Class 9 Life Science Chapter 2 (জীবন সংগঠনের স্তর) Part 1 Topic 1 (জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ক্ষুদ্র জৈব অণু কাকে বলে?

নিম্ন আণবিক ওজনযুক্ত যে অণুগুলি জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় ক্রাজে অংশ নেয়,তাদের ক্ষুদ্র জৈব অণু বলে | যেমন—অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড।



বৃহৎ জৈব অণু কাকে বলে?

উচ্চ আণবিক ওজনযুক্ত যে অণুগুলি একাধিক ক্ষুদ্র জৈব অণুর সমন্বয়ে গঠিত এবং জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়, তাদের বৃহৎ জৈব অণু বলে | যেমন—ফ্যাট, প্রোটিন।



জলের গঠনগত বৈশিষ্ট্য কী?

জল একটি অজৈব যৌগ যা দুই অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। এরা সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এক অণু জল তৈরি করে। জলের অণুগুলি আবার পরস্পর হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।



ক্ষার কী? জীবদেহে ক্ষারের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ক্ষার: জলীয় দ্রবণে পিচ্ছিল ও স্বাদে কষা অজৈব ধাতব অক্সাইড ও হাইড্রক্সাইডগুলিকে ক্ষার বলে। যেমন— NaOH, KOH ইত্যাদি | 

ভূমিকা: দেহে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায় ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়াও দেহের বিভিন্ন জৈবনিক বিক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট pH মাত্রা নির্ধারণেও ক্ষারগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



লবণ কী ? লবণ জীবদেহে কেন প্রয়োজনীয় ?

লবণ: অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রশম অজৈব যৌগ হল লবণ। 

লবণের প্রয়োজনীয়তা: জীবদেহে লবগের প্রয়োজনীয়তা গুলি হল – 1. লবণ মানবদেহের জলসাম্য বজায় রাখে। 2. অস্থি গঠনে, থাইরয়েড হরমোন গঠনে লবগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। 3. স্নায়বিক আয়ন পরিবহণে লবণ অংশগ্রহণ করে।



ক্ষারকের সঙ্গে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কী কী উৎপন্ন হয় তা সমীকরণের সাহায্যে দেখাও।

 ক্ষারকের সঙ্গে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন যৌগগুলি নীচে একটি সমীকরণের সাহায্যে দেখানো হল—

NaOH (ক্ষারক)  + HCl (অ্যাসিড) = NaCl (লবণ) + H2O (জল)



অজৈব গ্যাসের দুটি উদাহরণ দাও ও তাদের গুরুত্ব লেখো।

অজৈব গ্যাসের দুটি উদাহরণ হল অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড | অক্সিজেন হল প্রধান শ্বাসগ্যাস | শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যের জারণ দ্বারা শক্তি নির্গমন পদ্ধতিতে অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



কার্বোহাইড্রেট কাকে বলে?

কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন— এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত যেসব জৈব যৌগে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন সাধারণত 1:21 অনুপাতে থাকে এবং যা দেহে তাপশক্তির জোগান দেয়, তাকে কার্বোহাইড্রেট বলে



কার্বোহাইড্রেটের উৎস কী?

কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস হল উদ্ভিজ্জ পদার্থ। যেমন—চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার বা স্টার্চ, আঙুর, আপেল, গুড়, চিনি, আখের রস ইত্যাদি থেকে সুক্রোজ, শাক-সবজি, বেল ইত্যাদি থেকে সেলুলোজ পাওয়া যায়। কিছু কিছু কার্বোহাইড্রেট প্রাণীজ উৎস থেকেও পাওয়া যায়, যেমন—পাঁঠার যকৃৎ ও পেশি থেকে গ্লাইকোজেন পাওয়া যায়।



