CSF-এর কাজ কী?
CSF-এর কাজ হল—
1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং মল্লিকের আয়তন বজায় রাখা।
2. স্নায়ুতন্ত্রের পুষ্টিরস এবং বিপাকজাত পদার্থ বিনিময়ে সহায়তা করা।
সংবহন কাকে বলে ?
যে বিশেষ পদ্ধতিতে উন্নত প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোশে সুনির্দিষ্ট পথে খাদ্যবস্তু, অক্সিজেন, হরমােন, ভিটামিন প্রভৃতি প্রেরিত হয় এবং কোশে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থসমূহ দেহকলাস্থান থেকে অপসারিত হয়, তাকে সংবহন (circulation) বলে।
সংবহনতন্ত্র কাকে বলে ?
প্রাণীদেহে সংবহনে সাহায্যকারী অঙ্গগুলি মিলিত হয়ে যে তন্ত্র গঠন করে এবং যার মাধ্যমে বহুকোশী প্রাণীর বিভিন্ন সজীব কোশে খাদ্য, অক্সিজেন, হরমােন ইত্যাদি পোঁছােয় ও কোশে উৎপন্ন বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থসমূহ রেচন অঙ্গে সংবাহিত হয়, তাকে সংবহনতন্ত্র (circulatory system) বলে।
প্রাণীর সংবহনের মাধ্যম কী ?
নিম্নশ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে জল এবং উচ্চশ্রেণির প্রাণীর ক্ষেত্রে রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে সংবহন ঘটে।
প্রাণীদেহে সংবহনের প্রয়ােজনীয়তা উল্লেখ করাে।
প্রাণীদেহে সংবহনের প্রয়োজনীয় ভূমিকা গুলি হল -
1. দেহের বিভিন্ন কলাকোশে পুষ্টি দ্রব্য পরিবহণ।
2. শ্বাসবায়ু পরিবহণ।
3. বিভিন্ন রেচন পদার্থ কোশ থেকে রেচন অঙ্গে পরিবহণ।
3. শ্বসনে উৎপন্ন তাপ সারা শরীরে প্রবাহিত করা এবং দেহের উষ্ণতা বজায় রাখা।
জীবদেহে সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে সংবাহিত হয় এরূপ কয়েকটি বস্তুর নাম লেখাে।অথবা, রক্তের মাধ্যমে কী কী বস্তু সংবাহিত হয় ?
জীবদেহে সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে সংবাহিত বস্তুগুলি হল— বিভিন্ন পরিপােষক, অক্সিজেন, ও কার্বন ডাইঅক্সাইড, হরমোন, বিভিন্ন রেচনজাত বস্তু, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
রক্ত কী?
রক্ত (blood) ভ্রূণের মেসােডার্ম থেকে উৎপন্ন একপ্রকার অস্বচ্ছ, লবণাক্ত, সামান্য ক্ষারধর্মী (pH = 7.4) তরল যোজক কলা বা যােগকলা। = এটি রক্তরস (এক প্রকার জলীয় উপাদান) ও তিন প্রকার রক্তকণিকা। (লােহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, অণুচক্রিকা) নিয়ে গঠিত।
রক্তের দুটি শ্বাসরঙ্গকের নাম লেখাে।
রক্তের দুটি শ্বাসরঙ্গকের নাম হল— হিমােগ্লোবিন: এটি লােহিত বর্ণযুক্ত লৌহঘটিত শ্বাসরঙ্গক।
হিমােসায়ানিন: এটি নীলাভ বর্ণযুক্ত তাম্রঘটিত শ্বাসরঙ্গক।
কোন শ্রেণির প্রাণীর রক্তে হিমােগ্লোবিন থাকে?
মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রভৃতি মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তকণিকায় এবং কেঁচো, জোকইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তরসে হিমােগ্লোবিন থাকে।
আরশােলার রক্তে শ্বাসরক থাকে না কেন?
