Class 9 History Chapter 4 (শিল্পবিপ্লব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Questions And Answers

প্রশ্ন: বয়ন শিল্পে কোন্ কোন্ আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর: বয়ন শিল্পে যে সমস্ত আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হল—জন কে-র উড়ন্ত মাকু, জেমস হারগ্রিভস-এর স্পিনিং জেনি, আর্করাইট-এর ওয়াটার ফ্রেম, ক্রম্পটন-এর স্পিনিং মিউল, জেমস ওয়াট-এর উন্নত বাষ্প ইঞ্জিন। এগুলি সুতো কাটা ও সুতো বোনার উন্নতি সহ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল।



প্রশ্ন: ফ্রান্স শিল্পায়নে দ্রুত সাফল্য পায়নি কেন?

উত্তর: একাধিক কারণে ফ্রান্স শিল্পায়নে দ্রুত সাফল্য পায়নি, কারণ— ১)ফরাসি রাজতন্ত্র শিল্পবিমুখ অভিজাত শ্রেণির সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল; ২) ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নীয় যুগের যুদ্ধবিগ্রহজনিত অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি শিল্পায়নে বাধার সৃষ্টি করেছিল; ৩) ফ্রান্সে কয়লা সহ অন্যান্য খনিজ দ্রব্যের অভাব ছিল।



প্রশ্ন: জারের অর্থমন্ত্রী কাউন্ট উইটে কীভাবে রাশিয়ার শিল্পায়নে নেতৃত্ব দেন?

উত্তর: জারের অর্থমন্ত্রী কাউন্ট উইটে রাশিয়ার শিল্পায়নে যেভাবে নেতৃত্ব দেন তা হল— ১) শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাজেটে আয়-ব্যয়ের সমতা বিধান সহ রপ্তানি বৃদ্ধি ও স্বর্ণমান প্রবর্তন করেন। ২) সরকারি উদ্যোগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি প্রভৃতি দেশ থেকে বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ করেন এবং ৩) দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংক ও ভারী শিল্প গড়ে তোলেন।



প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপের শিল্পায়নের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাকি ইউরোপের শিল্পায়নের মূল পার্থক্য ছিল— ১) ইংল্যান্ডে অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শিল্পায়নের সূচনা হয়েছিল কিন্তু ইউরোপে তা ছিল পরের শতকের ঘটনা। ২) ইংল্যান্ড ছিল শিল্পায়নের মডেল। তাই বাকি ইউরোপ ইংল্যান্ডকেই অনুসরণ করেছিল; ৩) ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কম, কিন্তু ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়াতে বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এবং গুণগত মানের বিচারে ইংল্যান্ডের পণ্যসামগ্রীর যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কিন্তু ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির পণ্যসামগ্রীর দাম বেশি হওয়ার এবং গুণগত মান ইংল্যান্ডের তুলনায় খারাপ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মহাদেশীয় শিল্প পিছিয়ে পড়ে।



প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের শিল্প শহরগুলির চরিত্র কী ছিল?

উত্তর: ইংল্যান্ডের শিল্প শহরগুলির চরিত্র – ১) শিল্পকেন্দ্র ও বন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে মূলত শহরগুলি গড়ে ওঠে, যেমন : বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, ম্যাঞ্চেস্টার প্রভৃতি শহর; ২)শহরগুলি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এবং এর মূল কারণ ছিল গ্রাম থেকে শহরে মানুষের ঢল নামে; ৩) নগরের পরিকাঠামোগত এবং পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছিল।



প্রশ্ন: কারখানা ব্যবস্থা কী?

উত্তর: শিল্পবিপ্লবের সুবাদে ফ্যাক্টরি প্রথা বা কারখানা প্রথার উদ্ভব ঘটে। উদ্যাগপতি বা শিল্পপতি যখন কুটির শিল্পভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার সমগ্র অংশকে একই ছাদের নীচে উপস্থাপিত করেন এবং মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করে যন্ত্রপাতির সাহায্যে বৃহদায়তন উৎপাদনের ব্যবস্থা করেন তখন তা কারখানা ব্যবস্থা নামে পরিচিত। কারখানা প্রথার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল শ্রম বিভাজন প্রথা।



প্রশ্ন: নারী শ্রমিকরা কীভাবে কারখানায় কাজ করত?

উত্তর: তৎকালীন ইউরোপের বস্ত্রশিল্প, খনিজশিল্পসহ বিভিন্ন কারখানা বা ফ্যাক্টরিতে নারী শ্রমিকদের নিয়োগ করা হত এবং এদের ১২-১৮ ঘণ্টা করে সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করতে হত। মজুরি ছিল পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক। নারী শ্রমিকদের দীর্ঘ চুল ও পোশাক এবং শারীরিক গঠনজনিত কারণে দুর্ঘটনার পরিমাণ ছিল বেশি।



প্রশ্ন: শিল্প সমাজ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: শিল্পবিপ্লবের ফলে গড়ে ওঠা সমাজ সাধারণত শিল্প সমাজ নামে পরিচিত ছিল। এই সমাজের ভিত্তি ছিল: ১) প্রাযুক্তিক কৃৎকৌশল নির্ভর গণ-উৎপাদন, শ্রমবিভাজন এবং প্রাক্-শিল্প বিপ্লব পর্বের আদি আধুনিক কৃষক সমাজের পরিবর্তন ও যন্ত্রসভ্যতার প্রবর্তন: ২) শিল্প সমাজের অন্যতম দিক ছিল নগরায়ণ ও উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি শ্রমিকদের বসবাস; এছাড়া ৩) শিল্প সমাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল বাষ্পশক্তি ও খনিজ তৈলের ব্যবহার।



প্রশ্ন: হবসন-লেনিন তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?

উত্তর: সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে একটি বিশেষ তত্ত্ব হল। হবসন-লেনিন তত্ত্ব। ব্রিটিশ দার্শনিক এ. জে. হবসন-এর মতে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের উদ্ভবের মূলে ছিল অর্থনৈতিক তাগিদ এবং শিল্পপতিদের উদ্বৃত্ত পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়াস। পক্ষান্তরে ভি. আই. লেনিনের মতে, সাম্রাজ্যবাদ হল পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর।



প্রশ্ন: চিনে কীভাবে 'মুক্তদ্বার নীতি' ঘোষিত হয়?

উত্তর: উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে চিনের এবং চিনের অভ্যন্তরে পাশ্চাত্য দেশগুলির অতিরাষ্ট্রিক প্রভাব স্থাপিত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল, কারণ এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য হ্রাসসহ অর্থনৈতিক স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচিব জন হে চিন সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ‘মুক্তদ্বার নীতি' ঘোষণা করেন।



প্রশ্ন: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের বার্লিন সম্মেলনের গুরুত্ব কী ?

উত্তর: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের বার্লিন সম্মেলনের গুরুত্ব ছিল— ১) এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষাসহ পূর্ব ইউরোপে একটি শক্তিসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়; ২) তুরস্ক সাম্রাজ্য সাময়িকভাবে রক্ষা পায়; ৩) সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো ও রুমানিয়ার স্বাধীনতা স্বীকৃত হয় এবং এর ফলে বল্কান জাতীয়তাবাদ জয়লাভ করতে থাকে; ৪) বার্লিন সম্মেলনের মাধ্যমে ইউরোপে জার্মানির বিসমার্কের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।



প্রশ্ন: কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি কী নামে পরিচিত? এই নীতির দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি ওয়েল্ট পলিটিক বা বিশ্বনীতি (Welt politik) নামে পরিচিত। কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম এই ধরনের নীতি অনুসরণ করে— ১) বল্কান অঞ্চলে আগ্রাসী নীতি গ্রহণে সচেষ্ট হন এবং ২) ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের উপনিবেশে হস্তক্ষেপ করেন।



প্রশ্ন: বিশ্বনীতি (Welt Politik) কী?

জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম বিশ্ব রাজনীতিতে জার্মানির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে যে আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন তা বিশ্বনীতি বা ওয়েল্ট পলিটিক নামে পরিচিত।



প্রশ্ন: জার্মানি কীভাবে নৌশক্তি বৃদ্ধি করে?

উত্তর: ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য রক্ষা ও বিশ্বরাষ্ট্ররূপে জার্মানিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম এ্যাডমিরাল টারপিজকে জার্মান নৌ বিভাগের প্রধানরূপে নিয়োগ করেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে জার্মান নৌবহর ইংল্যান্ডের নৌবহরের সমতুল্য হয়ে ওঠে।



প্রশ্ন: ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ কাবে, বলে?

উত্তর: উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে জার্মান সমেত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র বা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী মনোভাব প্রকট হয়ে ওঠে। নিজেদের দেশ জাতির শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে অন্যদের নিকৃষ্ট বলে প্রচার করে। এর ফলে মহাদেশের দেশগুলির মধ্যে জাতিবৈরিতা বৃদ্ধি পায়।



প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপের কোন্ কোন্ দেশ দুটি পরস্পর-বিরোধী সামরিক শক্তিজোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপে গড়ে ওঠে দুটি পরস্পর-বিরোধী সামরিক শক্তিজোট। এর একদিকে ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইটালির ত্রিশক্তি চুক্তি জোট এবং অন্যদিকে ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ত্রিশক্তি আঁতাত জোট।



প্রশ্ন: ত্রিশক্তি চুক্তি কবে এবং কোন্ কোন্ ইউরোপীয় রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইটালির মধ্যে ত্রিশক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।



প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপের যে দুটি পরস্পরবিরোধী শিবির গড়ে উঠেছিল সেই দুটি কী কী?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউরোপে যে দুটি পরস্পর বিরোধী শিবির গড়ে উঠেছিল সে দুটি হল—ত্রিশক্তি চুক্তি (১৮৮২ খ্রি.) এবং ত্রিশক্তি আঁতাত (১৯০৭ খ্রি.)।



প্রশ্ন: নপল আঁতাত করে ও কাঁদের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছ?

উত্তর: ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ত্রিশক্তি মৈত্রী অথবা ট্রিপল আঁতাত সম্পাদিত হয়েছিল।



প্রশ্ন: মরক্কো ও আগাদির সংকট কবে হয়েছিল? এই সংকটে জার্মানির ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ১৯০৫ ও ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে যথাক্রমে মরক্কো ও আগাদির সংকট সৃষ্টি হয়। জার্মানি দুই সংকটের সময় ফ্রান্সের বিরোধিতা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মরক্কোতে ফ্রান্সের প্রভাব মেনে নিতে হয়।



প্রশ্ন: তোমার মতে ‘মরক্কো সংকট'-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি কী?

মরক্কো সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল ফ্রান্স-জার্মান বিরোধ, কারণ— ১) মরক্কোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ইঙ্গ-ফরাসি মৈত্রী চুক্তি অনুসারে ফ্রান্স মরক্কোতে বিশেষ অধিকার অর্জন করে এবং ২) এই পরিস্থিতিতে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম মরক্কোতে জার্মানির প্রভাব বিস্তারে উদ্যোগী হন। এইভাবে মরক্কোকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে যুদ্ধ বাধার উপক্রম হয় ও মরক্কো সংকটের সৃষ্টি হয়।



প্রশ্ন: 'আগাদির সংকট' বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আগাদির সংকট ছিল মরক্কো সংকটের দ্বিতীয় পর্যায়। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সৈন্যবাহিনী মরক্কোর রাজধানী (Fez) ফেজ অধিকার করলে জার্মানি আগাদির বন্দরে একটি যুদ্ধ জাহাজ প্রেরণ করে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সমর্থনে একটি যুদ্ধজাহাজ প্রেরণ করে। এভাবে যে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তা আগাদির সংকট' নামে পরিচিত।



প্রশ্ন: ‘সেরাজের্ভো হত্যাকার্ড’ কী?

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী) ফার্দিনান্ড ও তাঁর পত্নী বসনিয়া প্রদেশের সেরাজেভো নগরে বেড়াতে যান। সেখানে গ্যাভরিলো প্রিন্সিপ নামক এক আততায়ীর হাতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ পত্নীসহ নিহত – হন (২৮ জুন, ১৯১৪ খ্রি.)। সেরাজেভো ঘটনার অজুহাতে অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে আক্রমণ করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়—অর্থাৎ ‘সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড’ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ।