Class 9 Life Science Chapter 2 (জীবন সংগঠনের স্তর) Part 2 (কোশ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

কৌশকে জীবনের একক বলা হয় কেন?

জীবদেহ এক বা একাধিক কোশ দিয়ে গঠিত হয়। সেজন্য কোশকে জীবদেহের গঠনগত একক বলে। জীবের শ্বসন, পুষ্টি, রেচন, জনন, বৃদ্ধি প্রভৃতি জৈবনিক কাজগুলি প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি কোশে ঘটে থাকে। সেই কারণে, কোণকে জীবদেহের কার্যগত এককও বলা হয়। এইসব কারণেই কোশকে জীবনের একক বলা হয় |



কোশপ্রাচীর ও কোশপর্দার প্রধান উপাদানগুলি কী কী ?

কোশপ্রাচীরের উপাদান সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন ও সুবেরিন ইত্যাদি |

কোশপর্দার উপাদান প্রোটিন, লিপিড দ্বিম্ভর, গ্লাইকো-লিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন।



একক পর্দা কাকে বলে?

যে দ্বিস্তরীয় আবরণী পর্দা 7.5-10 ন্যানোমিটার পুরু, প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত এবং কোশের কোশপর্দা ও সাইটোপ্লাজমের সব অঙ্গাণুগুলির পর্দার সংগঠন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়, সেই পর্দাকে একক পর্দা বলে। বিজ্ঞানী রবার্টসন 'একক পর্দা' নামকরণ করেন।



ডেসমোজোম কাকে বলে?

পাশাপাশি অবস্থিত দুটি প্রাণীকোশের প্লাজমাপর্দায় যে কোশান্তর সংগঠন কোশদুটিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রেখে সাইটোপ্লাজমীয় যোগসূত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে, তাকে ডেসমোজোম বলে। এগুলি মিউকো পলিস্যাকারাইড এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত।



পিনোসাইটোসিস কাকে বলে?  পিনোজোম কী?

পিনোসাইটোসিস যে প্রক্রিয়ায় ইউক্যারিওটিক প্রাণী-কোশের কোশপর্দা কোশের ভিতরের দিকে ভাজ হয়ে তরল বস্তুকে গ্রহণ করে, তাকে পিনোসাইটোসিস বলে।

পিনোজোম: পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট, কোশমধ্যস্থ তরল বস্তুসহ গহ্বরকে পিনোজোম বলে।



ফ্যাগোসাইটোসিস কাকে বলে ? ফ্যাগোজোম কী?

ফ্যাগোসাইটোসিস: যে প্রক্রিয়ায় ইউক্যারিওটিক প্রাণীকোশের কোশপর্দা কোশের ভিতরের দিকে ভাজ হয়ে কঠিন বস্তু (খাদ্যবস্তু, জীবাণু ইত্যাদি) কোশের অভ্যন্তরে গ্রহণ করে, তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।

ফ্যাগোজোম: ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট, কোশমধ্যস্থ কঠিন বস্তুসহ গহ্বরকে ফ্যাগোজোম বলে।



পিনোসাইটোসিসকে ‘সেল ড্রিঙ্কিং’ কেন বলে?

পিনোসাইটোসিস পদ্ধতিতে কোশ তরল উপাদানকে পিনোজোম গঠনের মাধ্যমে কোশের অভ্যন্তরে গ্রহণ করে। তাই এই পদ্ধতিকে ‘সেল ড্রিঙ্কিং’ বলে।



সাইটোসল কাকে বলে? টোনোপ্লাজম কাকে বলে?

সাইটোসল: কোশের সাইটোপ্লাজমের কোশীয় অঙ্গাণু ব্যতীত বিভিন্ন জৈব এবং অজৈব পদার্থ সমন্বিত অস্বচ্ছ, বর্ণহীন, কোলয়ডীয় ধাত্র অংশকে সাইটোসল বা হায়ালোপ্লাজম বলা হয় |

টোনোপ্লাজম: কোশগহ্বর বা ভ্যাকুওলকে ঘিরে অবস্থান করা সাইটোপ্লাজমের পাতলা স্বচ্ছ স্তরকে টোনোপ্লাজম বলা হয়|



এক্টোপ্লাজম এবং এন্ডোপ্লাজম কাকে বলে?

