Class 9 Life Science Chapter 3 (জৈবনিক প্রক্রিয়া) Part 4 Topic 2 (সংবহন) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

রক্তকে বিশেষ তরল যোজক কলা বলা হয় কেন?

রক্তকে বিশেষ ধরনের তরল যোজক কলা বলা হয়, কারণ—  

1. রত্ত গ্রুপের মেসোডার্ম স্তর থেকে উৎপন্ন হয়। এটি যোজক বলার বৈশিষ্ট্য | 

2. অন্যান্য যোজক কলার মতো রক্তেও কোশের তুলনায় তরল ধাত্রের পরিমাণ বেশি থাকে। 

3. অন্যান্য যোজক কলার মতো রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।



রক্তের উপাদানগুলি কী কী?

রক্তের উপাদানগুলি হল—রক্তরস বা প্লাজমা ও রক্তকোশ বা রক্তকণিকা । রক্তরসে জল ও বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান থাকে। রক্তকণিকা তিন প্রকারের 1. লোহিত রক্তকণিকা, 2. শ্বেত রক্তকণিকা এবং 3. অণুচক্রিকা |



হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?

রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজগুলি হল—          

1. অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্বো অ্যামিনো হিমোগ্লোবিন গঠন করে, যথাক্রমে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণে সাহায্য করা।

2. পিত্ত, মল, মূত্র ইত্যাদির বর্ণ গঠনে অংশগ্রহণ করা।

3.  বাফার হিসেবে রক্তের অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য রক্ষায় অংশ নেওয়া।

4. বিভিন্ন রঙ্গক – বিলিরুবিন, বিলিভারডিন প্রভৃতি বিপাকের ফলে হিমোগ্লোবিন থেকে তৈরি করা।



শ্বেত রক্তকণিকা কয় প্রকার ও কী কী ?

শ্বেত রক্তকণিকা প্রধানত দুই প্রকারের হয়-

1. দানাদার শ্বেত রক্তকণিকা বা গ্র্যানুলোসাইট : এই শ্বেত রক্তকণিকা-গুলির সাইটোপ্লাজম দানাযুক্ত হয়। এরা আবার তিন প্রকারের হয়— a. নিউট্রোফিল, b. ইওসিনোফিল এবং c. বেসোফিল

2. অদানাদার শ্বেত রক্তকণিকা বা অ্যাগ্রানুলোসাইট: এই শ্বেত রক্তকণিকাগুলির সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন হয়। এরা আবার দুই প্রকারের হয়— a. লিম্ফোসাইট ও b. মনোসাইট।



লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট-এর কাজ কী?

লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে দেহকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (অনাক্রম্যতা) প্রদান করে এবং মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে।



ইওসিনোফিল, নিউট্রোফিল ও বেসোফিল-এর কাজ কী?

ইওসিনোফিলের কাজ হল—অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করা| নিউট্রোফিলের কাজ হল—ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে (যেমন—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদিকে) ধ্বংস করা। বেসোফিলের কাজ হল—হেপারিন নিঃসরণ করে রক্তবাহের ভিতরে রক্ততঞ্চন প্রতিরোধ করা।



লোহিত রক্তকণিকার কাজগুলি কী কী?

লোহিত রক্তকণিকার কাজগুলি হল – 

1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিবহণে বিশেষ ভূমিকা পালন করা। 

2. রক্তে অম্ল ও ক্ষারের সাম্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা। 

3. বিলিরুবিন ও বিলিডারডিনের উৎসরূপে কাজ করা।



শ্বেত রক্তকণিকার কাজগুলি কী কী?

শ্বেত রক্তকণিকার কাজগুলি হল – 

1. ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করা। 

2. অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে সুরক্ষা প্রদান করা। 

3. অ্যালার্জির উপসর্গ দমন করা। হেপারিন ক্ষরণ করে রক্তবাহের মধ্যে রত্তকে ততি হতে বাধা দেওয়া।



রক্তের শ্রেণিবিভাগের গুরুত্ব কী?

রক্তের শ্রেণিবিভাগের গুরুত্বগুলি হল – 

1. একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে রক্ত সঞ্চারণের পূর্বে উভয়ের রক্তের শ্রেণিবিভাগ জেনে নেওয়া, যাতে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত গ্রহীতার রক্তকে জমাট বাঁধিয়ে তার প্রাণহানি না ঘটাতে পারে। 

2. গোয়েন্দা বিভাগে অপরাধী শনাক্তকরণে সাহায্য করা। 

3. পিতৃত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও রত্তের শ্রেণিবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বর্তমান।



O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট মানুষকে সর্বজনীন দাতা ও AB-গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট মানুষকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলে কেন? অথবা, সার্বিক দাতা ও সার্বিক গ্রহীতার ধারণা দাও।

