দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী কাকে বলে?
দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী: যেসব প্রাণীর দেহে এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামে দুটি কলা-স্তর থাকে, তাদের দ্বিস্তরবিশিষ্ট বা ডিপ্লোরাস্টিক প্রাণী বলে | যেমন—স্পঞ্জ, সাইকন|
ত্রিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী বা ট্রিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
ত্রিস্তরবিশিষ্ট প্রাণী: যেসব প্রাণীর দেহে এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম এবং এন্ডোডার্ম এই তিনটি কলাস্তর থাকে, তাদের ত্রিস্তরবিশিষ্ট বা ট্রিপ্লোরাস্টিক প্রাণী বলে।
উদাহরণ: ফিতাকৃমি, মানুষ |
অকর্ডাটার অন্তর্গত পর্বগুলি কী কী?
অকর্ডাটার অন্তর্গত পর্বগুলি হল—পরিফেরা, নিডারিয়া, টিনোফোরা, প্লাটিহেলমিনথেস্, নিমাটোডা, অ্যানিলিডা, আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা, একাইনোডার্মাটা, হেমিকর্ডাটা |
মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া কী? কোন্ পর্বের প্রাণীতে থাকে?
মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া: দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রাণীদের দুই কোশস্তরের মাঝখানে জেলির মতো যে পদার্থ থাকে, তাকে মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া বলে।
মেসোগ্লিয়ার উপস্থিতি: পরিফেরা, টিনোফেরা, নিডারিয়া পর্বের প্রাণীতে মেসেনকাইম বা মেসোগ্লিয়া দেখা যায়।
পরিফেরা পর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
পরিফেরা পর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল— 1. দেহে অসংখ্য ছোটো ছিদ্র বা অস্টিয়া এবং একটি বড়ো ছিদ্র বা অসকিউলাম থাকে। 2. দেহে নালিকাতন্ত্র বা ক্যানাল সিস্টেম দেখা যায় |
নিডারিয়া পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
নিডারিয়া পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হল— দেহে নিডোব্লাস্ট নামক দংশক কোশ থাকে যা খাদ্য শিকারে সাহায্য করে। দেহ ডিপ্লোব্লাষ্টিক, অর্থাৎ দুটি জার্মস্তর যুক্ত এবং গ্যাসট্রোভাসকুলার ক্যাভিটি উপস্থিত।
সিলেনটেরন বা গ্যাসট্রোভাসকুলার গহ্বর কী?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহের অভ্যন্তরে যে কেন্দ্রীয় গহ্বর থাকে, তাকে সিলেনটেরন বা গ্যাসট্রোভাসকুলার গহবর বলে| এটি নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের খাদ্য পরিপাকে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
নিডোব্লাস্ট কোশ কী?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের মুখছিদ্রকে ঘিরে থাকা কর্ষিকায় একপ্রকার বিশেষ ধরনের কোশ বর্তমান। একে নিডোরাস্ট কোশ বলে। নিডোরাস্ট কোশে দংশন সহায়ক বিশেষ গঠন নিমাটোসিস্ট দেখা যায়।
নিমাটোসিস্ট কী?
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের মুখছিদ্রকে ঘিরে থাকা কর্ষিকার নিডোব্লাস্ট কোশে যে বিষাক্ত পদার্থপূর্ণ থলি থাকে, তাকে নিমাটোসিস্ট বলে। দংশন সহায়ক নিমাটোসিস্ট খাদ্য শিকার ও আত্মরক্ষার কাজে সহায়তা করে।
নিডারিয়া ও টিনোফোরা পর্বের নামকরণের বৈশিষ্ট্য লেখো।
নিডারিয়ার নামকরণ নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের কর্ষিকাতে নিমাটোসিস্ট নামক দংশন অঙ্গযুক্ত নিডোব্লাস্ট কোশ থাকায় এদের নিডারিয়া বলে।
টিনোফোরার নামকরণ: গ্রিক ভাষার টিনো (ktenos) কথার অর্থ চিরুনি ও ফোরোস (phoros) কথার অর্থ বহন করা। এই পর্বের প্রাণীরা দেহে চিরুনিপাত বহন করে বলে এদের টিনোফোরা বলে।
কোলোব্লাস্ট কোশ বা ল্যাসো কোশ কী?
