ব্যাপন বা ডিফিউশন কাকে বলে?
যে ভৌত প্রক্রিয়ায় পদার্থের অপুল্লুলি নিজস্ব গতিশক্তির প্রভাবে বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে সমঘনত্বে পরিণত হয়, তাকে ব্যাপন বা ডিফিউশন বলে।
ব্যাপনের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করাে।
ব্যাপনের বৈশিষ্ট্যগুলি হল 1. ব্যাপনে, পদার্থের অপুগ্নুলি উচ্চ ঘনত্বয়ুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বযুক্ত অঞ্চলে পরিবাহিত হয়। 2. উভয় অঞ্চলের ঘনত্ব সমান না হওয়া অবধি ব্যাপন চলতে থাকে। 3. দুটি অঞ্চলের মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্য বৃদ্ধির সাথে ব্যাপনের গতিবেগ বাড়ে। 4. উষ্ণতা, চাপ ও ব্যাপন তল বাড়লে ব্যাপনের গতিবেগ বাড়ে। 5. ব্যাপন সম বা বিসম প্রকৃতির পদার্থের মধ্যে (তরলে তরলে, কঠিনে-তরলে ইত্যাদি) ঘটতে পারে।
তরলে-কঠিনে ব্যাপন প্রক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
তরলে কঠিনে ব্যাপনের দুটি উদাহরণ হল— 1. জল ও চিনির মধ্যে ব্যাপন, 2. জল ও তুঁতের দানার মধ্যে ব্যাপন।
তরলে-তরলে ব্যাপন প্রক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
তরলে-তরলে ব্যাপনের দুটি উদাহরণ হল
1. জল ও কালির মধ্যে ব্যাপন, 2. চিনির রস ও জলের মধ্যে ব্যাপন।
উদ্ভিদদেহে ব্যাপনের দুটি গুরুত্ব লেখাে।
উদ্ভিদদেহে ব্যাপনের দুটি গুরুত্ব হল-
1. উদ্ভিদের খাদ্য, হরমোন, ব্যাপন দ্বারা পরিবাহিত হয়।
2. সালােকসংশ্লেষের জন্য প্রয়ােজনী কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস ব্যাপন দ্বারা পরিবাহিত হয়।
সহায়ক ব্যাপন (facilitated diffusion) কাকে বলে?
জীবদেহে যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায়, জীবজ অণু কোনাে বাহক-প্রােটিনের সাহায্যে পরিবাহিত হয়, তাকে সহায়ক ব্যাপন বলে।
অভিস্রবণকে বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয় কেন?
ব্যাপন পদ্ধতির মূল বিষয় হল উপাদানের (যেমন—দ্রাবের) বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে ছড়িয়ে পড়া। অভিস্রবণে দ্রাবক উপাদান (যেমন-জল) তার বেশি ঘনত্ব থেকে তার কম ঘনত্ব প্রবাহিত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশেষ অভিস্রবণ পর্দার প্রয়ােজন হয়। এজন্য অভিস্রবণকে বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয়।
প্রমাণ করাে-অভিস্রবণ এক ধরনের ব্যাপন।
অভিস্রবণ একপ্রকারের ব্যাপন কারণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ঘনস্ত্রের একই প্রকারের দ্রবণ অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক করা থাকলে কম ঘনত্বের দ্রপ থেকে দ্রাবক ব্যাপনের মাধ্যমে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে পরিবাহিত হয়। এক্ষেত্রে দ্রাবক অপু নিজের বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে ব্যাপিত হয়।
অভিস্রবণ বা আস্রাবণ বা অসমােসিস কাকে বলে?
