উদরাময় বা ডায়ারিয়া কী?
উদরাময় হল পেটের রােগ। এই রােগে আক্রান্ত ব্যক্তির বারে বারে এবং প্রচুর পরিমাণে পাতলা মল নির্গত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পেটে ব্যথাও অনুভূত হয়। এই রােগে দেহ থেকে প্রচুর জল বের হয়ে যায়। ফলে দেহকোশ শুষ্ক হয়ে যায়।
উদরাময় বা ডায়ারিয়া রােগের উপসর্গসমূহ উল্লেখ করাে।
উদরাময়ের উপসর্গগুলি হল—
1. বারেবারে পাতলা মল নির্গমন হয়, সাথে বমিও হতে পারে।
2. শরীর থেকে জল এবং লবণ অত্যধিক পরিমাণে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশন বা জলাভাব দেখা যায়।
3. মলের সঙ্গে মিউকাস নিগত হয়, কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে রক্তও নির্গত হয়।
4. জল পিপাসা অত্যধিক হয়, মুখ ও গলা শুকিয়ে ওঠে।
আমাশয় রােগ সৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণীটির নাম লেখাে। রােগটি কীভাবে সংক্রামিত হয়?
আমাশয় সৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণী: এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা আমাশয়ের রােগের আদ্যপ্রাণী।
সংক্রমণ পদ্ধতি: সংক্রামিত জল ও খাদ্যের মাধ্যমে আমাশয় রােগটি সংক্রামিত হয়। জীবাণু মলের মাধ্যমে জল ও পানীয় দ্রব্যের সাথে মেশে, হাত না ধুয়ে খাদ্যগ্রহণ করলে, বাসনপত্র ভালো করে ধুয়ে না খেলেও সংক্রমণ ঘটে।
ম্যালেরিয়া রােগের জীবাণুর নাম কী?
ম্যালেরিয়া রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু হল গাজমােডিয়াম গণের অন্তর্ভুক্ত। এর চারটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলি হল— প্লাজমােডিয়াম ভাইভ্যাক্স, প্লাজমােডিয়াম ওভেল, প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম, প্রাজমােডিয়াম ম্যালেরি।
ম্যালেরিয়া রােগের লক্ষণগুলি লেখাে।
ম্যালেরিয়ার প্রধান লক্ষণগুলি হল—
1. আক্রান্ত ব্যক্তির কাপুনি দিয়ে সুর (105°F 106°F) আসে। একে ফেব্রাইল পারক্সিজম বলে।
2. জ্বর ছাড়ার সময় প্রচুর ঘাম হয় ও অস্বস্তিকর ঠান্ডা অনুভূতি হয়। ঔ মাথা ব্যাথা ও পিঠসহ দেহের সর্বত্র ব্যথা অনুভূত হয়।
3. প্লিহা বড়াে হয়ে যায় এবং যকৃতও আয়তনে বড়াে হয়ে যায়।
4. গা বমি বমি করে এবং অনেকক্ষেত্রে বমি হয়।
5. রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
ভেক্টর কাকে বলে? ভেক্টর কয় প্রকার ও কী কী?