টিনোফোরা পর্বের প্রাণীদের কর্ষিকায় একপ্রকার বিশেষ আঠালো কোশ দেখা যায়, একে কোলোব্লাস্ট কোশ বা ল্যাসো কোশ বলে। এটি আঠালো পদার্থের ক্ষরণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুর সাথে আটকাতে পারে। ফলে খাদ্যগ্রহণে সাহায্য করে।
কোম্বপ্লেট কী?
টিনোফোরা পর্বের প্রাণীদের গমনাঙ্গ সিলিয়াগুলি যুক্ত হয়ে যে আটটি চিরুনি সদৃশ অঙ্গ তৈরি করে, তাকে কোম্বপ্লেট বলে। এই প্রকার আটটি কোম্বপ্লেট আটটি সারিতে বিস্তৃত থাকে।
হাইড্রা ও বেরো কোন্ পর্বভুক্ত?
হাইড্রা–নিডারিয়া পর্বভুক্ত, বেরো—টিনোফোরা পর্বভুক্ত।
প্লাটিহেলমিনথেস্ পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
প্লাটিহেলমিনথেস্ পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. দেহে তিনটি জার্মম্ভর, অর্থাৎ এক্টোডার্য, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম থাকে। তাই এদের ট্রিপোৱাস্টিক প্রাণী বলা হয়। 2. এঁদের দেহটি চ্যাপটা, রেচন অঙ্গ হল ফ্রেম কোশ বা শিখা কোশ।
সিলোম কী? এটি কোথায় দেখা যায় ?
সিলোম: প্রাণীদেহে মেসোডার্ম কলা থেকে উৎপন্ন দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালীর মধ্যবর্তী গহবরকে সিলোম বলে। এটি মেসোডার্ম কোশ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে।
অবস্থান: অ্যানিলিডা পর্ব থেকে কর্ডেট পর্বের প্রাণীদের দেছে সিলোম দেখা যায়। যেমন– কেঁচো, মানুষ ইত্যাদি।
আসিলোমাটা বা আসিলোমেট কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
আসিলোমাটা: যে সমস্ত প্রাণীদের প্রকৃত দেহগহবর বা সিলোম থাকে না তাদের আসিলোমাটা বা আসিলোমেট বলে।
উদাহরণ: চ্যাপটাকৃমি, ফিতাকৃমি।
সিউডোসিলোম বা ছদ্ম-সিলোম কী?
দেহগহবর মেসোডার্ম পরিবেষ্টিত না হলে, তাকে সিউডোসিলোম বা ছদ্ম সিলোম বলে। এটি অ্যাস্কেলমিনথেস্ পর্বের প্রাণীদের দেখা যায়। যেমন— গোলকৃমি।
সিলোমাটা বা সিলোমেট কাদের বলে উদাহরণসহ লেখো।
যে-সব প্রাণীদের মেসোডার্য দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রকৃত দেহগহবর বা সিলোম থাকে তাদের সিলোমাটা বা সিলোমেট বলে। যেমন—মানুষ, কেঁচো ইত্যাদি।
অ্যানিলিডা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
অ্যানিলিডা পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. দেছে আংটির মতো অসংখ্য খণ্ডক বা মেটামিয়ার থাকে। 2. দেহে প্রকৃত সিলোম বা দেহগহবর থাকে, রক্ত সংবহনতন্ত্র বন্ধ প্রকৃতির।
মেটামিয়ার বা সোমাইট কী?
অ্যানিলিডা পর্বভুক্ত প্রাণীদের দেহ অসংখ্য আংটির মতো খণ্ডক দ্বারা গঠিত। এই খণ্ডকগুলিকে মেটামিয়ার বা সোমাইট বলে।
নিমাটোডা ও অ্যানিলিডার মধ্যে কোন্ পর্বটি উন্নত ও কেন?
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের কিছু উন্নত বৈশিষ্ট্য যেমন— প্রকৃত সিলোম, বদ্ধ রক্তসংবহন তন্ত্র ও নির্দিষ্ট রেচনাঙ্গ থাকে। ফলে এরা বিবর্তনের মাপকাঠিতে নিমাটোডা থেকে উন্নত।
ম্যান্টল কী? এর গুরুত্ব কী?
ম্যান্টল: মোলাস্কা বা কম্বোজ পর্বের প্রাণীদের শক্ত খোলকের নীচে নরম দেহটি যে পেশিময় পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, তাকে ম্যান্টল বলে।
গুরুত্ব: ম্যান্টল থেকে ক্ষরিত পদার্থ খোলক গঠনে সাহায্য করে।
আরশোলা ও শামুক কোন্ পর্বভুক্ত প্রাণী?