সর্বজনীন দাতা (Universal donor): O-গ্রুপের রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন (অ্যাপ্পুটিনোজেন) না থাকায়, এই রক্ত যে কোনো গ্রুপের ব্যক্তির দেহে সঞ্চারিত করা যায়। অর্থাৎ সব গ্রুপই, O-গ্রুপের রক্ত নিতে পারে | তাই O-গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।

সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal recipient): AB গ্রুপের রক্তের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি (অ্যাল্গুচিনিন) না থাকায়, এই গ্রুপের ব্যক্তির দেহে যে-কোনো গ্রুপের রক্ত সঞ্চারিত করা যায়। অর্থাৎ AB-গ্রুপ, সব গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে কিন্তু শুধুমাত্র AB গ্রুপকে রক্তদান করতে পারে। তাই AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।

[সর্বজনীন দাতা ও সর্বজনীন গ্রহীতা মতবাদ বর্তমানে আর গ্রহণযোগ্য নয়]



ABO বিসংগতি বলতে কী বোঝ?

রক্তদাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ না মিলিয়ে বিসংগত গ্রুপের রক্ত সারিত করলে, দাতার অ্যান্টিজেন ও গ্রহীতার অ্যান্টিবডির মধ্যে বিক্রিয়া ঘটে। একে অ্যাগ্লুটিনেশন বলে। এর ফলে রক্তের দলা (clump) সৃষ্টি হয়ে রক্তবাহের মধ্যে আটকে গ্রহীতার মৃত্যু ঘটতে পারে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রুপের রক্ত সঞ্চারণের ফলে উদ্ভূত এই সমস্যাকে ABO বিসংগতি (ABO incompatibility) বলে। যেমন— A-গ্রুপের রক্ত, B গ্রুপবিশিষ্ট ব্যক্তির দেহে সঞ্চারিত করলে এরূপ ঘটনা ঘটতে পারে।



হিমোলাইসিস বা হিমোলাইটিক বিক্রিয়া কাকে বলে? ত্রুটিপূর্ণ রক্ত সঞ্চারণের ফলে হিমোলাইসিস হয় কেন?

হিমোলাইসিস বা হিমোলাইটিক বিক্রিয়া: লোহিত রক্তকপিকা (RBC) বিদীর্ণ হয়ে তার সমস্ত উপাদান রক্তরসে মুক্ত হওয়াকে হিমোলাইসিস (haemolysis) বা হিমোলাইটিক বিক্রিয়া বলে।

হিমোলাইসিসের কারণ: সঠিকভাবে রক্তের গ্রুপ (ABO এবং Rh গ্রুপ) ম্যাচিং না করে ত্রুটিপূর্ণ রক্ত সঙ্গারিত করলে, গ্রহীতার দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গৃহীত রত্তের RBC-কে বিনষ্ট করে দেয়। তাই বিসংগত গ্রুপের রক্ত সারণের ফলে হিমোলাইসিস ঘটে। যেমন – A-গ্রুপের রক্ত, O-গ্রুপবিশিষ্ট ব্যক্তির দেহে সঞ্চারিত করলে, ABO বিসংগতির কারণে গ্রহীতার দেহে হিমোলাইসিস ঘটে।



থ্রম্বোসাইটের কাজ কী কী ?

থ্রম্বোসাইটের কাজগুলি হল— 1. রক্ততঞ্চনে সাহায্য করা (প্রধান কাজ)। 2. রক্তজালকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে এদের জমাট বাঁধা এবং অতি দ্রুত ক্ষতস্থান মেরামত করা। 3. বিনষ্ট থ্রম্বোসাইট থেকে হিস্টামিন জাতীয় পদার্থ নিঃসৃত হয়ে রক্তনালীর সংকোচন ঘটানো।



ক্রস ম্যাচিং কীভাবে করা হয়? এর গুরুত্ব কী?

ক্রস ম্যাচিং এর ক্ষেত্রে প্রথমে দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ এবং Rh ফ্যাক্টরের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। এরপর দাতার রক্তের কোশগুচ্ছ (packed cell) এর সাথে গ্রহীতার রক্তরসের বিক্রিয়া ঘটানো হয়। প্রস্তাবে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয় যে দাতার রক্তকণিকায় উপস্থিত অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে, গ্রহীতার দেহে কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে কিনা।

গুৰুত্ব: ক্রস ম্যাচিং করে রক্ত সঞ্চারণ করা হলে ABO বিসংগতি ঘটে না, ফলে হিমোলাইসিস-জনিত সমস্যাও প্রতিরোধ করা যায়।



রক্ততঞনের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব উল্লেখ করো।

রক্ততঞ্চনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল—

1. রক্তক্ষরণ থামানো: আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করাই হল রক্ততনের প্রধান উদ্দেশ্য। নতুবা অত্যধিক রক্তপাতের ফলে ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

2. দেহের সংক্রমণ প্রতিরোধ: রক্ততঞ্চনের মাধ্যমে দেহের ক্ষয়পূরণ হয় বলেই, আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দিয়ে ক্ষতিকারক জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে না।



রক্ততঞ্চনে অংশগ্রহণকারী প্রধান উপাদানগুলি কী কী?

রক্ততঞ্চনে অংশগ্রহণকারী প্রধান উপাদানগুলি হল— রক্তরসে উপস্থিত ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, Ca²+ আয়ন এবং অণুচক্রিকা থেকে নিঃসৃত থ্রম্বোপ্লাস্টিন।



থ্রম্বোপ্লা‍স্টিন কী? রক্ততনে এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

থ্রম্বোপ্লা‍স্টিন: দেহের কোনো স্থানে কেটে গেলে, রক্তের অণুচক্রিকাগুলি সেই অমসৃণ ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এসে ভেঙে যায়। এই ভাঙা অণুচক্রিকা ও ক্ষতস্থানের বিনষ্ট কলাকোশ থেকে নিঃসৃত এক ধরনের প্রোটিন হল থ্রম্বোপ্পাস্টিন। এটি রক্তৃতপনের অন্যতম প্রধান উপাদান।

গুরুত্ব: রক্ততঞ্জনের সময়ে থ্রম্বোপ্পাস্টিন, ক্যালশিয়াম আয়ন (Ca²+) এর উপস্থিতিতে, রক্তরসের নিষ্ক্রিয় প্রোথ্রম্বিন প্রোটিনকে, থ্রম্বিনে পরিণত করে।



প্রোথ্রম্বিন কী? রক্ততঞ্চনে এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

প্রোথ্ৰম্বিন: প্রোথ্রম্বন হল রক্তরসে বর্তমান একটি প্রোটিন এবং রক্ততঞ্জনের অন্যতম প্রধান উপাদান। ভিটামিন K এর সহায়তায় প্রোগ্রামিন যকৃতে সংশ্লেষিত হয়।

গুরুত্ব: রতনের সময়ে প্রোধুম্বিন, (Ca²+)-এর উপস্থিতিতে থ্রম্বোপ্লা‍স্টিন  ক্রিয়াশীলতায় থ্রম্বিনে পরিণত হয়।



Rh ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝ?

D অ্যান্টিজেন বা Rh অ্যান্টিজেনকে Rh ফ্যাক্টর বলে | এটি থাকলে ব্যক্তিকে Rh +ve ও না থাকলে সেই ব্যক্তিকে Rh-ve বলা হয় ।



Rh ফ্যাক্টরের গুরুত্ব কী?

রক্ত সঞ্চারণের সময় Rh গ্রুপ মিলিয়ে রক্ত সারণ করা দরকার|নতুবা রক্তবাহে রক্ততষ্কৃিত হয়ে বিপত্তি ঘটাতে পারে।



ABO পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?

বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমা পর্দায় অবস্থিত অ্যান্টিজেন (বা অ্যাগ্লুটিনোজেন) এবং রক্তপথে উপস্থিত অ্যান্টিবডি (বা অ্যাপ্পুটিনিন)-র ওপর নির্ভর করে রক্তকে চারটি শ্রেণিতে (A, B, AB, O) বিভক্ত করেন। মানব রক্তের শ্রেগি-বিভাগ করার এই পদ্ধতিকে ABO পদ্ধতি বলে।



এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস কী?

যদি সন্তানসম্ভবা কোনো মা Rh এবং তার গর্ভে থাকা শিশু Rh + হয় তবে শিশুর Rh অ্যাপ্লুটিনোজেন (Rh অ্যান্টিজেন) রক্তসংবহনের মাধ্যমে মায়ের দেহে যায় এবং মায়ের রক্তে অ্যান্টি-Rh ফ্যাক্টর (অ্যান্টিবডি) তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডির প্রভাবে প্রথম শিশুটি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও, মায়ের দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই Rh অ্যান্টিবডি মায়ের রক্ত থেকে গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় সন্তানের দেহে আসে এবং শিশুর RBC-কে ধ্বংস করে। এর ফলে শিশুটি রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া এবং জন্ডিস নিয়ে জন্মাতে পারে কিংবা মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুটির মৃত্যুও ঘটতে পারে। এই রোগটিকে বলে এরিথ্রোরাস্টোসিস ফিটালিস



একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তদানের আবশ্যিক শর্তগুলি কী কী?

সুস্থ দেহ, রক্ত সঞ্চারণজনিত রোগহীনতা, 50kg-র বেশি ওজন, 18-60 বছর বয়স, হিমোগ্লোবিন মাত্রা অন্তত 12.5% ও 3 মাস রক্তদানে বিরতি থাকা ইত্যাদি হল রক্তদানের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।