ভেক্টর: যে জীবের দ্বারা কোনাে পরজীবী এক পােষক জীব থেকে অন্য পােষক জীবে বাহিত হয়, তাকে ওই পরজীবীর ভেক্টর বলে |
ভেক্টরের প্রকারভেদ : ভেক্টর প্রধানত দুই প্রকার।
1. জৈবিক ভেক্টর: যে জীবের মাধ্যমে পরজীবী এক পােষকদেহ থেকে শুধুমাত্র আরেক পােষকদেহে স্থানান্তরিতই হয় না, বরং জীবটির দেহে পরজীবীর জীবনচক্রের কোনাে একটি দশা সম্পন্ন হয়, তাদের জৈবিক ভেক্টর বলে। যেমন—স্ত্রী অ্যানােফিলিস মশা হল প্লাজমােডিয়াফ-এর জৈবিক বাহক |
2. যান্ত্রিক ভেক্টর: যে জীবের মাধ্যমে পরজীবী কেবলমাত্র এক পােষকদেহ থেকে অন্য পােষকদেহে স্থানান্তরিত হয়,কিন্তু এদের দেহে পরজীবীর জীবনচক্রের কোনাে দশাই সম্পন্ন হয় না,তাদের যান্ত্রিক ভেক্টর বলে। যেমন- মাছি, কলেরা রােগের জীবাণুর যান্ত্রিক বাহক।
মাছি যান্ত্রিক ভেক্টর (বাহক) কিন্তু মশা জৈবিক ভেক্টর-ব্যাখ্যা করাে।
মাছির দেহের বিভিন্ন অংশ দ্বারা বিভিন্ন রােগের জীবাণু যান্ত্রিকভাবে বহন করে। কিন্তু মশার দেহে বিভিন্ন রােগের জীবাণু বাহিত হওয়ার সময় জীবন চক্রের কয়েকটি দশা অতিক্রম করে সংক্রামক দশাটিতে উপনীত হয় ও রক্তপানের সময়ে সুস্থ মানুষের দেহে রােগ-জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়, তাই মাছিকে যান্ত্রিক বাহক এবং মশাকে জৈবিক বাহক বা ভেক্টর বলে |
স্ত্রী অ্যানােফিলিস মশাকে জৈব ভেক্টর কেন?
যে ভেক্টর পরজীবী বহন করা ছাড়াও তার দেহে পরজীবীর জীবনচক্রের কোনাে দশা সম্পন্ন করে, তাকে জৈব ভেক্টর বলে। ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমােডিয়াম-এর যৌন জনন দশা স্ত্রী অ্যানােফিলিস মশার দেহে সম্পন্ন হয় বলে ম্যালেরিয়ার পরজীবীটির জৈব ভেক্টর বলা হয়।
ম্যালেরিয়া রােগের জীবাণুর নাম লেখো। সংক্রমণ পদ্ধতি উল্লেখ করাে।
জীবাণুর নাম: প্লাজমােডিয়াম ভাইভ্যাক্স নামক প্রােটোজোয়া হল ম্যালেরিয়া রােগের জীবাণু |
সংক্রমণ পদ্ধতি: স্ত্রী অ্যানােফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ালে তার দেহ থেকে পরজীবীটি মশার দেহে প্রবেশ করে। তারপর ওই মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে মানুষটি ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত হয়ে পড়ে।
সাধারণ ম্যালেরিয়ার সাথে ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ার পার্থক্য কী?
সাধারণ ম্যালেরিয়া প্লাজমােডিয়াম ভাইভ্যাক্স দ্বারা হয় এবং 48 ঘণ্টা পর পর জ্বর হয় কিন্তু ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া হয় গাজমােডিয়াম ফ্যালসিপেরাম দ্বারা হয় এবং 36 ঘন্টা পর পর জ্বর হয়।
ডিপথেরিয়ার জীবাণুর নাম ও এর প্রকৃতি লেখাে।
নাম: ডিপথেরিয়ার জীবাণুর নাম হল করিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি৷ এটি একটি দণ্ডাকৃতি ব্যাকটেরিয়া।
প্রকৃতি : ডিপথেরিয়া হল শ্বাসতন্ত্রের একটি ব্যাকটেরিয়া-ঘটিত রােগ।
নিউমােনিয়া রােগের প্রধান লক্ষণগুলি লেখাে।
নিউমােনিয়া রোগের লক্ষণগুলি হল—
1. এই রােগে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি।
2. স্বর, ক্লান্তি, বমিতাব দেখা দেয়।
3. রােগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শ্বাসের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
4. বুকে ব্যথা হয়।
ডেঙ্গু রােগের লক্ষণগুলি উল্লেখ করাে।
ডেঙ্গু রােগের লক্ষণপুলি হল—
1. ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক অবস্থায় অল্পমাত্রায় স্বর হয়।
2. ক্ষুধামান্দ্য দেখা যায়।
3. সারা শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় গা-হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। সেই কারণে একে ব্রেক বােন ডিজিজ বলে।
4. গা বমি বমি ভাব দেখা যায়।
5. অনেক সময় চোখেও ব্যথা অনুভূত হয়।
ডেঙ্গু রােগের জীবাণুর নাম ও রােগের প্রকৃতি লেখাে।
জীবাণু : ডেঙ্গু রােগের জন্য দায়ী হল একপ্রকার ফ্ল্যাভিকতাইরাস। এটি একটি একতন্ত্রী RNA ভাইরাস। এর চারটি প্রকার ডেঙ্গু রােগ ছড়ায়। এরা হল DENV 1, DENV 2, DENV 3 ও DENV 4
রােগের প্রকৃতি: ডেঙ্গু হল এডিস ইজিপ্টাই মশকী-বাহিত একটি ভাইরাস-ঘটিত রােগ।
ডেঙ্গু কীভাবে সংক্রামিত হয় ?
ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ প্রধানত দুইভাবে হতে পারে
1. ভেক্টরের মাধ্যমে সংক্রমণ : ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনাে ব্যক্তিকে এডিস মশকী কামড়ালে, ওই মশকীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে। পরবর্তীকালে সংক্রামিত এডিস মশকী কোনাে সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে, ওই সুস্থ ব্যক্তির দেহে ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
2. প্রত্যক্ষ সংক্রমণ : সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহে কোনাে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের রক্ত সঞ্চালন করলে সুস্থ মানুষটি ডেঙ্গু রােগে আক্রান্ত হতে পারে।
হেপাটাইটিস কত প্রকারের রােগ? এই রােগ কীভাবে সংক্রামিত হয়?
হেপাটাইটিস-এর প্রকার: হেপাটাইটিস প্রধানত দুই প্রকার,যথা হেপাটাইটিস A, যা HAV ভাইরাস-ঘটিত ও হেপাটাইটিস B, যা HBV ভাইরাস- ঘটিত রােগ।
হেপাটাইটিস-এর সংক্রমণ পদ্ধতি: হেপাটাইটিস A সংক্রামিত পানীয় জল ও খাদ্যগ্রহণে বা রােগীর সাথে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্কের দ্বারা সংক্লামিত হয়। হেপাটাইটিস B রক্ত দ্বারা ও যৌন সংসর্গ দ্বারা সংক্রামিত হয়।
কীভাবে AIDS-এর সংক্রমণ ঘটে ?
AIDS-এর সংক্রমপের পদ্ধতিগুলি হল—
1. AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত কোনাে সুস্থ ব্যক্তির দেহে সঞ্চরণ,
2. AIDS আক্রান্ত স্ত্রী অথবা পুরুষের সঙ্গে অন্য সুস্থ পুরুষ অথবা স্ত্রীর অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ,
3. সংক্রামিত ব্যক্তির দেহে ব্যবহৃত সিরিজ, নিডিল, ব্লেড ইত্যাদির ব্যবহার,
4. সংক্রামিত গর্ভবতী মায়ের দেহ থেকে সন্তানের দেহে সঞ্চরণ |
AIDS রোগের দুটি উপসর্গ লেখ।
>AIDS এর উপসর্গগুলি হল
1. ওজন হ্রাস
2. বারেবারে জ্বর হওয়া ও তার ঘাম হওয়া
3. অস্থাতাবিক ক্লান্তি
4. কষ্টদায়ক অবস্থায় মৃত্যু।
আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে এক ঘরে বসবাস করলে AIDS কী ছড়ায় ?
AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘরে বসবাস, তার বাবঃ জামাকাপড়, বাসন, আসবাবপত্র ব্যবহার, করমর্দন, চুম্বন প্রভৃতির মাধ্যমে এই রােগ ছড়ায় না, এমনকি মশার মাধ্যমেও বাহিত হয় না। এই রােগ প্রধানত রত্ত সরশ, অসুরক্ষিত যৌনমিলন, HIV পজিটিভ মায়ের থেকে অমরার মাধ্যমে শিশুদেহে সঞ্চারিত হয়।
ধৌতকরণ কী? এর সুবিধা কী?
ধৌতকরণ: সাধারণ স্বাস্থ্যবিধির অন্তর্গত যে পদ্ধতিতে জল ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহারের দ্বারা ধুলাে,ময়লা ও রােগসৃষ্টিকারী আপুবাক্ষপিক জীবাপু অপসারণ করা হয়, তাকে ধৌতকরণ বলে।
সুবিধা: ধৌতকরণের সুবিধাগুলি হল—
1. সংক্রামক রােগ থেকে মুক্তি : ধৌতকরণ বিভিন্ন সংক্রামক রােগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। যেমন—সঠিক সময়ে, নিয়ম মেনে হাত ধুলে ডায়ারিয়ার সংক্রমণ প্রায় 50% কম হয়, ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্লমগ্ড 20% হ্রাস পায়। কলেরা, আমাশা প্রভৃতি রােগপ্লুলিও অনেক কম ছড়িয়ে পড়ে।
2. শিশুমৃত্যু হ্রাস: বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে উপযুক্ত ধৌতকরণ বিধি পালন করলে রােগ সংক্রমপজনিত শিশুমৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পায়।
3. ময়লা থেকে মুক্তি: পরিবেশের তেল-ধুলাে ময়লা থেকে মুক্তি, সাধারণ স্বাস্থ্যবিধির একটি জরুরি অংশ। এর ফলে চোখ ও ত্বকের সংক্রমণ, অ্যালার্জি এড়ানো সম্ভব হয়।
ধৌতকরণের উপাদানগুলি লেখাে অথবা, Wash এর উপাদানগুলি লেখাে।
ধৌতকরণের জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলি হল
1. জল : হাত-মুখ ধােয়ার জন্য স্নানের কাজে প্রথম উপাদান হল বিশুদ্ধ স্বাদুজল।
2. সাবান ও ডিটারজেন্ট: বাত্তিস্তরে ধৌতকরণে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহৃত হয়। দেহে আগত ধুলােবালি, ময়লা দূর করতে সাবান ব্যবহার করা হয়,তবে এর জীবাণুনাশক ক্ষমতা সীমিত। তেমনই জামাকাপড়ের ধুলােবালি, ময়লা, তৈলাক্তভাব দূর করতে গুড়াে বা তরল সাবান ব্যবহার করা হয়।
3. জীবাণুনাশক বা সংক্রমণরােধক: যেসব উপাদান সংক্রামক জীবাপুর বৃদ্ধি রােধ করে বা তাদের বিনাশ করে, তাদের জীবাণুনাশক বলে। তাই ক্ষতস্থান ধােয়ার জন্য অ্যান্টিসেপটিক, যেমন—আয়ােডিন, ডেটল, স্যাভলন ব্যবহৃত হয়। আবার বাড়িঘর, হাসপাতাল শৌচালয়প্রভৃতি ধৌতকরণের মাধ্যমে জীবাণুনাশের জন্য ফিনাইল জলে মিশিয়ে, ব্লিচিং পাউডার (সরাসরি প্রয়ােগ) ব্যবহৃত হয়।
4. টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ: ভালাে করে দাঁত মাজা ও মুখ ধােয়া বাক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করা হয়।
জীবাণুনাশক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
জীবাণুনাশক: যেসব উপাদান সংক্রামক জীবাণুর বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রােধ করে বা তাদের বিনাশ ঘটায়, তাদের জীবাণুনাশক বা ডিসাইনফেকট্যান্ট বলে।
উদাহরণ: ফিনাইল, ডেটল প্রভৃতি জীবাণুনাশকের কয়েকটি উদাহরণ।
