশের বন্দরে নামতে দেওয়া হবে না। 3. সেই সমস্ত দেশে কোনো জাহাজে ইংল্যান্ডের পণ্য ঢুকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
প্রশ্ন: ‘লিজিয়ন অব অনার' (Ligion of Hon our) বলতে কী বোঝ?
উত্তর: নেপোলিয়নের সামাজিক সংস্কারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল লিজিয়ন অব অনার প্রবর্তন। বংশগত মর্যাদার পরিবর্তে প্রকৃত গুণীদের মর্যাদা দেওয়ার জন্য 1802 খ্রিস্টাব্দে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের উদ্যোগ নেন। এই সম্মানকে ‘লিজিয়ন অব অনার' বলা হয়।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন ইউরোপের কোন্ কোন্ রাষ্ট্র দখল করেন?
উত্তর: একমাত্র ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সমগ্র ইউরোপ নেপোলিয়নের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। ইটালি, জার্মানি, প্রাশিয়া, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, পোর্তুগাল, স্পেন প্রভৃতি ইউরোপীয় রাষ্ট্র নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
প্রশ্ন: ওয়ারস ও ফন্টেনব্যু ডিক্রিতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: 1807 খ্রিস্টাব্দে ওয়ারস এবং 1810 খ্রিস্টাব্দে ফন্টেনব্যু ডিক্রি ঘোষণা করে বলা হয় যে, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার অপরাধে যে সব ব্রিটিশ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে, তা প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে।
প্রশ্ন: ফ্রান্সের প্রাকৃতিক সীমা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: নেপোলিয়ন ফরাসি সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে রাইন সীমান্ত, বেলজিয়াম, ইটালির আল্পস উপত্যকা ও সুইজারল্যান্ড অধিকার করেন। এই অঞ্চলগুলিকে নিয়ে ফ্রান্সের যে নতুন সীমানা নির্ধারিত হয়, তাকেই ফ্রান্সের প্রাকৃতিক সীমা বলা হয়। এই সীমা রক্ষার জন্যই নেপোলিয়নকে সাম্রাজ্যবাদী হতে হয়েছে।
প্রশ্ন: কোন্ কোন্ সন্ধি দ্বারা নেপোলিয়ন জার্মানির পুনর্গঠন করেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়াকে যুদ্ধে পরাস্ত করে 1795 খ্রিস্টাব্দে ব্যাসলের সন্ধি, 1797 খ্রিস্টাব্দে ‘ক্যাম্পো-ফোর্মিও’-র সন্ধি এবং 1801 খ্রিস্টাব্দে লুনভিলের সন্ধি দ্বারা নেপোলিয়ন যে অধিকার লাভ করেন তার ফলে তিনি জার্মানিকে পুনর্গঠন করেন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে কোন্ কোন্ স্থানে জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?
উত্তর: নেপোলিয়ন ইউরোপে মুক্তিদাতা হিসেবে চিহ্নিত হলেও শীঘ্রই তাঁর মুক্তিদাতা ভাবমূর্তি মলিন হয়ে যায় তার একনায়কতন্ত্রী ও অত্যাচারী শাসনে। তাঁর সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্পেন, পোর্তুগাল, হল্যান্ড, প্রাশিয়া প্রভৃতি দেশে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রশ্ন: অর্ডারস-ইন-কাউন্সিল (Orders in Council) কী ?
উত্তর: নেপোলিয়নের জারি করা বার্লিন ডিক্রির প্রত্যুত্তরে ইংল্যান্ড অডার্রস-ইন-কাউন্সিল জারি করে। এতে বলা হয়, ইউরোপের কোনো রাষ্ট্র ফ্রান্স অথবা ফ্রান্স অধিকৃত বন্দরে পণ্যসামগ্রী প্রেরণ করলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। যদি কোনো নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ নিতান্তই ফ্রান্স ও তার বন্দরে যেতে চায় তাহলে সেই জাহাজকে ইংল্যান্ডের কোনো বন্দরে প্রথমে এসে উপযুক্ত ফি বা শুল্ক দাখিল করে লাইসেন্স নিলে তবেই সেই জাহাজ ফ্রান্সের বন্দরে যেতে পারবে।
প্রশ্ন: মহাদেশীয় অবরোধের ফলাফল কী হয়েছিল?
মহাদেশীয় অবরোধের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ছিল— 1. মহাদেশীয় অবরোধের ফলে ফ্রান্স-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইংল্যান্ডজাত অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যসামগ্রীর জোগানে ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যাভাব দেখা দেয়; 2. নেপোলিয়নের মিত্রদেশগুলি মহাদেশীয় অবরোধ কার্যকর করে বিপদগ্রস্ত হয়েছিল; 3. স্পেন, পোর্তুগাল, প্রাশিয়া, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে ও নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর ফলে নেপোলিয়নের পতন ত্বরান্বিত হয়।
প্রশ্ন: ওয়াটালুর যুদ্ধ কবে এবং কোন্ কোন্ দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তর: 1815 খ্রিস্টাব্দের 18 জুন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ওয়াটার্লুর যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: ওয়াটালুর যুদ্ধ কবে হয়েছিল? এই যুদ্ধের বিজয়ী পক্ষের সেনানায়ক কে ছিলেন?
