গ্লাইকোলাইসিস কাকে বলে ? অথবা, EMP পথ কাকে বলে?
যে রৈখিক ও ধারাবাহিক পদ্ধতিতে গ্লুকোজ কোশের সাইটোপ্লাজমে উপস্থিত কতকগুলি উৎসেচকের প্রভাবে আংশিকভাবে জারিত হয়ে পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপাদন করে, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে।
গ্লাইকোলাইসিসকে কেন EMP পথ বলে ?
গ্লাইকোলাইসিস পদ্ধতির ধাপগুলি বিজ্ঞানী এম্বডেন, মেয়ারহফ এবং পারনেস আবিষ্কার করেন। তাঁদের নামানুসারে গ্লাইকোলাইসিসকে EMP পথ (Embden Meyerhof Parnas path) বলে।
পাইরুভেট জারণ বলতে কী বােঝ? এর গুরুত্ব কী?
পাইরুভেট জারণ: এই পর্যায়ে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভেট অণু বাহকের মাধ্যমে সাইটোসল থেকে মাইটোকনড্রিয়ায় প্রবেশ করে, মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃ-পর্দায় উৎসেচকের সহায়তায় পাইভেটের জারণ ঘটে এবং অ্যাসিটাইল কো-A উৎপন্ন হয় ও কার্বনডাই অক্সাইড অণু মুক্ত হয়।
পাইরুভেট জারণের গুরুত্ব: পাইরুভেট জারণে উৎপন্ন অ্যাসিটাইল কো-A ফ্রেস চক্রে ব্যবহৃত হয়। পাইভেট জারণে উৎপন্ন NADH + H+ প্রান্তীয় শ্বসন পদ্ধতিতে ATP রূপে শক্তির মুক্তি ঘটায়।
গ্লাইকোলাইসিসের তাৎপর্য কী?
গ্লাইকোলাইসিসের তাৎপর্যগুলি হল—
1. গ্লাইকোলাইসিসের ফলে 1 অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে 2 অণু পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড পরবর্তী পর্যায় ব্লেইস চক্রে সাবস্ট্রেট রূপে ব্যবহৃত হয়।
2. গ্লাইকোলাইসিসের সময়ে ডাই হাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট উপজাত দ্রব্য হিসেবে তৈরি হয়। এটি গ্লিসারল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গ্লিসারল স্নেহজাত দ্রব্যের একটি প্রধান উপাদান।
3. গ্লাইকোলাইসিসের শেষে 2 অণু ATP উৎপন্ন হয়, যা জীবের জৈবনিক কার্যে ব্যবহৃত হয়।
ক্রেবস চক্র কাকে বলে? এরূপ নামকরণের কারণ কী?
ক্রেবস চক্র : গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড যে প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের প্রভাবে মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যে চক্রাকার রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে জল, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে ক্রেবস চক্র বলে।
নামকরণ: বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রেবস প্রথম এই চক্রটি শনাক্ত করেন | তাই এই চক্রের নাম ক্রেবস চক্র দেওয়া হয়।
ক্রেবস চক্রকে TCA চক্র বলে কন?
ক্রেবস চক্রের প্রথম বিক্রিয়ায়, অক্সালাে অ্যাসিটেট ও অ্যাসিটাইল কো-A-এর পরস্পর বিক্রিয়ায় সাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি হয়। অর্থাৎ, ক্লেবস চক্রের প্রথম উৎপন্ন যৌগ হল সাইট্রিক অ্যাসিড, যা তিনটি কার্বক্সিল মূলক (COOH) নিয়ে গঠিত। তাই এই চক্লকে TCA চক্র বা ট্রাই কার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র বলে।
শ্বসনকে কী কারণে শক্তির মুক্তি বলা হয় সংক্ষেপে বুঝিয়ে দাও।
সালােকসংশ্লেষের মাধ্যমে জীবের প্রােটোপ্লাজয়ে রাসায়নিক তথা স্থিতিশক্তিরূপে সৌরশক্তির আত্তীকরণ ঘটে। শ্বসনে গ্লুকোজ অপুর অন্তর্গত স্থিতিশক্তির 60% তাপশক্তি ও 40% ATP শক্তিরূপে মুক্ত হয়। উৎপন্ন তাপশক্তি দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া পরিচালনা করে। তাই শ্বসনকে 'শক্তির মুক্তি বলা হয় |
সালােকসংশ্লেষ ও শ্বসন কীভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল?
1. সালােকসংশ্লেষের জন্য পরিবেশের কার্বনডাই অক্সাইডের প্রয়ােজন। আবার, পরিবেশে কার্বনডাই অক্সাইডের প্রধান উৎস জীবের শ্বসনক্রিয়া। সুতরাং, সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াটি শ্বসনে উৎপন্ন কার্বনডাই অক্সাইডের উপর নির্ভরশীল।
2. অপর-দিকে, জীবের শ্বসনের জন্য যে খাদ্য ও অক্সিজেনের প্রয়ােজন তার প্রধান উৎস উদ্ভিদের সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া সুতরাং, শ্বসন প্রক্রিয়াটি সালােকসংশ্লেষের ওপর নির্ভরশীল।
3. শ্বসনের সময়ে খাদ্যের স্থিতিশক্তি গতিশক্তি বা তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সালোকসংশ্লেষের সময়ে সৌরশক্তি স্থিতিশক্তি হিসেবে জীবদেহে সঞ্ছিত হয়। সুতরাং, শক্তির জন্য अजन প্রক্রিয়াটি সালােকসংশ্লেষের। উপর নির্ভরশীল। সালােকসংশ্লেষে পরিবেশে অক্সিজেন নির্গত হয় এবং শ্বসনে কার্বনডাই অক্সাইড নির্গত হয়। অপরদিকে, সালােকসংশ্লেষে পরিবেশের কার্বনডাই অক্সাইড এবং শ্বসনে অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ফলে, সালােকসংশ্লেষ ও শ্বসন প্রক্রিয়া উভয়েই একে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পরিবেশে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য রক্ষা করে।
শ্বসনের জন্য প্রয়ােজনীয় অক্সিজেন জীব কোথা থেকে গ্রহণ করে ?
1. জীবের শ্বসনের জন্য প্রয়ােজনীয় অক্সিজেন পরিবেশ থেকে পাওয়া যায়।
2. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ 20.60 ভাগ। থলজ জীব শ্বসনের জন্য সরাসরি শ্বাস-অঙ্গের মাধ্যমে বায়ুর অক্সিজেন শােষণ করে।
3. জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা 7 ভাগ| জলজ জীব জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শােষণ করে।
4. জলে আংশিক বা পূর্ণ নিমজ্জিত উদ্ভিদ তাদের নিমজ্জিত অংশ দ্বারা এবং মাছ ও অন্যান্য প্রাণী (যেমন—ব্যাঙাচি) ফুলকার সাহায্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় জলের অক্সিজেন ব্যবহার করে।
