মসের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
মসের দুটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হল—
1. মসের দেছ তিনটি অংশে বিভক্ত—রাইজয়েড বা মূলের মতো অংশ, কলিড বা কাণ্ডের মতো অংশ এবং ফাইলিড বা পাতার মতো অংশ।
2. এদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ হতে জলের প্রয়োজন হয়, তাই মূলত স্থূলবাসী হলেও তাদের উচ্চর উদ্ভিদ বলে।
রাইজয়েড কী?
ব্রায়োফাইটা-জাতীয় উদ্ভিদের দেহে মূল বা শিকড় উৎপন্ন হয় না, বরং মূলের পরিবর্তে উদ্ভিদদেহের অঙ্কীয়দেশ থেকে এক ধরনের সুতোর মতো অঙ্গ গুচ্ছাকারে জন্মায়। এদের রাইজয়েড বলে। এরা মূলের মতো উদ্ভিদটিকে মাটির সঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখতে এবং মাটি থেকে জল, খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
কলিড ও ফাইলিড কী?
কলিড: মস বর্গ বা ব্রায়োফাইটার কাণ্ড উন্নত উদ্ভিদের মতো নয়। এদের কাণ্ডসদৃশ অঙ্গকে কলিড বলে।
ফাইলিড: মস বর্গ বা ব্রায়োফাইটার পাতা উন্নত উদ্ভিদের মতো নয় এদের পাতাসদৃশ অঙ্গকে ফাইলিড বলে।
ব্রায়োফাইটা সর্বত্র জন্মাতে পারে কেন? ব্রায়োফাইটাকে উদ্ভিদ রাজ্যের উভচর বলে কেন?
ব্রায়োফাইটা সর্বত্র জন্মাতে পারে তার কারণ হল–ব্রায়োফাইটার নির্দিষ্ট মূল বা মূলতন্ত্র না থাকায় এরা যে-কোনো আর্দ্র বা ভেজা স্থানে জন্মাতে পারে। এ ছাড়া, এরা আর্দ্র পরিবেশ (বায়ুমণ্ডল বা মাটি থেকে সরাসরি জল শোষণ করতে পারে বলে সর্বত্রই জন্মাতে পারে।
ব্রায়োফাইটাকে উদ্ভিদ রাজ্যের উভচর বলার কারণ হল–ব্রায়োফাইটা মূলত স্খলবাসী, কিন্তু জননের সময় জল প্রয়োজনীয়। এদের চলনশীল শুক্রাণু জলের মাধ্যমে বাহিত হয়ে স্ত্রীধানীতে পৌঁছোয়। ব্রায়োফাইটাকে সেইজন্য উভচর উদ্ভিদ বলে।
ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতার বৈশিষ্ট্য লেখো।
ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতার বৈশিষ্ট্য হল—
কাণ্ড: ফার্ন বা টেরিডোফাইটার কাণ্ডে সংবহন কলা থাকে। এজন্য এদের সংবাহক অপুষ্পক উদ্ভিদ বা ভ্যাসকুলার ক্রিপটোগ্যাস বলে।
পাতা: তরুণ পাতার প্রান্তগুলি গুটিয়ে থাকে, একে সারসিনেট ভারনেশন বলে।
টেরিডোফাইটাকে ভ্যাসকুলার ক্রিপটোগ্যাম্স বলে কেন?
টেরিডোফাইটা বা ফার্নে প্রথম সংবহন কলা বা ভ্যাসকুলার কলা দেখা যায় এবং এই উদ্ভিদগুলি অপুষ্পক বা ক্রিপটোগ্যাস প্রকৃতির। উভয় কারণে টেরিডোফাইটাকে ভ্যাসকুলার ক্রিপটোগ্যাস বলা হয়।
গ্যামেটোফোর কাকে বলে? মস ও ফার্নের জননাঙ্গের নাম লেখো।
গ্যামেটোফোর : মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের যে অংশ উদ্ভিদগুলির জননাঙ্গকে ধারণ করে, তাকে গ্যামেটোফোর বলে।
মস ও ফার্নের জননাঙ্গ: মস ও ফার্নেরস্ত্রী জননাঙ্গ হল আর্কিগোনিয়া এবং পুং জননাঙ্গ হল অ্যান্থেরিডিয়া।
সারসিনেট ভারনেশন কী?
ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের অপরিণত পাতাগুলি কুকুরের লেজের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে যে বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে, তাকে সারসিনেট ভারনেশন বলে। যেমন—ড্রায়োটেরিস (Dryopteris) নামক ফার্নে এটি দেখা যায় |
সোরাস কী?
ফার্ন-জাতীয় (যেমন-ড্রায়োক্টেরিস) উদ্ভিদের পরিণত পাতার নাঁচের দিকে ছোটো ছোটো বাদামি রঙের বৃক্কাকৃতি যে অংশের ভিতরে রেপুস্থালী থাকে, তাকে সোরাস বলে।
ফার্নকে কেন সর্বাপেক্ষা উন্নত অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়?
ফার্নকে সর্বাপেক্ষা উন্নত অপুষ্পক উদ্ভিদ বলার কারণ হল – 1. ফার্ন হল একমাত্র অপুষ্পক উদ্ভিদ যাদের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দেখা যায়। 2. ফার্ন হল একমাত্র অপুষ্পক উদ্ভিদ যারা স্পোর বা রেণু দ্বারা প্রজনন সম্পন্ন করে| 3. ফার্নের দেহ স্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভেদিত। এজন্য ফার্নকে সর্বাপেক্ষা উন্নত অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
রেণুধর ও লিঙ্গধর দশা কাকে বলে?
রেণুধর দশা: উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় রেণু বা স্পোর উৎপন্ন হয়, তাকে রেণুধর দশা বা স্পোরোফাইট বলে।
লিঙ্গধর দশা: উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় পুং বা স্ত্রী গ্যামেট (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয়, তাকে লিঙ্গধর দশা বা গ্যামেটোফাইট বলে
গুপ্তবীজী উদ্ভিদ কয় প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।
গুপ্তবীজী উদ্ভিদের প্রকার: গুপ্তবীজী উদ্ভিদ দুই প্রকার। যথা - একবীজপত্রী বা মনোকটিলেডনি ও দ্বিবীজপত্রী বা ডাইকটিলেডনি।
উদাহরণ : একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ হল কলাগাছ এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ হল আমগাছ
মনোকটিলেডনাস বা মনোকট বা একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে?
যেসব গুপ্তবীজী উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের মনোকটিলেডনাস বা মনোকট বা একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। উদাহরণ—কলা — মুসা প্যারাডিসিয়াকা (Musa paradisiaca), পেঁয়াজ—অ্যালিয়াম সেপা (Allium cepa)।
ডাইকটিলেডনাস বা ডাইকট বা দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে?
যেসব গুপ্তবীজী উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী বা ডাইকটিলেডনাস বা ডাইকট উদ্ভিদ বলে। যেমন—আপেল—ম্যালাস ডোমেস্টিকা, আতা—অ্যানোনা স্কোয়ামোসা, জবা—হিবিসকাস রোজা সাইনেনসিস।
