মাইক্রোব বা অণুজীব কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
জল, স্থল, অন্তরীক্ষে অবস্থানকারী অতিক্ষুদ্র (0.1mm-এর কম আয়তনযুক্ত) আণুবীক্ষণিক জীবদের এককথায় অণুজীব বা মাইক্রোব বলে। উদাহরপব্যাকটেরিয়া, আদ্যপ্রাণী হল অণুজীব।
রাসায়নিক সার বা কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার কাকে বলে ? বায়ােফাটিলাইজার কাকে বলে?
রাসায়নিক সার বা কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার: মাটির উর্বরাশক্তি বাড়ানোর জন্য যেসব অজৈব রাসায়নিক উপাদান মাটিতে প্রয়ােগ করা হয়, তাদের রাসায়নিক সার বা কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার বলে। যেমন ইউরিয়া সার।
জীবসার বা অণুজীবসার বায়ােফাটিলাইজার: যেসব সক্রিয় জীবাণু (যেমন ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, ছত্রাক) মিশ্রিত মিডিয়াম চাষের জমিতে প্রয়ােগ করলে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবর্ধন এবং ফসফেট মুক্তি ঘটে থাকে এবং টির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, তাদের জীবসার বা বায়ােফাটিলাইজার বলে।
ভার্মিকালচার বলতে কী বােঝ?
যে উপায়ে কেঁচো প্রতিপালনের মাধ্যমে মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানাের জন্য জৈবসার প্রস্তুত করা হয়, তাকে ভার্মিকালচার বা কেঁচো সার প্রস্তুতি বলে। প্রকৃতপক্ষে, কেঁচোর মলে প্রচুর জৈব পুষ্টি উপাদানে থাকে।
অ্যাজোটোব্যাকটর-কে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বলে কেন? অথবা, অ্যাজোটোব্যাকটর জীবসাররূপে ব্যবহৃত হয় কেন?
অ্যাজোটোব্যাকটর বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট লবণ হিসেবে মাটিতে সংযুক্ত করে মাটির উর্বরাশক্তি বাড়ায়। তাই একে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
বায়ােফাটিলাইজারবুপে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়াগুলি কয় প্রকার ও কী কী ?
বায়ােফাটিলাইজারবুপে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া প্রধানত দুই প্রকারের হয়। যথা 1. নাইট্রোজেন সংবর্ধনকারী বায়ােফাটিলাইজার এবং 2. ফসফেট দ্রবীভূতকারী বায়ােফাটিলাইজার।
অ্যাজোলা বামশক-ফার্ন কী? অ্যাজোলার গুরুত্ব কী?
অ্যাজোলা: জলে ছােটো পানার মতাে ভাসমান এক ধরনের ফানকে অ্যাজোলা বা মশক-ফার্ন (mosquito-fern) বলে |
গুরুত্ব: অ্যাজোলার পাতায় অযানাবিনানামক নীলাভ সবুজ শৈবাল বাস করে। ওই শৈবাল পরিবেশের নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ করে থাকে। জলপূর্ণ ধানখেতে অ্যাজোলাসহজে বংশবিস্তার করতে পারে। এ ছাড়া দুত পচে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে, মাটির নাইট্রোজেনের পরিমাণও বৃদ্ধি করে। এই কারণে আ্যজোলা-কে অপুজীবসারবুপে ব্যবহার করা হয়।
কোন জীবাণুগুলি জীবসাররূপে ব্যবহৃত হয় ?
যেসব জীবাণু বা অণুজীবগুলি জীবসাররূপে ব্যবহৃত হয়, সেগুলি হল
1. ব্যাকটেরিয়া, 2. নীলাভ সবুজ শৈবাল, 3. অ্যাজোলা এবং 4. মাইকোরাইজা।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী বায়ােফাটিলাইজার-রূপে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়াগুলির শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ লেখাে।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী বায়ােফাটিলাইজার রূপে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়াগুলি তিন প্রকারের হয়। যথা 1. মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারী, যেমন—অ্যাজোটোব্যাকটর 2. মিথােজীবী কিন্তু অবুদ সৃষ্টিতে অক্ষম, যেমন—অ্যাজোস্পাইরিলাম 3. মিথােজীবী এবং মূলে অর্বুদ সৃষ্টিকারী, যেমন—রাইজোবিয়াম ব্যবহৃত।
জমিতে অ্যাজোটোব্যাকটর কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে প্রয়ােগ করা হয়?
