Class 9 Life Science Chapter 3 (জৈবনিক প্রক্রিয়া) Part 2 Topic 2 (শ্বসন) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

শ্বাসকার্য কাকে বলে? শ্বাসকার্য কয় প্রকার পদ্ধতি দ্বারা সংঘটিত হয়?

শ্বাসকার্য: শ্বাসকার্য হল একটি ভৌত ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে। পরিবেশ ও জীবদেহের মধ্যে শ্বাসবায়ুর আদানপ্রদান ঘটে। অর্থাৎ, অক্সিজেন এর প্রবেশ ও কার্বনডাই অক্সাইড এর নির্গমন হয়।

শ্বাসকার্যের পদ্ধতি : শ্বাসকার্য প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে সংঘটিত হয় - 1. প্রশ্বাস, 2. নিশ্বাস।



প্রশ্বাস ও নিশ্বাস বলতে কী বােঝ ?

প্রশ্বাস: যে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রাণীদেহে পরিবেশ থেকে বায়ু গৃহীত হয়, তাকে প্রশ্বাস বলে।

নিশ্বাস: যে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রাণীদেরে ফুসফুস থেকে নাসারন্ধ্র পথে থেকে অধিক CO, যুক্ত বায়ু পরিবেশে নির্গত হয়, তাকে নিশ্বাস বলে।



অ্যাডামের আপেল কাকে বলে?

অ্যাডামের আপেল: মানুষের (পুরুষদের) ট্র্যাকিয়া বা শ্বাসনালীর ওপরে ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র-সংলগ্ন অংশে তরুণাস্থি স্বরযন্ত্রের সাথে কোণ সৃষ্টি। করে, ফলে অংশটি উঁচু ও স্ফীত দেখায়, একে অ্যাডামের আপেল বলে।



প্রাণীর শ্বাসকার্যে ফুসফুস-এর ভূমিকা কী?

অধিকাংশ স্থলজ প্রাণীর মুখ্য শ্বাস অঙ্গ হল ফুসফুস। প্রাণীর শ্বাসকার্যে ফুসফুসের ভূমিকা হল - 

1. ফুসফুসের অ্যালভিওলাই পরিবেশের বায়ু থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন শােষণ করে রক্তে প্রেরণের ব্যবস্থা করে। 

2.  ফুসফুসের অ্যালভিওলাই শ্বসনে উৎপন্ন কার্বনডাই অক্সাইড কে ব্যাপনের মাধ্যমে রক্ত থেকে পরিবেশে মুক্ত হতে সাহায্য করে। 

3. ফুসফুস শ্বাসবায়ুর ধারক হিসেবেও কাজ করে।



প্লুরা কী?

প্লুরা হল মানুষের ফুসফুসকে ঢেকে রাখা দ্বিস্তরীয় আবরণী পর্দা। ফুসফস সংলগ্ন ভিতরের স্তরটিকে ভিসেরাল প্লুরা এবং বক্ষসংলগ্ন বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল প্লুরা বলে। এই দুই স্তরের মাঝে থাকে প্লুরা রস।



প্লুরার কাজ কী?

» প্লুরার কাজগুলি হল— 

1. প্লুরা ফুসফুসকে ঢেকে রেখে বাইরের আঘাত থেকে সেটিকে রক্ষা করে। 

2. ফুসফুসের সংকোচন ও প্রসারণের সময়ে বক্ষপিঞ্জরের সঙ্গে ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ের হাত থেকে এই আবরণ ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখে।



অ্যালভিওলাই কাকে বলে?

ফুসফুসের ব্রংকিওলগুলির শেষপ্রান্ত স্ফীত ও প্রসারিত হয়ে গ্যাসীয় আদানপ্রদানের উপযােগী যে সূক্ষ্ম থলিকাকার সংগঠন সৃষ্টি করে, তাদের অ্যালভিওলাস বলে (বহুবচন: অ্যালভিওলাই)।



মানুষের শ্বসনে অ্যালভিওলাই-এর ভূমিকা কী?

অ্যালভিওলাই-এর চারপাশে ফুসফুসীয় শিরা ও ধমনির রক্তজালক থাকে প্রশ্বাসের মাধ্যমে গৃহিত অধিক অক্সিজেনযুক্ত বাতাস অ্যালভিওলাই এর মাধ্যমে তার চারপাশের রক্তজালকে প্রবেশ করে। এরপর সেখান থেকে রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন কলাকোশে পৌঁছােয়| আবার কলাকোশে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তজালক থেকে অ্যালভিওলাইতে প্রবেশ করে। অবশেষে সেখান থেকে দেহের বাইরে নির্গত হয়।



ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি লেখাে।

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি হল—

1. ফুসফুসে ক্যানসার: ফুসফুস ক্যানসারের প্রায় 85% ক্ষেত্রে ধূমপানই হল মূল কারণ।

2. ব্রংকাইটিস: ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ব্রংকাই বা ক্লোমশাখায় প্রদাহ বা ব্রংকাইটিস রােল হয়। এর ফলে ক্লোমশাখাগহুরে শ্লেম্মা সৃষ্টি হয়ে শ্বাসবায়ুর প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং প্রবল শ্বাসকষ্ট হয়।

3. COPD বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমােনারি ডিজিজ: যে সমস্ত রােগে শ্বাসকষ্ট হয় ও কাশি হয় সেগুলিকে COPD বলে। যেমন—এমফাইসিমা নামক COPD রােগে ধূমপানের কারণে অ্যালভিওলাইলি বিনষ্ট হয় ও শ্বাসকষ্ট হয়।

4. হৃদবাহ রােগ: ধূমপানে রক্তচাপ বাড়ে, রক্তবাহে চর্বি হলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।



নিষ্ক্রিয় ধূমপান কী?

ধূমপায়ী ব্যক্তির কাছাকাছি কোনাে অধূমপায়ী ব্যক্তি নিষ্ক্রিয়ভাবে তামাকের ধোঁয়া প্রশ্বাসের সাহায্যে গ্রহণ করে। একে নিষ্ক্রিয় ধূমপান বলে। এর ফলে ধূমপান না করলেও ওই ব্যক্তির দেহে ধূমপানের বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রভাব যেমন, ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি হতে পারে।



নিষ্ক্রিয় ধূমপান সক্রিয় ধূমপান অপেক্ষা বেশি ক্ষতিকারক কেন?

সক্রিয় ধূমপায়ীর ধূমপানের ফলে নির্গত বায়ু তথা নিশ্বাস বায়ু তার আশেপাশে অবস্থিত লােকজন প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে যাকে নিষ্ক্রিয় ধূমপান বলে। এই বায়ুতে সক্রিয় ধূমপায়ীর গৃহীত ধোঁয়া অপেক্ষা অনেক বেশি ক্ষতিকারক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী বা কারসিনােজেনিক) পদার্থ উপস্থিত থাকে, যা দেহে প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়াও সক্রিয় ধূমপানে সিগারেটের ফিলটারে অনেক কারসিনােজেন। ফিলটার হয়ে যায়। ফলে তা ধূমপায়ীর দেহে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু নিষ্ক্রিয় ধূমপানে তা ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে। তাই নিষ্ক্রিয় ধূমপান, সক্রিয় ধূমপান অপেক্ষা বেশি ক্ষতিকারক।