বহিষ্করণের পদ্পতিটি লেখাে।
খাদ্যের পাচন ও শােষণের পর অপাচ্য অংশ কোলনে আসে এবং এরপর তা মলাশয়ে প্রবেশ করে। মলাশয়ে খাদ্যের মিউকাস ও জীবালুমিশ্রিত অপাচ্য অংশকে মল বলে। মল সাময়িকভাবে মলাশয়ে সঞ্চিত থাকে ও পায়ুর মাধ্যমে তা নির্গত হয়। একেই বহিপীর বলে।
বিশ্রামাবস্থায় কোনাে প্রাণীর বিপাক ক্রিয়া কি চলতে থাকে?
হ্যা, কারণ যে-কোনাে প্রাণী বিশ্রামাবস্থায় বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও তার শ্বসন, রেল, পুষ্টি ইত্যাদি বিপাক ক্রিয়া ধীরমাত্রায় চলতে থাকে নাহলে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ বন্ধ হয়ে জীবের মৃত্যু হতে পারে।
উপচিতিমূলক বিপাক কী? উদাহরণ দাও।
উপচিতিমূলক বিপাক: সজীব কোশের প্রোটোপ্লাজমে সংঘটিত যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে সরল থেকে জটিল উপাদান তৈরি হয় এবং তার ফলস্বরূপ জীবের শুক ওজন বৃদ্ধি পায়, তাকে উপচিতিমূলক বিপাক (anabolism) বলে।
উদাহরণ: সালােকসংশ্লেষ ও পুষ্টি।
অপচিতিমূলক বিপাক কী? উদাহরণ দাও।
অপচিতিমূলক বিপাক: সজীব কোশের প্রােটোপ্লাজমে সংঘটিত যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে জটিল থেকে সরল উপাদান তৈরি হয় এবং তার ফলস্বরূপ জীবের শুক ওজন হ্রাস পায়, তাকে অপচিতিমূলক বিপাক (catabolism) বলে।
উদাহরণ: শ্বসন ও রেচন।
বিপাকে যকৃতের ভূমিকা কী?
যকৃতে সংঘটিত কয়েকটি প্রধান বিপাক ক্রিয়া হল-
1. গ্লাইকোজেনেসিস : গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন তৈরির পদ্ধতিকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে।
2. গ্লাইকোজেনােলাইসিস : গ্লাইকোজেন থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষণের পদ্ধতিকে গ্লাইকোজেনােলাইসিস বলে।
3. গ্লুকোনিওজেনেসিস বা নিওপ্লুকোজেনেসিস : শর্করা ব্যতীত কোনাে পদার্থ (যেমন—পাইভেট, ল্যাকটেট) থেকে গ্লুকোজ তৈরির পদ্ধতিকে গ্লুকোনিওজেনেসিস বলে।
4. অরনিথিন চক্র বা ইউরিয়া চক্র : যকৃতে অ্যামােনিয়া থেকে ইউরিয়া উৎপন্ন হওয়ার বিপাকীয় পদ্ধতিকে অরনিথিন চক্ৰ (ornithine cycle) বলে।
উপবাস করলে মানুষের ওজন কমে কেন ব্যাখ্যা করাে।
উপবাস করলে দেহে খাদ্যবস্তু গৃহীত হয় না। কিন্তু শ্বসন, রেচন দেহের শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি সম্পন্ন করার জন্য শক্তির চাহিদা একই থাকে। দেহে সঞ্চিত খাদ্যের ব্যবহারে সেই শক্তি পাওয়া যায়। ফলে উপবাস করলে মানুষের ওজন কমে যায়।
উপােসকালীন ও PP শর্করা বলতে কী বােঝ ?
খাদ্যগ্রহণের 12 ঘণ্টা পর সুস্থ ব্যক্তির রক্তে প্রাপ্ত গ্লুকোজ এর পরিমাপ (70-100 mg/100 ml)-কে উপােসকালীন এবং খাদ্য্রহপের দু-ঘণ্টা পরে রক্তে প্রাপ্ত গ্লুকোজের পরিমাণ (98-140 mg/100ml)-কে PP বা Post prandial Sugar বলে।
প্রােটিন বাঁচোয়া খাদ্য কী?
মানুষ দীর্ঘদিন প্রােটিন-জাতীয় খাদ্য না খেয়েও, শুধুমাত্র শর্করাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করেই শক্তি উৎপাদন, দেহের বৃদ্ধি, কোশগঠন ও ক্ষয়পূরণ করতে পারে। এইজন্য শর্করাজাতীয় খাদ্য বা কার্বোহাইড্রেটকে প্রােটিন বাঁচোয়া খাদ্য (protein sparing food) বলে।
সুষম খাদ্য কাকে বলে ?
যে খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল—এই ছয়টি উপাদান গুণাগুণ অনুসারে উপযুক্ত মাত্রায় উপস্থিত থাকে এবং যে খাদ্যে দেহের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার জন্য উপযুক্ত পরিমাণ ক্যালােরি পাওয়া যায়, তাকে সুষম খাদ্য (balanced diet) বলে। যেমন—শিশুদের ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধ।
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।
সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
1. সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রােটিন, ফ্যাট, খনিজ লবণ, ভিটামিন এবং জল উপযুক্ত মাত্রায় উপস্থিত থাকে।
2. এই খাদ্য দেহে তাপশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
3. এই খাদ্য দেহের গঠনমূলক ক্রিয়াকলাপ বজায় রাখতে ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। 4. এটি দেহের রােগ প্রতিরােধে সাহায্য করে।
5. এই খাদ্য দেহের বিভিন্ন প্রকার শারীরবৃত্তীয় কার্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
দুধ বা ডিমকে কি সুষম খাদ্য বলা যাবে? তােমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সুষম খাদ্যে দেহের প্রয়ােজনীয় সমস্ত পুষ্টি উপাদান নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে। দুধ ও ডিমে নানা রকম পরিপােষক থাকলেও তা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এগুলিতে পুষ্টি উপাদান মাত্রা সুষম নয়। যেমন—উভয় ক্ষেত্রেই শর্করা মাত্রা যথেষ্ট কম থাকে। তাই দুধের শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ ও বৃদ্ধিরত ভুগের ক্ষেত্রে ডিম সুষম হলেও পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে তা সুষম খাদ্য নয়।
কোনাে ব্যক্তি হেপাটাইটিস রােগে আক্রান্ত হলে ডাক্তারবাবু তাকে বেশি তেল মশলাযুক্ত খাবার খেতে বারণ করেন কেন?
হেপাটাইটিস রােগে আক্ৰান্ত ব্যক্তির যকৃতে প্রদাহের দরুন পিত্তক্ষয়। স্বাভাবিক থাকে না। অথচ মুখ্যত তেল অর্থাৎ, লিপিড জাতীয় খাবার পরিপাকের জন্য পিত্তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে ডাক্তারবার এই ধরনের রােগীদের বেশি তেল মশলাযুক্ত খাবার খেতে বারণ করেন।