মনোস্যাকারাইড বা একশর্করার দুটি গঠন বৈশিষ্ট্য লেখো ও উদাহরণ দাও

গঠন বৈশিষ্ট্য: একশর্করা বা মনোস্যাকারাইডের দুটি বৈশিষ্ট্য হল - 1. একশর্করা বা মনোস্যাকারাইড হল সরলতম শর্করা। অর্থাৎ, এই জাতীয় শর্করাকে বিশ্লিষ্ট করলে কোনো শর্করাধর্মী যৌগ অবশিষ্ট থাকে না। 2. একশর্করা বা মনোস্যাকারাইড দুই বা ততোধিক হাইড্রক্সিল মূলকবিশিষ্ট অ্যালডিহাইড অথবা কিটোন জাতীয় যৌগ।

উদাহরণ: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাকটোজ ইত্যাদি।



অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? 

 কমপক্ষে একটি অ্যামিনো (-NH) মূলক এবং একটি কার্বক্সিল (-COOH) মূলক নিয়ে গঠিত যে জৈব অ্যাসিড প্রোটিন অপুর গঠনগত একক হিসেবে কাজ করে, তাকে অ্যামিনো অ্যাসিড বলে। অ্যামিনো অ্যাসিডে একটি কেন্দ্রীয় কার্বন পরমাণুর সাথে একটি অ্যামিনো একটি কার্বক্সিল, একটি হাইড্রোজেন (H) ও একটি পরিবর্তনযোগ্য গ্রুপ (R) যুক্ত থাকে| উদাহরণ—মিথিওনিন, সেরিন ইত্যাদি |



অ্যামিনো অ্যাসিড অণুর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। 

অ্যামিনো অ্যাসিড অণুর দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. অ্যামিনো অ্যাসিড কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত সরল জৈব অণু। 2. অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে একটি কেন্দ্রীয় কার্বন পরমাণুর সাথে একটি অ্যামিনো (−NH2), একটি কার্বক্সিল (COOH). একটি হাইড্রোজেন (H) ও একটি পরিবর্তনযোগ্য গ্রুপ (R) যুক্ত থাকে |



অ্যামিনো অ্যাসিড ভাণ্ডার (পুল) বলতে কী বোঝায়?

জীবদেহে মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের সামগ্রিক পরিমাণকে অ্যামিনো অ্যাসিড ভাঙার বলা হয়। সাধারণত জীবদেহে এই ভাণ্ডারের পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে।



অ্যামিনো অ্যাসিডেকে অ্যাম্ফোটেরিক যৌগ বলে কেন?

 যে যৌগের হাইড্রোজেন আয়ন দান করা বা অ্যাসিড হওয়ার প্রবণতা এবং হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করা বা ক্ষারীয় হওয়ার প্রবণতা—উভয়ই একসঙ্গে দেখা যায় তাদের অ্যাম্ফোটেরিক যৌগ বলে | অ্যামিনো অ্যাসিডের -COOH গ্রুপ দ্রবণে H+ আয়ন দান করে এবং – NH2 গ্রুপ তা গ্রহণ করে। এই জন্য অ্যামিনো অ্যাসিডকে অ্যাম্ফোটেরিক যৌগ বলে।



অপরিহার্য বা অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে?

যেসব অ্যামিনো অ্যাসিড দেহে সংশ্লেষিত হয় না, বাইরে থেকে খাদ্যের মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং যেগুলি দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, তাদের অত্যাবশ্যকীয় বা অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (essential amino acids)বলে। উদাহরণ ট্রিপটোফ্যান, ফিনাইল অ্যালানিন, লাইসিন, থ্রিওনিন, ভ্যালিন, মিথিওনিন, লিউসিন এবং আইসোলিউসিন।



অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডগুলির নাম লেখো।

অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি হল—ফিনাইল অ্যালানিন, ট্রিপ্টোফ্যান, মিথিওনিন, থ্রিওনিন, ভ্যালিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, লিউসিন, হিস্টিডিন। এই নয়টি হল অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড।



অনপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড বলতে কী বোঝ?

