Class 9 Life Science Chapter 2 (জীবন সংগঠনের স্তর) Part 3 Topic 2 (কলা) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

আবরণী কলার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

আবরণী কলার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল – 1. আবরণী কলার কোশগুলি ঘনসন্নিবিষ্টিভাবে ভিত্তিপর্দা নামক একটি সূক্ষ পর্দার ওপর এক বা একাধিক স্তারে সাজানো থাকে। 2. আবরণী কলায় রক্তবাহ থাকে না।



ভিত্তিপর্দা কী?

আবরণী কলার কোশগুলি যে পাতলা, স্থিতিস্থাপক যোগকলার স্তরের ওপর সজ্জিত থাকে, তাকে ভিত্তিপর্দা বলে। এটি আবরণী কলার কোশগুলিকে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে |


আবরণী কলা কত প্রকার ও কী কী?

কোশস্তরের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আবরণী কলাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়— সরল আবরণী কলা, যৌগিক বা স্তরীভূত আবরণী কলা ও ছদ্মস্তরীভূত আবরণী কলা।


তিন প্রকার আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য লেখো।

তিন প্রকার আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য হল— 1. সরল আবরণী কলা - এটি ভিত্তিপর্দার ওপর একক স্তরে বিন্যস্ত থাকে। 2. যৌগিক বা স্তরীভূত অবরণী কলা—এটি অনেকগুলি স্তরে বিন্যস্ত থাকে, যার ফলে এটি পুরু হয় । 3. ছদ্মস্তরীভূত আবরণী কলা—এটি একটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে, কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে বহুস্তরী বলে মনে হয়।

সরল আবরণী কলার দুটি কাজ লেখো।

সরল আবরণী কলার দুটি কাজ হল— 1. আঁইশাকার আবরণী কলা সংশ্লিষ্ট দেহাঙ্গের মুক্ত অংশকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে। 2. তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের ব্যাপনে সাহায্য করে।


স্তরীভূত আবরণী কলা কাকে বলে?

যৌগিক বা স্তরীভূত আবরণী কলা: যে আবরণী কলার সংগঠক কোশগুলি ভিত্তিপর্দার ওপর একাধিক স্তরে সজ্জিত থাকে, তাকে স্তরীভূত আবরণী কলা বলে।

দেহের কোথায় কোথায় যোগকলা দেখা যায় ?

যোগকলা দেহে ত্বকের নীচে, পেশিসমূহের অন্তবর্তী অঞ্চলে, স্নায়ুকলায়, অন্ত্রের প্রাচীরে দেখা যায়। এ ছাড়া, তরুণাস্থি, অস্থি ও রক্ত যোগকলার দ্বারা গঠিত।


ভারবাহী যোগকলা কাকে বলে? এর ভাগ দুটি কী কী

ভারবাহী যোগকলা: যে যোগকলা মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের ভার বহন করে, তাকে ভারবাহী যোগকলা বলে | বিভাগ: ভারবাহী যোগকলার ভাগ দুটি হল— কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি এবং অস্থি।


অস্থিকলার দুটি কাজ লেখো।

অস্থিকলার দুটি কাজ হল– দেহের অন্তঃকঙ্কাল গঠন করা ও দেহের ভার বহনে সহায়তা করা এবং দেহমধ্যস্থ বিভিন্ন কোমল অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে রক্ষা করা|


তরল যোগকলা কাকে বলে?

আদি ভ্রূণের মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন যে যোগকলা তার তরল ধাত্রের সাহায্যে প্রাণীদেহের বিভিন্ন যন্ত্র ও তন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ সাধন করে, তাকে তরল যোগকলা বলে | উদাহরণ–তরল যোগকলার উদাহরণ হল রক্ত |


রক্তকে তরল যোগকলা বলা হয় কেন?

রক্তকে তরল যোগকলা বলার কারণ হল— 1. রক্ত ভ্রুণের মেসোডার্ম থেকে সৃষ্টি হয়। 2. রক্তে কোশীয় উপাদানের তুলনায় তরল ধাত্রের পরিমাণ বেশি থাকে। 3. রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।

লসিকা কী? এতে কোন্ শ্বেত রক্তকণিকা ভেসে থাকে?

লসিকা: লসিকাবাহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঈষৎ ক্ষারীয়, হলুদাভ, স্বচ্ছ, জলীয়, পরিবর্তিত কলারসকে লসিকা বলে। লসিকায় ভাসমান শ্বেত রক্তকণিকা: এই কলারসে লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা ভেসে থাকে।


ঐচ্ছিক পেশি কাকে বলে?