আরশোলা–আথ্রোপোডা পর্বভুক্ত ও শামুক–মোলাক্কা পর্বভুক্ত প্রাণী।
অ্যাম্বুল্যাক্ৰাম কাকে বলে?
তারামাছ ইত্যাদি একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের দেহের ওরাল তলের যে কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে নালীপদ বের হয়, তাকে অ্যাম্বুল্যাক্লাম (বহুবচন: অ্যাম্বুল্যাক্তা) বলে।
টিউবফিট বা নালীপদ কাকে বলে? এর কাজ কী?
নালীপদ: একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের অ্যাম্বুল্যাক্রাল খাঁজের দুইপাশে সারিবদ্ধ নলাকার গঠনকে বলে টিউবফিট বা নালীপদ।
কাজ: নালীপদ গমন, খাদ্যসংগ্রহ ও শ্বাসগ্যাস আদানপ্রদানে সাহায্য করে।
তারামাছ বা স্টারফিশ মাছ নয় কেন? যুক্তি দাও।
তারামাছে মৎস্য শ্রেণির বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। এদের জোেড় বা বিজোড় পাখনা থাকে না । দেহতে আঁশ ও ফুলকাছিদ্রও থাকে না। পক্ষান্তরে এদের দেহ অরীয়ভাবে প্রতিসম ও জল সংবহনতন্ত্র যুক্ত। তাই এদের নামে 'মাছ' শব্দটি থাকলেও এরা প্রকৃতপক্ষে একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণী।
প্রদত্ত প্রাণীগুলি যে পর্বের সেটি লেখো—জেলিফিশ, কাটলফিশ, স্টারফিশ, হ্যাগফিশ।
জেলিফিশ–পর্ব নিডারিয়া, কাটলফিশ – পর্ব মোলাস্কা, স্টারফিশ—পর্ব একাইনোডার্মাটা, হ্যাগফিশ—পর্ব কর্ডাটা।
হেমিকর্ডাটা বা স্টোমোকর্ডাটা কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
হেমিকর্ডাটা বা স্টোমোকর্ডাটা অ্যানিমালিয়া রাজ্যের অন্তর্গত ত্রিস্তরবিশিষ্ট, সিলোমযুক্ত, যেসব প্রাণীর দেহ প্রোবোসিস, কলার, ট্রাঙ্ক নিয়ে গঠিত, তাদের হেমিকর্ডাটা বা স্টোমোকর্ডাটা বলে।
উদাহরণ : ব্যালানোগ্লসাস (Balanoglossus sp.), স্যাকোগ্লসাস (Saccoglossus sp.) ইত্যাদি |
নোটোকর্ড কী? মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এর পরিণতি কী?
নোটোকর্ড: নোটোকর্ড হল একটি সরু দণ্ডের মতো নিরেট ও স্থিতি স্থাপক অঙ্গ যা নার্ভকর্ড বা স্নায়ুরজ্জুর ঠিক নীচে অবস্থান করে এবং দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে। এটি কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
পরিণতিঃ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি দ্রূপ অবস্থায় উপস্থিত থাকলেও পরে তা মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
নার্ভকর্ড কী? এর গুরুত্ব কী?
নার্ভকর্ড: নার্ভকর্ড হল একটি নলাকৃতি, ফাপা নালী বিশেষ। এটি কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের নোটোকর্ডের পৃষ্ঠদেশে অনুদৈর্ঘ্যভাবে অবস্থিত। এর ভিতরের গহ্বরটি নিউরোসিল নামে পরিচিত।
গুরুত্ব: মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে নার্ভকর্ডটি পরিবর্তিত হয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড গঠন করে।
শীতলশোণিত প্রাণী (পয়কিলোথার্ম) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
শীতলকোণিত প্রাণী: পরিবেশের তাপমাত্রার কমা বা বাড়ার সঙ্গে যেসব প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়, সেইসব প্রাণীকে শীতলশোণিত প্রাণী (পয়কিলোথার্ম) বলে।
উদাহরণ: ব্যাং, শামুক ইত্যাদি।
উয়শোণিত প্রাণী (হোমিওথার্ম) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উয়শোণিত প্রাণী পরিবেশের তাপমাত্রা কমা বা বাড়ার সঙ্গে যেসব প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় না, সেইসব প্রাণীকে উক্ষ্ণশোণিত প্রাণী (হোমিওথার্ম) বলে।
উদাহরণ: মানুষ, বানর ইত্যাদি।
গলবিলীয় ছিদ্র কী?