জমিতে অ্যাজোটোব্যাকটর মূলত তিনটি উপায়ে প্রয়ােগ করা হয়। যথা— 1. বীজের সাথে মেশানাে হয়। 2. চাষের জমি প্রস্তুতের সময়ে মাটিতে মেশানাে হয় এবং ও 3. চারাগাছের মূলকে অ্যাজোটোব্যাকটর-এর দ্রবণে ডােবানাে হয়।
ফসফোব্যাকটেরিয়া বায়ােফার্টিলাইজার হিসেবে ব্যবহৃত হয় কেন? এর একটি উদাহরণ দাও।
কয়েক ধরনের ফসফোব্যাকটেরিয়া মাটির ফসফরাসকে দ্রবীভূত করে। ফলে উদ্ভিদেরা মূলের সাহায্যে, মাটিতে ওই দ্রবীভূত ফসফরাসকে শেষ করতে পারে। তাই ওই প্রকার ফসফোব্যাকটেরিয়াকে কৃষি জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ব্যাসিলাস মেগাটেরিয়াম হলো এই জাতীয় ব্যাকটেরিয়া।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী স্বাধীনজীবী জীবাণু কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
স্বাধীনভাবে মাটিতে বসবাসকারী যেসব জীবাণু বাতাসের নইিট্রোজেন সরাসরি নিজেদের দেহে আবদ্ধ করতে পারে তাদের নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী স্বাধীনজীবী জীবাণু বলে। উদাহরণ: অ্যাজোটোবযাকটর, রুসড্ট্রিডিয়াম ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী মিথােজীবী জীবাণু কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মুলের অবুদে বসবাসকারী যেসব মিঘােজীবী জীবাণু বাতাসের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে নাইট্রাইট ও নাইট্রেট লবণরূপে মাটিতে সংযুক্ত করে, তাদের নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী মিথােজীবী জীবাণু বলে। উদাহরণ— মটর গাছের মূলের অর্বুদে বসবাসকারী রাইজোবিয়াম।
ব্যাকটেরিয়ার দুটি উপকারী ভূমিকা লেখাে।
অণুজীবসাররূপে অ্যাজোটোব্যাকটর, রাইজোবিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়। জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ব্যাসিলাস খুরিনজিয়েনসিস নামক ব্যাকটেরিয়া পতঙনাশকরূপে ব্যবহৃত হয়।
সায়ানােব্যাকটেরিয়ার উপকারী ভূমিকা লেখাে।
নীলাভ-সবুজ শৈবাল বা BGA-দের সায়ানােব্যাকটেরিয়া বলে। এগুলি পরিবেশের পক্ষে উপকারী ভূমিকা পালন করে,যথা— 1. আ্যনাবিনা ও নস্টক মাটিতে নাইট্রোজেন, এর পরিমাণ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। 2. আ্যাজোলানামক জলজ ফার্নের পাতার অ্যানাবিনা অ্যাজোলি মিথােজীবীরূপে থাকে, তাই ধানের জমিতে সবুজ সার হিসেবে প্রয়ােগ করা হয়। 3. অলােসিরা ফাটিলিসিমাধান জমির প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন, সংবম্ধনকারী সায়ানােব্যাকটেরিয়া।
মাইকোরাইজা বলতে কী বােঝ?
মাইকোরাইজা: ছত্রাকের অসুসূত্র ও লাইকেন প্রভৃতি উদ্ভিদের মূলের সহাবস্থানকে বলে মাইকোরাইজা। এটি একটি মিথােজীবী সন্নিবেশ। ছত্রাক অংশ উদ্ভিদকে পুষ্টির উপাদানের জোগান দেয়। বিনিময়ে এরা পুষ্টিরস উদ্ভিদ থেকে শােষণ করে।
গুরুত্ব: VAM-জাতীয় মাইকোরাইজাল্গুলি কৃষিজমিতে মেশালে তারা ফসফরাস, সালফার প্রভৃতির জোগান দেয়।
VAM কী?