যেসব অ্যামিনো অ্যাসিড দেহে সংশ্লেষিত হয় এবং খাদ্যের মধ্যে যাদের উপস্থিতি অপরিহার্য নয়, তাদের অনপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড (non essential amino acids) বলে। যেমন—অ্যালানিন, সেরিন ইত্যাদি।



ফ্যাটি অ্যাসিড বলতে কী বোঝ?

যেসব মনোকার্বক্সিলিক অ্যাসিড (অর্থাৎ, একটিমাত্র কার্বক্সিল মূলকযুক্ত অ্যাসিড) প্রাকৃতিক ফ্যাট বা স্নেহপদার্থ-সমূহের উপাদান হিসেবে পাওয়া যায় এবং যা জলে অদ্রবণীয় কিন্তু ফ্যাট দ্রাবকে ইথার, ক্লোরোফর্ম, বেঞ্জিন ইত্যাদি) দ্রবণীয়, তাদের ফ্যাটি অ্যাসিড বলে। যেমন—পামিটিক অ্যাসিড।



সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে?

যেসব ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন পরমাণু পরম্পর একযোজী বন্ধন দিয়ে যুক্ত থাকে, তাদের সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বলে। উদাহরণ—স্টিয়ারিক অ্যাসিড, বিউটাইরিক অ্যাসিড, পামিটিক অ্যাসিড ইত্যাদি |



অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে?

যেসব ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন শৃঙ্খলে দ্বি-বন্ধন অথবা ত্রি-বন্ধন উপস্থিত থাকে, তাদের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বলে। উদাহরণ— লিনোলেইক অ্যাসিড, লিনোলেনিক অ্যাসিড, অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড ইত্যাদি।



অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে ?

 যেসব ফ্যাটি অ্যাসিড জীবদেহের স্বাভাবিক পুষ্টি এবং বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় কিন্তু দেহে সংশ্লেষিত হয় না, ফলে খাদ্যের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়, তাদের অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড বলে। উদাহরণ লিনোলেইক অ্যাসিড, লিনোলেনিক অ্যাসিড, অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড।



অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস কী?

অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎকৃষ্ট উৎস হল— সূর্যমুখীর তেল, তিলের তেল, তিসির তেল, সয়াবিনের তেল ও কালো তিলের তেল। এ ছাড়া রেপসিড, তুষের তেল ও চিনাবাদামের তেলেও এটি যথেষ্ট পরিমাণে থাকে | এ ছাড়াও নারকেল তেল, বনস্পতি, মাখন, ঘি ও খাসির মাংসে এটি খুব সামান্য পরিমাণে থাকে।



মানবদেহে অপরিহার্য বা অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের কাজ কী?

» অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি – 1. দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং প্রজনন ক্ষমতা বজায় রাখে। 2. ত্বককে শুষ্কতা ও বিবর্ণতা থেকে রক্ষা করে। 3. স্তন্যদানকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে দুগ্ধক্ষরণ অপরিবর্তিত রাখে। 4. দেহের জলসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। 5. রক্তে কোলেস্টেরল পরিবহণে সহায়তা করে। 6. ত্বকের আবরক ঝিল্লির রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে।



নিউক্লিওটাইড কী? জীবদেহে এর ভূমিকা উল্লেখ করো।

নিউক্লিওটাইড: নাইট্রোজেনবিশিষ্ট ক্ষার, পেন্টোজ শর্করা ৩ ফসফেটমূলক দ্বারা গঠিত নিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনগত উপাদান হল নিউক্লিওটাইড।

ভূমিকা: বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী DNA ও RNA-র গঠনগত উপাদান হল নিউক্লিওটাইড অর্থাৎ, এই নিউক্লিওটাইডগুলির বিন্যাসের ফলে নির্দিষ্ট জিন সৃষ্টি হয়।



ডাইস্যাকারাইড বা দ্বিশর্করা কাকে বলে?

দুটি মনোস্যাকারাইড বা একশর্করা পরস্পর যুক্ত হয়ে এবং এক অণু জল মুক্ত হয়ে যে কার্বোহাইড্রেট গঠিত হয়, তাকে ডাইস্যাকারাইড বা দ্বিশর্করা বলে। যেমন— ল্যাকটোজ, সুক্রোজ, মল্টোজ ইত্যাদি |



অলিগোস্যাকারাইড কাকে বলে? 

