Class 9 Life Science Chapter 3 (জৈবনিক প্রক্রিয়া) Part 2 Topic 3 (শ্বসন) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

শ্বসনবস্তু কী?

যেসব জৈবযৌগ সজীব কোশে জারিত হয়ে শক্তির মুক্তি ঘটায়, তাদের শ্বসনবস্তু বলে। শর্করা, প্রােটিন, স্নেহপদার্থ, জৈব অম্ন ইত্যাদির জারণের ফলে শক্তির মুক্তি ঘটে। এদের মধ্যে গ্লুকোজকেই প্রধান শ্বসনবস্তুরূপে গণ্য করা হয়।



শ্বসনকে অপচিতিমূলক প্রক্রিয়া বলা হয় কেন? সবুজ উদ্ভিদে দিনের বেলায় কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় কি না যুক্তিসহ উত্তর দাও।

শ্বসনে জটিল খাদ্যবস্তু বিশ্লিষ্ট হয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয় বলে জীবদেহের প্রােটোপ্লাজমের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়। তাই শ্বসনকে অপচিতিমূলক প্রক্রিয়া বলা হয়।

হ্যাঁ, সবুজ উদ্ভিদে দিনের বেলাতে কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। কারণ, প্রতিটি সজীব কোশে দিনরাত শ্বসন ক্রিয়া চলে এবং দিবারাত্রি সর্বদাই কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।



শ্বসন কোথায় এবং কখন সংঘটিত হয় ?

শ্বসনের স্থান: প্রতিটি সজীব কোশের, অংশত সাইটোপ্লাজম ও অংশত মাইটোকনড্রিয়ায় শ্বসন ঘটে। ব্যাকটেরিয়ায় মাইটোকনড্রিয়া না থাকায় মেসােজোম হল প্রধান শ্বসন স্থান।

শ্বসনের সময়: এটি সজীব কোশে দিবারাত্রি সর্বক্ষণ সংঘটিত হয়।



সবাত শ্বসন কাকে বলে ?

যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জীবের কোশমধ্যস্থ খাদ্যবস্তু (গ্লুকোজ) মুক্ত অক্সিজেনের সাহায্যে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে জল, কার্বন ডাইঅক্সাহিত উৎপন্ন করে এবং খাদ্যস্থ স্থৈতিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত করে, তাকে সবাত শ্বসন বলে।



অবাত শ্বসন কাকে বলে?

যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অবায়ুজীবী জীবের (যেমন-অন্তঃপরজীবী, এককোশী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি) কোশমধ্যস্থ খাদ্যবস্তু (গ্লুকোজ) মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে কিন্তু অক্সিজেনযুক্ত যৌগ যেমন নাইট্রেট)-এর উপস্থিতিতে আংশিকভাবে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, জল ও বিভিন্ন অজৈব অক্সাইড (যেমন-নাইট্রাইট) ও অল্প পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে অবাত শ্বসন বলে।



দহন কাকে বলে?

যে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রায় উৎসেচক ব্যতিরেকে, অক্সিজেনের উপস্থিতিতে কোনো বস্তু অনিয়ন্ত্রিতভাবে জারিত হয়ে তাপ ও আলােকরূপে শক্তির দ্রুত মুক্তি ঘটায়, তাকে দহন বলে।



'শ্বসন একপ্রকার নিয়ন্ত্রিত দহন' - আলােচনা করাে।

দহনের মতো শ্বসনেও শ্বসনবধু জারিত হয়ে তাপশক্তির মুক্তি ঘটে। তবে শসনের ক্ষেত্রে এই জারপের প্রতিটি পর্যায় বিভিন্ন উৎসেচকের দ্বারা পুরােপুরি নিয়ন্ত্রিত থাকে বলে শ্বসনে শক্তির মুক্তি ধীরে ধীরে ঘটে। অর্থাৎ, এটি একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। তাই শ্বসনকে নিয়ন্ত্রিত দহনও বলা হয়।



শ্বসন অনুপাত (respiratory quotient) বা RQ কী ?

কোনাে একটি নির্দিষ্ট সময়ে শ্বসন ক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বনডাই অক্সাইড এবং গৃহীত অক্সিজেন এর অনুপাতকে শ্বসন অনুপাত বা শ্বাস অনুপাত বলে।



সন্ধান কাকে বলে ?

যে শ্বসন পদ্ধতিতে জীবকোশে অক্সিজেন ছাড়াই, কয়েক প্রকার ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের দেহ নিঃসৃত উৎসেচকের প্রভাবে শ্বসনবস্তুর আংশিক জারণে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ উৎপন্ন হয় এবং খাদ্যস্থ শক্তির আংশিক মুক্তি ঘটে, তাকে সন্ধান বলে।



সন্ধান কোথায় এবং কোন কোন জীবেরদ্বারা ঘটে?

সংঘটন স্থান: সন্ধান সাধারণত সরল শর্করার দ্রবণে ঘটে থাকে।

সংঘটনকারী জীব: ল্যাকটোব্যাসিলাসনামক ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটিক সন্ধান, ঈস্ট নামে এক ধরনের ছত্রাক কোহল সন্ধান করে থাকে।



সন্ধানের ব্যাবহারিক দিকটি লেখাে। অথবা, সন্ধানের চারটি ব্যাবহারিক দিক বলাে। 

পাউরুটি, কেক প্রভৃতি উৎপাদনের জন্য বেকারি শিল্পে, সন্ধান প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, মদ, ভিনিগার, দই, চিজ, মাখন, ইয়ােগাট উৎপাদনে সন্ধান প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানাে হয়।



ATP কী?

ATP বা অ্যাডিনােসিন ট্রাইফসফেট হল শ্বসনে উৎপন্ন একটি উচ্চশক্তিসম্পন্ন জৈবযৌগ | সজীব কোশে উপস্থিত ADP শ্বসনে উৎপন্ন শক্তিকে ব্যবহার করে অজৈব ফসফেট (Pi)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ATP গঠন করে।



ATP-এর গুরত্ব কী?

ATP কোশের প্রয়ােজনীয় শক্তির জোগান দেয়। ATP জারিত হলে ADP এবং Pi উৎপন্ন হয়। ফলে ATP-র মধ্যে সতি শক্তির মুক্তি ঘটে। এই শক্তি জীবকোশের জৈবনিক ক্রিয়া চালানাের জন্য প্রয়ােজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। এক অণু ATP থেকে প্রায় 7.3 kcal শক্তি পাওয়া যায়।



অতিরিক্ত পরিশ্রমে পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে কেন?

অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের সময়ে মানুষের ঐচ্ছিক পেশিগুলির কোশে প্রয়ােজনের তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছােয় না। ওই অবস্থায় ঐচ্ছিক পেশিকোশে শক্তি উৎপাদনের জন্য সাময়িকভাবে অবাত শ্বসন ঘটে। এক্ষেত্রে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিডের সঙ্গে হাইড্রোজেন সরাসরি মিলিত হয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। পেশিকোশ ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যবহারে অক্ষম হওয়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে।