প্রশ্ন: ডিসেম্বিস্ট বিদ্রোহ্ কোন্ জারের শাসনকালে হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: জার প্রথম নিকোলাস-এর শাসনকালে ডিসেম্বিস্ট বিদ্রোহ হয়েছিল। এই বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল— ১) জারের স্বৈরতন্ত্রকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে পরিণত করা এবং ২) ভূমিদাস প্রথার উচ্ছেদ করা।
প্রশ্ন: ডুমা কী?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম রুশ বিপ্লবে ভয় পেয়ে জার দ্বিতীয় নিকোলাস নির্বাচনের মাধ্যমে আইন পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। এই আইন পরিষদ ডুমা নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: স্টোলিপিন কেন বিখ্যাত
উত্তর: স্টোলিপিন জার নিকোলাসের সুযোগ্য ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন (১৯০৬-১৯১৪ খ্রি.) স্টোলিপিন রাশিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ও জনবিরোধী রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কৃষকদের জমিস্বত্ব দান, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার প্রভৃতি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সম্ভবত তাঁর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে জার দ্বিতীয় নিকোলাস গুপ্ত ঘাতকের দ্বারা তাঁকে নিধন করেন।
প্রশ্ন: রাসপুটিন কে ছিলেন?
উত্তর: র্রাসপুটিন ছিলেন রাশিয়ার সাইবেরীয় অঞ্চলের এক ধর্মগুরু।)তিনি রাজ পরিবার বিশেষত রানি আলেকজান্দ্রোভার সমর্থন পেয়ে উচ্চ রাজকর্মচারী ও সেনাপতিদের অপদস্থ করতেন। তাঁর চারিত্রিক শিথিলতা মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন: ব্রেস্ট লিটোভস্ক সন্ধি কষে ও কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে ব্রেস্ট লিস্ট্রোভস্ক সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
উত্তর: নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ('New Economic Policy) কী ?
উত্তর: ১) সরকার কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে শস্য আদায়ের পরিবর্তে তাদের উৎপাদনের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর চাপায়। ২) শিল্পক্ষেত্রগুলিতে রাষ্ট্রায়ত্তকরণ নীতি শিথিল করা হয়। ৩) ছোটো আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলির ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়। ৪) অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মূলধন বিনিয়োগকে মেনে নেওয়া হয়। ৫) ব্যাংক ব্যবস্থা আবার চালু করা হয়।
প্রশ্ন: তৃতীয় আন্তর্জাতিক কবে ও কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: লেনিন উপলব্ধি করেছিলেন যে, রাশিয়া একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না। তাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংকোচনের জন্য অন্যত্র সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে কমিস্টার্ন বা তৃতীয় আন্তর্জাতিক নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। লেনিনের সহযোগী জিনোভিয়েভ এর সভাপতি ছিলেন।
প্রশ্ন: লেনিন যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ কেন প্রবর্তন করেন?
উত্তর: ১৯১৮-২১ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়াতে অন্তর্বিপ্লব চলাকালে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা, বণ্টন ব্যবস্থাকে নিয়মিত করা, খাদ্যসংকটের সমাধান করা ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রবর্তন ও জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় অর্থনীতির পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় অক্ষশক্তি কাদের বলা হয়?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় অক্ষশক্তি ছিল মিত্রপক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী। অক্ষশক্তির অন্তর্গত ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হয়।
প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধো মিত্রশক্তি কারা ছিল?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি বা কেন্দ্রীয় শক্তি ছিল। অক্ষশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী। মিত্রশক্তির অন্তর্গত দেশগুলি ছিল। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইটালি, রুমানিয়া, চিন, জাপান, পোর্তুগাল প্রভৃতি রাষ্ট্র। (প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি জয়লাভ করেছিল।
প্রশ্ন: জুটল্যান্ডের যুদ্ধ (১৯১৬ খ্রি.) কেন বিখ্যাত?
উত্তর: ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে জুটল্যান্ডের নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ড ও জার্মানি লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধের গুরুত্ব হল যে জার্মানি ইংল্যান্ডের নৌশক্তিকে বিধ্বস্ত করতে পারেনি।
প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের তাৎপর্য কী?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের দুটি উল্লেখযোগ্য তাৎপর্য ছিল- ১) রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব এবং ২) মিত্রপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগদান।
প্রশ্ন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেছিল?