আরশােলাসহ সমস্ত পতঙ্গের ক্ষত্রে রক্ত দ্বারা শ্বাসগ্যাস বাহিত হয় না। রাকিয়া বা শ্বাসনালী দ্বারা তা সরাসরি দেহকলায় পৌঁছে যায়। এজন্য আরশােলার রক্তে স্বাসর্ক থাকে না।
দেহতরল কাকে বলে ?
যেসব জৈব তরল, জীবদেহে পুষ্টিদ্রব্য, শ্বাসবায়ু ও রেচনবন্ধুর পরিবহগে, বিপাকীয় কার্যকারিতা সংঘটনে, প্রতিরক্ষা গঠনে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের সাম্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাদের (body fluid) বলে।
দেহতরলের কাজ কী?
দেহতরলের প্রধান কাজগুলি হল— জীবদেহে পুষ্টিদ্রব্য, স্বাসবায়ু ও রেচনবন্ধু পরিবহণ করা। দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা। দেহকে সুরক্ষা প্রদান করা। দেহে অল্প-ক্ষার, আয়ন ইত্যাদির সাম্যাবস্থা বজায় রাখা। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।
দেহতরল কয় প্রকার ও কী কী?
দেহতরল মূলত দুই প্রকারের অন্তঃকোশীয় তরল বা ICE (intracellular fluid) এবং বহিঃকোশীয় তরল বা ECF (extracellular fluid)। বহিঃকোশীয় তরল আবার অনেক প্রকারের হয়। যেমন—রক্ত, লসিকা, ঘাম, মুত্র, সাইনােভিয়াল তরল, কলাকোশীয় তরল ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) ইত্যাদি।
অন্তঃকোশীয় তরল বা ICF বলতে কী বােঝ?
প্রতিটি কোশের ভিতরে যে সান্দ্র তরল বা সাইটোপ্লাজম থাকে, তাকে অন্তঃকোশীয় তরল বা ইন্ট্রাসেলুলার ফ্লুইড (intracellular fluid) বা ICF বলে।
বহিঃকোশীয় তরল বা ECF বলতে কী বােঝ?
দেহে, কোশের বাইরে যেসব তরল পদার্থ থাকে, তাদের বহিঃকোশীয় তরল বা এক্সট্রাসেলুলার ফ্লুইড (extracellular fluid) বা ECF বলে।
যেমন রক্ত, লসিকা, মূত্র; CSF ইত্যাদি।
অন্তঃকোশীয় তরলের কাজ কী ?
অন্তংকোশীয় তরলের প্রধান কাজ হল - বিভিন্ন কোশীয় অঙ্গাপুর কার্যকারিতার মধ্যে সংযােগস্থাপন করা। কোশের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়াগুলির ক্ষেত্রে প্রধান সংঘটনস্থলের ভূমিকা পালন করা। কোশীয় করণে সাহায্য করা।
কলাকোশীয় তরল কী?
কলাতে বিন্যস্ত কোষগুলির অন্তর্বর্তী স্থানে অবস্থিত বহিঃকোশীয় তরলকে কলারস বা কলাকোশীয় তরল বা ইনটারস্টিশিয়াল ফ্লুইড (interstitial fluid) বলে।
CSF কাকে বলে ? এটি কোথায় থাকে?
CSF: মস্তিষ্ক প্রকোষ্ঠ, সুষুম্নাকাণ্ডের অন্তর্গত কেন্দ্রীয় নালী এবং সাবঅ্যারানয়েড স্থানের মধ্যে যে বিশেষ বহিঃকোশীয় তরল পদার্থ থাকে, তাকে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (cerebrospinal fluid) বা সংক্ষেপে CSF বলে।
CSF-এর অবস্থান: এটি মস্তিষ্ক প্রকোষ্ঠে ও সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীতে থাকে।
লসিকার সংজ্ঞা দাও।
রক্ত থেকে নিঃসৃত যে স্বচ্ছ ও হালকা হলদে বর্ণের বা বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী তরল পদার্থ লসিকাবাহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে লসিকা বলে।
লসিকা কোথায় থাকে?