উত্তর: 1815 খ্রিস্টাব্দের 18 জুন ওয়াটালুর যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষের সেনানায়কদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ব্রিটিশ সেনাপতি ওয়েলিংটন।
প্রশ্ন: ওয়াটারলুর যুদ্ধের গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: ওয়াটালুর যুদ্ধের গুরুত্ব হল— 1. এই যুদ্ধে নেপোলিয়ন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন ও তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। 2. নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী শক্তিবর্গ (প্রাশিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া) ইউরোপের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের জন্য পুনরায় ভিয়েনা সম্মেলন শুরু করে।
প্রশ্ন: ‘একশো দিনের রাজত্ব' কী?
উত্তর: ইটালি, পোল্যান্ড ও রাইন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মিত্রশক্তি জোটের মধ্যেও প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। উদ্বাস্তু অভিজাতরা ফ্রান্সে ফিরে এসে তাদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যে গোলযোগ সৃষ্টি করায়, ফরাসি জনগণ রাজশক্তির উপর বিরক্ত হয়ে ওঠে। এই সুযোগে এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে ফিরে এসে নেপোলিয়ন নিজেকে ফ্রান্সের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। ফরাসি সেনানায়কেরা একে একে নেপোলিয়নের সঙ্গে যোগ দেয়। একটানা তিনি 100 দিন (1815 খ্রিস্টাব্দের 20 মার্চ থেকে 29 জুন 1815 খ্রিস্টাব্দ) ফ্রান্সে রাজত্ব করেন। এই সময়কাল ফ্রান্সের ইতিহাসে ‘শতদিবসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: নেপোলিয়নকে ‘বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ বলা হয়—কেন?
উত্তর: চিত্তর নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস রাখেনি। সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ গ্রহণ করলেও নেপোলিয়নের সামাজিক কার্যকলাপের আড়ালে তা ঢাকা পড়ে যায়। তিনি স্বেচ্ছাচারী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা স্বাধীনতা আদর্শকে পদদলিত করেছে। নেপোলিয়ন যে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে সেই রাজতন্ত্রেরই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তাই তিনি নিজেই বলেছেন, আমিই বিপ্লবকে ধ্বংস কারছি (I destroyed the Revolution) |
প্রশ্ন: উপদ্বীপের যুদ্ধ কী?
উত্তর: 1808 খ্রিস্টাব্দে আইবেরীয় উপদ্বীপে (পোর্তুগাল ও স্পেন) নেপোলিয়ন বিরোধী যে গণ অভ্যুত্থান দেখা দেয়, তা উপদ্বীপের যুদ্ধ নামে পরিচিত। 1808-1813 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই যুদ্ধে স্পেন ও পোর্তুগাল ব্রিটিশ সহায়তায় নেপোলিয়নকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এবং স্পেনের ওপর অধিকার ত্যাগে বাধ্য করে।
প্রশ্ন: ‘স্পেনীয় ক্ষত' কী?
উত্তর: স্পেন, পোর্তুগাল ও ইংরেজদের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে নেপোলিয়নের যে উপদ্বীপের যুদ্ধ শুরু হয় তা অনেক দিন ধরে চলেছিল (1808-1813 খ্রি.)। বহু চেষ্টা করেও নেপোলিয়ন এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারেন নি। তাঁর বহু সৈন্য, অর্থ এবং সম্মান ধূলিসাৎ হয়। এই পরাজয় তাঁকে আরো বড়ো বিপদের সম্মুখীন করে। তাই নেপোলিয়ন এই যুদ্ধকে ‘স্পেনীয় ক্ষত’ (Spanish ulcer) বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন: কী কারণে নেপোলিয়ন স্পেনের দখল নিতে উদ্যত হন?
উত্তর: স্পেনের শক্তিশালী মন্ত্রী গডয় ও রাশিয়া কর্তৃক ফ্রান্স আক্রমণের সম্ভাবনা, স্পেনের নৌবহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইংল্যান্ডের মোকাবিলা, স্পেনের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ। এই সব কারণের প্রেক্ষিতে নেপোলিয়ন স্পেন দখল করতে উদ্যত হন।
প্রশ্ন: নেপোলিয়ন কেন মস্কো অভিযান করেন?
উত্তর: টিলসিটের সন্ধি (1807 খ্রি.) অনুযায়ী রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজাভার মহাদেশীয় ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু প্রবল অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে রুশজার 1810 খ্রিস্টাব্দে মহাদেশীয় ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এর ফলে রাশিয়াকে আক্রমণ করা ছাড়া নেপোলিয়নের কাছে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তাই রাশিয়াকে শাস্তি দানের উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে 1812 খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া অভিযান করেন।
প্রশ্ন: পোড়ামাটি নীতি কী?
উত্তর: পোড়ামাটি নীতি হল একটি রক্ষণাত্মক রণকৌশল, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট 1812 খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া অভিযান করলে রুশ সেনাবাহিনী মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে পরিকল্পনামাফিক গ্রামে ও শহরের খাদ্যশস্য ভাঙার পুড়িয়ে দেয়, খাদ্য ও জলে বিষ মিশিয়ে দেয় এবং রাস্তা ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেয় যাতে শত্রুপক্ষের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। এই রণকৌশলকে পোড়ামাটি নীতি (Scorched earth Policy) বলা হয়।
প্রশ্ন: বোরোডিনের যুদ্ধ কী?
উত্তর: 1812 খ্রিস্টাব্দে (7 সেপ্টেম্বর) মস্কো থেকে 75 মাইল দূরে বোরোডিনো গ্রামে রুশ সেনাপতি কুটুজফের সঙ্গে নেপোলিয়নের যে যুদ্ধ হয়েছিল তা ‘বোরোডিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে নেপোলিয়ন জয়ী হলেও তাঁর রসদ ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