কর্ডাটা পর্বের সকল প্রাণীর ভ্রূণ অবস্থায় অথবা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় গলবিলের উভয় পার্শ্বপ্রাচীরে অনেকগুলি ছিদ্র দেখা যায়। এদের গলবিলীয় ছিদ্র বলে।
কর্ডাটা কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
কর্ডাটা: অ্যানিমালিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত যে সকল প্রাণীদের জীবনচক্রের কোনো না কোনো দশায় নোটোকর্ড, নার্ভকর্ড, গলবিলীয় ছিদ্র থাকে, তাদের কর্ডাটা বলে।
উদাহরণ: অ্যাসিডিয়া (Ascidia sp.), অ্যাম্ফিঅক্সাস (Branchiostoma sp.) মানুষ (Homo sapiens) ইত্যাদি |
কর্ডাটা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
কর্ডাটা পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. ভ্ৰূপ অবস্থায় বা সারাজীবন পৌষ্টিকনালীর পৃষ্টদেশে নোটোকর্ড থাকে, যা মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। 2. পৃষ্ঠদেশে ফাপা নলাকার স্নায়ুরজ্জু থাকে, যা মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে পরিবর্তিত হয়। 3. সারাজীবন বা জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে গলবিলের দুই পাশে গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র দেখা যায়।
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের কয়টি উপপর্বে ভাগ করা হয় ও কী কী?
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের তিনটি উপপর্বে ভাগ করা হয়। যথা— ইউরোকর্ডাটা, সেফালোকর্ডাটা এবং ভাটিব্রাটা।
সেফালোকর্ডাটা ও ভার্টিব্রাটার উদাহরণ দাও।
সেফালোকর্ডাটা—ব্র্যাঙ্কিওস্টোমা ল্যান্সিগুলেটাম।
ভার্টিব্রাটা—ম্যাকাকা মুলাটা (বানর)।
অ্যাম্ফিঅক্সাস কর্ডাটা হলেও একে মেরুদণ্ডী বলা হয় না কেন?
অ্যাম্ফিঅক্সাস-এর দেহে ভ্রূণ অবস্থায় নোটোকর্ড উপস্থিত, তাই এরা কর্ডাটা পর্বভুক্ত | কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ভার্টিব্রেটদের মতো এদের দেহে নোটোকর্ড মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় না, নোটোকর্ড রূপেই থেকে যায়। তাই অ্যাম্ফিঅক্সাস কর্ডাটা হলেও একে মেরুদণ্ডী বলা হয় না।
ভার্টিব্রাটা কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
ভাটিব্রাটা: কর্ডাটা পর্বের যে সকল প্রাণীর দেহে অস্থি-নির্মিত মেরুদণ্ড ও করোটি বর্তমান, তাদের ভার্টিব্রাটা বলে।
উদাহরণ: রুই মাছ (Labeo rohita), মানুষ (Homo sapiens) |
অ্যাগনাথা কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
অ্যাগনাথা: চোয়ালবিহীন মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অ্যাগনাথা বলে।
উদাহরণ: অ্যাগনাথা -র উদাহরণ হল– ল্যামপ্রে (Petromyzon marinus), হ্যাগফিশ (Myxine glutinosa)।
হাঙর যে শ্রেণিভুক্ত তার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
হাঙর–কনড্রিকৃথিস শ্রেণিভুক্ত। এই শ্রেণির প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হল— মাছগুলির অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থি দ্বারা নির্মিত হয়। ফুলকাগুলি উন্মুক্ত হয়, পটকা থাকে না।
কনড্রিকৃথিস কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
কনড্রিকৃথিস: কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত যে সকল চোয়ালযুক্ত মেরুদণ্ডী প্রাগীর অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থি নির্মিত, দেহত্বকে প্লাকয়েড আঁশ বর্তমান এবং মুখছিদ্র অঙ্কীয় তলে অবস্থিত, তাদের কনড্রিকৃথিস বলে।
উদাহরণ: শংকর মাছ (Trygon mulgaris), হাঙর (Scoliodon sorrakowah) ইত্যাদি।