VAM এর সম্পূর্ণ নাম ভেসিকুলার অরবাসকুলার মাইকোরাইজা। এটি একপ্রকার মিথােজীবী সন্নিবেশ, যাতে ছত্রাক ও উদ্ভিদ মূল সমন্নয় দেখা যায়। VAM কৃষিজমিতে ব্যবহার করলে ফসলের মূলে ফসফরাস, সালফার ও জিংকের শােষণ বৃদ্ধি পায়।
VAM-এর ব্যবহারের সুবিধা লেখো।
VAM ব্যবহারের সুবিধা— 1.ফসলের মূলে VAM ফসফরাস, জিংক, তামা শােষপেসাহায্য করে। 2. শিক্বগাে্ঠীয় উদ্ভিদের মুলে অবুদ সৃষ্টিতে সাহায় করে। 3. উদ্ভিদের পক্ষে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রােধ করে।
অণুজীবসারুরূপে মাইকোরাইজার ভূমিকা লেখাে।
অপুজীবসাররূপে মাইকোরাইজার ভূমিকাগুলি হলো 1. মাইকোরাজাস্খিত ছত্রাকের অনুসূত্রগুলি দ্বারা মাটির অদ্রবপীয় যৌগসমহ দ্রবীভূত হয়, ফলে সেনুলি উদ্ভিদের পক্ষে শােষণযােগ্য হয়।
2. মাইকোরাইজা উদ্ভিদকে Pb, Cu, Br, Cd প্রভৃতি শোষণে সাহায্য করে।
3. এক্টোমাইকোরাইজা উদ্ভিদ মূলের শােষগতল বৃদ্ধির মাধ্যমে জল ও খনিজ লবণ শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
অণুজীবসার কীভাবে তৈরি করা হয় ?
অপুজীবসার তৈরির ধাপগুলি হল- 1. অপুজীবগুলি প্রথমে পরীক্ষাগারে কালচার (বিশেষ প্রকার চাষ) করা হয়।
2. একটি মাধ্যম তৈরি করা হয় যাতে অণুজীবগুলি মেশানাে হয়।
3. এইভাবে অণুজীব ও মাধ্যমের মিশ্রণ প্যাকেটে করে বাজারে পাঠানাে হয়।
অণুজীবসার ব্যবহারের কার্যনীতি উল্লেখ করাে।
অপুজীবসার ব্যবহারের কার্যনীতি -
1. অণুজীবগুলি মাটিতে ছড়িয়ে দেবার পর তা বংশবৃদ্ধি করে। এরা নাইট্রোজেন, সালফেট, ফসফেট সংশ্লেষ করে ও জমির উর্বরতা বাড়ায়।
2. অনুজীব আগাছা রােধে সক্ষম হয়।
3. এরা জটিল জৈব বস্তু থেকে সরল উপাদান মুক্ত করে।
ভারতে অণুজীবসার ব্যবহারের সমস্যাগুলি লেখাে।
ভারতবর্ষে অপুজীবসার ব্যবহারের সমস্যাগুলি হল— 1. ভারতে সর্বত্র অণুজীবসার পাওয়া যায় না। 2. ভারত উয় জলবায়ুর দেশ। উয়তা বৃদ্ধিতে অণুজীবসার দ্রুত বিনষ্ট হয়। 3. জনগণের মধ্যে শিক্ষার অভাবের জন্য সচেতনতা কম|তবে বর্তমানে বিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অণুজীবসারের ব্যবহার ভারতে ক্রমশ বাড়ছে। অপুজীবসার ব্যবহারের উপযােগীতা বেশি ও খরচ কম বলে ক্রমশ এর ব্যবহার এদেশে বাড়বে বলে আশা করা যায়।
মানবকল্যাণে জীবাণুর দুটি ব্যবহারিক প্রয়ােগ উল্লেখ করাে।
মানবকল্যাণে জীবাণুর অনেক ব্যবহারিক প্রয়ােগ বর্তমান। যেমন 1. ঔষধ অর্থাৎ অ্যান্টিবায়ােটিক প্রস্তুতিতে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক পেনিসিলিন নামক ওয়ান্ডার ড্রাগ স্ট্রেপ্টোমাইসিস থেকে স্ট্রেপ্টোমাইসিন প্রভৃতি বাযবহৃত হয়। 2. পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্পে ব্যাসিলাস ঘুরিনজিয়েনাস ব্যাকটেরিয়া থেকে ঘুরিসাইড নামক বায়ােপেস্টিসাইড তৈরি হচ্ছে। ব্যাকুলােভাইরাস, বিউভেরিয়া ব্যাসিয়ানা নামক ছত্রাকও ব্যাবহার হচ্ছে।
