অ্যান্টিভিটামিন কাকে বলে?
যেসব জৈব পদার্থ ভিটামিনের কাজে বাধা সৃষ্টি করে বা ভিটামিনকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে, তাদের অ্যান্টিভিটামিন বলে। উদাহরণ গ্যালাকটোফ্লাভিন, রাইবোফ্লাভিন বা ভিটামিন B₂ এর কার্যকারিতাকে বিনষ্ট করে। তাই এটি রাইবোফ্লাভিনের অ্যান্টিভিটামিন।
প্রোভিটামিন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
>l যেসব জৈব যৌগ থেকে প্রাণীদেহে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয়, তাদের প্রোডিটামিন বলে|
উদাহরণ- β ক্যারোটিন থেকে যকৃতে ভিটামিন A সংশ্লেষিত হয়।
‘সিউডোভিটামিন’ বা ‘ছদ্ম ভিটামিন’ কাকে বলে?
যেসব জৈব যৌগের গঠন ভিটামিনের গঠনসদৃশ, কিন্তু যারা ভিটামিনের মতো গুণসম্পন্ন নয়, তাদের সিউডোভিটামিন বা ছদ্ম ভিটামিন বলে | উদাহরণ—মিথাইলকোবালামিন ভিটামিন B₁₂ এর ছদ্ম ভিটামিন |
ভিটামিন A বা রেটিনলের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন A-এর উদ্ভিজ্জ উৎস: গাজর, পাকা টম্যাটো, বাঁধাকপি, শজনে পাতা, টাটকা হলদে বর্ণের ফল ইত্যাদি |
ভিটামিন A-এর প্রাণীজ উৎস: নিঃসৃত তেল, ডিমের কুসুম, মাখন, দুধ, কড, হাঙর ও হ্যালিবাট মাছের যকৃৎ ইত্যাদি |
ভিটামিন A-এর কাজ কী?
ভিটামিন A-এর কাজগুলি হল— 1. রেটিনাতে আলোক-সংবেদী রোডপসিন রঙ্গক তৈরিতে সাহায্য করা, 2. চোখের মণি, চোখের পাতার আবরণী কলা সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করা, 3. জিহবা, শ্বাসনালী ও আবরণী কলার বৃদ্ধি ও সক্রিয়তা বজায় রাখা, 4. রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, ইত্যাদি |
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে রেটিনল বা ভিটামিন A-এর আধিক্যের ফলে মানবদেহে কী কী সমস্যা দেখা যায় ?
ভিটামিন A-এর আধিক্যের (হাইপারভিটামিনোসিস) ফলে মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন— 1. বমি বমি ভাব হয়। 2. ঘুম ঘুম ভাব থাকে। 3. দেহের ওজন হ্রাস পায়। 4. চুল পড়ে যায়। 5. মূত্রনালী, মস্তিষ্ক প্রভৃতিতে রক্তক্ষরণ হয়। 6. অস্থি থেকে ক্যালশিয়াম অবক্ষয়ের ফলে অস্থি ভঙ্গুর হয়।
ভিটামিন D বা ক্যালসিফেরলের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন D-এর উদ্ভিজ্জ উৎস: ভিটামিন D এর উদ্ভিজ্জ উৎস প্রায় নেই বললেই চলে। তবে বাঁধাকপি ও উদ্ভিজ্জ তেলে এটি সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়।
ভিটামিন D-এর প্রাণীজ উৎস: কড, হাঙর ও হ্যালিবার্ট মাছের যকৃৎ-নিঃসৃত তেল, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম, মাখন ইত্যাদি। এ ছাড়া, মানুষের ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে সামান্য ভিটামিন D সংশ্লেষিত হয়।
ভিটামিন D-এর কাজ কী?
ভিটামিন D-এর কাজগুলি হল— 1. অস্মির পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করা, 2. শিশুদের দাঁতের গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করা, 3. ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করা, 4. রক্তে ক্যালশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্যারাথাইরয়েড গ্রথির সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ করা।
ভিটামিন E বা টোকোফেরলের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন E-এর উদ্ভিজ্জ উৎস: উদ্ভিজ্জ তেল (বিশেষত গম বীজের তেল) অঙ্কুরিত ছোলা, সয়াবিন, লেটুস শাক, সবুজ শাকসবজি |
ভিটামিন E-এর প্রাণীজ উৎস: দুধ, ডিমের কুসুম।
ভিটামিন E-এর কাজ কী?
ভিটামিন B-এর কাজগুলি হল— 1. যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা, 2. বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে সাহায্য করা, 3. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রূপে কাজ করে যুক্ত মূলকগুলিকে বাধা দিয়ে কোশকে জারণের হাত থেকে রক্ষা করা, 4. লোহিত কপিকার হিমোলাইসিসে বাধা দেওয়া, ইত্যাদি |
ভিটামিন K বা ফাইলোকুইনোনের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন K এর উদ্ভিজ্জ উৎস: আলফালফা শাকের পাতা, বাঁধাকপি, পালংশাক, সয়াবিন উম্যাটো ইত্যাদি।
ভিটামিন K-এর প্রাণীজ উৎস: গোরু ও শূকরের যকৃৎ, ডিমের কুসুম, মাছ | ঐ ছাড়া, মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী জীবাণুরা যথেষ্ট পরিমাপে ভিটামিন K তৈরি করে।
ভিটামিন K-এর কাজ কী?
ভিটামিন K-এর কাজগুলি হল— 1. রক্ততঞ্জনে সাহায্যকারী উপাদান প্রোঘুম্বিন ও ফ্যাক্টর VII তৈরির মাধ্যমে স্বাভাবিক রক্ততঞ্চনে সাহায্য করা, 2. কার্বক্সিলেশন বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করা, 'ইত্যাদি |
ভিটামিন C বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন C-এর উদ্ভিজ্জ উৎস: লেবু, আমলকী, টম্যাটো, কাচালংকা, ক্যাপসিকাম, পেয়ারা, কমলালেবু ইত্যাদি।
ভিটামিন C-এর প্রাণীজ উৎস: সাধারণত প্রাণীজ খাদ্যে পাওয়া যায় না।
ভিটামিন C-এর কাজ কী?
ভিটামিন C-এর কাজগুলি হল— 1. উইরোসিন বিপাকে অংশগ্রহণ করা, 2. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-রূপে কাজ করা, 3. লোহা শোষপে সহায়তা করা, 4. কোলাজেন গঠনে এবং কোলেস্টেরল বিপাকে সহায়তা করা।
নীচের ভিটামিনগুলির অভাবে কী কী রোগ হয় তা লেখো—ভিটামিন A, C, D, B₁₂
ভিটামিন A: জেরফথ্যালমিয়া।
ভিটামিন C: ফার্ডি।
ভিটামিন D: রিকেট (ছোটোদের)/অস্টিওম্যালেসিয়া (বড়োদের)।
ভিটামিন B₁₂: মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া।
একটি জলে দ্রবণীয় ও একটি ফ্যাট ভিটামিনের নাম ও অভাবজনিত রোগের নাম বলো।
জলে দ্রবণীয় ভিটামিনের নাম ও অভাবজনিত রোগ: জলে দ্রবণীয় একটি ডিটামিন হল ডিটামিন C। এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিনের নাম ও অভাবজনিত রোগ: ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন হল ভিটামিন A। এর অভাবে জেরফথ্যালমিয়া রোগ হয়।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-রূপে কার্যকর ভিটামিনগুলির নাম লেখো। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের গুরুত্ব কী?
ভিটামিন A, C. E এবং P অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-রূপে কাজ করে।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দেহে উৎপন্ন যুক্ত মূলকগুলি ধ্বংস করে। মুক্ত মূলক কোশ-কলার ক্ষয়সাধন করে। ফলে দেহ সুস্থ থাকে।
ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলতে কী বোঝ?
