Class 9 Life Science Chapter 1.3 (জীবের নানা বৈচিত্র্যের শ্রেণীবিন্যাস) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

লিনিয়াসের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো। 

‘সিস্টেমা ন্যাচুরি, দশম সংস্করণ (1758) এবং 'স্পিসিস প্লান্টেরাম’ (1753)



ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি কাকে বলে?

 জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস-সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি বলে।



বিন্যাসবিধির জনক কে? তিনি কোন্ পুস্তকে প্রাণী প্রজাতির উল্লেখ করেন? 

বিন্যাসবিধির জনক হলেন—ক্যারোলাস লিনিয়াস।

তিনি প্রাণী প্রজাতির উল্লেখ করেন ‘সিস্টেমা ন্যাচুরি’ নামক পুস্তকে।



 ট্যাক্সোমি বা বিন্যাসবিধির প্রধান উপাদানগুলি কী কী?

ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির প্রধান উপাদানগুলি হল— শনাক্তকরণ,  নামকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রামাণ্য দলিল রক্ষণাবেক্ষণ |



শনাক্তকরণ কাকে বলে?

বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে, কোনো জীবকে অন্য জীব থেকে পৃথক করার পদ্ধতিকে শনাক্তকরণ (identification) বলে।



তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ কাকে বলে?

বিশেষ কতকগুলি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীকে দেখে অপর প্রাণী বা উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে চিনে নেওয়ার পদ্ধতিকে তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ বলে।



গোষ্ঠীভুক্তকরণ কাকে বলে?

যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বনের দ্বারা নিকট সম্পর্কযুক্ত জীবগুলিকে এক একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাকে গোষ্ঠীভুক্তকরণ (categorization) বলে |



নামকরণ কাকে বলে?

যে বিশেষ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীভুক্ত প্রত্যেকটি জীবের বিজ্ঞানসম্মত নাম দিয়ে তাদের পৃথক করা হয়, তাকে নামকরণ (nomenclature) বলে।



শ্রেণিবিন্যাস কাকে বলে? 

পারস্পরিক সাদৃশ্য ও সম্পর্কের ভিত্তিতে সুশৃঙ্খলভাবে জীবের বিজ্ঞান সম্মত গোষ্ঠীভুক্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বা ক্লাসিফিকেশন বলে।



প্রামাণ্য দলিল রক্ষণাবেক্ষণ বা ডকুমেন্টেশন বলতে কী বোঝ?

কোনো প্রকার জীব সংগ্রহ করে, তাকে সংগ্রহশালা বা মিউজিয়ামে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে প্রামাণ্য দলিল রক্ষণাবেক্ষণ (documentation) বলে।



প্রামাণ্য দলিল রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী?

প্রামাণ্য দলিল রক্ষণাবেক্ষণ করলে আগামী দিনে কতকগুলি কাজে সুবিধা পাওয়া যায়, যেমন— শনাক্তকরণ, নামকরণ, জীবের বর্ণনা দেওয়া ইত্যাদি | এ ছাড়া গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।



বিজ্ঞানসম্মত নাম ল্যাটিনে লেখা হয় কেন?

ল্যাটিন একটি মৃত ভাষা, তাই এটির পরিবর্তন ঘটে না। সেই কারণে পৃথিবীর যে-কোনো জায়গাতে অপরিবর্তনশীল রাখার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত নাম ল্যাটিনে লেখা হয়।



ক্যাটেগোরি বলতে কী বোঝ?

উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রত্যেকটি একককে ক্যাটেগোরি (category) বলা হয়। যেমন—প্রজাতি, গণ, গোত্র, বর্গ, শ্রেণি, পর্ব ও রাজ্য হল বিভিন্ন ধরনের ক্যাটেগোরি।



সিস্টেমেটিক্স কাকে বলে?

 বিজ্ঞানী সিম্পসন (1961) -এর মতে, সিস্টেমেটিক্স হল বিভিন্ন জীবের প্রকারভেদ, বৈচিত্র্য, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পার্থক্য নিরূপণ করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।



 সিস্টেমেটিক্স-এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?

সিস্টেমেটিক্স-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল— সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবকে এমনভাবে গোষ্ঠীভুক্ত করা, যাতে খুব সহজেই তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করা যায় এবং, জীবের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের পথ নির্দেশ করা যায় |



ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স এর সম্পর্ক কী?

ট্যাক্সোনমি ও সিস্টেমেটিক্স প্রায় সমার্থক। যদিও ট্যাক্সোনমি শ্রেণিবিন্যাসের নিয়মকানুন প্রবর্তন করে এবং সিস্টেমেটিক্স ট্যাক্সোনমির প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে জৈববৈচিত্র্যের বিবর্তনগত সম্পর্ক স্থাপন করে।



ট্যাক্সোনমির দুটি গুরুত্ব লেখো।

 ট্যাক্সোনমির গুরুত্বগুলি হল— 1. নির্দিষ্ট জীব সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা প্রদান করা। 2. জীবকে সম্পর্ক ও বিবর্তনের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা।



শ্রেণিবিভাগের প্রয়োজনীয়তা কী?

শ্রেণিবিভাগের প্রয়োজনীয়তাগুলি হল— 1. পৃথিবীর নানারকম জীব সমূহকে শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে গোষ্ঠীভুক্ত করলে খুব সহজে তাদের শনাক্ত করা যায়। 2. শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ করা যায়। 3. জীবগোষ্ঠী সম্বন্ধে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করা যায় |



ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি বলতে কী বোঝ?

