Class 9 Life Science Chapter 2 (জীবন সংগঠনের স্তর) Part 4 (মানবদেহের প্রধান অঙ্গসমূহ ও তাদের কাজ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ত্বকের কাজ কী? ত্বকের সাহায্যে আমাদের দেহ থেকে কী কী পদার্থ অপসারিত হয়?

ত্বকের কাজ: 1. ত্বকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বাইরের আঘাত থেকে দেহকে রক্ষা করা, 2. ঘর্ম নিঃসরণ করা এবং 3. দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।

অপসারিত পদার্থ: ত্বকের সাহায্যে ঘাম, ঘামের সঙ্গে জল, খনিজ লবণ ইত্যাদি আমাদের দেহ থেকে অপসারিত হয়ে থাকে।



ত্বক কীভাবে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে?

1. বাহ্যিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ত্বকের রক্তবাহ প্রসারিত হয় ও তাপ বিকিরণ করে। ফলে দেহ শীতল হয়। পক্ষান্তরে বাহ্যিক তাপমাত্রা হ্রাস পেলে ত্বকের রক্তবাহ স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সংকুচিত হয় ও তাপ সংরক্ষণ করে। 2. ত্বকের নীচে বিন্যস্ত চর্বির দেহ তাপমাত্রা সংরক্ষণ করে। 3. বাহ্যিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ত্বকে ঘাম সৃষ্টি হলে তা বাষ্পীভূত হয় ও দেহকে শীতল করে।



ঘর্মগ্রন্থি কী?

ত্বকের ডারমিস স্তরে অবস্থিত যে গ্রন্থির সাহায্যে রেচন পদার্থপূর্ণ ঘাম দেহের বাইরে নিঃসৃত হয় এবং দেহকে শীতল রাখে, তাকে ঘর্মগ্রন্থি বলে।



সিবেসিয়াস গ্রন্থি কী ? ঘর্ম বা ঘাম কী ?

সিবেসিয়াস গ্রথি: ত্বকের ডারমিস স্তরে অবস্থিত যে গ্রন্থি সিবাম নামক তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণের মাধ্যমে ত্বককে মসৃপ ও তৈলাক্ত রাখে, তাকে সিবেসিয়াস গ্রন্থি বলে।

ধর্ম: ঘর্মগ্রথি নিঃসৃত জলীয় তরলকে ঘর্ম বা ঘাম বলে।



ঘর্মের কাজ কী?

ঘর্মের কাজ হল – 1. দেহতাপ ও জলসাম্য নিয়ন্ত্রণ করা, 2. খনিজ পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা ও 3. ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা।



পাকস্থলী কাকে বলে? পাকস্থলীর কাজ লেখো।

পাকস্থলী: উদরগহবরের ওপরের দিকে, দেহের বামপাশে অবস্থানকারী পৌষ্টিকনালীর সর্বাপেক্ষা স্কীত অংশটিকে পাকস্থলী বলে। এটি J-আকৃতিবিশিষ্ট পেশিময় থলি |

কাজ: পাকস্থলীর অন্তর্গাত্র থেকে নির্গত পাকরস বা গ্যাসট্রিক ক্রুস খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।



গ্যাসট্রিক গ্রন্থি কাকে বলে? এর কাজ কী?

গ্যাসট্রিক গ্রন্থি: পাকস্থলীর অন্তর্গাত্রে অসংখ্য এককোশী গ্রন্থি থাকে। এদের গ্যাসট্রিক গ্রন্থি বলা হয়।

কাজ: গ্যাসট্রিক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পাকরস প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে।



মানুষের ফুসফুস দুটির অবস্থান কোথায়? এর একটি কাজ লেখো।

ফুসফুসের অবস্থান: মানুষের ফুসফুস দুটি, বক্ষপিঞ্জরের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের দু-পাশে ও মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থিত।

ফুসফুসের কাজ: ফুসফুসের কাজ হল শ্বাসবায়ুর আদান-প্রদানে সাহায্য করা।



প্লুরা কী? এর কাজ কী?

প্লুরা: প্লুরা হল মানুষের ফুসফুসের দ্বিস্তরীয় বহিরাবরক|

কাজ: প্লুরা ফুসফুসের আবরকরূপে ফুসফুসকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং ফুসফুসকে বক্ষপিঞ্জরের ভিতরের গহ্বরের সঙ্গে বায়ুনিরুদ্ধভাবে ধরে রাখে।



অ্যালভিওলাই কাকে বলে? এর কাজ কী?

অ্যালভিওলাই: ফুসফুসে রক্তজালক দ্বারা আবৃত, পাতলা প্রাচীরযুক্ত, থলি সদৃশ যে অসংখ্য ছোটো ছোটো অংশের মাধ্যমে রক্ত ও ফুসফুসের বাতাসের মধ্যে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ঘটে, সেগুলিকে অ্যালভিওলাই বলে।

কাজ: অ্যালভিওলাই-এর কাজ হল রক্তজালকের মাধ্যমে প্রশ্বাস বায়ু থেকে রক্তে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করায় সাহায্য করা।



মিশ্র গ্রন্থি কাকে বলে?

অন্তঃক্ষরা এবং বহিঃক্ষরা, উভয় গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত গ্রন্থিকে মিশ্র গ্রন্থি বলে। যেমন—অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয় এবং ডিম্বাশয়।



অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলে কেন?

অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা—উভয়প্রকার ক্ষরণকারী অংশ থাকায় একে মিশ্র গ্রন্থি বলে। এর বহিঃক্ষরা অংশ থেকে অগ্ন্যাশয়ী রস নির্গত হয় যা খাদ্যপাচনে সহায়তা করে। এর অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি অংশ আইলেট্স অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন, গ্লুকাগন প্রভৃতি হরমোন ক্ষরিত হয়।



অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি থেকে নির্গত দুটি উৎসেচক ও দুটি হরমোনের নাম লেখো।

উৎসেচক: অগ্ন্যাশয়ী অ্যামাইলেজ ও ট্রিপসিন।

হরমোন: ইনসুলিন ও গ্লুকাগন।



হৃৎপিণ্ড কাকে বলে? হৃৎপিণ্ডের কাজ কী?

 হৃৎপিণ্ড: রক্ত সংবহনতন্ত্রে, নির্দিষ্ট পথে রক্ত গ্রহণ এবং তার যথাযথ সঞ্চারণের জন্য দায়ী বিশেষ পেশিনির্মিত, ছন্দবদ্ধ সংকোচন প্রসারণশীল, শঙ্কু আকৃতির অঙ্গকে হৃৎপিণ্ড বলে।

কাজ: হৃৎপিণ্ড নিরবচ্ছিন্ন সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্তকে সমগ্রদেহে সঞ্চালিত করে।



মানুষের হৃৎপিণ্ডটি কোথায় অবস্থিত? এর কোন্ প্রকোষ্ঠ সংকুচিত হলে সমগ্র দেহে রক্ত পরিবাহিত হয়?

মানুষের হৃৎপিণ্ডটি বক্ষগহ্বরে দুটি ফুসফুসের মাঝখানে কিছুটা বামদিক ঘেঁষে অবস্থান করে।

এর ডান নিলয় সংকুচিত হলে সমগ্র দেহে রক্ত পরিবাহিত হয়।



থোরাসিক কেজ বা বক্ষপিঞ্জুর কাকে বলে?

মানুষের বক্ষগহবরে একটি স্টারনাম এবং উভয়পার্শে অবস্থিত 12 জোড়া পঞ্জুরাস্থি মিলে যে খাঁচা তৈরি করে, তাকে থোরাসিক কেজ বা বক্ষপিঞ্জর বলে।



প্লিহার দুটি কাজ লেখো।

প্লিহার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল – 1. রসনির্ভর ও কোশনির্ভর অনাক্রম্যতার দ্বারা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। 2. RBC-এর গৌণ উৎপাদন ও সঞ্চয়।



যকৃৎ কোথায় অবস্থিত ? মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থির দুটি কাজ লেখো।

যকৃতের অবস্থান : মানুষের দেহে মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামের নীচে উদরগহবরের ডানদিকে যকৃৎ অবস্থিত।

যকৃতের কাজ: যকৃতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল— শর্করা, প্রোটিন ও লিপিডের অধিকাংশ বিপাকীয় বিক্রিয়া যকৃতে সম্পন্ন হয়ে থাকে। লোহিত কপিকা সৃষ্টি, প্লাজমা-প্রোটিন সংশ্লেষ প্রভৃতি কাজে যকৃৎ সহায়তা করে।



যকৃতকে ‘সুসজ্জিত জৈব রসায়নাগার’ বলা হয় কেন?

যকৃতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া, বিশেষ করে শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট-এর বিপাক-সংক্রান্ত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়। সেই কারণে বিজ্ঞানীরা যকৃতকে ‘সুসজ্জিত জৈব রসায়নাগার' রূপে অভিহিত করেছেন।



মানুষের বৃক্কের অবস্থান কোথায়? এর দুটি কাজ লেখো।

বৃক্কের অবস্থান: মানুষের বৃক্ক দুটি উদরগহ্বরের কটি অঞ্চলের পৃষ্ঠপ্রাচীরে, মেরুদণ্ডের দু-পাশে অবস্থিত।

বৃক্কের কাজ: বৃক্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল—  1. মূত্র উৎপাদনের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন করা, 2. দেহে জলের পুনঃশোষণ ঘটানো।



বৃক্ক ছাড়া তোমার জানা অঙ্গের নাম লেখো যেগুলি রেচনে সহায়তা করে।

বৃক্ক ছাড়া রেচনে সহায়তাকারী অন্যান্য অঙ্গ হল—  

1. ফুসফুস - কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস দূরীভূত করে। 

2. যকৃৎ— ইউরিয়া উৎপাদন করে ও ভারী ধাতু রেচন করে। 

3. ত্বক– ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ রেচন করে।



CSF কী? এর কাজ কী?

CSF: মস্তিষ্ক গহ্বর ও সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরে যে পরিবর্তিত কলারস থাকে তাকে মস্তিষ্ক মেরুরস বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) বলে |

কাজ: CSF-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল— 1. স্নায়ুকোশ বা নিউরোনে অক্সিজেন এবং পুষ্টির জোগান দেওয়া 2. কুশনরূপে কাজ করে মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডকে রক্ষা করা।