এক্টোপ্লাজম: স্বচ্ছ, পাতলা, স্থিতিস্থাপক এবং প্রায় দানাবিহীন, কোণের পরিধি বরাবর বিস্তৃত কোশপর্দা সংলগ্ন সাইটোপ্লাজমের বহিঃস্তরটিকে এক্টোপ্লাজম বলে।

এন্ডোপ্লাজম: কোশের কেন্দ্রে অবস্থিত, নিউক্লিয়াসের পরিধি বরাবর বিন্যস্ত দানাদার, তরল, সান্দ্র সাইটোপ্লাজমের অন্তঃস্তরটিকে এন্ডোপ্লাজম বলে |



প্রোটোবায়োটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

প্রোটোবায়োটা: যেসব অকোশীয় সংগঠনে সাইটোপ্লাজম থাকে না, তাদের প্রোটোবায়োটা বা অকোশীয় জীব বলে |

উদাহরণ: ডাইরয়েড।



সাইটোবায়োটা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

সাইটোবায়োটা: যেসব জীবের দেহকোশে সাইটোপ্লাজম থাকে, তাদের সাইটোবায়োটা বা কোশীয় জীব বলে।

 উদাহরণ: উন্নত উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশ।



প্লাজমোডেসমাটা কাকে বলে?

দুটি সন্নিহিত উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীরে অবস্থিত সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ছিদ্রের মাধ্যমে উভয় কোশের মধ্যে রক্ষিত নলাকার বা সূত্রাকার সাইটোপ্লাজমিক যোগসূত্রকে প্লাজমোডেসমাটা বলে।



নিউক্লিয়াসের সংজ্ঞা দাও।

প্রোটোপ্লাজমের প্রায় কেন্দ্রে অবস্থিত ঘন, গোলাকার, দ্বি-একক পর্দা পরিবেষ্টিত, ক্রোমাটিন সমন্বিত যে কোশীয় অঙ্গাণু কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে|



নিউক্লিয়াসের গঠনগত চারটি অংশের নাম লেখো।

নিউক্লিয়াসের গঠনগত চারটি অংশ হল—নিউক্লিওলাস, নিউক্লীয় জালক, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লীয় পর্দা। 



নিউক্লিয়াসকে কোশের মস্তিষ্ক বলে কেন? বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত দুটি প্রাণীকোশের নাম লেখো।

কোশের মস্তিষ্ক নিউক্লিয়াস কোশমধ্যস্থ বিভিন্ন প্রকার বিপাকীয় কাজ নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে একে কোশের মস্তিষ্ক বলা হয় ।

বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণীকোশ বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণী-কোশ হল ওপালিনা ও মানবদেহের ঐচ্ছিক পেশিকোশ |



ক্রোমাটিন জালক কী?

 ক্রোমাটিন জালক: নিউক্লিয়াসের ধাত্রে লম্বা সুতোর মতো উপাদানের জালক থাকে, যা DNA ও হিস্টোন প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত হয়। একে ক্রোমাটিন জালক বলে।



ক্রোমাটিন জালকের গুরুত্ব বলো।

ক্রোমাটিন জালক DNA দিয়ে নির্মিত যাতে জিন অবস্থান করে। ক্রোমাটিন জালকের তথা জিনের গুরুত্বগুলি হল- 1. কোশের কাছ সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। 2. জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা।



ক্রোমোজোম কাকে বলে?

ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত, প্রোটিন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড দ্বারা নির্মিত যে কুণ্ডলীকৃত গঠন নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবের কোশে নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপস্থিত থেকে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্টা বংশপরম্পরায় বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।



জিন কী? এর অবস্থান কোথায়?

জিন: DNA অণুর কার্যকরী একক যা জীবের বংশগত বৈশিষ্টাকে একজনু থেকে অপর জনুতে সারিত করে, তাকে জিন বলে। 

অবস্থান : ইউক্যারিওটিক কোশে জিন ক্রোমোজোমে অবস্থান করে। প্রোক্যারিওটিক কোশে তা নিউক্লিওয়েডে বিন্যস্ত থাকে। 



মাইটোকনড্রিয়াকে ‘কোশের শক্তিঘর' বলে কেন?