 বড়ো থেকে ছোটো বিভিন্ন ট্যাক্সনকে ওপর থেকে নীচে ক্রমানুসারে সাজানোর পদ্ধতিকে ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি বলে| একে লিনিয়ান হায়ারার্কিও বলে |



ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। অথবা, ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির গুরুত্ব কী কী ?

ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 1. জীবদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কির মাধ্যমে। 2. সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে এটি জীবদের পৃথক করতে সাহায্য করে| 3. জীবদের নির্দিষ্ট রীতিতে সজ্জিত করে। দ্বিপদ নামকরণে সাহায্য করে।



লিনিয়ান হায়ারার্কি কী?

লিনিয়াস প্রবর্তিত ‘সিস্টেমা ন্যাচুরি’ (Systema Naturae, 1758) পুস্তকের দশম সংস্করণে যে হায়ারার্কি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, তাই লিনিয়ান হায়ারার্কি নামে পরিচিত। এই হায়ারার্কিতে 7টি স্তর আছে (প্রাথমিকভাবে পাঁচটি স্তর ছিল) | সর্বোচ্চ স্তর হল রাজ্য এবং সর্বনিম্ন স্তর হল প্রজাতি।



দ্বিপদ নামকরণের সুবিধা বা গুরুত্বগুলি লেখো।

1. দ্বিপদ নামকরণ সর্বজনীন, তাই পৃথিবীর সর্বত্র এই নামের দ্বারা যে কোনো জীবকে চিনে নেওয়া সম্ভব হয়। 2. স্থানীয় নামকরণ-সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি দূর করতে দ্বিপদ নামকরণ সাহায্য করে। 3. দ্বিপদ নামকরণ সরল, অর্থপূর্ণ ও তা অন্য জীবের ক্ষেত্রে পুনর্ব্যবহৃত হয় না। তাই তা বিজ্ঞানসম্মত।



স্থানীয় নাম ব্যবহারের অসুবিধা কী?

স্থানীয় নাম ব্যবহারের অসুবিধাগুলি হল— 1. স্থানীয় নাম জায়গাভেদে ভিন্ন হয়, যার ফলে কোনো জীবকে চিনতে অসুবিধা হয়। 2. স্থানীয় নাম জীব সম্পর্কে ভুল বার্তা দিতে পারে| যেমন— সিলভার ফিশ একটি সন্ধীপদী প্রাণী হলেও, নাম শুনে অনেক ক্ষেত্রেই মাছ বলে ভুল করা হয় |



'Homo sapiens Linn., 1758'-এর অর্থ কী?

এটি মানুষের সম্পূর্ণ দ্বিপদ নামকরণ। এর অর্থ হল— মানুষের বৈজ্ঞানিক দ্বিপদ নাম হল Homo sapiens। নামটির প্রথম শব্দটি হল গণ এবং দ্বিতীয় শব্দটি হল প্রজাতি। বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 1758 খ্রিস্টাব্দে মানুষের বিজ্ঞানসম্মত নামটি প্রবর্তন করেন | 



দ্বিপদ নামকরণের অগ্রাধিকার সূত্র কাকে বলে? অথবা, ‘পূর্বিতার আইন’ (Law of Priority) কাকে বলে?

কোনো জীবের গণ বা প্রজাতির প্রথম প্রকাশিত স্বীকৃত নাম অন্য কোনো জীবের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। দ্বিপদ নামকরণের এই নিয়মকে বলে অগ্রাধিকার সূত্র বা পূবির্তার আইন বা ‘ল অফ প্রায়োরিটি' | 1753 খ্রিস্টাব্দের 1 মে, স্পিসিস প্লান্টেরাম'-এর প্রকাশের আগের উদ্ভিদের এবং 1758 খ্রিস্টাব্দের এর 1 অগাস্ট ‘সিস্টেমা ন্যাচুরি’, দশম সংস্করণ-এর প্রকাশের আগের প্রাণীদের নাম গৃহীত হয় না। এই দিনগুলির পরে দেওয়া প্রথম সঠিক বিজ্ঞানসম্মত নামটি গৃহীত হয়।



ICBN কী? এর গুরুত্ব লেখো।

ICBN : ICBN বা ইন্টারন্যাশনাল কোড অফ বোটানিকাল নোমেনক্লেচার হল কোনো উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রদানের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি। ইন্টারন্যাশনাল বোটানিকাল কংগ্রেসে (সর্বশেষ ভিয়েনা কংগ্রেস 2006) নামকরণের নিয়মাবলি পরিমার্জিত করা হয়। বর্তমানে ভিয়েনা কোড অনুযায়ী উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়|

গুরুত্ব: উদ্ভিদের প্রতিটি ট্যাক্সনের সঠিক নামকরণ এবং উদ্ভিদটির দ্বিপদ নামকরণ করার কাজে CBN সাহায্য করে। 



ICZN কী? এর গুরুত্ব লেখো।

ICZN: ICZN বা ইন্টারন্যাশনাল কোড অফ জুলজিকাল নোমেনক্লেচার হল প্রাণীর বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রদানের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি। ইন্টারন্যাশনাল জুলজিকাল কংগ্রেসে এই নিয়মাবলি পরিমার্জিত হয় | বর্তমানে নামকরণে এর চতুর্থ সংস্করণের নিয়মনীতি মানা হয়।

গুরুত্ব: প্রাণীর ট্যাক্সনের সঠিক নামকরণ ও প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণ করার জন্য ICZN সাহায্য করে।