যে ভৌত প্রক্রিয়ায় অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে পৃথক করা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের কিন্তু সমধর্মী দ্রবণের দ্রাবক অপু কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্ত্বের দ্রবণের দিকে যায়, তাকে অভিস্রবণ বা আস্তরাবণ বা অসমােসিস বলে। দুটি বলের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করাে।
অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
1. অভিস্রবপে, দ্রাবকের অনুগুলি নিম্ন ঘনত্বযুক্ত দ্রবণ থেকে উচ্চ ঘনত্বযুক্ত দ্রবণের দিকে পরিবাহিত হয়।
2. এক্ষেত্রে দুটি দ্রবণই সমপ্রকৃতির হয়।
3. দুটি দ্রবণের মাঝে অর্ধভেদ্য পর্দার উপস্থিতি অপরিহার্য। 4. পর্দাটির দুপাশের দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া অবধি অভিস্রবণ চলতে থাকে।
অভেদ্য পর্দা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
অভেদ্য পর্দা: যেসব পর্দার মধ্যে দিয়ে দ্রাব বা দ্রাবক অপুর কোনােটিই যাতায়াত করতে পারে না, তাদের অভেদ্য পর্দা (impermeable membrane) বলে।
উদাহরণ: রবারের পর্দা, প্লাসটিক ইত্যাদি।
ভেদ্য পর্দা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উদাহরণ: ফিলটার কাগজ, উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর ইত্যাদি।
অর্ধভেদ্য পর্দা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
অর্ধভেদ্য পর্দা: যেসব পর্দার মধ্যে দিয়ে দ্রাবক অণু যাতায়াত করতে পারে, তাদের অর্ধভেদ্য পর্দা (semipermeable membrane) বলে।
উদাহরণ : পার্চমেন্ট কাগজ, মাছের পটকা ইত্যাদি।
প্রভেদক ভেদ্য পর্দা কাকে বলে?
যেসব পর্দার মধ্যে দিয়ে দ্রাবক অপু ও নির্দিষ্ট কিছু দ্রাবের অপু যাতায়াত করতে পারে, তাদের প্রভেদক ভেদ্য পর্দা বা নির্বাচনমূলক ভেদ্য পর্দা (selectively permeable membrane) বলে। যেমন—কোশপর্দা। এর মধ্যে দিয়ে গ্লুকোজ, Na+", K+ প্রভৃতি যাতায়াত করতে পারে।
অন্তঃঅভিস্রবণ কাকে বলে?
অন্তঃঅভিস্রবণ : যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বহিস্থ দ্রবণ থেকে দ্রাবক অপু (জল) কোশের প্রােটোপ্লাজমে প্রবেশ করে তাকে অন্তঃঅভিস্রবণ বলে। বহিস্ব দ্রবণের ঘনত্ব কোশের প্রােটোপ্লাজমের তুলনায় কম হলে, অর্থাৎ পরিবেশের দ্রবণ ছাইপােটনিক হলে এবপ ঘটে।
বহিঃঅভিস্রবণ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দিয়ে বােঝাও।
বহিঃঅভিস্রবণ: যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কোশের প্রােটোপ্লাজম থেকে বহিস্য দ্রবশে দ্রাবক অপু (জল) নির্গত হয়, তাকে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। বিশ্ব দুবপের ঘনত্ব কোশের প্রােটোপ্লাজমের তুলনায় বেশি হলে, অর্থাৎ পরিবেশের দ্রবণ হাইপারটনিক হলে এরকম ঘটে।
উদাহরণ: আঙুরকে কিছুক্ষণ ঘন চিনির দ্রবণে রেখে দিলে তা বহিঃঅভিস্রবণের ফলে কুঁচকে যাবে।
অতিসারক দ্রবণ কাকে বলে ?
কোশের বাইরের দ্রবণের ঘনত্ব যদি কোশীয় দ্রবণের থেকে বেশি হয়, তবে কোশের বাইরের দ্রবপটিকে কোশ সাপেক্ষে অতিসারক দ্রবপ বা হাইপারটনিক দ্রবণ বলে।
সমসারক দ্রবণ কাকে বলে?
কোশের বাইরের দ্রবণের ঘনত্ব এবং কোশীয় দ্রবণের ঘনত্ব সমান হলে, কোশের বাইরের দ্রবপটিকে কোশ সাপেক্ষে সমসারক দ্রবণ বা আইসােটনিক দ্রবণ বলে।
লঘুসারক দ্রবণ কাকে বলে?
কোশের বাইরের দ্রবণের ঘনত্ব যদি কোশীয় দ্রবণের তুলনায় কম হয়, তবে কোশের বাইরের দ্রবপটিকে কোশ সাপেক্ষে লঘুসারক দ্রবণ বা হাইপােটনিক দ্রবণ বলে।
প্লাজমােলাইসিস (plasmolysis) কাকে বলে ?