উত্তর: জার্মানির সাবমেরিন কর্তৃক আমেরিকার বাণিজ্য জাহাজ ও যুদ্ধ জাহাজগুলি ধ্বংস হতে থাকলে আমেরিকা নিজের দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বিশ্বের নিরাপত্তাবিধান ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেছিল।
প্রশ্ন: প্যারিস সম্মেলনের (১৯১৯ খ্রি.) চার প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: প্যারিস সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) চারটি দেশের চার প্রধান ছিলেন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জ ক্লিমেশোঁ এবং ইটালির প্রধানমন্ত্রী ভিটোরিও অর্লাভো।
প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির সঙ্গে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্কের কী কী চুক্তি হয়?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির সঙ্গে জার্মানির ভার্সাই চুক্তি (২৮ জুন, ১৯১৯ খ্রি.), অস্ট্রিয়ার সঙ্গে সেন্ট জামেইন চুক্তি (১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ খ্রি.) এবং তুরস্কের সঙ্গে সেভর-এর চুক্তি (১০ আগস্ট, ১৯২০ খ্রি.) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: ভার্সাই সন্ধিকে আরোপিত বা চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি বলা হয় কেন?
উত্তর: ভার্সাই সন্ধি রচনাকালে মিত্রশক্তিবর্গ প্রতিহিংসামূলক মনোভাব দ্বারা পরিচালিত হয়ে জার্মান প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেনি। উপরন্তু জার্মানির প্রতিনিধিদের এই সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়। তাই জার্মানদের কাছে ভার্সাই সন্ধি ছিল আরোপিত বা চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি।
প্রশ্ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে সর্বাত্মক যুদ্ধ কেন বলা হয়?
উত্তর: ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হলেও তা এক বিশ্বব্যাপী চরিত্র ধারণ করেছিল। চারবছর (১৯১৪-১৮ খ্রি.) স্থায়ী এই যুদ্ধ জল-স্থল-অন্তরীক্ষ সর্বত্রই বিস্তারলাভ করে। এমনকি গির্জা ও শিক্ষায়তনগুলিও যুদ্ধরত দেশগুলির আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। স্মরণকালের মধ্যে এই যুদ্ধ ছিল সর্বাপেক্ষা ধ্বংসাত্মক ও ব্যয়বহুল। অসামরিক জনগণও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল সর্বাত্মক যুদ্ধ।
প্রশ্ন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উইলসন- এর চোদ্দো দফা সূত্রের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন-এর চোদ্দো দফা সূত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল— ১) বিশ্বশান্তি ও বিশ্ব নিরাপত্তাবিধান; ২) যুদ্ধোপকরণ হ্রাস; ৩) সমস্ত দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বাধানিষেধের অপসারণ এবং ৪) ভবিষ্যতে যুদ্ধ নিবারণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী সংস্থা স্থাপন।
প্রশ্ন: ইউ-বোট গান কী ছিল?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান ইউ-বোটগুলি সমুদ্রের ভেতরে চলাচল করত। তাদের আক্রমণে পাঁচ হাজারের বেশি বাণিজ্য জাহাজ ও সমসংখ্যক যুদ্ধ জাহাজকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়।
প্রশ্ন: চোদ্দো দফা নীতি' কে, কবে, কী উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন?
উত্তর: মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা ও ইউরোপের পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ‘চোদ্দো-দফা নীতি’ ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন: জাতিসংঘ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? এর সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ এপ্রিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর সদর দপ্তর ছিল জেনেভা শহরে।
প্রশ্ন: ৩.৩৪ লোকার্নো চুক্তি কবে ও কেন সম্পাদিত হয়?
উত্তর: ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবরে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া ও ইটালি এই সাতটি দেশের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডের লোকার্নো শহরে মিলিত হন। এই সম্মেলনে জার্মানি পশ্চিম সীমান্ত সংরক্ষণে সায় দেয়।
প্রশ্ন: ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের মহামন্দা কী ?
উত্তর: ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা হ্রাস পায় এবং পণ্য উৎপাদন ও ব্যাবসাবাণিজ্য শ্লথ হয়ে পড়ে। এর ফলে ইউরোপের অর্থনীতিতে যে অভূতপূর্ব মন্দা দেখা দেয় তা মহামন্দা নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের অর্থনৈতিক মহামন্দার তিনটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ১) ১৯২৯-এর দশকের কৃষি সংকটের কারণে খাদ্যশস্যের দাম অসম্ভব হ্রাস পাওয়ায় কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা ভীষণরকম হ্রাস পায়। ২) জনসাধারণের ভোগ-ক্ষমতার তুলনায় শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেল এবং ৩) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ার বাজারে ধস নামে।
প্রশ্ন: 'নিউ ডিল’ বা ‘নব উদ্যোগ নীতি' কী?
উত্তর: ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের মহামন্দা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে প্রথমে বিপর্যস্ত করে। তাই মহামন্দাজনিত অর্থনৈতিক সংকট নিবারণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি এফ. ডি. রুজভেল্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেন তা 'নিউ ডিল’ বা নবউদ্যোগ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: ফ্যাসিস্ট কাদের বলা হত?
উত্তর: ইটালিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বেনিতো মুসোলিনি নামে এক নেতা যুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করেন, এই দলের সমর্থকদের ফ্যাসিস্ট বলা হত।
প্রশ্ন: হিটলার কেন ইহুদিদের উপর নির্যাতন করতেন?
উত্তর: হেরেনফোক তত্ত্ব বা জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী হিটলার জার্মানি থেকে অ-জার্মান ইহুদিদের বিতাড়ন করে জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় সচেষ্ট হন। তা ছাড়া জার্মানির অর্থনৈতিক ও সরকারি উচ্চপদে চাকরির ক্ষেত্রে ইহুদিদের বিশেষ প্রভাব ছিল। তাই ইহুদিদের জার্মানি থেকে বিতাড়নের জন্য হিটলার ইহুদিদের উপর নির্যাতন করতেন।
প্রশ্ন: হিটলারের আমলে জার্মানির নাতসি দলের মূলনীতি কী ছিল?
উত্তর: হিটলারের আমলে জার্মানির নাতসি দলের মূলনীতি ছিল—উগ্র জাতীয়তাবাদ, জার্মানি থেকে ইহুদি বিতাড়ন এবং গণতন্ত্রের বিনাশসাধন।
প্রশ্ন: ঝটিকা বাহিনী কী?
উত্তর: বেকার যুবকদের নিয়ে গঠিত জার্মানির নাতসি দলের যে আধা-সামরিক শাখা নাতসি দলের সভাগুলো পাহারা দিত এবং সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টদের জনসভাগুলি হামলা চালিয়ে ভেঙে দিত, তাকেই ঝটিকা বাহিনী বলা হত।
প্রশ্ন: স্পেনের গৃহযুদ্ধ কী?
উত্তর: ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে পেনের দুর্বল প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সেনাপতি ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূচনা হয় তা ‘স্পেনের গৃহযুদ্ধ’ নামে খ্যাত। দীর্ঘদিন এই গৃহযুদ্ধ চলার পর ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি ও ইটালির সাহায্যপুষ্ট, ফ্রাঙ্কো স্পেনের প্রজাতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে সেদেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন: জেনারেল ফ্রাঙ্কো কে ছিলেন?
উত্তর: ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্পেনের গৃহযুদ্ধের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে গৃহযুদ্ধে জয়লাভ করেন ও স্পেনের রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন।
প্রশ্ন: এস. এ. এস. এস. বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: হিটলার নাতসি দলের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রথমে বেকার যুবকদের নিয়ে আধাসামরিক ঝটিকা বাহিনী গঠন করেন। এরা স্টর্ম ট্রুপার্স নামে পরিচিত। এরা বাদামি রঙের পোশাক পরত বলে ‘ব্রাউন শার্টস’ নামে পরিচিত ছিল। হিটলার ক্ষমতায় আসার পর এস. এ. বা ঝটিকা বাহিনীর ক্ষমতা খর্ব করেন এবং পার্টি নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী সৈন্যবাহিনী গঠন করেন, এর নাম এস. এস.। হিটলারের অনুগত হিমলার এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
প্রশ্ন: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবকে নভেম্বর বিপ্লব ও বলশেভিক বিপুৰ বলা হয় কেন?
উত্তর: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৭ নভেম্বর রুশ বিপ্লব সংঘটিত হওয়ায় একে নভেম্বর বিপ্লব বলা হয়। অন্যদিকে, এই বিপ্লব বলশেভিক দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ায় একে বলশেভিক বিপ্লবও বলা হয়।
প্রশ্ন: বলশেভিক ও মেনশেভিক দুল্ল কখন ও কেন গঠিত হয়?’