সবাত শ্বসনের সময়ে মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যে খাদ্যবস্তুর (কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের) জারণ ঘটে ও খাদ্যে আবদ্ধ শত্তির মুক্তি ঘটে। এই নির্গত শত্তি ATP অণুতে সশ্চিত থাকে | তাই মাইটোকনড্রিয়াকে ‘কোশের শক্তিঘর' বলে।



তিন প্রকার প্লাস্টিডের নাম লেখো।

তিন প্রকার প্লাস্টিডের নাম হল ক্লোরোপ্লাস্টিড, ক্রোমোপ্লাস্টিড এবং লিউকোপ্লাস্টিড।



স্ট্রোমা ল্যামেলি কী?

 ক্লোরোপ্লাস্ট অঙ্গাণুতে দুটি ভিন্ন প্রানার অন্তর্গত দুটি থাইলাকয়েড একক পর্দার বহিঃবৃদ্ধি পরস্পর সংযুক্ত হয়ে যে নলাকার অংশ গঠিত হয়, তাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে।



প্লাস্টিডের কাজ কী?

প্লাস্টিডের কাজগুলি হল- 1. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খা উৎপাদন করা (ক্লোরোপ্লাস্ট)। 2. পরাগযোগে সাহায্য করা (ক্রোমোপ্লাস্ট)। 3. খাদ্যসয়ে সাহায্য করা (লিউকোপ্লাস্ট)।



কোয়ান্টাজোম কী?

ক্লোরোপ্লাস্টের প্রতিটি থাইলাকয়েডের আবরণীর অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত ক্লোরোফিলযুক্ত, বৃত্তহীন দানার মতো যে সংগঠনগুলি সালোকসংশ্লেষের আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাদের কোয়ান্টাজোম বলে। এদের সালোকসংশ্লেষীয় এককও বলা হয়। [বর্তমানে এদের অ্যান্‌টেনা কমপ্লেক্স বলে।]



পাইরিনয়েড কী?

শৈবালের ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত যে ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস ঘনীভূত করে সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে তাকে পাইরিনয়েড বলে। কিছু ক্ষেত্রে পাইরিনয়েড শ্বেতসার এবং প্রোটিনও সঞ্জয় করে।



অর্ধস্বনির্ভরশীল অঙ্গাণু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

অর্ধস্বনির্ভরশীল অঙ্গাণু : যে সব অঙ্গাণু কোশে থাকলেও, নিজস্ব রাইবোজোম ও DNA থাকায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন তারা নিজেরাই সংশ্লেষ করতে পারে এবং স্ববিভাজিত হয়ে নতুন অঙ্গাণু তৈরি করতে পারে, তাদের অর্ধস্বনির্ভরশীল বা অর্ধস্বয়ংক্রিয় অঙ্গাণু বলে |

উদাহরণ: মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টিড হল অর্ধস্বনির্ভরশীল অঙ্গাণু।



মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের সাদৃশ্য কী?

মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের সাদৃশ্যগুলি হল— 1. উভয়ই দ্বি পর্দাবৃত ইউক্যারিওটিক অঙ্গাণু। 2. উভয় অঙ্গাণুতেই DNA থাকে। তাই তারা স্বপ্নজননক্ষম । 3. উভয়ই কোশে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের সঙ্গে সংযুক্ত। ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষে কোশে শক্তি আবদ্ধ করে। অপরদিকে মাইটোকনড্রিয়া শক্তির মুক্তি ঘটায় ও তার ব্যবহারে সাহায্য করে|



‘জোন অফ এক্সক্লুশন’ কাকে বলে?

গলগি বড়ির চারদিকে অবস্থিত সাইটোপ্লাজমে অন্যান্য কোশীয় অঙ্গাণু বা সতি বস্তুও দেখতে পাওয়া যায় না। এইজন্য এই অঙ্গাঙ্গুহীন সাইটোপ্লাজমীয় অংশকে ‘জোন অফ এক্সক্লুশন' বলে | 



 ডিকটিওজোম কী ? এর কাজ কী?

ডিকটিওজোম উদ্ভিদকোশে উপস্থিত গলগি বস্তুকে ডিকটিওজোম বলে।

 কাজ : এর কাজ উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীর গঠনে সাহায্য করা এবং কোশীয় ক্ষরণে অংশগ্রহণ করা।



লাইসোজোমের অবস্থান ও কাজ উল্লেখ করো।

লাইসোজোমের অবস্থান প্রাণীদেহের যকৃৎ, বৃক্ক, অগ্ন্যাশয় প্রভৃতি অঙ্গের ক্ষরণকারী কোশসমূহে এবং শ্বেত রক্তকণিকায় লাইসোজোম দেখতে পাওয়া যায়।

কাজ: 1. বহিঃকোণীয় ও অন্তঃকোশীয় পরিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করা। 2. রোগাক্রান্ত অবস্থায় কোশের জীর্ণ ও অক্ষম অঙ্গাণুগুলিকে ধ্বংস করা (একে অটোফ্যাগি বলে)। 3. রোগজীবাণু ধ্বংস করে আত্মরক্ষায় সাহায্য করা।



লাইসোজোমকে 'আত্মঘাতী থলি' বলে কেন?

সজীব কোশ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় | এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কোশটির লাইসোজোম বিদীর্ণ হয় এবং আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচকসমূহ নির্গত হয়ে সমস্ত কোশটির ধ্বংস ঘটায়। লাইসোজোম নিজে বিদীর্ণ হয়ে কোশটির ধ্বংসসাধন করে বলে একে ‘আত্মঘাতী থলি' বলা হয় |



GERL তন্ত্র কাকে বলে? 

কতকগুলি গলগি বস্তু (G), এন্ডোপ্লাজমীয় জালক (ER) ও লাইসোজোম (L) কোশীয় অঙ্গাণু একত্রে মিলে যে তন্ত্র গঠনের মাধ্যমে কোশে বাহ্যিক উপাদানের গ্রহণ (নন্ডোসাইটোসিস), কোশীয় উপাদানের ও রেচনবস্তুর বহিষ্করণ (নক্সোসাইটোসিস) ঘটায়, তাকে GERL তন্ত্র বলে।



কোশগর এর কাজ কী?

কোশগম্বর এর কাজগুলি হল— 1. কোশ মধ্যস্থ সাইটোপ্লাজমের চাপের সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করা। 2. উদ্ভিদকোশে রসঙ্গীতি চাপ সৃষ্টি করে উদ্ভিদটিকে সোজা হয়ে দাড়াতে সহায়তা করা। 3. সংকোচনশীল গারের মাধ্যমে রেচন পদার্থ অপসারণে সহায়তা করা এবং খাদ্যগহ্বরে খাদ্য সস্থিত রাখা। 4. উদ্ভিদকোশের ভাকুণ্ডলের অভ্যন্তরে বর্তমান অ্যাস্ট্রোসায়ানিন, অ্যাচ্ছোজ্যানথিন ইত্যাদি রকের সাহায্যে ফুলের পাপড়ির বর্ণ নির্ধারণ করা।



প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিকল কী? এটি কোথায় দেখা যায় ?

 উদ্ভিদকোশের কেন্দ্রীয় কোণগহ্বরটি অত্যধিক বড়ো হয়ে নিউক্লিয়াসসহ প্রোটোপ্লাজমকে পরিধির দিকে সরিয়ে দেওয়ায়, কোশপর্দার অভ্যন্তরে কোলের পরিধি বরাবর সঙ্গিত প্রোটোপ্লাজমের যে পাতলা স্তর তৈরি হয়, তাকে মরডিয়াল ইউট্রিকল বলে। এটি পরিণত উদ্ভিদকোশের কোশপর্দার পরিধি বরাবর অবস্থান করে।



সেন্ট্রিওলের সঙ্গে মাইক্রোটিবিউলের সম্পর্ক লেখো।

প্রত্যেকটি সেন্ট্রিওল সমদূরত্বে থাকা 9ষ্টি হয় অণুনালিকা (triplet microtubule) দ্বারা গঠিত। কোশ বিভাজনের সময়ে সেন্ট্রিওল থেকে যে বেতর সৃষ্টি হয়, সেগুলিও সাইজমের মাইক্রোঠিবিউল বা অণুনালিকার সাহায্যেই গঠিত হয়।



প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের রাইবোজোমের প্রকৃতি কীরূপ? 