তিন থেকে নয়টি মনোস্যাকারাইড বা এককশর্করার সমন্বয়ে গঠিত কার্বোহাইড্রেটকে অলিগোস্যাকারাইড বলে। যেমন—র্যাফিনোজ।



পলিস্যাকারাইড বা বহুশর্করা কাকে বলে?

দশ বা দশের অধিক মনোস্যাকারাইড বা একশর্করার সমন্বয়ে গঠিত কার্বোহাইড্রেটকে পলিস্যাকারাইড বা বহুশর্করা বলে। যেমন—শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন, ইনিউলিন ইত্যাদি।



কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসারকে ‘প্রোটিন বিকল্প’ বা ‘প্রোটিন বাঁচোয়া (স্পেয়ারিং)' খাদ্য বলে কেন? 

খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত পরিমাগে শ্বেতসার উপস্থিত থাকলে তা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। ফলে দেহ গঠনকারী প্রধান খাদ্য প্রোটিন শক্তি উৎপাদনের জন্য কম ব্যয়িত হতে পারে। তাই একে ‘প্রোটিন বাঁচোয়া', ‘প্রোটিন বিবল্প’ বা ‘প্রোটিন স্পেয়ারিং’ খাদ্য বলে |



রাফেজ কী? এর গুরুত্ব কী?

রাফেজ: শাক-সবজিতে উপস্থিত সেলুলোজ মানবদেহে পাচিত হয় না। খাদ্যের এই অপাচ্য অংশকে রাফেজ বলে। 

গুরুত্ব: খাদ্যে উপস্থিত রাফেজ পৌষ্টিকনালীর বিচলন বৃদ্ধি করে মলত্যাগে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।



পলিপেপটাইড কী?

50-এর চেয়ে কম সংখ্যক অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পরপর যুক্ত হয়ে যে বৃহৎ পলিমার অণু গঠন করে, তাকে পলিপেপটাইড বলে। 



প্রোটিন কাকে বলে?

50- এর থেকে অধিক সংখ্যক অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যে বৃহৎ পলিমার গঠন তৈরি করে, তাকে প্রোটিন বলে। উদাহরণ:—গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন



সরল প্রোটিন (simple protein) কাকে বলে?

যেসব প্রোটিন কেবলমার অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত হয়, তাদের সরল প্রোটিন বলে। উদাহরণ— অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ইত্যাদি |



সংযুক্ত প্রোটিন (conjugated protein) কাকে বলে?

যেসব প্রোটিনের সঙ্গে অপ্রোটিন অংশ (প্রস্পেষ্টিক গ্রুপ) যুক্ত থাকে, তাদের সংযুক্ত প্রোটিন বলে। উদাহরণ হিমোগ্লোবিন [হিম নামক লৌহঘটিত অংশ + গ্লোবিন (প্রোটিন)], হিমোসায়ানিন, লাইপোপ্রোটিন, গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি।



লব্ধ প্রোটিন (derived protein) কাকে বলে?

প্রোটিনের পরিপাকের বা আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন প্রোটিনজাত উপাদানকে লন্ধ প্রোটিন বলে। উদাহরণ—মেটাপ্রোটিন, প্রোটিওজ. পেপটোন ইত্যাদি |



ক্রোমোপ্রোটিন কাকে বলে?

কোনো সরল প্রোটিনের সঙ্গে কোনো রঙ্গক পদার্থ প্রস্থেটিক গ্রুপ রূপে যুক্ত থাকলে, তাকে ক্রোমোপ্রোটিন বলে। উদাহরণ—হিমোগ্লোবিনে গ্লোবিন নামক প্রোটিন, ‘হিম' নামক লৌহঘটিত রঙ্গক পদার্থের সঙ্গে যুক্ত থাকে।



মেটালোপ্রোটিন কাকে বলে?

