Class 9 Life Science Chapter 3 (জৈবনিক প্রক্রিয়া) Part 2 Topic 1 (শ্বসন) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

উপযুক্ত শ্বাস-অঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

জীবের উপযুক্ত শ্বাস-অঙ্গের যে বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়, তা হল

1. সিক্ত শ্বসনতল: শ্বাস-অঙ্গের শ্বসনতল সবসময় সিক্ত থাকা আবশ্যক, যাতে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদানপ্রদানে সুবিধা হয়।

2. বিস্তৃত শ্বসনতল: শ্বসনের সময় গ্যাসের আদানপ্রদান বেশি হওয়া জন্য শ্বসনতলের ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ার প্রয়ােজন।

3.  উচ্চ রক্তপ্রবাহসমন্বিত পৃষ্ঠতল: শ্বাস-অঙ্গে রক্ত সরবরাহ বেশি হলে গ্যাসীয় আদানপ্রদানের সম্ভাবনা বাড়ে।



পত্ররন্ধ্র কাকে বলে? এর গুরুত্ব লেখাে।

পত্ররন্ধ্র : পাতার বহিস্সকে রক্ষীকোশ দ্বারা বেষ্টিত যে অসংখ্য ছিদ্র থাকে তাদের পত্ররন্ধু বা স্টোমাটা বলে। বিষমপৃষ্ঠ পাতার নীচের ত্বকে ও সমঙ্কিপৃষ্ঠ পাতার উভয় ত্বকে পত্ররন্ধ উপস্থিত। প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি রক্ষীকোশ দিয়ে ঘেরা থাকে, যা পত্ররন্দ্রকে খুলতে ও বন্ধ করতে সাহায্য করে।

পত্ররন্ধ্রের গুরুত্ব: পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় আদানপ্রদান সম্পন্ন হয়।



লেন্টিসেল কাকে বলে? এর গুরুত্ব লেখাে।

লেন্টিসেল: গুল্ম ও বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ডের ত্বকে একপ্রকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লেসের মতাে উঁচু ফাটল দেখতে পাওয়া যায়, তাদের লেন্টিসেল বলে।

লেন্টিসেলের গুরুত্ব: লেন্টিসেল শ্বাস-অঙ্গরূপে উদ্ভিদের গ্যাসীয় আদানপ্রদানে সাহায্য করে।



নিউম্যাটোফোর বা শ্বাসমূল বলতে কী বােঝ? এর গুরুত্ব লেখাে।

নিউম্যাটোফোর বা শ্বাসমূল: সমুদ্রোপকূলবর্তী কিছু লবণায়ু উদ্ভিদে ভূনিম্নস্থ মূল থেকে শাখা ও প্রশাখা মূল উল্লম্বভাবে মাটির ওপরে উঠে আসে। এদের শ্বাসমূল বলে।  সুন্দরী, গরান, গেওয়া প্রভৃতি উদ্ভিদে শ্বাসছিদ্র দেখা যায়।

গুরুত্ব:  শ্বাসছিদ্র-এর সাহায্যে উদ্ভিদ বায়ু থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে।



পতঙ্গের শাসকার্যে শ্বাসছিদ্র ও শ্বাসনালীর ভূমিকা কী?

পতশ্রেণিভুক প্রাণীদের প্রধান শ্বাস-অঙ্গা ট্র্যাকিয়া বা গ্বাসনালী। দেহের দুপাশে অবস্থিত স্পাইরাকল বা খাসছিদ্র দিয়ে বায়ু শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে ও এরপর তা সরাসরি দেহকোশে পৌছেয়। এইভাবে বাতাসের অক্সিজেন দেহকোশে পেীছােয়। এরপর শ্বসন পতিতে দেহের কলাকোশে উৎপন্ন কার্বনডাই অক্সাইড এর খুব সামান্য অংশই শ্বাসনালী ও শ্বাসছিদ্র পথে এবং অধিকাংশ কার্বনডাই অক্সাইড ত্বকের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়।



কোন প্রাণীর শ্বাস-অঙ্গ ত্বক? শ্বাসকার্যে ত্বকের ভূমিকা কী?

কেঁচো, জোক এবং শীতঘুমের সময় ব্যাং-ও তাদের ত্বককে শ্বাস-অঙ্গকে হিসেবে ব্যবহার করে।

এইসব প্রাণীদের ত্বক সিক্ত এবং রক্তজালকপূর্ণ হয়। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বায়ুর অক্সিজেন এদের ত্বকের নীচে অবস্থিত রক্তজালকের রক্তে প্রবেশ করে এবং শ্বসনে দেহের কলাকোশে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তজালকের বাইরে নির্গত হয়।



মাছের ফুলকার গঠন ও কাজ বলাে। অথবা, জলজ প্রাণীর শ্বাসকার্যে ফুলকার ভূমিকা কী?

গঠন: জলজ প্রাণীদের প্রধান শ্বাস-অা হল ফুলকা। চিরুনির দাড়ার মতাে দুই সারিতে বিন্যস্ত ফুলকাপাত বা গিল ফিলামেন্ট দিয়ে পাতলা পালকের মতাে ফুলকা গঠিত হয়। প্রতিটি ফুলকা ফিলামেন্ট অসংখ্য ফুলকা ল্যামেলা দিয়ে গঠিত।

কাজ: ফুলকাপুলি রক্তজালকপূর্ণ হওয়ায় জলের অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুলকার রক্তজালকের রক্তে প্রবেশ করে ও রক্ত থেকে কার্বনডাই অক্সাইড একই প্রক্রিয়ায় ফুলকার মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়।



অ্যামিবা, হাইড্ৰাকীভাবে দেহতল দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়? অথবা, প্রাণীর শ্বাসকার্যে দেহতলের ভূমিকা কী?

অ্যামিবাতার কোশপর্দা বা সমগ্র দেহতল দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগের মাধ্যমে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে। হাইড্রা তাদের সমগ্র দেহতল দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন বিভিন্ন কোণে গ্রহণ করে। একইভাবে কোশে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন পদ্ধতিতে দেহের বাইরে দেহতল দিয়ে নির্গত হয়।



কেঁচোর দেহে অক্সিজেন সংবহন-ব্যবস্থা উল্লেখ করাে।

কেঁচোর দেহত্বকের মাধ্যমে বায়ুর অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহে প্রবেশ করে। পরে তা ত্বক-সংলগ্ন রক্তজালকে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোলে পৌছােয়। পক্ষান্তরে, কোশে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তজালকে প্রবেশের পরে সেখান থেকে দেহত্বকের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়।