কোনাে কোশকে অতিসারক বা হাইপারটনিক দ্রবশে রাখলে, বহিঃঅভিস্রবপ প্রক্রিয়ায় কোশটি থেকে জল নি্গত হওয়ার দরুন, কোশটির প্রােটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে প্লাজমােলাইসিস বলে।
সক্রিয় পরিবহণ (active transport) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
সক্রিয় পরিবহণ: জীবদেহে বিপাকীয় শক্তির প্রভাবে, বাহক- প্রােটিনের সাহায্যে জীবজ অপু বা আয়নের, নিম্ন ঘনত্বযুক্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ ঘনত্বযুক্ত অঞ্চলে সালনকে সক্রিয় পরিবহণ (active transport) বলে।
উদাহরণ: সুক্রোজ খাদ্য সিটিউবে (ফ্লোয়েম) পরিবহণের জন্য প্রবেশ করে সক্রিয় পরিবহণ দ্বারা।
সক্রিয় পরিবহণের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করাে।
সক্রিয় পরিবহণের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 1. কোশ মধ্যস্থ বাহক - প্রােটিনের সাহায্যে এই পরিবহশ ঘটে। 2. অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে তা ঘটে থাকে। 3. ATP বিশ্নিষ্ট হয়ে প্রক্রিয়াটিতে প্রয়ােজনীয় শক্তির জোগান দেয়। 4. নিম্ন মানযুক্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ ঘনত্বযুক্ত অঞ্চলে অপুর পরিবহণ হাটে।
সুক্লোজ, প্রোটিন, সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ধাতুলির ক্ষেত্রে সক্রিয় পরিবহণ দেখা যায়।
কোশান্তর পরিবহণে সক্রিয় পরিবহণের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখাে।
1. সক্রিয় পরিবহশের দ্বারা মূলরােমে বিভিন্ন খনিজ লবণ, যেমন সােডিয়াম (Na+), পটাশিয়াম (K+), ম্যাগনেশিয়াম (Mg²+) প্রভৃতি শােষিত হয়। এই খনিজগুলি উদ্ভিদের পুষ্টি ও বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
2. ফ্লোয়েমের সিভনলে সুক্রোজ খাদ্যের গ্রহণ সক্রিয় পরিবহণ দ্বারা ঘটে থাকে।
3. দেহের প্রতিটি কোণে প্রােটিন, গ্লুকোজ প্রভৃতি খাদ্য উপাদান সক্রিয় পরিবহণের মাধ্যমে প্রবেশ করে।
সােডিয়াম-পটাশিয়াম পাম্প কাকে বলে?
সােডিয়াম-পটাশিয়াম পাম্প হল কোম্প্রদায় বর্তমান একপ্রকার বাহক-প্রোটিন, যা বিপাকীয় শক্তি বা ATP খরচ করে, কোশে সােডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নের সক্রিয় পরিবহণে সাহায্য করে।
কোশান্তর অভিস্রবণ কাকে বলে?
পাশাপাশি অবস্থিত কোষ গুলির সাইটোপ্লাজমে ঘনত্বের পার্থক্য থাকলে, যে অভিস্রবণ ক্রিয়ায় একটি কোশ থেকে পার্শ্ববর্তী কোশে সাইটোপ্লাজমের জলীয় অংশ স্থানান্তরিত হয়, তাকে কোশান্তর অভিস্রবণ বলে। যেমন উদ্ভিদদেহে জল শােষপের সময়ে এই প্রক্রিয়া দেখা যায়। এই ধরনের অভিস্রবণের ক্ষেত্রে কোশপর্দা অর্ধভেদ্য পর্দারূপে কাজ করে।
উদ্ভিদের শােষণ বা অ্যাবজরপশন কাকে বলে?
যে ভৌত পদ্ধতিতে মূলরােমের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহে জল ও জলে। দ্রবীভূত খনিজ লবণ প্রবেশ করে, তাকে উদ্ভিদের শােষণ বা অ্যাবজরপশন (absorption) বলে।