দেহের কলাক্ষেত্রে (tissue space) বিন্যস্ত লসিকাবাহ দিয়ে লসিকা প্রবাহিত হয়। হাড়, অ্যালভিওলাই, CNS, স্বকের বহিস্থ স্তর ছাড়া সর্বত্র লসিকাবাহ দেখা যায়।
লসিকার দুটি কোশীয় উপাদান ও দুটি প্রােটিনের নাম লেখাে।
লসিকার দুটি কোশীয় উপাদান হল লিম্ফোসাইট ও মনােসাইট এবং দুটি প্রােটিন হল অ্যালবুমিন ও রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর।
লসিকার কাজ কী?
লসিকার কাজগুলি হল— দেহের রক্তবাহহীন অংশের (ত্বকের বহিস্তর) পুষ্টি ও রেচন লসিকা সংবহনের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত কলারসকে বহিঃকোশীয় স্থান থেকে রক্তে ফেরত এনে, লসিকা দেহে জলের সাম্যাবস্থা নিয়শ করে। আন্তঃকলাস্খান থেকে প্রোটিনের পরিবহশ এবং অন্ত্রে পাচিত চর্বি ও চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন পরিবহণ লসিকার মাধ্যমে হয়। দেহের সুরক্ষার ক্ষেত্রে লসিকায় উপস্থিত শ্বেতকণিকা রােগজীবাণু ধ্বংস করে।
মূত্র কী? মূত্র কোথায় সঞ্চিত হয় ?
মুত্র: মূত্র (urine) হল মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বিভিন্ন রেচন পদার্থ সমন্বিত, একপ্রকার স্বচ্ছ, হালকা হলদে বরে, অন্নধর্মী এবং ঝাঝালাে গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ, যা বৃক্কের নেনে উৎপন্ন হয়।
সঞয়স্থল: মূত্র মূম্রথলি বা ইউরিনারি রাডারে সঞ্চিত হয়।
মূত্র নিঃসরণের গুরুত্ব কী?
মূত্র নিঃসরণের গুরুত্ব হল— দেহের জলসাম্য নিয়ন্ত্রিত করা। ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন প্রভৃতি রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারিত করা। দেহে বিভিন্ন প্রকার আয়নের সাম্যাবস্থা বজায় রাখা।
ঘাম কী? ঘাম কোথা থেকে ক্ষরিত হয় ?
ঘাম: ঘাম (sweat) হল ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে সক্রিয়ভাবে ক্ষরিত তরল পদার্থ | এতে প্রায় 99.5 শতাংশ জল এবং অবশিষ্ট কঠিন পদার্থ থাকে | এর অজৈব উপাদান হল সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদি এবং জৈব উপাদান হল ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি।
ঘামের ক্ষরণস্থল: ঘাম মানব ত্বক দিয়ে ক্ষরিত হয়।
ঘর্ম নিঃসরণের গুরুত্ব কী?
ঘর্ম নিঃসরণের গুরুত্ব হল— দেহের তাপ নিয়ন্ত্রিত করা। দেহে অম্ল-ক্ষার ও জলের সাম্যতা বজায় রাখা। স্বল্প পরিমাণে রেচন সম্পন্ন করা।
সাইনােভিয়াল তরল কী? এটি কোথায় থাকে?
সাইনােভিয়াল তরল: দুই বা ততোধিক অস্থির সংযােগস্থলে অবস্থিত আর্টিকুলার ক্যাপসুলের ভিতরের দিক, সাইনােভিয়াল মেমব্রেন নামক একপ্রকার ঝিল্লি দ্বারা ঢাকা থাকে; ওই ঝিল্লি থেকে ক্ষরিত রস হল সাইনােভিয়াল তরল।
