উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট রেচন অঙ্গ না থাকলেও উদ্ভিদ কীভাবে রেচন পদার্থ ত্যাগ করে?
উদ্ভিদ নিম্নলিখিত উপায়গুলির মাধ্যমে রেচন পদার্থ ত্যাগ করে–
1. ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে, 2. পুষ্পমোচনের মাধ্যমে, 3. ফলমোচনের মাধ্যমে, 4. বাকল ত্যাগের মাধ্যমে, তরুক্ষীর, গঁদ, রজন, উপক্ষার প্রভৃতি নিঃসরণের মাধ্যমে, 5. পমোচনের মাধ্যমে।
লেবু, তেঁতুল, আমরুল ও আপেল গাছের ফলে রেচন পদার্থরূপে কোন্ কোন্ জৈব অ্যাসিড সঞ্চিত থাকে?
লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড, তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড, আমরুলে অক্সালিক অ্যাসিড ও আপেলে ম্যালিক অ্যাসিড সস্থিত থাকে।
ওল বা কচু খেলে গলা চুলকায় কেন?
ওল বা কচুতে ক্যালশিয়াম অক্সালেটের ছুঁচের মতো কেলাস থাকে। এর ছুঁচালো অংশ গলায় বিঁধে গেলে গলা চুলকায়। তেঁতুল খেলে তেঁতুলের টারটারিক অ্যাসিডের সংস্পর্শে এই কেলাসগুলি দ্রুত দ্রবীভূত হয়, ফলে আর গলা চুলকায় না।
বানতেলের উৎস ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।
উৎস: বানতেলের উৎস হল লেবুগাছের পাতা, ফুল, লবঙ্গের ফুল ইত্যাদিতে অবস্থিত তৈলগ্রন্থি।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব : বানতেল প্রসাধন শিল্পে, নানা প্রকার সুগন্ধিযুক্ত সাবান, তেল ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় |
বিভিন্ন প্রকার রজনের প্রকৃতি ও ব্যবহার লেখো।
বিভিন্ন প্রকার রজনগুলি হল—
কঠিন রজন: এটি অ্যালকোহলে দ্রাব্য রজন। যেমন— চাঁচ গালা। এটি বার্নিশে ব্যবহৃত হয়।
ওলিও রজন: এটি উদ্বায়ী তেলের সাথে মিশ্রিত রজন। এটি তরল প্রকৃতির হয়।
যেমন—তাৰ্পিন তেল। এটি রং ও বার্নিশের কাজে ব্যবহৃত হয়।
গঁদ রজন: এটি গঁদের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। এটি অর্ধতরল ও আঠালো প্রকৃতির হয়। যেমন—ধুনো, হিং ইত্যাদি। এগুলি পুজোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
রজনের দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব বলো।
রজনের দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব হল – 1. পাইন গাছ থেকে প্রাপ্ত রজন (তার্পিন তেল) রং শিল্পে ও কাঠের বার্নিশের কাজে ব্যবহৃত হয়। 2. শাল গাছের বাকলে প্রাপ্ত রজন (ধুনো) পূজা-অর্চনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
গঁদের দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব বলো।
গঁদের দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব হল– 1. আঠা, ছাপার কালি, ওষুধ, লজেন্স প্রভৃতি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 2. এ ছাড়াও প্রসাধন শিল্পে, কাগজ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
তরুক্ষীর কী? এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
তরুক্ষীর: রবার,বট,আকন্দ প্রভৃতি উদ্ভিদের থেকে প্রাপ্ত সাদা দুধের মতো কোলয়েড উপাদান হল তরুক্ষীর।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: প্যারারবার উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত তরুক্ষীর বাণিজ্যিক রবার প্রস্তুতিতে, পেঁপে গাছ থেকে প্রাপ্ত প্যাপাইন নামক তরুক্ষীর ওষুধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
র্যাফাইড কী?
র্যাফাইড হল একপ্রকার ক্যালশিয়াম অক্সালেট দ্বারা গঠিত কেলাসাকার উদ্ভিদ রেচন পদার্থ। কচু, ওল প্রভৃতি গাছের ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের কোশে গুচ্ছাকারে র্যাফাইড অবস্থান করে।
সিস্টোলিথ বলতে কী বোঝ?
সিস্টোলিখ একপ্রকার ক্যালশিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত রেচন পদার্থ। বট, রবার প্রভৃতি গাছের পাতার ত্বকে, লিথোসিস্ট কোশের ছাদ থেকে আঙুরের থোকার মতো ঝুলন্ত অবস্থায় সিস্টোলিথ অবস্থান করে।
ডাটুরিন ও রেসারপিনের একটি করে গুরুত্ব লেখো।
ডাটুরিনের গুরুত্ব : এটি ধুতরো গাছের পাতা ও ফল থেকে প্রাপ্ত অ্যালকালয়েড। এটি হাঁপানির ওষুধরূপে ব্যবহৃত হয় |
রেসারপিনের গুরুত্ব: এটি সর্পগন্ধার মূলের ছাল থেকে প্রাপ্ত উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড এটি উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় |
উদ্ভিদের রেচনের দুটি গুরুত্ব বলো।
উদ্ভিদ রেচনের দুটি গুরুত্ব হল— 1. উদ্ভিদ রেচনের মাধ্যমে দেহে বিপাকজাত ক্ষতিকর পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে। 2. দেহের অতিরিক্ত জল রেচনের মাধ্যমে নির্গত হয়, ফলে দেহে জলসাম্য বজায় থাকে।
প্রাণীদের নাইট্রোজেনযুক্ত ও নাইট্রোজেনবিহীন প্রধান রেচন পদার্থগুলির নাম লেখো।
প্রাণীদের নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ : ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি|
প্রাণীদের নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থ: কার্বন ডাইঅক্সাইড, কিটোন ইত্যাদি |
সংকোচনশীল গহ্বর কী? এর কাজ উল্লেখ করো।
সংকোচনশীল গহ্বর সংকোচনশীল গহবর হল এককোশী প্রোটিস্টদের (অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম) দেহে অবস্থিত একপ্রকার গঠন বিশেষ।
কাজ: এটি রেচনে সাহায্য করে। দেহে উৎপন্ন রেচন পদার্থ জলসমেত সংকোচনশীল গহবরে জমা হয়। পরে এই গহবরটি কোশপর্দার সাথে মিলিত হয় ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোশপর্দার মাধ্যমে রেচন পদার্থ দেহের বাইরে নির্গত করে।
অ্যামোনোটেলিক প্রাণী কারা? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রাণীর প্রধান রেচন পদার্থরূপে অ্যামোনিয়া নির্গত হয়, তাদের অ্যামোনোটেলিক প্রাণী বলে।
উদাহরণ: মাছ, ব্যাঙাচি।
ইউরিকোটেলিক বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রাণীর প্রধান রেচন পদার্থরূপে ইউরিক অ্যাসিড নির্গত হয়, তাদের ইউরিকোটেলিক প্রাণী বলে। যেমন—পাখি, সরীসৃপ |
ইউরিওটেলিক প্রাণী বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রাণীর প্রধান রেচন পদার্থরূপে ইউরিয়া নির্গত হয়, তাদের ইউরিওটেলিক প্রাণী বলে। যেমন—মানুষ, বানর |