উত্তর: ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই-আগস্ট মাসে রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার দলের দ্বিতীয় কংগ্রেসে মতাদর্শগত বিরোধ দেখা দেয়। লেনিনের সমর্থকগণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার ফলে (রুশ ভাষায় বলশিন্স্টভো) তারা বলশেভিক নামে এবং আপসপন্থীরা সংখ্যালঘিষ্ঠ (মেনশিন্স্টভো) হওয়ায় মেনশেভিক নামে অভিহিত হল।
প্রশ্ন: বলশেভিক দলের প্রধান নেতা কে ছিলেন? তাঁর প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: বলশেভিক দলের প্রধান নেতা ছিলেন লেনিন। তার প্রকৃত নাম ছিল ভ্লাডিমির ইলিচ্ উলিয়ানভ (১৮৭০-১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
প্রশ্ন: ট্রট্স্কি কে ছিলেন? তার প্রকৃত নাম কী? তাঁর পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: লিয়ন ট্রট্স্কি ছিলেন রুশ বিপ্লব পরিচালনায় লেনিনের প্রধান সহযোগী। ইহুদি জাতীয় ট্রট্স্কির প্রকৃত নাম ছিল লেভি ব্রনস্টাইন। লেনিনের মৃত্যুর পর স্ট্যালিন ক্ষমতাসীন হবার পর তিনি ট্রট্স্কিকে নির্বাসিত করেন এবং নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ট্রট্স্কির মৃত্যু হয়।
প্রশ্ন: কেরেনস্কি ছিলেন?
উত্তর: কেরেনস্কি ছিলেন একধারে মধ্যপন্দ্বী সাম্রাজ্যবাদী দেশপ্রেমিক। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে জারতন্ত্রের অবসানের পর যে অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় তাতে যুদ্ধমন্ত্রী ছিলেন কেরেনস্কি। তিনি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ নীতি অনুসরণ করেন।
প্রশ্ন: লালফৌজ কে, কেন গঠন করেন? এই ফৌজের সাহায্যে তিনি কোন বিপ্লব পরিচালনা করেন?
উত্তর: লিয়ন ট্রট্স্কি লালফৌজ গঠন করেন এবং এই ফৌজের সাহায্যে তিনি রাশিয়ায় নভেম্বর বিপ্লব পরিচালনা করেন।
প্রশ্ন: প্রাক্ ১৯১৭ পর্বে রাশিয়ার দুজন বিশিষ্ট লেখকের নাম লেখো।
উত্তর প্রাক্ ১৯১৭ পর্বে রাশিয়ার দুজন বিশিষ্ট লেখকের নাম হল লিও টলস্টয় এবং তুর্গেনিভ।
প্রশ্ন: রুশ বিপ্লবের সামাজিক প্রভাব চিহ্নিত করো।
উত্তর: রুশ বিপ্লবের সামাজিক প্রভাব ছিল— ১) রাশিয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক শ্রেণির সম-সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; ২) রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত অ-রুশ জাতিগুলি সমমর্যাদা ও সমান অধিকার লাভ করে এবং ৩) ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্যবাদী ও শ্রমিক আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: রুশ বিপ্লবের আপাত ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: রুশ বিপ্লবের আপাত ফলাফল হল- ১) রাশিয়ায় কেরেনস্কি সরকারের পতন ঘটে এবং লেনিনের নেতৃত্বে একটি সর্বরুশীয় সরকার গঠিত হয়; ২) ভূস্বামী ও যাজকদের কাছ থেকে বিনা ক্ষতিপূরণে জমি বাজেয়াপ্ত করে তা কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং ৩) রাশিয়ায় প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শে বিশ্বাসী জমিদার, যাজক, বিত্তশালী শ্রেণি সর্বরুশীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
প্রশ্ন: সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সমাজতন্ত্র বলতে সাধারণত অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠাকে বোঝানো হয়। সমাজতন্ত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল- ১) ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধিতা; ২) ধনতন্ত্রবাদের সম্পত্তির বিলোপসাধন; ৩) সমস্ত রকমের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা রদ করা এবং ৪) সমাজে বৈষম্য ঘুচিয়ে সমতা স্থাপন।