প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের রাইবোজোমের প্রকৃতি নিম্নরূপ— 1. প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোম আকারে ইউক্যারিওটিক রাইবোজোমের থেকে ছোটো হয়। 2. প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোম 705 প্রকৃতির হয়,যার দুটি অধ্যএকক 50s ও 30S প্রকৃতির হয়। পক্ষান্তরে ইউক্যারিওটিক রাইবোজোম 80S প্রকৃতির হয়। এর দুটি অধ্যএকক 60S ও 40S প্রকৃতির হয়। 3. প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোম সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে। ইউক্যারিওটিক রাইবোজোম এন্ডোপ্লাজমীয় জালক ও নিউক্লীয় পর্দায় আবদ্ধ থাকে।



নিউক্লিয়াসের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে কোশকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় এবং কী কী?

নিউক্লিয়াসের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে কোশকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ বা প্রোক্যারিওটিক কোশ এবং প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ বা ইউক্যারিওটিক কোশ। এ ছাড়াও এই দুই প্রকার কোশের মধ্যবর্তী প্রকৃতির কোশকে মেসোক্যারিওটিক কোশ বলে|



প্রোক্যারিওটিক বা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ কাকে বলে? উদাহরণ দাও

প্রোক্যারিওটিক বা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশঃ যেসব কোশের নিউক্লিয়াস সুসংগঠিত নয় এবং কোশের সাইটোপ্লাজমে পর্দাবৃত কোশ অঙ্গাণু (যেমন— মাইটোকনড্রিয়া, প্লাস্টিড ইত্যাদি) থাকে না, তাদের প্রোক্যারিওটিক কোশ অথবা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ বলা হয়।

উদাহরণ: একটি প্রোক্যারিওটিক বা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ হল ব্যাকটেরিয়া।



ইউক্যারিওটিক বা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ কাকে বলে? উদাহরণ দাও

ইউক্যারিওটিক বা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ: যেসব কোশে নিউক্লিয়াস সুগঠিত থাকে এবং কোশের সাইটোপ্লাজমে পর্দাবৃত কোশ অঙ্গাণু থাকে, তাদের ইউক্যারিওটিক কোণ বা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ বা আদর্শ কোশ বলে।

উদাহরণ: সকল প্রকারের উন্নত উদ্ভিদকোশ এবং প্রাণীকোশ |



কোশীয় অঙ্গাণু না থাকলে ইউক্যারিওটিক কোশকে কি প্রোক্যারিওট বলা যাবে? যুক্তি দাও।

কোশীয় অঙ্গাণু না থাকলে ইউক্যারিওটিক কোশকে প্রোক্যারিওটিক কোশ বলা যাবে না, কারণ – 1. প্রোক্যারিওটিক কোশে শ্বসনের জন্য মেসোজোম থাকে, তাই ইউক্যারিওটিক কোশের মাইটোকনড্রিয়া (শ্বসনে সাহায্য করে) না থাকলে শ্বসন হবে না। 2. প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের কোশপর্দার গঠন ভিন্ন। 3. উভয় কোশের কোশবিভাজন পদ্ধতিও ভিন্ন হয়।



উদ্ভিদকোশের চারটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উদ্ভিদকোশের চারটি বৈশিষ্ট্য হল– 1. উদ্ভিদকোশে সর্ববহিস্থ আবরগীরূপে মৃত কোশপ্রাচীর থাকে। 2. উদ্ভিদ-কোশে প্লাস্টিড থাকে। 3. উদ্ভিদকোশের কোশগহ্বর বড়ো হয় ও সংখ্যায় কম থাকে। 4. কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া উদ্ভিদকোশে সেন্ট্রোজোম থাকে না।