অস্থির সঙ্গে সংযুক্ত যে পেশি স্বেচ্ছায় অঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে তাকে ঐচ্ছিক পেশি বলে। এর অপর নাম অস্থিপেশি বা কঙ্কাল পেশি।


অরেখ পেশির দুটি কাজ লেখো।

অরেখ পেশির দুটি কাজ হল— 1. দেহের বিভিন্ন ধরনের আন্তরযন্ত্রীয় অঙ্গের কাঠামো গঠন করা। 2. পৌষ্টিক নালীর গায়ে অবস্থিত অরেখ পেশি পৌষ্টিকনালীর বিচলনে অংশ নেওয়া।


সরেখ পেশিকে অস্থিপেশি ও ঐচ্ছিক পেশি নামে অভিহিত করা হয় কেন?

সরেখ পেশি দেহের অস্থির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে বলে একে অস্থি পেশি বলা হয় । আবার, প্রাণী নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সরেখ পেশিকে সঞ্চালন করতে পারে বলে একে ঐচ্ছিক পেশি বলে |


ইনটারক্যালেটেড ডিস্ক কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?

ইনটারক্যালেটেড ডিস্ক পরপর অবস্থিত দুটি হৃদ্‌পেশির কোশের কোশপর্দা পরিবর্তিত হয়ে যে বিশেষ চাকতির মতো গঠন তৈরি করে তাকে ইনটারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। গুরুত্ব: স্নায়ু উদ্দীপনা হৃদ্‌পেশি দিয়ে সঠিক প্রবাহে ইনটারক্যালেটেড ডিস্ক সাহায্য করে।


হ্যাভারসিয়ান নালী কাকে বলে?

বিশেষ কিছু অস্থির কেন্দ্রে যে উল্লম্ব নালীগুলি বিন্যস্ত থাকে তাদের হ্যাভারসিয়ান নালী বলে | এর মধ্যে রক্তজালক, লসিকাবাহ ও স্নায়ু থাকে|

একটি নিউক্লিয়াসযুক্ত ও একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত পেশিকোশের নাম লেখো।

সৱেখ পেশির কোশে একটি নিউক্লিয়াস থাকে, যেমন—আন্তরষন্ত্রীয় পেশিকোণ। সৱেখ পেশিকোশে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে, যাকে সিনসিটিয়াম বলে, যেমন—অস্থিপেশির কোশ।


স্নায়ুকলা বা নার্ভকলা কাকে বলে?

নিউরোন ও নিউরোগ্নিয়া কোশ দ্বারা গঠিত যে কলা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ ও তাতে সাড়া দিয়ে দেহে সমন্বয় সাধন করে তাকে স্নায়ুকলা বলে।

স্নায়ুকলার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

স্নায়ুকলার দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. নার্ভকলা অসংখ্য নিউরোন (স্নায়ুকোশ) এবং নিউরোগ্লিয়ার সমন্বয়ে গঠিত। 2. স্নায়ুকলা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সাড়াপ্রদানে সক্ষম।



স্নায়ুকলার কাজ কী?

স্নায়ুকলার কাজ হল– 1.পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করা এবং উত্তেজনায় সাড়া দেওয়া 2. দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয়সাধন করা।


নিউরোনের অ্যাক্সন হিলক কী? প্রান্ত বুরুশ কাকে বলে?

অ্যাক্সন হিলক: নিউরোনের কোশদেহের যে শাঙ্কব অংশ থেকে অ্যাক্সন নির্গত হয়, তাকে অ্যাক্সন হিলক বলে। প্রান্ত বুরুশ: অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত সূক্ষ্ম শাখান্বিত হয়ে বুরুশের মতো আকার ধারণ করে। একে প্রান্ত বুরুশ বলে।


অ্যাক্সনের আবরণীগুলির নাম বাইরে থেকে ভিতরের দিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে লেখো।

বাইরের দিক থেকে ভিতরের দিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে অ্যাক্সনের আবরণীগুলি হল—নিউরোলেমা, মায়েলিন সিদ ও অ্যাক্সোলেমা।


র‍্যানভিয়ারের পর্ব কাকে বলে? এর কাজ উল্লেখ করো।

র‍্যানভিয়ারের পর্ব: মায়েলিন আবরণীযুক্ত নিউরোনের ক্ষেত্রে অ্যাক্সনের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োলিন আবরণীবিহীন অর্ন্তবর্তী ফাঁকা স্থানগুলিকে র‍্যানভিয়ারের পর্ব বলে। কাজ: স্নায়ু উদ্দীপনা র্যানভিয়ার পর্ব দিয়ে লম্ফনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ফলে উদ্দীপনা দ্রুত প্রবাহিত হতে পারে |


অ্যাক্সন কাকে বলে? এর কাজ কী?

অ্যাক্সন: স্নায়ুকোশ বা নিউরনের দীর্ঘ যে প্রবর্ধক কোনো নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে স্নায়ু উদ্দীপনা বহন করে তাকে অ্যাক্সন বলে।