প্রোটিনের সঙ্গে মেটাল বা ধাতুর সংযুক্তিতে সৃষ্ট সংযুক্ত প্রোটিনকে মেটালোপ্রোটিন বলে। যেমন—প্রোটিন কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজে (উৎসেচক) অ্যামিনো অ্যাসিড শৃঙ্খলের সঙ্গে দস্তা বা জিংক সংযুক্ত হয়।



লাইপোপ্রোটিন কী? এটি কোথায় পাওয়া যায় ?

লাইপোপ্রোটিন প্রোটিন অণু লিপিডের সঙ্গে, বিশেষত ফসফোলিপিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে যৌগ তৈরি করে, তাকে লাইপোপ্রোটিন বলা হয়।

উৎস: ডিমের কুসুম, দুধ প্রভৃতি খাদ্যে পাওয়া যায়।



দেহের নাইট্রোজেন ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কোন জাতীয় প্রোটিন অধিক উপযোগী এবং কেন?

দেহের নাইট্রোজেন ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রাণীজ প্রোটিন অধিক উপযোগী | কারণ প্রাণীজ প্রোটিনের জৈবিক মূল্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় অনেক বেশি |



খাদ্যে প্রোটিনের আধিক্যজনিত ফল কী ?

খাদ্যে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক প্রোটিন থাকলে, শরীর সেই প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না, বরং তার বিপাকে উৎপন্ন রেচন পদার্থ, যেমন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে নানা সমস্যা দেখা দেয় |



স্নেহপদার্থ বা লিপিড কাকে বলে?

ফ্যাটি অ্যাসিড নামক জৈব অ্যাসিড এবং গ্লিসারল নামক অ্যালকোহল পরস্পর বিক্রিয়া করে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নির্মিত যে খ্রস্টার তৈরি করে, তাকে স্নেহপদার্থ বা লিপিড বলে।



এস্টার কাকে বলে?

অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের বিক্রিয়ার ফলে যে যৌগ উৎপন্ন হয়, তাকে এস্টার বলে। যেমন—ফ্যাটি অ্যাসিড (অ্যাসিড) এবং গ্লিসারলের (অ্যালকোহল) বিক্রিয়ায় লিপিড (এস্টার) উৎপন্ন হয়।



স্নেহপদার্থ বা লিপিডের ধর্ম লেখো।

লিপিডের ধর্মগুলি হল— এটি স্বাদহীন, গন্ধহীন, বর্ণহীন ও জলে অদ্রবগীয় পদার্থ | এটি পেট্রোল, ইথার, বেঞ্জিন ইত্যাদি দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়। 3 লিপিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব 1 এর কম। অর্থাৎ, এটি জলের থেকে হালকা। এটি তরল (তেল) বা কঠিন (ফ্যাট) অবস্থায় থাকতে পারে |



ফ্যাট বা চর্বি এবং তেল বলতে কী বোঝ?

ফ্যাট বা চর্বি যেসব লিপিড সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে, তাদের ফ্যাট বা চর্বি বলে। যেমন—মাখন, মার্জারিন | >> তেল: নিম্ন গলনাঙ্কসম্পন্ন যেসব লিপিডগুলি ঘরের তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে, তাদের তেল বলে। যেমন— বাদাম তেল, সরষের তেল।



খাদ্যে স্নেহপদার্থ বা লিপিডের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎসগুলি উল্লেখ করো।

উদ্ভিজ্জ উৎস: লিপিডের প্রধান উদ্ভিজ্জ উৎসগুলি হল—সরষে, সূর্যমুখী, রেপসিড, বাদাম, নারকেল প্রভৃতি থেকে প্রাপ্ত ভোজ্য তেলসমূহ | > প্রাণীজ উৎস: লিপিডের প্রধান প্রাণীজ উৎস হল—দুধ, মাখন, ঘি, চর্বিসমৃদ্ধ মাংস ও মাছ, মাছের যকৃতের তেল, ডিমের কুসুম ইত্যাদি|