ভিটামিন B-কমপ্লেক্স বলতে বিশেষ কয়েকটি জলে দ্রবণীয় ভিটামিনের সমষ্টিকে বোঝায়।
এগুলি হল - থায়ামিন (B₁). রাইবোফ্লাভিন (B₂), নিয়াসিন (B3) কোলিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, পাইরিডক্সিন, সায়ানোকোবালামিন ইত্যাদি।
ভিটামিন B কমপ্লেক্স এর উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজ উৎস কী?
ভিটামিন B কমপ্লেক্স এর উদ্ভিজ্জ উৎস: ঢেঁকিছাটা চাল, সবুজ শাকসবজি, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ, ঈস্ট ইত্যাদি
ভিটামিন B কমপ্লেক্স-এর প্রাণীজ উৎস: দুধ, ডিম, মাংস, প্রাণীদের যকৃৎ ও বৃক্ক।
ভিটামিন B কমপ্লেক্স-এর কাজ কী?
ভিটামিন B-কমপ্লেক্স এর কাজগুলি নিম্নরূপ।
1. ভিটামিন B₂ ও B6 শর্করা ও অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকে সাহায্য করে।
2. ভিটামিন B₂ অন্য ভিটামিনের সক্রিয়করণে সাহায্য করে।
3. ভিটামিন B3 ও B5 যথাক্রমে NADP ও কো-এনজাইম A তৈরি করে, যা দেহের বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়।
4. ভিটামিন B6, B7 ও B12 ফ্যাট বিপাকে সহায়তা করে।
5. ভিটামিন B9 ও B12 DNA সংশ্লেষে সহায়তা করে।
ফোলিক অ্যাসিডের অভাবে কী ঘটে?
ফোলিক অ্যাসিডের অভাবে পারনিসিয়াস বা মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এবং লিউকোপেনিয়া রোগ হয়, পেশি দুর্বল হয়, 3 দেহের ওজন কমে যায় এবং মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
ম্যাক্রোএলিমেন্ট কাকে বলে?
স্বাঙাবিক জৈবনিক কাজ সম্পন্ন করতে যে খনিজগুলি অতিমাত্রায় মানবদেহে পক্ষে প্রয়োজনীয় তাদের ম্যাক্রো-এলিমেন্ট বলে। যেমন— ক্যালশিয়াম, ফসফরাস প্রভৃতি।
মানবদেহের অতিমাত্রিক পরিপোষক বা ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্টগুলির নাম লেখো।
মানবদেহের অতিমাত্রিক পরিপোষক বা ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্টগুলির নাম হল ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম |
মানবদেহের স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক বা মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টগুলির নাম লেখো।
মানবদেহের স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-গুলির নাম হল আয়রন, কোবাল্ট, কপার, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম |
ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের দুটি করে প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়েজনীয়তা: ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়োজনীয়তা গুলি হলো - 1. অস্থি ও দাঁতের গঠনে ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়োজন। 2. পেশির সংকোচনে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াও ম্যাগনেশিয়ামের ওপর নির্ভরশীল।
পটাশিয়ামের প্রয়েজনীয়তা: পটাশিয়ামের প্রয়োজনীয়তা গুলি হল— 1. হৃদ্স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ এবং মাংসপেশির সংকোচনে পটাশিয়ামের প্রয়োজন হয়। 2. স্নায়ুর মাধ্যমে উদ্দীপনা চলাচল ও কোশীয় বিক্রিয়াসমূহকে সঠিক পথে চালনা করার জন্যও পটাশিয়ামের প্রয়োজন হয়।
দেহে সোডিয়ামের দুটি গুরুত্ব লেখো।
সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তাগুলি হল – 1. রক্তের ও কলারসের অভিস্রবণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও আয়নীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। 2. হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের জন্য এর প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া, স্নায়ুর মাধ্যমে উদ্দীপনা চলাচলের জন্য ও পেশির সক্রিয়তার জন্যও সোডিয়াম প্রয়োজন।
